বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসার হাতছানি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X আজ শিমুলের বিয়ে।পরিবারের কথায় সে বিয়েটা করলো।তার নিজের কোনো পছন্দ ছিল না।তাই বাবা- মা র পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করেছে। শিমুল তার হবু স্ত্রীর ছবি দেখেছিল কিন্তু সামনা সামনি কথা হয়নি। . . রাত ১০ টা.. শিমুল বাসর ঘরের সামনে দাড়িয়ে মেঘ মানে তার স্ত্রীর কথা ভাবছে।হ্যাঁ,,শিমুলের স্ত্রীর নাম মেঘ। শিমুল ভাবছে তার স্ত্রী কি মেঘের মতই মন মরা থাকবে নাকি..মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়ে শুধু কান্না করবে।নাকি এর কোনোটাই না। একটু পর জয় আর ইকরাম শিমুলকে জোর করে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দিল। তার ভাবনায় ছেদ ঘটানোয় শিমুলের মন বলছিল ফিরে গিয়ে ওদের সাথে ঝগড়া করবে..কিন্তু নতুন বউ যদি পাগল ভাবে তাই আর পিছু ফিরল না। . . শিমুল ধীরে ধীরে বিছানার কাছে গেল। সাথে সাথেই মেঘ একটা চুরি বের করল।এটা দেখে শিমুল হালকা ভয় পেল। →একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।কাছে আসলে কি হবে আশা করি বুঝতে পারছেন..(মেঘ) →হুম--তা তো বুঝলাম....কিন্তু.?(শিমুল) →কিন্তু কী..?(মেঘ) →এখন চুরি দিয়ে ভয় দেখানোর কারণটা কী..।আপনি কি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না..?(শিমুল) →কিছু জানিনা..শুধু জানি আপনাকে স্বামী হিসেবে মানতে পারবো না।তাই আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।আপনি সোফায় গিয়ে ঘুমান..(মেঘ) →ওকে ঠিক আছে..(শিমুল) শিমুল গিয়ে সোফায় বসে পড়ে আর মেঘ চুরিটা বিছানার এক কোণে রেখে দেয়। একটুপর.. →একটা কথা বলার ছিল..(শিমুল) সাথে সাথেই মেঘ আবার হাতে চুরিটা নিয়ে নেয়। →চুরি নেওয়ার দরকার নেই,,,তেমন কিছু বলবো না..(শিমুল) →ওকে,,বলেন কি বলবেন..?(মেঘ) →স্বামী হিসেবে তো মানবেন না,,এতে জোরও করব না।কারণ জোর করে ভালবাসাটা হবেনা। স্বামী নাই মানলেন,, আমরা কি বন্ধু হতে পারি..?(শিমুল) মেঘ কিছুক্ষণ চুপ করে কি জানি ভাবলো.. →ওকে,,সমস্যা নেই..?(মেঘ) →আজ থেকে আমরা বন্ধু তাই তুমি করে বলতে হবে..?(শিমুল) →একটু সময় লাগবে আমার..(মেঘ) →না,,সময় দেওয়া যাবেনা..(শিমুল) →আচ্ছা,,, তুমি করেই বলবো..(মেঘ) →হুম,,এখন ঘুমিয়ে পড়ো..(শিমুল) মেঘ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। →আর একটা কথা..(শিমুল) →কি....?(মেঘ) →এই বাসায় তুমি নতুন,,কোনো প্রয়োজনে বন্ধু হিসেবে ডাক দিও..(শিমুল) →ওকে..(মেঘ) কথাটা বলেই মেঘ চাদরটা শরীরে জড়িয়ে নেয়।শীতের শেষ সময়,তাই রাত্রে হালকা ঠান্ডা লাগে। আর শিমুল হাতে কফি নিয়ে বারান্দায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে সোফায় বসে পড়ে,,,বারান্দায় ও সোফা আছে।কারণ মাঝে মাঝে শিমুল বারান্দায় প্রকৃতির আবেশে রাত কাটায়। . . শিমুল কফি হাতে নিয়ে কফির সাথে রাতটাকে উপভোগ করছে।আকাশে আজ চাদঁ উঠেছে।