বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার এক অদ্ভুদ বিয়ে হয়েছে। আমি শশুড়
বাড়িতে শুধু একটি রাত কাটিয়েছি।
বাসর রাতে আমার স্বামী আমাকে পরিষ্কার জানিয়ে
দিছে, আমাকে নিয়ে সংসার করা বা আমাকে স্ত্রীর
মর্যাদা দেয়া তার পক্ষে কখনোই সম্ভবনা।
চমকে উঠে জিজ্ঞেস করেছি, কেন?
উত্তরে বলেছেন, তিনি অন্য একটি মেয়েকে
ভালবাসেন।
আবারো প্রশ্ন করেছি, "তাহলে আমার অপরাধ কি?
আমাকে কেন বধূ সাজে সাজিয়ে আজ স্ত্রীর
মর্যাদা দিতে পারবেন না? আমার জানামতে, আমার বয়স
যখন মাত্র নয়দিন তখন আপনার আর আমার বাবা মা
আমাদের বিয়ে ঠিক করেছেন। যে কারনে আমি
বিয়েতে অমত করিনি। আপনি বিয়ের আগে কেন
বলেননি যে আপনি আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে
পারবেন না? কেনইবা বিয়ে করে একটি কলঙ্কের
কালি মেখে দিলেন আমার জীবনে? "
উনি উত্তর করেছেন, "আমি বাবাকে প্রচন্ড
রকমের ভয় পাই, বিয়েতে অমত করার সাহস আমার
নেই। তাই বাধ্য হয়ে তোমাকে বিয়ে করেছি,
কিন্তু মন থেকে তোমাকে কখনো গ্রহণ
করতে পারবনা। পারতাম আমি কিছুদিন গেলে
কথাগুলো বলতাম, কিন্তু আমি সত্যটা প্রকাশ করে
দিয়েছি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।
হ্যাঁ, ক্ষমা করেছি। পৃথিবীর মানুষগুলো শুধু ভুল
করে যাবে আর কিছু মানুষ শুধু ক্ষমা করেই যাবে।
রাতটা ফ্লোরে কাটিয়ে ভোরবেলা কাউকে কিছু
না বলে বেনারশী পড়েই চলে এসেছি বাবার বাড়ি।
.
আমার বাবা মা আমাকে অনেক ভালবাসে। বাবা মা'কে
বলেছি বুঝিয়ে, " বিচার শালিস জমিয়ে অনেক কিছু
করা যাবে, কিন্তু স্বামীর মন পাওয়া যাবেনা, আর
আমিও সুখী হতে পারবনা। তাই শেষ পর্যন্ত
ডিভোর্সের ব্যাবস্থাটাই করতে হল।
খুব করে একটা বড় ধরনের হোচট খেলাম
জীবনে। এমনিতেই তো দুঃখের সাগরে বসবাস
করি, তার উপরে নতুন করে আরেকটা দুঃখ বাসা
বেঁধেছে জীবনে।
.
আমার মা ও বাবা দুজন আপন চাচাত ভাই বোন। তারা
ভালবেসে বিয়ে করেছেন। কিন্তু আমার দাদা ও নানা
কেউ বাবা মায়ের এই প্রেম ভালবাসার বিয়েকে
মেনে নেন নি।
লোক মুখে শুনেছি আমার দাদা এলাকার বিশজন
ধনীর মধ্যে একজন। কিন্তু শুধু মাত্র প্রেম
করে বিয়ে করার কারনে আমার বাবা'কে দাদার সমস্ত
বিষয় সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন।
বাবা মায়ের অভাবের সংসারে জন্ম নিলাম আমি।
এমনিতেই অভাবের সংসার, তার উপর বাড়তি একজন
সদস্যের আগমনটা যেন অভাবকে আরো
বেশী অভাবী করে তুলেছে।
বাবা মায়ের মধ্যে নিত্য প্রত্যহ ঝগড়া কলহ
লেগেই থাকত।
আমার মনে হয় অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে
করতে স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা কিছুটা হলেও হ্রাস
পায়। ছোটবেলা হয়তো কিছু বুঝতামনা, কিন্তু একটু
বুঝের হয়ে দেখেছি বাবা রেগে গিয়ে মা'কে
মারধোর করত, ঝগড়া লেগেই থাকত।
তবে বাবা আর মা দুজনেই আমাকে অনেক আদর
করত, ভালবাসত। অভাবটা কখনো আমাকে বুঝতে
দিতনা।
তবে কিছু একটার অভাব নিশ্চয় অনুভব করতাম।
সব ছেলে মেয়েদের দাদা-দাদী আছে, কাকা বা
ফুপী আছে, আমার কেন কেউ নেই? সবাই
কিছুদিন পর পর নানা বাড়ি, মামা বাড়ি বেড়াতে যায় আমি
যেতে পারিনা কেন?
