বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসার প্রকাশ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X অবশেষে বাবার সম্মানের কথা ভেবে বিয়েতে আর অমত করিনি কিন্তু যার সাথে বিয়ে হয়েছে তাকে কখনো ভালবাসতে পারবোনা,জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারবোনা এটা ভেবেই অনেক্ষন কাঁদলাম,কেঁদেই বা লাভ কি? নির্দিষ্ট সময় তারিখে বিয়েটা হয়ে গেল। ~~ আমি শাকিলা আর যার সাথে বিয়ে হয়েছে তার নাম হচ্ছে সাদমান শাকীব।সাদমান আমার খালাতো ভাই ছোট বেলায় আমাদের বাবা মা বিয়েটা ঠিক করে রেখেছিল যার ফলে আমার অমতে বিয়েটা হল এর আগে ওকে তেমন ১টা দেখিনি কারন আমরা কুড়ীগ্রাম শহরে আর ওরা গ্রামে থাকে বলে।ও দেখতে একবারে কালো কুচকুচে তার উপর গেঁয়ো ছেলে,গ্রামের হ্যাবলা টাইপ লোকদেরকে আমার একদম পছন্দ না।তেমনি সাদমানকে ও দেখতে পারিনা আর ওকে স্বামী ভাবতে কেমন যেন শরীরটা শিউরে উঠে এত কালো ১টা ছেলে আমার স্বামী হতে পারেনা। বাসর ঘরে বসে এসব কথা যখন ভাবতেছি তখনি সাদমানের প্রেবেশ।ও প্রবেশ করে কাছে আসার আগেই আমি বলতে লাগলাম একদম কাছে আসবেননা,আমি আপনার মত ১টা ভুত কে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবোনা,আপনাকে আমার পছন্দ না আর যদি জোর করে কাছে আসেন তবে দেহ..আমাকে থামিয়ে দিয়ে সাদমান বলতে লাগলো যে দেহ পাবো কিন্তু মন পাবো না এটাই তো,ওকে আপনি ঘুমান এ কথা বলেই বালিশটা নিয়ে মেঝের উপর শুয়ে পড়লো সাদমান।আমি আবার বলতে লাগলাম,আমরা ৬মাস পর কোন ১টা অজুহাত দেখিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করবো আর এরই মাঝে কখনো আমাকে কাছে পাবার চেষ্টা করবেন না।আর বিয়ের পর এই ৬মাস আমার বাবার বাসায় কাটাবো আপনাদের গ্রাম এলাকা আমার ভাল লাগেনা।আসলে দেখুন এখানে আমার কিছু করার নেই আমি আপনাকে কখনো ভালবাসতে পারবোনা। জবাবে ও শুধু বলল ঠিক আছে।খেয়াল করে দেখলাম ছেলেটা কাঁদছে,কাঁদুক এতে আমার কি করার আছে। আমিও আর কিছু না বলে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন বাবা মা আসলে আমি ২জনের ই বাবা মাকে কে বলি যে গ্রামে থাকতে পারবোনা আমি শহরে আমাদের বাসায় থাকবো এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।বাবা মা রাজী হয়ে গেলেন শুনে খুব ভাল লাগলো কিন্তু আবার খারাপ ও লাগলো কারন গেঁয়ো ভুতটার অফিস নাকি আমাদের বাসার কাছে তাই সেও থাকবে। ~~ এরপর আমরা আমাদের বাসায় চলে আসি। সমস্যা হল ওর সাথে এক ঘরে থাকতে হবে। যেহেতু সাদমান সমাজের চোখে বৈধভাবে আমার স্বামী তাই না ও করতে পারিনা। এভাবে আমাদের দিনকাল চলতে থাকে।প্রতিদিন অফিস ছুটির পর সাদমান আমার জন্য ফুল নিয়ে আসতো কিন্তু দেবার সাহস পেত না মাঝে মাঝে বালিশের নীচে নুপুর অথবা কানের দুল রাখতো আমি এসব ছুয়েও দেখতাম না কাজের বুয়াকে ফেলে দিতে বলতাম,কিন্তু তারপরো ও প্রতিদিন আমার জন্য কিছু না কিছু ১টা আনতো আমি ওসব কখনো ভাল করে ছুয়েও দেখিনি,এরই মাঝে আমার ২১তম জন্মদিন আসে আর সাদমান আমাকে ১টা নীল কালারের শাড়ি দিয়ে বলে মেয়েদের নাকি শাড়িতে বেশ ভালো মানায় আর আমাকে নাকি খুব সুন্দর মানাবে,সেদিন আমার রাগ উঠেছিল কারন শাড়ি পড়তে আমার ১দম ভাল লাগে না আর সেই শাড়িটা যদি অপছন্দের লোকটা দেয় তবে কেমন লাগবে আপনারাই বলেন। এরই মাঝে ১দিন মা বাবা নানু বাড়িতে বেড়াতে যায়।