বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভবিষ্যৎ বক্তা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অতিপ্রাকৃতিক গল্প "ভবিষ্যৎ বক্তা" অপু তানভীর ------------------ দিবা চমকে উঠলো । রেডিওটা লাউডস্পিকারে দেওয়া ছিল । নিজের কানে একটু আগে কি শুনেছে সেটা ঠিক বিশ্বাস করতে পারলো না ! ডান দিকে তাকিয়ে দেখে ওর রুমমেট সোমাও ওর দিকে তাকিয়ে আছে । ও নিজেও শুনেছে ! সোমা বলল, কি ফাউল প্রোগ্রাম ! প্রতি উত্তরে দিবা কিছু বলল না । ওর কেমন যেন একটা অস্বস্থি শুরু হয়েছে । রেডিওতে আবার আর জে কথা বলা শুরু করেছে । তবে আগের ইমেইলটা সে আর পড়লো না । অন্য একটা ইমেল দিয়ে শুরু করলো ।দিবার মনে একটু ভয় করতে লাগলো । ওর আর শুনার সাহস পেল না । রেডিওটা অফ করে দিল । দিবা ভুতে ঠিক ভয় পায় না । তবে ভুতের গল্প শুনতে বেশ পছন্দ করে । ইদানিং রাতের বেলা অনেক গুলো ভুতের অনুষ্ঠান হয়ে রেডিও তে । শুনতে ভালই লাগে । লাইট অফ করে কিংবা কাজ করতে করতে শুনতে খারাপ লাগে না । আজকেও তেমনই একটা অনুষ্ঠান শুনছিলো । রেডিওর উপস্থাপক শ্রোতাদের পাঠানোর একটা ইমেইল পড়তে শুরু করলো । ইমেইলে এমন কথা লেখা ছিল যে ছেলেটা মানুষের ভবিষ্যৎ দেখতে পায় । বিশেষ করে কোন দূর্ঘটনা কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই সেটা আগে থেকেই বুঝতে পারে । এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল । কিন্তু যখন বলল যে আগামী সপ্তাহে ভুতের এই অনুষ্ঠানটা হবে না কারন এই অনুষ্ঠানের আর জে মারা যাবে ! লাইনটা পড়েই আর জে সাহেব চুপ করে গেলেন ! লাইভ অনুষ্ঠানে এর আগে এমন কিছু হয়েছে কি না কারো জানা নেই । নিজের মৃত্যুর সংবাদ শুনে নিজেই একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিলেন তবে সেটা সামলে নিলেন । আবার কথা বলা শুরু করলেন তবে দিবার কেন জানি আর শুনতে ইচ্ছে করলো না । সে রেডিওটা অফ করে দিল । পরদিন অফিসে গিয়েও ওর কলিগদের কাছে এই কথা বলতেও অনেকে হেসে উঠলো । সবাই অবশ্য ওর এই ভুতের অনুষ্ঠা শোনা নিয়ে বেশ হাসাহাসি করে । দিবা ওদের কাছ থেকে সুমনের টেবিলের দিকে হাটা দিল । এক মাত্র এই ছেলেটাই ওকে নিয়ে হাসাহাসি করে না । ওর কথা মন দিয়ে শোনে । সুমনের সাথে ওর কথা বলা শুরুটাও হয়েছিলো এই ভুতের গল্প নিয়েই । সবাই যখন এটা নিয়ে হাসাহাসি করতো তখন সুমন ওকে বলল যে ও নিজেও এসব শোনে নিয়মিত এবং ওর এসবে বিশ্বাস আছে । ওর নিজের সাথে ওর পরিবারের সাথেও নাকি এমন কিছু হয়েছে । দিবা সেগুলোও শুনতো মন দিয়ে ! ওর ভালই লাগলো ! মাঝে মাঝেই ও নিজেও ওর শোনা গল্প গুলো সুমনের সাথে শেয়ার করতো ! সুমনকে কথাটা বলতেই ও গম্ভীর হয়ে গেল । তবে অন্যদের মত হেসে উড়িয়ে দিল । দিবা জানতো সুমন এমনই করবে । এমনিতেই