বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২ — পর্ব ৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ ( পর্ব - ৫ ) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ছিমছাম সাজানো গোঁছানো একটা বাড়ি। দেয়ালে মূল্যবান পেইন্টিং ঝুলছে। দেখেই বুঝা যায় ডাক্তার সাহেব খুবই সৌখিন প্রকৃতির লোক। বিশাল ড্রয়িং রুমটা পাশ কাটাতেই একটা ছোট্ট লিভিং রুম। তার পেছনে একটা সুবিশাল মাস্টার বেডরুম। রবার্তোর ক্রিমিনাল মাইন্ড বলছে ছোট্ট লিভিং রুমের বদলে পেছনের ওই সুবিশাল মাস্টার বেডরুমেই ডাক্তার সাহেবের অবস্থান করার সম্ভাবনা বেশী। অমন সৌখিন মানুষ নিশ্চয় ছোট্ট লিভিং রুমে রাত কাটাতে চাইবে না। পা টিপেটিপে সন্তোপর্ণে সেদিকেই এগিয়ে যায় রবার্তো। পিস্তল বাগিয়ে রুমে ঢুকতে যাচ্ছিলো সে। কিন্তু হাতলে মোচড় দেওয়া মাত্র সে বুঝতে পারলো রুমটা বাহিরের দিক থেকে লক করা। খুব সম্ভবত ডাক্তার সাহেব এই মুহুর্তে বাসায় নেই। কিন্তু এজন্যে রবার্তোর উতসাহে একটু ভাটা পড়ে না। পালিয়ে যাবে কোথায়, পুরো পোল্যান্ড তছনছ করে অভিকে ঠিকই খুঁজে বের করবে সে। কিন্তু ডাক্তার সাহেব কি এমন জিনিস লুকিয়ে রেখেছে ওই বদ্ধ ঘরটাতে। হতে পারে কোন অমূল্য ধনরত্ন কিংবা কারো গলিত মৃতদেহ। দেখার জন্যে আর তর সইছিলো না রবার্তোর। পকেট থেকে লকপিকটা বের করে ঝটকা দিয়ে রুমের তালাটা খুলে ফেললো সে। ওর ধারণাই ঠিক ছিলো। রুমে একটা গলিত কঙ্কালসার মৃতদেহ আছে। সম্ভবত ভন্ড ডাক্তারের আরেক শিকার। এবার সে ডাক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশীট দায়ের করতেই পারে। এখন ব্যাপারটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে ডাক্তার অভি এই হত্যাকান্ডের অতপ্রতভাবে জড়িত। মাস্টারবেডরুমের পর অন্য ঘরটাতে কি আছে তা দেখার জন্যে মনের ভেতরে তাগিদ অনুভব করলো আলবার্তো। দ্রুত লাশের কতগুলি ক্লোজ আপ ফটো তোলে নিয়ে লিভিং রুমে চলে গেলো ও। লিভিং রুমের দরজাটা খুলাই ছিলো। পিস্তল বাগিয়ে ঝড়ের বেগে সেখানে ঢুকে পড়লো আলবার্তো। কিন্তু ঢুকেই সে হতচকিয়ে গেলো। একটা পিচ্চি ছেলে রুমের মাঝখানে বসে একমনে ধ্যান করছে। ইত্যাবসরে ওর উপস্থিতি টের পেয়ে ছেলেটা ধ্যান ভেঙ্গে উঠে বসেছে। আলবার্তো ধরে নিলো সে ডাক্তারের ছেলে জুবায়ের যে মারিয়ার সাথে একই ক্লাসে পড়তো। মারিয়াকে খুন করার জন্যে মোটিভটা হয়তো এই জুবায়েরই। মারিয়া হতো জুবায়েরের প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলো যা শুনে ডাক্তার সাহেব এতটাই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যে মেয়েটাকে দুনিয়ে থেকেই সরিয়ে দেওয়ার প্লান করে বসেন। সেটা পরে দেখা যেবে, আগে এই ছেলেটাকে সেইভ করা দরকার। অমন খুনি বাপের সাথে থাকলে এই ছেলেটাও বড় হয়ে বাপের মতো হয়ে যাবে। হঠাত করে নিজের বাপের কথা মনে পড়ে গেলো আলবার্তোর। জীবনে কখনো লোকটাকে দেখেইনি সে। তবুও সারাজীবন যথা সাধ্য চেষ্টা করে গেছে লোকটাকে ঘৃণা না করার জন্যে। কিন্তু যতবার চেষ্টা করেছে ততবারই অন্তরের অন্তস্থল থেকে একরাশ ঘৃনা দলা পাকিয়ে উগরে এসেছে। কিছুতেই সে মেনে নিতে পারেনি তার বাপ একজন ক্রিমিনাল। বুকের ভেতরে এক অব্যাক্ত যন্ত্রনা। হয়তো বড় হয়ে এই ছেলেটাও তার মতোই একই যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে শিখবে। গলার স্বরটা যতটা সম্ভব নরম করে মমতা মিশ্রিত কন্ঠে রবার্তো ছেলেটাকে বললো, "কেমন আছো লক্ষী খোকা? আমি এখানকার নতুন শেরিফ রবার্তো। তোমার বাবার সাথে একটু দেখা করতে এসেছিলাম। তোমার প্রয়াত ক্লাসমেইট মারিয়ার ব্যাপারে তার সাথে কিছু কথা ছিলো আমার। তুমি কি বলতে পারো তিনি এখন কোথায় আছেন?" জুবায়ের ওকে কেবল হাতের ইশারায় তাকে ফলো করতে বলে, কিচেনের দিকে এগিয়ে চললো। রবার্তোও চললো তার পিছু পিছু। ছেলেটাকে দেখে নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে গেলো তার। ওর হাটার ভঙ্গি, চোখের চাউনি, ঘার ঘোরানো সবই তার সাথে মিলে যায়। এই ছেলেটা বড় হয়ে তার ডুপ্লিকেট কার্বন কপি হবে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। নিজের সাথে জুবায়েরের জীবনের বিষ্ময়কর মিল দেখে মুগ্ধ হয়েছিলো রবার্তো। তাই খানিকের জন্যে ভাবালুতায় হারিয়ে গিয়েছিলো সে। ফলে তার গলা লক্ষ করে জুবায়েরের ছুঁড়ে দেওয়া কিচেন নাইফটা তার চোখেই পড়েনি। পুলিশের চাকুরীতে ডিউটির সময় খানিকের জন্যেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়া এক অমার্জনীয় ভুল। ছুরিটা গলায় গেঁথে যাওয়ার পর সেটা হাঁড়েহাঁড়ে টের পেলো রবার্তো। আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে বরাবরের মতো সতর্ক থাকলে তার মতো একজন প্রফেশনাল পুলিশ অফিসার সহজেই মাথা নুইয়ে ছুরিটাকে এড়িয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সর্বনাশা ভুল করে ফেলেছে রবার্তো। এই ভুলের মাশুল এবার তাকে নিজের জীবন দিয়ে দিতে হবে। পিউ পিউ সাইরেন বাজিয়ে দুটো পুলিশের গাড়ি অভির বাড়ির ঠিক সামনে এসে থামলো। দুজন পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই বাড়ির ভেতর থেকে হোমড়া চোমড়া ভাবধারি শেরিফ রবার্তো বেরিয়ে এলেন। তাকে দেখে পুলিশেরা সসম্মানে সেলুট ঠুকে জিজ্ঞেস করলো, "কি ব্যাপার স্যার? এই তল্লাটে কোন সমস্যা?" রবার্তোঃ "না। তেমন কোন সমস্যা নেই। আসলে গত সপ্তাহে এদিকটায় একটা নতুন রেস্তোঁরা খুলেছে। আজ আমার বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে তোমাদের দুজনকে সেই রেস্তোঁরায় খাওয়াতে চাই। যদি তোমাদের কোন আপত্তি না থাকে।" রবার্তো খুবই রাশভারী লোক। সারাক্ষণই কাজ নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। ওর অধিনস্ত অফিসারেরা তাকে খুব সমীহ করে চলে। কিন্তু আজ তার এই অনাকাঙ্খিত সমাদর একজন অফিসারের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করলো। সন্দিগ্ন অফিসার রবার্তোকে ভাল করে খুঁটিয়েখুঁটিয়ে দেখছিলো। আচমকা সে বলে উঠলো, "আপনি ঠিক আছেন তো স্যার। আপনার পোশাকে এত্ত রক্ত আসলো কি করে?" রবার্তো মাথা নাড়তে নাড়তে উত্তর দিলো, "আর বলো না, আজ বিবাহবার্ষিকীর দিনেও কাজে বেরুচ্ছি দেখে বউটা রাগ করে এক বোতল টমাটো সস কাপড়ে ঢেলে দিয়েছে।" অপর অফিসারটা রবার্তোকে খোঁচা দিয়ে বললো, "তাহলে পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে ম্যাডামকে তাতক্ষণাত এরেস্ট করলেন না কেন স্যার?" একথা শুনে রবার্তো হট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। অফিসারদ্বয় ও তার সাথে হাসিতে যোগ দিলো। হাসতে হাসতেই পুলিশেরা গাড়ি ছুটিয়ে চলে গেলো। একগাদা রহস্য বুকে নিয়ে অভিশপ্ত বাড়িটা পেছনে একা পড়ে রইলো। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৭
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৬
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৫
→ বহুরূপী-২ — পর্ব ৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now