বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
..আমি ভাবলাম গাড়ি খালি। ভিতরে কেউ নেই। কিন্তু গাড়ির ভিতরে তিনজন যাত্রী ছিল। আমাকে দেখে তাদের কেউই একটুও নড়ল না। এমন কি আমার দিকে তাকালও না। মনে হলো তারা সবাই ঘুমাচ্ছে। আমি ভিতরে গিয়ে বসলাম। গাড়ির ভিতরটা মনে হলো খুবই ঠাণ্ডা, এমন কি বাইরের চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা। গাড়ির ভিতরের বাতাস বেশ ভারী, স্যাঁতস্যাঁতে। এর মধ্য থেকে মৃতবত্ গন্ধ আসছিল। আমি সকল যাত্রীর দিকে তাকালাম এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম।...ভূতের গাড়ি
...ছবি থেকে জজ সাহেবের ফিগারটা অদৃশ্য হয়ে গেছে। ছবিতে চেয়ার এবং রুমের অন্যান্য দৃশ্যের সব কিছু ঠিক আছে। শুধু মানুষটা নেই। বরফ শীতল ভীতি নিয়ে ম্যুর ধীরে ধীরে চারদিক ঘুরে দেখল। ভয়ে শিউরে উঠল সে! তার সকল শক্তি উবে গেল, সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। তার পেশী অচল হয়ে পড়ল। ...জজ সাহেবের বাড়ি
...ঘরের মাঝখানে মানুষের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথা কাঁধের উপর নোয়ানো। সে তার দুই হাত দিয়ে মাথা ধীরে ধীরে উপরে তুলল। মৃত চেহারা সকলের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখ ছিল খোলা, মৃত চোখ খোলা। গলায় একটা লাল দাগ। ঠিক তখনই কিছু একটা মেঝেতে পড়ার শব্দ হলো। তারপর মূর্তিটি অদৃশ্য হয়ে গেল। কিন্তু কার্পেটের উপর একটি দড়ি পড়ে রইল।...অপরাধ স্বীকার
ভয়ে শিহরণ জাগানো এরকম পাঁচটি বিদেশি গল্পের সরস অনুবাদ 'ভিনদেশি ভূতের গল্প'। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় আবু রেজার এই বইটি প্রকাশ করেছে আজিজ সুপার মার্কেটের শুদ্ধস্বর। বেশ ভালো প্রচ্ছদ এঁকেছেন ও অলংকরণ করেছেন জাহিদ হাসান বেনু।
আবু রেজা মূলত শিশু সাহিত্যিক ও ঐতিহ্যের লেখক। প্রিয় বিষয় লোক সাহিত্য ও লোক ঐতিহ্য। তাঁর সাথে পরিচয় প্রায় এক যুগ হয়ে গেলো। মনে পড়ে ২০০০ সালে তাঁর প্রথম বই 'আমার পরিচয় আমার সম্পদ' পড়েছিলাম। তখন থেকেই তাঁকে ঐতিহ্যের লেখক বলে ডাকতাম। তাছাড়া অধুনা লিরিক কবিতা, অণুকাব্য, ছড়ার নামে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও যৌন সুঁড়সুড়িমূলক লেখার ভীড়ে আবু রেজার শিশুতোষ ছড়া ও গল্প আমাকে খুব আকৃষ্ট করতো।
গত বছর জুলাই মাস থেকে আবু রেজা সচলায়তনে অতিথি লেখক(?) হিসেবে লিখছেন। তাঁর প্রথম পোস্ট ঐতিহ্য বিষয়ক লেখা 'বায়স্কোপের নেশা আমার ছাড়ে না..' মুগ্ধ করেছিলো অনেককেই। বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানতে পারলাম ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। শিশু-কিশোর মাসিক 'টইটম্বুর' এর সম্পাদকীয় পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
'ভিনদেশি ভূতের গল্প' বইয়ের প্রথম গল্প ভূতের বাড়ির অনুবাদ সবচেয়ে ভালো লেগেছে। গ্রন্থে এ গল্প নির্বাচনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। পরবর্তী দুটি গল্প 'জজ সাহেবের বাড়ি' ও 'অপরাধ স্বীকার'-ও বেশ ভালো। চতুর্থ গল্প 'দি স্ট্রেঞ্জার ইন দি মিস্ট' -কে 'কুয়াশাচ্ছন্ন আগন্তুক' নামকরণে আমার কুয়াশা কাটেনি। শেষ গল্প 'স্মী' এর ঘটনাপ্রবাহ আমার কাছে উল্টা-পাল্টা লেগেছে(এটা মূল গল্পের স্টাইলও হতে পারে!)
সবগুলো গল্প পড়ে মনে হয়েছে বইটি মূলত কিশোরদের উপযোগী। তবে আবু রেজাকে ধন্যবাদ দিতে হয় এজন্য যে তিনি মেলায় বই প্রকাশের আগে শিশু-কিশোরদের কথা চিন্তা করেছেন। আর বেছে নিয়েছেন তাদের প্রিয় বিষয় ভূতের গল্প। আবু রেজার বই পড়ে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়রাও প্রকৃত ভৌতিক গল্পের আবহে ডুবে যাবেন আশা রাখছি।
অনুবাদের ক্ষেত্রে আবু রেজাকে দু'একটি কথা না বললেই নয়, যেটা অবশ্য অনেক বড় বড় অনুবাদকের ক্ষেত্রেও হয়- একজন লেখকের মৌলিক লেখার স্টাইল যদি অনুবাদেও ছুঁয়ে যায় এবং খুব ছোট বাক্যে সরল ভাষায় হয় তবে তা পড়তে আরাম লাগে। সেদিক থেকে আলোচ্য বইটিতে কিছুটা ঘাটতি পেয়েছি। ভবিষ্যতে অনুবাদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টা লেখক অবশ্যই খেয়াল করবেন বলে আশা রাখছি।
আগামীতে আবু রেজার কাছ থেকে একটি ঐতিহ্য বিষয়ক বই আশা করছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now