.
অষ্টম শ্রেণীতে উঠার পর জানতে পারলাম
আমারো সবাই আছে। দাদা-দাদী আছে, কাকা বা
ফুপীও আছে। আনন্দে মনটা ভরে গেল। মাত্র
তিন চার মিনিট সময় লাগে আমার দাদা বাড়ি যেতে।
এক বুক আশা নিয়ে গিয়েওছিলাম একদিন। কিন্তু একটি
মানুষও আমার সাথে কথা বলেনি।
আশা ভাঙ্গা বুক আর চোখের জল নিয়ে ফিরে
আসতে হয়েছিল।
রাস্তা ঘাটে দেখেও অনেকদিন দাদাকে জিজ্ঞেস
করেছি, "দাদা কেমন আছেন?"
পাষন্ড হৃদয় গলেনি নাতনীটার সাথে মুখ ফুটে
একদিন কথাও বলেনি। কারো কারো সবকিছু আছে
আর আমার চোখের সামনে থেকেও কেউ
নেই, সবাই পর।
.
আমি পঞ্চম শ্রেণীতে থাকা কালীন বাবা
দেশের বাইরে যায়। খালু বাবাকে টাকা দিয়ে
সহযোগীতা করেছিল। যে খালুর ছেলের সাথে
আমার এক দিনের বিয়ে হয়েছিল।
বাবা দেশের বাইরে যাওয়ার পর থেকে অভাব
জিনিসটা হারিয়ে ফেলেছি।
একটু সুখের মুখ দেখেছিলাম। মোটামোটি একটা
ভাল অবস্থানে ফিরে এসেছি আমরা, এখনো
আমাদের অার্থিক অভাবটা আর নেই। আমি এস এস সি
পাশ করার পর আমাকে বিয়ে দেয়া হয়।
মায়ের কাছে জানতে পারি আমার জন্মের নয়দিন
পরই খালাত ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক
করেছেন। আর এই একটি বিয়েই জীবনটাকে
অভিষপ্ত করে তুলল।
.
ইন্টারে ভর্তি হওয়ার পর কলেজটি বাড়ি থেকে
দূরে হওয়ার কারনে হোস্টেলে থেকে
লেখাপড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করি।
ছোটবেলা থেকে তেমন কারো সাথে
মিশতামনা। এই প্রথম কলেজে গিয়ে অনেকগুলো
ভাল মনের বান্ধবী পেয়েছি, যারা আমাকে
অনেক অনেক ভালবাসে। জীবনের সব দুঃখ
ভুলে নতুন করে হাসতে শিখিয়েছে।
তারা যখন তাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন নিয়ে কথা
বলত তখন আমি চুপ করে থাকতাম। আমি কিছু বলতামনা।
মনের ভিতর কিছু ব্যাথা মনে হয় কাচের টুকরোর
মত লাগত। ভাবতাম, যদি আমার ডিভোর্সের কথা
জানতে পারে তাহলে হয়তো তারা আমাকে
আগের মত ভালবাসবেনা।
কিন্তু আমার সব ধারনা ভুল প্রমাণ করে সেই
বান্ধবীগুলো আমাকে আরো বেশী করে
ভালবাসতে লাগল।
তারাই আমাকে শিখিয়েছে "একটি হোচট খাওয়া
মানেই পরাজয় নয়, এই পরাজয়ের বাধা ডিঙ্গিয়েই
জয়ের লক্ষে পৌছতে হয়"
তারা আমাকে শিখিয়েছে কষ্টকে বুকে চাপা দিয়ে
কি করে হাসিমুখে জীবনের বাকি পথ অতিক্রম
করতে হয়।
.