ও কম কথা বলে । অফিসের অন্য সবার সাথে মেশে কম । যা মেশে দিবার সাথেই একটু মেশে । দিবা ব্যাপারটা বুঝতে পারে যে সুমন ওকে পছন্দ করে । দিবাও ওকে পছন্দ করে তবে সেটা কোন সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ানোর পর্যায়ে যায় নি এখনও । যাবে কি না সেটা সে নিজেও জানে না । দেখতে দেখতে সেই দিন এসে হাজির হয়ে গেল এবং সত্যি সত্যিই ঐ ইমেইল দাতার কথা সত্যি হয়ে গেল । দিবা শুনতে পেল যে ঐ প্রোগ্রামটা ক্যান্সেল করা করা হয়েছে কারন আরজে নাকি অফিসে আসতে নিয়ে এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে । দিবা কেবল থ হয়ে রইলো কিছুটা সময়। আর কিছু ভাবতেই পারলো না । পরদিন অফিসের সবাই এবার আর কেউ ব্যাপারটা উড়িয়ে দিলো না । অনলাইনেও অনেক কথা হল এটা নিয়ে । সবাই একটু একটু বিশ্বাস করতে শুরু করলো আসলেই অলৌকিক বলে কিছু একটা আছে । তবে পরের সপ্তাহ থেকে আবার শো চালু হয়ে গেল । নতুন আরজে নিয়ে নতুন ভাবে । জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না । সো মাস্ট গো অন । দিবাও সব কিছু ভুলে এগিয়ে যেতে লাগলো ! আরও মাস খানেক পরে একদিন অফিসে সুমন এসে ওকে জরুরী ভাবে ডেকে নিয়ে গেল ছাদের উপর । তারপর ওকে বলল -তোমরা আগামীকাল কক্সবাজার যাবে ? -হ্যা । ভার্সিটির বন্ধুরা মিলে । তুমি কিভাবে জানলে ? -না গেলে হয় না ! -না । সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে ! -প্লিজ যেও না ! -মানে কি কেন যাবো না ? -আমি বলছি । প্লিজ ! -না এটা করতে পারবো না । হঠাৎ করেই সুমন ওর হাত চেপে ধরলো । তারপর -আমি যদি তোমার কাছে বিন্দু মাত্র মূল্যবান হয়ে থাকি তাহলে প্লিজ যেও না । আমি আর কিছু চাইবো না তোমার কাছে কোন দিন ! দিবা ঠিক বুঝতে পারলো না কি বলবে তবে সুমনের কন্ঠে এমন কিছু ছিল ও বলল -আচ্ছা ঠিক আছে । প্লিজ শান্ত হও ! আমি যাবো না ! -কথা দাও যে যাবা না ! -আচ্ছা বাবা ঠিক আছে যাবো না ! হয়েছে ! -পরের দিন যাও । প্লিজ ! দিবা আসলে একটু ভয় পেল সুমনের আচরনে । এমন শান্ত শিষ্ট ছেলেটা হঠাৎ এমন আচরন কেন করলো ঠিক বুঝতে পারলো না । তবে বন্ধুদের ফোন করে বলল যে ও ঐদিনে যেতে পারবে না । যদি একদিন পরে হয় তাহলে তাহলে পারবে ! সবাই অনেক চিৎকার চেঁচামিচি করলো তবে শেষে পরদিনই ঠিক হল ! এটার কোন ব্যাখ্যা দিবার কাছে ছিল না । কেনই বা সুমন ওকে এমন করে বলল আর ওই বা কেন রাজী হয়ে গেল কে জানে ! কিন্তু সকাল বেলা ওর এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ও যেন খুব জোরে একটা ধাক্কা খেল । ওর বন্ধু ফোনে জানালো যে ওরা যে বাসে টিকিট কেটেছিলো সেটা নাকি পথে মারাত্বক এক্সিডেন্ট করেছে । বাসের অর্ধেক যাত্রী মারা গেছে জায়গায় ! ওদের ঠিক ঐ বাসেই থাকার কথা ছিল । আজকে