বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব - ৩) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা। শেরিফ রবার্ত বরিস। বাবা রাভেন বরিস। মালকাওয়ালারুশ শহরের নতুন শেরিফ হয়েছে ও। ওর বাপ ছিলো ল্যাটভিয়ান ল্যাটসের নাতসি পুলিশ কর্মকর্তা। ল্যাটভিয়ান লাটস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ বিশেষ ছিলো যা মস্কো যুদ্ধে নাতসি বাহিনীর পদানত হয়। সদ্য দখলকৃত লাটভিয়ায় অবস্থানরত কমিউনিস্ট এবং ঈহুদীদের খুঁজে বের করে হত্যা করার জন্যে, ততকালীন নাতসী বাহিনীর অন্যতম নরঘাতক হেনরিক হিমলার সেদেশের জনগণের মধ্য থেকে কতিপয় স্বপ্রনোদিত নাতসি ধ্যান ধারণা সম্পন্ন স্থানিয় ব্যাক্তিবর্গকে প্রধান করে একটা মিলিটারী পুলিশ বাহিনী গঠন করেছিলেন। রাভেন বরিস ছিলেন সেই বাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরবর্তীতে লাটভিয়া পুণরায় রাশিয়ানদের পদানত হলে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে রাভেন সেখান থেকে পালিয়ে, পোল্যান্ডে চলে আসেন। কথায় আছে ঢেকি সর্গে গেলেও ধান ভাণে। রাভেন ও পোল্যান্ডে এসেও তার স্বভাব বদলাতে পারেন নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত পোল্যান্ডে এসে সুযোগ সন্ধ্যানী রাভেন একজন স্থানীয় সম্মানিতা গৃহিণীর আশ্রয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু একদিন সুযোগ পেয়ে তিনি সেই গৃহিনীকেই ধর্ষণ করে বসেন। সেই গৃহিনীর স্বামী ছিলেন একজন এক্স পোলিশ রেজিস্টান্ট ফাইটার। তিনি রাভেনকে হাতে নাতে ধরে আদালতে সপোর্দ করেন। সেখানে তার কালো অতীতটা জনসম্মুখে বেরিয়ে আসে। আদালত রাভেনকে সত্তর বছরের সাজা শোনান। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মাত্র পঞ্চাশ বছর সাজা ভোগের পর রাভেন মিয়া পটল তোলেন। রাভেন তার কালো অতীত সহ চলে গেছেন। কিন্তু ফেলে গেছেন তার বীর্যজাত সন্তান রবার্ত বরিসকে। রবার্তো আদতে মোটেও তার বাবার মতো নয়, বরং সে তার বাপের উল্টো চরিত্র। একজন সম্মানিত মহানুভব নারী এবং একজন বীর রেজিস্ট্যান্ট ফাইটারের ঘরে বেড়ে উঠায় রবার্ত একজন সত সাহসী নিষ্টাবান পোলিশ নাগরিক হিসেবেই বেড়ে উঠে। যৌবনে সে যোগ দেয় পোলিশ সিভিল ডিফেন্স & লো এনফোরসমেন্ট এজেন্সি তে। দ্রুত সে ওখানে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখে এবং দশ বছরের মাথায় প্রমোশন পেয়ে মালকাওয়ালারুশে র শেরিফ পদে আসীন। কর্মজীবনে অসংখ জটিল কেইস সমাধানের জন্যে রবার্তোর নামডাক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার অবসরের চিত্ত বিনোদন হলো পুলিশের অমীমাংসীত ফাইলগুলি আর্কাইভ থেকে বের করে খুঁটিয়ে পড়া এবং সেগুলি সমাধানের চেষ্টা করা। গেলো দশ বছরে রবার্তোর হাতে যতগুলি অমীমাংসীত ফাইল উঠেছে সবগুলিই মীমাংসার আলো দেখেছে। তাই পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন ক্যারিশমা খেতাবটা এখন তারই দখলে। কিন্তু গেলো একটা সপ্তাহ ধরে সে একটা কেইস নিয়ে পুরো হিমশীম খেয়ে গেলো, কিন্তু মীমাংসার ধারে কাছেও পৌছতে পারেনি। কেইসটা আসলেও কেমন জানি অদ্ভূত। একজন উচ্চশিক্ষিত মহিলা আইনজীবীকে তার কন্যাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিক্টিম একটা ছোট্ট টিনএজ মেয়ে