বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওই তুই এই বেঞ্চে বসছিস কেন? ওঠ
বলছি।
- কেন এইটা কি তোর নামে রেজিষ্টার
করা আছে।
- আমি ওতো কিছু বুঝি না,উঠবি কি না
সেইটা বল?
- না উঠলে কি করবি?
- (রেগে) থাক আর তোকে উঠতে হবে
না।আমি অন্য কোথাও বসছি।
- সেটাই ভাল।
- মনে রাখিস।
- কি?
- তোর মাথা।
মিথিলা রাগ করে পিছনের বেঞ্চে গিয়ে
বসলো। মেয়েটা রাগ করলে ওকে
অসম্ভব সুন্দর লাগে।তাই মাঝে মাঝে
ইচ্ছে করেই রাগাই মিথিলাকে।অবশ্য
আমি জানি ও আমার উপর বেশিক্ষন
রেগে থাকতে পারবে না।মেয়েটা আমাকে
অসম্ভব ভালবাসে তবে বলতে পারে না।
কথায় আছে না, মেয়েদের বুক ফাটে তবু
মুখ ফোটে না।তাই ভাবতেছি ওকে আজ
ভালবাসি কথাটা বলে দিবো,মেয়েটাকে
আর বেশি কষ্ট দেয়া ঠিক হবে না।
কিন্তু কিভাবে বলবো সেটাই বুঝতে
পারছি না, দেখা যাক কি হয় শেষ
পর্যন্ত।মিথিলার সাথে আমার
বন্ধত্বের প্রায় চার বছর শেষ হতে
চললো। অনেক সুন্দর একটা মেয়ে
মিথিলা তবে ও যতটা সুন্দর না তার
চেয়ে ওর মন টা আরও বেশি সুন্দর।
মিথিলার সবচেয়ে বড় গুণ হলো কাউকে
খুব সহজেই আপন করে নিতে পারে।
হঠাৎ কারো সাথে দেখা হলে এমন ভাবে
কথা বলবে যেন, সে অনেক আগে থেকেই
পরিচিত।
মিথিলাকে প্রথম যেদিন দেখি সেদিনি
ওর প্রেমে পরেছিলাম।অনেকে বলে
প্রথম দেখাতে নাকি প্রেম হয় না, যা
হয় তা হলো ভাল লাগা।আর আমার মতে
ভাল লাগা থেকেই তো ভালবাসার সৃষ্টি।
কাউকে যদি ভালই না লাগে তবে তাকে
ভালই বা বাসবো কি করে।
- একটু সরে বস, আমিও বসবো এখানে।
- কি হলো,আসলি যে আবার।খুব না রাগ
করে গেলি।
- গেছি জন্য কি আর আসতে পারবো
না।
- পারবি না, সেইটা তো বলি নাই।তবে
যেভাবে মুখ গোমরা করে গেলি তাতে
মনে করলাম আর আসবি না,অন্তত
আজকে তাও আবার এত তাড়াতাড়ি।
(আবার একটু রাগানোর চেষ্টা)
- আচ্ছা অর্ণব তুই কি কখনো আমাকে
বোঝার চেষ্টা করবি না।
- কেন? তোকে আবার কখন বুঝতে না
পারলাম। আমার তো মনে হয় তোকে
আমি আমার নিজের চেয়েই ভাল বুঝতে
পারি। (একটু হেসে)
- হইছে আর তোর ওই তরমুজের মত
দাত গুলো বের করতে হবে।সত্যিই যদি
বুঝতে পারতিস তবে এমন করতিস না
কখনো আমার সাথে।
- খবরদার আমার দাত নিয়ে খোটা দিবি
না। আচ্ছা মিথিলা সত্যি করে বলতো
তুই কি আমাকে ভালবাসিস। (অবাক
করা কন্ঠে)
- কি বললি তুই? আমাকে কি পাগলা
কুকুরে কামড় দিছে তোর মত একটা
হাদারামকে ভালবাসবো। কত সুন্দর
সুন্দর স্মার্ট ছেলেরা আমার পিছনে
ঘুরছে তাদের দিকে কখনো ঘুরেও
তাকালাম না আর উনি আসছে।
- (একটু মন খারাপ করে) ও তাই, তবে
তো এক হিসাবে ভালই হলো।
- তা তো অবশ্যই কিন্তু তুই এর মাঝে
ভালোর কি দেখলি তোর জন্য।
- না মানে, আমি এতদিন মনে করতাম
তুই আমাকে ভালবাসিস তাই তরু
প্রপোজ করা সত্ত্বেও হ্যাঁ বা না
কিছুই বলি নাই এই ভেবে যে,তুই যদি
আবার কষ্ট পাস।আমার এত কাছের
বান্ধুবীকে তো আর জেনেশুনে কষ্ট
দিতে পারি না।
- কই তুই তো এর আগে আমাকে এসবের
কিছুই বলিস নাই।আর আমার তো মনে
হচ্ছে তুই চাপা মারতেছিস কারন তরুর
মত মেয়ে তোকে নিজে থেকে প্রপোজ
করবে তা আমি বিশ্বাস করি না।
- তাহলে আর কি করার। তুই থাক আমি
গেলাম।
- ওই কই যাস।
- কেন তরুর কাছে। ওকে হ্যাঁ বলে দিয়ে
আসি। আসার সময় দেখলাম একটা নীল
থ্রী পিছ পরে আসছে, সেই সুন্দর
লাগতেছিলো। কি রকম পটলচেরা চোখে
আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। ইচ্ছে
করছিলো তখনি হ্যাঁ বলে দেই কিন্তু
তোর কথা মনে পরছিলো তাই বলতে
পারি নাই।আর এখন তো কোন বাঁধা নাই
তাই বলেই দিয়ে আসি, মেয়েটা না জানি
কতটা আশা নিয়ে আছে।
- (কান্না জড়িত কন্ঠে) তুই কি
সত্যিই আমাকে কখনো বোঝার চেষ্টা
করবি না?
- আবার কি হলো,তুই তো বললি আমাকে
ভালবাসিস না।
- যদি বুঝতিস তবে এভাবে চলে যেতে
চাইতিস না।
- (অনেকটা অবাক হয়ে) তার মানে তুই
বলতে চাচ্ছিস আমাকে ভালবাসিস।
- (একটা মন ভুলানো মুচকি হাসি দিয়ে)
তা কি বলছি আমি? আর যদি ক্লাস
থেকে এখন এক পা বাইরে দিস তবে তা
আমি ভেঙ্গে দিবো।এখন চুপ করে
আমার পাশে বসে থাকবি আর ভুল
করেও আমার দিকে তাকাবি না।
- মানে কি এসবের।
- এত মানে খুজতে হবে না তোকে।
অনেকটা সাহস করে মিথিলার হাত টা
ধরলাম। প্রথমে কিছুটা হাত ছাড়িয়ে
নেবার তাগিদ দিলেও তা আসতে আসতে
কমতে থাকলো। আর আমি সামনের
সুখের মহুর্তগুলোর কথা মনে করে
আবেশে চোখ দুটো বন্ধ করলাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now