যদি দিবা বেকে না বসতো বসতো তাহলে ওরা সবাই মারা পড়তে পারতো ! দিবা আর কি বলবে খুজে পেল না । পরদিনের ট্যুরও ওরা ক্যান্সেল করে দিল । অফিসে এসে সুমনকে খুজতে লাগলো কিন্তু জানতে পারলো যে সুমন নাকি অফিসে আসে নি । কাল থেকে সুমনের ফোনে খুজে যাচ্ছে কিন্তু সুমনকে পাচ্ছে না । দিবা মনে মনে অস্থির হয়ে উঠলো । দিবার কেবলই মনে হতে লাগলো সুমন ব্যাপারটা ঠিক ঠিকই জানতো । নয়তো এমন আচরন ও করতো না কোন দিন । কিন্তু সমুনের কোন খোজ নেই কেন ? তারপর পরপর সাত দিন সুমনের কোন খোজ পাওয়া গেল না । ও যেখানে থাকতো সেখানে গিয়েও সুমনের কোন খোজ পাওয়া গেল না । ও নাকি গত সপ্তাহ থেকে রুমেই আসে নি ! দিবার কেন জানি খুব অস্থির লাগতে লাগলো সুমনের জন্য । ছেলেটা এমন করে গায়েব কেন হয়ে যাবে ! ওর ফ্যামিলির সম্পর্কেও ও খুব একটা জানে না সেখানে গিয়ে খোজ নিবে । ও কেন কেউই বলতে পারে না । ছেলেটা ওকে এমন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে কোথায় চলে গেল । ঠিক তার এক মাসের মাথায় দিবার নামে একটা চিঠি এসে হাজির । প্রেরকের কোন নাম নেই । কেবল ওর ঠিকানা লেখা ! চিঠি খুলেই বুঝতে পারলো সেটা কে পাঠিয়েছে । সুমনের হাতের লেখা ও ভাল করেই চেনে ! দিবা, জানি আমাকে খুব করে খুজে বেড়াচ্ছো । কিন্তু আমি এমন জায়গাতে যাচ্ছি সেখান থেকে আর ফিরে আসা হয়তো সম্ভব না । যাই হোক তুমি আমাকে খুজে বেড়াচ্ছ আমার জন্য অস্থির হচ্ছো এটাই আমার জন্য অনেক কিছু ! জানি তোমার মনে অনেক প্রশ্ন । যাওয়ার আগে কিছু বলে যেতে চাই । কদিন আগে রেডিওতে একটা ইমেইল এসেছিলো আরজে মৃত্যু নিয়ে । সেই ইমেইলটা আমি পাঠিয়েছিলাম । আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই দিবা । জন্ম মৃত্যু সব কিছু । কিন্তু সেগুলো বদলানোর নিয়ম নেই । যে যখন মরবে মরবেই । আমি চাইলেই আরজে কে ঐদিন ঠিকই বাঁচাতে পারতাম । কেবল ও যখন বাসা থেকে বের হচ্ছিল তখন ওকে কোন ভাবে ৩০ সেকেন্ড লেট করিয়ে দিলেই হয়ে যেত । কিন্তু এটা আমি করতে পারি না । করলে আমাকে কঠিন শাস্তি পেতে হত । কিন্তু তোমার বেলাতে আমি নিজেকে শান্ত রাখতে পারি নি । এই জন্য তোমাকে আটকেছিলাম । ফলাফল স্বরূপ আজকে আমি অনেক দুরে চলে যাচ্ছে । এতে আমার কোন দুঃখ নেই । যে জীবনে তুমি থাকতে না সে জীবন নিয়ে আমি কি করতাম । অন্তত তুমি এখন আমাকে মনে রাখবে । এটাই আমার জন্য অনেক কিছু । ভাল থেকো । আর আমাকে মনে রেখ ! ইতি সুমন চিঠিটা পড়ার পড়ে দিবা কিছুটা সময় বিমূঢ় হয়ে বসে রইলো । চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু বেরিয়ে এল সুমনের জন্য । (সমাপ্ত) ----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভবিষ্যৎ বক্তা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now