এই প্রথম আমি কোন ছেলের প্রেমে
পড়েছি। প্রেমে পড়েছি বললে ভুল হবে, আমি
তানিমের প্রেমের ডাকে সাড়া দিয়েছি।
তানিমের সাথে পরিচয়ও বান্ধবীদের কারনেই।
পরিচয়ের পর কথা হত। ভাল লাগত ওর সবকিছুই। দুই
চোখে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম, তানিম আমাকে
স্বপ্ন দেখাত।
ভাল যাচ্ছিল আমাদের সম্পর্কটা। ভাললাগা, আবেগ,
অনুভূতি দিয়ে জীবনের অপ্রাপ্তিতার কিছু অংশ
পাওয়ার জন্য মনে হয় আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকত।
ভালবাসা কি তা তানিমের কাছেই শিখেছি। মনের
মানুষটাকে কিভাবে মনের ঘরে আগলে রাখতে
হয় তা জানতে পেরেছি তার কাছেই। আর
সেখানেই আমার নতুন ভয়ের জন্ম।
.
দিনের চঞ্চলতা আমাকে যতটাই ব্যাস্তময় করে
তুলে না কেন, গভীর রাতের অন্ধকারে
নিজেকে খুব বেশী একা লাগত। বিবেক জাগ্রত
হতে লাগল। আচ্ছা, আমি কি আমার স্বার্থের কারনে
তানিমকে ঠকাচ্ছি? ভালবাসার মানুষটিকে হারানোর
ভয়ে সব সত্য গোপন করতেছি আমি, অবশ্যই এটা
তানিমকে ঠকানো হচ্ছে।
কিন্তু বান্ধবীরা বলতেছে দরকার নাই এখন
জানানোর। তানিম পরে আস্তে আস্তে সব
জেনে নিবে।
আমি বলতেছি, "না, আমি নাদিয়া কখনোই তানিমকে
ঠকাতে পারবনা। আমি তানিমকে সব বলার পর যদি তানিম
আমার জীবনে থাকে তাহলে থাকবে, আর না
থাকলেও আমি সত্যটা জানিয়ে দেব। বলে দেব
আমার বিয়ে হয়েছে আগে.
.
না, আমি পারিনি আমার ভালবাসার মানুষটিকে আটকে
রাখতে। আমি তানিমকে সব সত্যি বলে দিয়েছি।
আমার বিয়ের সময়ও বলব এই বিষয়টা যেন আগে
থেকেই বর পক্ষকে জানানো হয়, তারপর আমার
বিয়ের কথা হবে।
তানিম প্রথমেই আমাকে ছেড়ে যায়নি। প্রতিটা মিনিট
প্রতিটা সেকেন্ড গুনে গুনে দূরে সরে গেল।
ঠিকইতো আছে, তারতো কোন দোষ নেই।
সে আমার চেয়ে অনেক ভাল মেয়ে জীবন
সঙ্গী করতে পারবে। আমারতো ডিভোর্স
হইছে, আমাকে কেন তার সুখের ঘরের সঙ্গী
করবে???
তাইতো আমার জীবন থেকে সরে দাড়িয়েছে।
আমি আর বাঁধা দেইনি, তাকে তার মত করেই চলতে
দিয়েছি।
.
এখন আমি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
আবারো এক বুক আশা নিয়ে নতুন করে জীবন
সাজানোর চেষ্টায় আছি।
"নদীর যেমন এক কূল ভেঙ্গে গেলে নতুন
করে আরেক কূল গড়ে তোলে তেমনি
জীবনের প্রয়োজনে মানুষও তার কিছু আপন
মানুষকে পর করে নতুন করে কিছু পর মানুষকে
আপন করে নেয়। কিন্তু যাদের দুই কূলই ভাঙ্গা, তারা
নতুন কোন চর জেগে উঠার অপেক্ষায় থাকে,
যেন নতুন করে বাঁচতে পারে। "
আমিও জীবনের কোন প্রান্তে চর জাগার
অপেক্ষায় আছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now