সান্টিনা মারিয়া , আর সাসপেক্ট তার আপন মা মিস জ্যানেট জোন্স। কিছুতেই হিসেব মেলাতে পারছে না রবার্তো। একে তো সাসপেক্ট নিজেই একজন আইনজ্ঞ, যে পারতপক্ষে আইন ভঙ্গ করতে চাইবে না। দ্বিতীয়ত ভিক্টিম তার আপন মেয়ে। মা তার মেয়েকে প্রাণাধিক ভালবাসবে এটাই স্বাভাবিক। মেয়ের এক ফোঁটা ঘাম ঝরলে মায়ের হৃদয়ে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই মা কিভাবে তার মেয়েকে হত্যা করতে পারলো সেটা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না ওর। কেনো জানি রবার্তোর বার বার মনে হচ্ছে পুরো কেইসটাই একটা সেটআপ। আড়ালে কেউ একজন মেয়েটাকে হত্যা করেছে কিন্তু দোষ চাপাচ্ছে মায়ের উপর। সেটা নিশ্চিত হতেই রবার্তো সাসপেক্টের অতীত ইতিহাস নিয়ে গেলো এক সপ্তাহ ধরে ঘাঁটাঘাঁটি করছে। মিস জোন্স তার কর্মজীবন শুরু করেন হলিউডের একজন স্পেশাল এফেক্ট মেইকাপ ওম্যান হিসেবে। কিন্তু পরবর্তীতে মিঃ রিমন শাইন কে বিয়ে করে পোল্যান্ডে চলে আসেন। পোল্যান্ডে এসে তিনি আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং একজন সুন্দরী আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময় তিনি নারী এবং শিশু অধিকারের জন্যে লড়ে গেছেন। কিন্তু হঠাত করে তিনি এমন একটা কাজ করে ফেলবেন সেটা কল্পনাতীত। রবার্তোর মন বলছে মিস জোন্স নির্দোষ কিন্তু সকল তথ্য প্রমাণাদি জোন্সকেই দোষি সাব্যস্ত করছে। বিশেষ করে মারিয়ার গলায় মিস জোন্সের হাতের ছাপ দিনের আলোর মতো সুস্পষ্টভাবে ফুটে রয়েছে। তাছাড়া একজন প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া গেছে যিনি হত্যাকান্ডটা স্বচোক্ষে দেখেছেন। প্রফেসর আলেক্স উইজটন্ট। প্রফেসর হ্যালুউনের রাতে তার স্ত্রীর কবর পরিদর্শনের জন্যে ওই কবরস্থানে গিয়েছিলেন যখন তিনি দুরে থেকে একটা আবছা নারী ছায়ামূর্তীকে আরেকটা পিচ্চি মেয়ের গলা চিপে ধরতে দেখেছেন। কিন্তু এখানে একটা ঘাপলা আছে। লাই ডিটেক্টর বলছে প্রফেসর সম্পূর্ণ সত্য কথা বলছেন না। তিনি একটা নারী মূর্তিকে আরেকোটা পিচ্চি মেয়ের গলা টিপে ধরতে দেখেছেন ঠিকই। এই ব্যাপারে লাই ডিটেক্টর উনার সাথে একমত। কিন্তু উনি সেরাতে তার স্ত্রীর কবর পরিদর্শনের জন্যে ঐ কবরস্থানে যাননি। লাই ডিটেক্টর অনুসারে প্রফেসর অন্য কোন কারণে ওখানে গিয়েছিলেন যা আড়াল করতে প্রফেসর মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন। তাছাড়া গতকাল রবার্তো মিস জোন্সের স্বীকারুক্তিমূল ক জবানবন্দী নিয়েছিলো। মিস জোন্স সাফ মানা করে দিয়েছেন যে তিনি তার কন্যা হত্যার সাথে জড়িত নন, এবং লাই ডিটেক্টর এই ব্যাপারে তার সাথে একমত হয়েছে। অতপর রবার্তো যখন তাকে জিজ্ঞেস করলো যে, হ্যালুউনের সেই রাতে তিনি ঠিক কি করছিলেন তখন জোন্স বলেছিলেন তিনি তার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরীতে আইন বিষয়ক পুস্তকাদি অধ্যয়নে ব্যাস্ত ছিলেন। কিন্তু লাই ডিটেক্টর এই ব্যাপারে তার বিরোধিতা করেছিলো। অর্থাথ মিস জোন্স তার মেয়ের মৃত্যুর সময় অন্য কোন কাজে ব্যাস্ত ছিলেন যা তিনি প্রকাশ করতে চাইছেন না। ওদিকে তার স্বামি মিঃ রিমন ব্যাবসায়িক কাজে সেদিন সুইডেন গিয়েছিলেন বলে তাকে সন্দেহের উর্ধে রাখতে হচ্ছে। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now