বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২ — পর্ব ৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব- ৭) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা। তাড়াহুড়ো থাকায় গাড়ির ছাদে থাকা সাইরেনটা না বাঁজিয়ে আরো দ্রুত গাড়ি ছুটালো সে। এবার আর রাস্তার লালবাতি সবুজবাতি কিছুই কেয়ার করলো না। পোল্যান্ডের আইন অনুসারে একজন পুলিশ অফিসারের বাহনের উপর ট্রাফিক আইন কেবল তখনই প্রজোয্য হবে না যখন তিনি কোন জরুরী ভিত্তিতে সাইরেন বাজিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাত সাইরেন বাজিয়ে চালানোর সময় তার গাড়ির উপর রাস্তার স্পিড লিমিট, ট্রাফিক লাইট ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু সাইরেন না বাজিয়ে চালানোর সময় তাকেও সিভিলিয়ানদের মতো ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অন্যথায় তাকে আইন ভঙ্গের অভিযোগে প্রচলিত ধারায় শাস্তি ভোগ করতে হবে। রবার্তোবেশী বহুরূপীটা এসব আইনের মারপ্যাচ তেমন একটা বুঝতো না। তাই সে ভুলটা করে বসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটো ট্রাফিক পুলিশ কার সাইরেন বাজিয়ে তার পিছু নেয়। রবার্তো ভয়ে একদম মিইয়ে যায়। সে ধরে নেয় ক্যামেরার সামনে তার কারসাজী সব প্রকাশ হয়ে গেছে। এখন ওরা নির্ঘাত তাকে এরেস্ট করে আদালতে সপোর্দ করবে। সে গাড়ির স্পিড আর বাড়িয়ে দেয়। ব্যাস্ত রাস্তায় ১২০ কিমি বেগে সাঁ সাঁ করে তিনটে গাড়ি ছুটে চলতে থাকে যদিও রাস্তাটার স্পিড লিমিট মাত্র ৮০ কিমি/ঘন্টা। বহুরূপীটা গাড়ি চালনায় তেমন একটা দক্ষ ছিলো না। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটা এস,ইউ,ভি এর সাথে ধাক্কা লেগে উভয় গাড়িই রাস্তা থেকে ছিটকে পার্শবর্তী একটা খাঁদে পড়ে যায়। পরদিন মিডিয়াতে একটা চাঞ্চল্যকর শিরোনাম আসে। শেরিফ রবার্তোর গাড়ি চুরি করে পালাতে যেয়ে জৈনিক রিয়েলস্টেইট ব্যাবসায়ীর দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতের এক সহকর্মীও নিখুঁজ আছেন। নিজ বাড়িতে বসে খবরটা দেখতে দেখতে রবার্তোর মুখে এক চিলতে রহস্যময় মুচকী হাসি ফুটে। গতকালের ঘটনাটা মনে করার চেষ্টা করে সে। গতকাল নেহাতই ভাগ্যের জোরে সে বেঁচে গেছে। গাড়ি দুটো সংঘর্ষের পর উল্টে খাঁদে পড়ে যায়। এস,ইউ,ভি এর চালক রিয়েল এস্টেইট ব্যাবসায়ী মিঃ রিমন সেই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। আসলে ইদানিং খুবই মানসিক চাপে ছিলেন রিমন সাহেব। তার ব্যাক্তিগত জীবনটা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। তার একমাত্র মেয়েটা সপ্তাহদুয়েক আগে খুন হয়েছে, তারই সূত্র ধরে তার স্ত্রীর পরকীয়ার ব্যাপারটা প্রকাশিত হয়েছে, এবং সবিশেষে আজ সেই খুনের মামলায় তার স্ত্রীর ক্যাপিট্যাল পানিশমেন্ট হয়েছে। এসবই এত্ত অল্প সময়ের ভেতরে ঘটে গেছে যে তিনি শোকাবহ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। ফলে শোকার্ত রিমন সাহেব প্রবল মানসিক চাপে পড়ে গাড়ি চালানোর সময় সিট ব্যাল্ট বাধার কথা বেমালুল ভুলে যান। ফলে দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়ির উইন্ডশীল্ড ভেঙ্গে ছিটকে বেরিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে তাতক্ষণাত তার মৃত্যু হয়। তাছাড়া দুর্ঘটনার সময় তিনি তার এক সহকর্মীর গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ওদিকে সীটবেল্ট বাঁধা থাকায় বহুরূপীটা তেমন কোন মারাত্বক শারীরীক আঘাত ছাড়াই পার পেয়ে যায়। এই ছোট্ট ছোট্ট ব্যাপারগুলি বহুরূপীটাকে পুরো ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে সাহায্য করে। খাঁদে পড়ে যাওয়ার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে সে রিমনের দেহটাকে সুকৌশলে নিজের গাড়িতে পুরে দেয়। তারপর খাঁদ ছেড়ে হাঁচড়ে পাঁচড়ে উঠে রাস্তার বিপরীত দিকে থাকা ঘন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে পুলিশ হেডকোয়ার্ট থেকে তার গাড়িটার এক্সিডেন্ট হওয়ার খবরটা জানতে পারে। সেই সাথে এই জানতে পারে দ্বিতীয় গাড়িটার চালক এবং মিঃ রিমনের সহকর্মী সোনিয়া রিনা কে দুর্ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশেরা ধরে নিয়েছে যে সোনিয়া দুর্ঘটনার সময় ওই এস,ইউ,ভিতেই ছিলেন। তাদের ধারণা তিনি সম্ভবত গাড়ির উইন্ডশীল্ড ভেঙ্গে খাঁদের পার্শ্ববর্তী একটা জলাধারে তলীয়ে গেছেন। সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে ডুবুরী পাঠানো হচ্ছে তার মৃতদেহকে উদ্ধার করার জন্যে। খবরটা পেয়েই রবার্তো মিস সোনিয়ার বাসায় ছুটে যায়। উনি তখন ক্লান্ত দেহে কাউচের উপর ঘুমিয়ে ছিলেন। উনার ফোনটা সংগত কারণেই সুইচড অফ ছিলো। তাই পুলিশ সদস্যরা বারংবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পায়নি। ফলে তারা ধরে নেয় তিনি এই পৃথিবীতে নেই। দুর্ঘটনায় তার সলীল সমাধী হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্যব্যাবহার করে অহির্নিশ তথা বহুরূপী। সে মিঃ রিমনের ছদ্দবেশে তার বাড়িতে যেয়ে হাজির হয় এবং সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় তাকে হত্যা করে। কাজ শেষে লাশটা একটা ল্যাগেজে পুরে ট্যাক্সি যোগে ডাক্তারের বাড়িতে নিয়ে যায়। ডাক্তারের বাড়িতে এই নিয়ে সর্বমোট তিনটে লাশ জমলো। কিন্তু সেই মুহুর্তে এগুলিকে সমাধিস্থ করার মতো ধৈর্য রবার্তোর ছিলো না। সে অভি সেজে লাশগুলিকে বেডরুমে পুরে লক করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। আজকের দিনটায় অনেক ধকল গেছে তার উপর। তাই আজ আর নয়। কাল রাতে এই লাশগুলির একটা উপযুক্ত ব্যাবস্থা করা যাবে। আজকের মতো রবার্তোর বাড়িতে ফিরে একটা ঘুম দেওয়া যাক। বাড়ি ফেরার সময় দুর্ঘটনাস্থলে একবার ঢুঁ মারতে ভুলেনা সে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নাম করে সবার অলক্ষ্যে সোনিয়ার হাত ঘড়ি আর মোবাইল ফোনটা খাঁদ সংলগ্ন জলাধারে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পরদিন ভোরে ডুবুরীরা সেগুলি আবিষ্কার করে নিশ্চিত হয় যে, মিস সোনিয়া এই জলাধারেই সলিল সমাধী লাভ করেছেন। তাছাড়া সেদিন ভোরে তারা জলাধারের পাড়ে একদল আলিগেটরকে রোদ পোহাতে দেখেন। এই দৃশ্য দেখে তারা ধরে নেয় সোনিয়ার লাশটা সম্ভবত এই আলিগেটরদের পেটেই গিয়েছে। অবশেষে আজ দুপুর নাগাদ তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয় যার বিস্তারিত রিপোর্ট একটু আগে টিভিতে দেখানো হয়েছে। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৭
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৬
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৫
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now