বাহিরের পরিবেশটা অন্যরকম লাগে শিমুলের কাছে। হঠাৎ বারান্দার দিকে কারো আসার আওয়াজ পেয়ে শিমুল পিছনে তাকায়।দেখে মেঘ বারান্দায় আসার পথে একটা দড়জা আছে,,ওখানে দাড়িয়ে আছে। একটু পর মেঘ শিমুলের কাছে এসে বসে। →ঘুমাওনি...?(শিমুল) →না,,ঘুম আসছে না..(মেঘ) →বাড়ির কথা মনে পড়ছে..?(শিমুল) →হু..(মেঘ) →ঘুমিয়ে পড়,, কাল সকালে নিয়ে যাবো. (শিমুল) →তোমার ঠান্ডা লাগছেনা..?(মেঘ) →হালকা তো লাগবেই,,শীতের শেষ সময়...(শিমুল) একটুপর মেঘ শিমুল এর গায়ে চাদরটা জড়িয়ে দিয়ে শিমুলের হাতটা আকড়ে ধরে।এটা দেখে শিমুল কিছুটা অবাক হয়ে যায়।অবাক দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকে।এটা মেঘ দেখে পেলে.. →অবাক হওয়ার কিছু নেই।আমি আমার স্বামীর হাত ধরেছি..(মেঘ) এই কথাটা শুনে শিমুল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। আর একটু হাসলো.. →একটু আগেই তো মেনে নিলে না,,আর এখন স্বামী হয়ে গেলাম..?(শিমুল) →হুম,,আমার স্বামীকে এখন আমি মেনে নিয়েছি..(মেঘ) →এত তাড়াতাড়ি... কারণটা কি..(শিমুল) →ভাবলাম কিছু বিষয়. (মেঘ) →কি ভাবছো....?(শিমুল) →যে মানুষটা তার স্ত্রীর মুখে তাকে স্বামী হিসেবে মেনে নিবেনা শুনেও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনা।তার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়,,সে আর যাই হোক খারাপ মানুষ না।তাকে ভরসা করা যায়,,তার সাথে নিশ্চিন্তে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যাবে।তাকে ভালবাসা যায়।তাই আমিও তোমায় ভালবেসে ফেলেছি..(মেঘ) →.....(শিমুল চুপ থাকে,,কিছু বলেনা) →আমি কফি খাবো...??(মেঘ) →ওকে তুমি বসো,,,আমি কফি আনছি..(শিমুল) →না,,,আমি তোমার হাতেরটা খাবো..(মেঘ) →এটাতো আমি খেয়েছি,,তুমি কীভাবে খাবে...?(শিমুল) →কেন..?আমি আমার স্বামীর খাওয়া কফিটাইতো খাবো,এতে সমস্যা কোথায়..?(মেঘ) শিমুল কিছু না বলে মেঘের হাতে কফিটা দিয়ে দেয়। →তোমার পা গুলা একটু আমার পায়ের উপর রাখ তো..?(শিমুল) →কেন..?(মেঘ) →রাখো,,, পরে তো দেখতেই পাবে...(শিমুল) আর কথা না বলে মেঘ তার পা দুটিকে শিমুলের পায়ের উপর রাখে।একটুপর শিমুল মেঘের পায়ে নুপুর পড়িয়ে দেয়।এটা দেখে মেঘ খুব খুশি হয় আর শিমুলকে জড়িয়ে ধরে। →নিজ হাতে আমার স্ত্রীকে নুপুর পড়িয়ে দেব..এটা ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল..।আজ তা পূরণ হল..(শিমুল) এরপর দুজনেই নিশ্চুপ।মেঘ শিমুলকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে।আর শিমুল মেঘের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কারণ চাদেঁর আলো মেঘের মুখে পড়ায় মেঘকে আরো মায়াবী লাগছে,,শিমুল সেই মায়ায় হারিয়ে গেছে। কাল শুরু হবে এক নতুন সকাল। যেখানে থাকবে হাসি মাখা মুখ,,কিছু স্বপ্ন আর ভালবাসা দিয়ে স্বপ্ন গুলো সত্যি করার প্রয়াস।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসার হাতছানি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now