বাড়িতে সাদমান ও আমি আর কাজের বুয়া ছড়া কেউ নেই।দিনেরবেলা বৃষ্টিতে ভেজার কারনে রাতে আমার প্রচন্ড জ্বর আসে এবং আমি প্রলাপ বকতে থাকি এরপর আমার আর তেমন কিছু মনে নেই আর সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখি সাদমানের মাথাটা আমার বুকের উপর আর সে অঘোরে ঘুমাচ্ছে।আমি দেরি না করে তখনি ওর গাল বরাবরে ১টা থাপ্পড় মারলাম,থাপ্পড় খেয়ে ধরফড়িয়ে জেগে উঠে সাদমান আর আমি কেঁদে কেঁদে বলতে থাকি বেঈমান কাপুরুষ আমার অসুস্থতাকে এভাবে ব্যবহার করতে পারলেন ছিঃ।ও কিছু ১টা বলতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি তাকে বলতে দেয় নি। তাকে ঘর থেকে বের হতে বলি।এরপর সাদমানের অফিসের সময় হলে সে না খেয়ে অফিসে চলে যায়। বুয়া খেতে বলেছিল কিন্তু ও খায় নি,, বেশ কিছু সময় চলে যাবার পর কাজের খালাটি আমার ঘরে প্রবেশ করে বলতে লাগলো তুমি ১জন ভাগ্যবতী নারী মা,আমি বললাম মানে?তখন তিনি জবাবে বলতে লাগলেন এমন জামাই ক জনে পায়?যে তোমার অসুস্থতার কারনে সারা রাত জেগে জেগে চেয়ারে বসে মাথায় জলপট্টি দিয়েছে,পানি ঢেলেছে আর কিছু পানি তোমার জামা ভিজিয়ে দেবার কারনে আমাকে ডেকে এনে শরীরের কাপড় চেন্জ করে নিয়েছে এটুকু বলে তিনি চলে গেলেন।শুনে আমি ভাবতে লাগলাম ছিঃ কেন যে সাদমানকে মারলাম,হয়তো রাতে জেগে থাকতে থাকতে কোন এক সময় চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়ে আর ঘুমের ঘোরে চেয়ার থেকে আমার বুকে মাথাটা আসে।ছেলেটার মনে তো কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না,তবে কেন আমি ওকে মারতে গেলাম,অনেকটা খারাপ লাগছে।রাতে ফিরলে সরি বলে ক্ষমা চাইবো। এতদিন ওর সাথে থেকে আমি তো কখনো ওর চোখে এমন কিছু দেখিনি যা আমার জন্য ক্ষতির কারন হবে।এরপর আমি সাদমানের অফিস থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকি কিন্তু রাত হয়ে যাচ্ছে সে আসছে না কেন?অপেক্ষায় থাকতে থাকতে এক সময় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। অনেক রাত করে বাসায় ফেরে সাদমান সেদিন আর ওর সাথে কথা হয়নি। ~এভাবে কথা না বলে কেটে যায় বেশ কিছুদিন, এর আগে সাদমান প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার পথে আমার জন্য ফুল নিয়ে আসতো কিন্তু এখন আর আনে না।আর আমার দিকেও কখনো চোখ তুলে তাকায়না।আগে ও যখন আমার চোখের প্রতি তাকাতো তখন ওর চোখে ছিল অনেক মায়া আর ভালবাসা।সেই সময় তার চোখের ভাষা না বুঝলেও এখন বুঝতে পারি যে ও আমাকে কতটা ভালবাসতো।।তার এই ভালবাসার কাছে আমি কবে যে হেরে গেছি নিজেও জানি না।এখন ওর ফুল আর ভালবাসাময় দৃষ্টি গুলোকে অনেক মিস করি ইচ্ছে করে ওকে জড়িয়ে ধরে ভালবাসার কথা গুলো বলি।কিন্তু আমি পারিনা কারন ও যে এখন আর আমার জন্য সময় রাখেনা আমি ঘুম থেকে উঠার আগে বেরিয়ে পরে আর অফিস করে প্রায়দিন রাত ১২টার পর ফেরে।এরই মাঝে ১দিন শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন আসে আর ও কোথাও যায় নি।তাই সেদিন ওর দেয়া সেই নীল শাড়িটা পড়েছি আমি অনেক ভাল লাগতেছে,কিন্তু কিছুটা খারাপ ও লাগলো কারন সাদমান আমার দিকে তাকচ্ছেনা আমি ওকে আকর্ষিত করার জন্য বারবার ওর পাশ দিয়ে ঘোরে ফেরা করতে লাগলাম কিন্তু তাকাচ্ছেনা।ওর ডাইরিতে কি যেন ১টা লিখছে আর লেখা শেষ হলে ও বাইরে চলে যায়।আর আমি ডাইরিটা নিয়ে লুকিয়ে পড়তে থাকি ও লিখেছে আজ আমার বউটাকে নীল শাড়িতে অনেক কিউট লাগছে,ইচ্ছে করছে ওর কাছে গিয়ে দুচোখের তৃপ্তি মেটাই কিন্তু আমি পারছিনা কারন যদিও আমি তার স্বামী তারপরও সে অধিকারটা তো আমার নেই।তাই ওর সৌন্দর্যের আগুনে না পুড়ে একটু ঘুরে আসি।।লেখাটি পড়ে এক অনাকাংখিত সুখে দু চোখে জল নেমে আসে শাকিলার।এরপর রাতে শাকিলা নিজ হাতে সাদমানের পছন্দের খাবারগুলো রান্না করে খাবার টেবিলে ওর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে,সাদমানের ফেরার কোন নাম নেই,এদিকে রাত গভীর হয়ে আসছে সাদমানের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়ে শাকিলা।পরদিন দুপুরে বাসায় ফেরে সাদমান,শাকিলার ইচ্ছে জাগে যে ওকে গিয়ে প্রশ্ন করি রাতে কোথায় ছিল?কোন এক জড়তার কারনে পারছেনা।দুপুরের খাবার শেষ করে সাদমান শাকিলার রুমে যায়,শাকিলাও ওর পিছু পিছু রুমে প্রবেশ করেই বলতে থাকে আমি আর এভাবে থাকতে পারছিনা এর একটা সমাধান আমি চাই।জবাবে সাদমান বলে হ্যা আমিও এটাই ভাবছিলাম যে ডিভোর্সটা এখন হলে আর কোন সমস্যা নেই,মা বাবা জানতে চাইলে অন্য কারন দেখিয়ে দেব আর আমি উকিলের সাথে কথা বলে এসেছি আগামীকাল পেপার আসলে সাইন করে দিও।কথাটি শুনে শাকিলার দু চোখের কোনা জলে ভরে যায়,পুরা শরীরটা কাপতে থাকে আর সাদমানকে হারানোর ভয়ে চেহারাটা মলিন হয়ে যায়।তারপর মাথাটি নিচু করে অত্যন্ত করুন স্বরে বলে আসলে আমি সেটা চাচ্ছি না,আমরা কি নতুন করে শুরু করতে পারিনা?~ মানে কি বলতে চাচ্ছ?অবাক হয়ে প্রশ্ন করে সাদমান। প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সাদমানের পা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে শাকিলা। :-কাল আমাদের ডিভোর্স হবে আর আজ তুমি কি করছ এসব শাকিলা? :আমি মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি সাদমান,আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।এতদিন আমি তোমার ভালবাসাটাকে বুঝতে পারিনি কিন্তু যেদিন থেকে তুমি আমাকে এড়িয়ে চলতে লাগলে সেদিন আমি বুঝতে পারছি তুমি আমার জীবনে কি ছিলে,প্লীজ সাদমান আমাকে ছেড়ে যেওনা বলেই অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে শাকীলা। :-তুমি তোমার ভুলটা বুঝতে পারছো এটাই আমার কাছে পরম পাওয়া,তোমার কাছে আমার কোন অভিযোগ নেই। বলেই শাকিলাকে পা থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে কাঁদতে থাকে সাদমান।এভাবে নিরব কান্নার কিছুক্ষন কেটে যাবার পর :এই যে শোনেন কি হচ্ছে এসব? আপনার চোখের জলে আমার স্বামীর দেয়া শাড়িটা যে ভিজে যাচ্ছে ছাড়েন আমায়। এ কথা শুনে শাকিলাকে কোলে তুলে নিয়ে ছাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে সাদমান।লজ্জায় আর সুখে সাদমানের গলাটা জড়িয়ে ধরে সাদমানের মাঝে নিজেকে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকে শাকিলা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপ্রকাশিত একটি ভালোবাসার গল্প
→ ভালোবাসার প্রকাশ
→ « [ভালোবাসার টিপস] মুখে না বলেও ছেলেরা ভালোবাসা প্রকাশ করে যেভাবে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now