বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(শেষ পর্ব)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ।
পুণর্মিলনী শেষে কিছুটা ধাতস্ত হয়ে লিয়েরোই সর্বপ্রথম মুখ খুললো, লিয়েরোঃ "বেশ ভাল কাজ করেছো তোমরা। চলো, এবার এই লাশটার একটা ব্যাবস্থা করতে হবে। এবং মা আসার সেটা মা আসার আগেই করতে হবে।" মিখাইলঃ "আরে রাখ তোর লাশ। এত উতলা হওয়ার কিছু নেই। এখন সবে রাত আটটা বাজে। মায়ের বিকালের ডিউটি শেষ হতে হতে রাত দশটা বাজবে। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত এগারোটা। হাতে প্রচুর সময় আছে। এবার যা তো, ফ্রিজ থেকে কোকের বোতলটা নিয়ে আয়। আগে একটু স্নাক্স খেয়ে নেই। তারপর ওসব দেখা যাবে।" লিয়েরোঃ "না ভাইয়া। আগে কাজ, তারপর স্নাক্স। মা ছাড়াও অন্য কোন অতিথী যদি এই মুহুর্তে বাড়ি চলে আসে তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমার কোন সমস্যা নেই। ছোট হওয়ায় খুনের দায়ে আমাকে সর্বউচ্চ পাঁচবছরের জন্যে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠাবে। কিন্তু তোমার কথাটা একটু ভাবো। তুমি ১৮+ , খুনের দায়ে তোমাকে সোজা যাবজ্জীবন দিয়ে দেবে। আবার ইলেক্ট্রিক চেয়ারেও বসাতে পারে।" মিখাইলঃ "তাই নাকি রে! হায় হায়! এটা তো চিন্তা করিনি। তাড়াতাড়ি চল। এটাকে গোরস্থানে রেখে আসি।" লিয়েরোঃ "কি যে বলো না। এই লাশ নিয়ে এত রাতে গোরস্থানে যাবে?" সুখাইলঃ "কেন রে? তুই ভয় পাচ্ছিস নাকি?" লিয়েরোঃ "কি যাতা বলছো? আমি ভয় পেলে তোমাদের পক্ষে এই শয়তানটাকে কাবু করা সম্ভব হতো না। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবো। গুরোস্থানের রক্ষীরা আমাদের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেবে না। তাই দেয়াল টপকে ঢুকতে হবে। উঁচু দেয়ালটা টপকাতে যেয়ে তোমার নিজের প্রাণটাই ওষ্টাগত হয় সেই দেয়ালটা একটা লাশসহ কি করে ডিঙ্গাবে? তাছাড়া এটাকে গোরস্থান পর্যন্ত এত্ত লম্বা পথ ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় যে কারো চোখে পড়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনাও রয়েছে।" মিখাইলঃ "তাহলে তুই আমাদের কি করতে বলিস? এটাকে ভাজি করে খেয়ে ফেলবো নাকি?" লিয়েরাঃ "ছিঃ, ওয়াক ওয়াক! কি বলে এসব! আমার প্লান হলো সামনের উঠোনে বড় মতো একটা গর্ত করে তাতে একে পুঁতে দেওয়া। কাজ শেষে সদ্য খোঁড়া মাটিতে কিছু ফুল গাছের বীজ পুতে দেবো। কেউ দেখলে ভাববে গাছের চারা লাগানোর জন্যেই এই খুঁড়াখুঁড়ি। প্রতিবেশীরা টেরই পাবে না ওর নিচে ঠিক কি আছে।" মিখাইলঃ "কিন্তু লাশটা গর্ত পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় যদি কেউ দেখে ফেলে তো?" লিয়েরাঃ "আরে বোকা, সেই জন্যেই তো আমরা কাজটা রাতের আঁধারে করবো। এখনই করবো। চলো হাত লাগাও। তিনজন মিলে গর্ত খুঁড়লে আধাঁঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা নয়।"
কিন্তু কাজটা সারতে সারতে রাত দশটা বেঁজে গেলো। কেবল লাশটাকে গুম করেই কাজ ফুরোয় নি ওদের। মেইন লাইনের সংযোগ দিতে হয়েছে, দোতলার সকল রক্তের ছোপগুলি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করতে হয়েছে, ক্লজিট থেকে নতুন টেবিল ক্লথ বের করে ডায়ানিং টেবিল সাজাতে হয়েছে আরো কত্ত কি। কাজ সেরে গোসল করে রাতের খাবার খেতে খেতে রাত এগারোটা বেজে গেলো। ক্লান্তিতে বাচ্চাদের চোখ বুজে আসছিলো। তবুও ওরা ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখার ছলে মায়ের ফেরার অপেক্ষা করছে। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কলিংবেলের শব্দে ওরা কাউচ ছেড়ে লাফিয়ে উঠলো। ওদের মা রিভানা চলে এসেছে। ছুটে যেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলো লিয়েরো। মা তার হাতে এক প্যাকেট ক্যারোমেল ক্যান্ডি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, রিভানাঃ "হ্যাপি বার্থডে সোনা। তোমার জন্মদিনেও কাজে ব্যাস্ত থাকায় তেমন কোন অনুষ্টানের আয়োজন করতে পারিনি। আমি সত্যিই দুঃখিত।" লিয়েরোঃ "নো প্রব্লেম মা। এই নিয়ে এটা আমার চতুর্থ জন্মদিন যেটা তেমন কোন অনুষ্টান ছাড়াই কেটেছে। ধীরে ধীরে এসবে অভ্যস্থ হয়ে যাচ্ছি। পুলিশের ঘরে জন্মেছিতো, তাই এসব সহ্য করতেই হবে। কি বলো সবাই?" ভাইয়েরা মাথা নাড়িয়ে বোনের কথায় সায় দিলো। রিভানাঃ "কি ব্যাপার? তোমাদের বাবা বাড়িতে আসেনি?" উত্তর দিতে যেয়ে খানিকের জন্যে থমকে গেলো বাচ্চারা। কিন্তু লিয়েরা সবার আগে ব্যাপারটা সামলে নিলো। লিয়েরাঃ "না মা। আজ ও বেরিয়েছেই সন্ধ্যা রাতের দিকে। মনে হয়না আর রাতে ফিরবে।" রিভানাঃ "ওহ আচ্ছা। তোমরা রাতের খাবার খেয়েছো?" লিয়েরাঃ "হা মা। তুমি ওদের পেট দেখেও সেটা বুঝতে পারছো না বুঝি?" লিয়েরা ভাইয়েদের দিকে ঈংগিত করলো। মিকাইল সহাস্যে পেটে হাত বুলাতে বুলাতে তৃপ্তির ঢেকুর তুললো। রিভানাঃ "ঠিক আছে তাহলে। এবার তোমরা যার যার রুমে যেয়ে লক্ষী বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে পড়ো।" লিয়েরোঃ "তুমি খাবে না মা?" রিভানাঃ " না সোনা আমার ক্ষুদা নেই।" লিয়েরোঃ "ভান না ধরে সত্যিটা বলে দিলেই তো পারো।" রিভানাঃ "কি? লিয়েরাঃ "বলেই ফেলো যে বাবা আসলে খাবে। হিহিহিহি। আমি কি বুঝি না? বাবাকে ছাড়া কোনদিন ডিনার খেয়েছো তুমি?" রিভানাঃ "বড্ড পাঁকা পেঁকেছিস তো তুই। যা, এবার দুষ্টুমি ছেড়ে লক্ষি মেয়ের মতো ঘুমাতে যা।" লিয়েরাঃ "আচ্ছা বাবা যাচ্ছি। শুভরাত্রি মা।"
মিখাইল ও সুখাইল তাদের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল ।লিয়েরাও শুয়ে আছে । কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই । ঘুমের বদলে তার চোখ দিয়ে অশ্রু ধারা বয়ে চলেছে । সে কিছুতেই তার বাবার মৃত্যুটাকে মেনে নিতে পারছে না। তার মা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে এই ভেবে যে তার প্রান প্রিয় স্বামী কাল সকাল নাগাদ ঘরে ফিরে আসবে। কিন্তু এই মহিলাটা জানে না যে তার স্বামী আর কোন দিন ও ফিরে আসবে না।এই সংবাদ টা সে তার মাকে কিভাবে দিবে কিছুই বুঝতে পারছে না। প্রচন্ড কস্টে লিয়েরা নিজের অজান্তেই জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল । তার কান্না শুনে রিভানা পাশের রুম থেকে দৌড়ে এসে মেয়ে কে জড়িয়ে ধরলো । রিভানাঃ “ কি হয়েছে মা ? তুই এভাবে কাঁদছিস কেন ?” রিভানার চোখে মুখে রাজ্যের বিস্ময় !!! এত রাতে হল কি মেয়েটার ?
লিয়েরাঃ “ কিছু হয়নি মা । মনে হয় কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছি । আমার খুব কস্ট হচ্ছে মা । আজ সারা রাত তুমি আমাকে এভাবেই জড়িয়ে রাখো । তোমার বুকে মাথা গুঁজে বাকি রাত টা ঘুমুতে চাই ।”
রিভানাঃ “ ঠিক আছে মা।আজ রাতে আমি তোর সাথেই ঘুমাব । কোন ভয় নেই মা দেখ এই তো আমি তোকে জড়িয়ে ধরে আছি । লক্ষ্মী মেয়ে আমার ।”
লিয়ারা মাকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলো !!!!
(সমাপ্ত)
( গল্প টি কেমন লেগেছে জানালে খুশি হব ।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now