বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাস্তবতা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি যখন ক্লাস থ্রীতে পড়ি তখন থেকেই আমার মা আমাকে একটা দুইটা প্লেট নিয়ে আমাকে পুকুরে পাঠাতেন ধুয়ে আনার জন্য(এস এস সি পর্যন্ত গ্রামে ছিলাম)।আস্তে আস্তে পরিমানে বাড়তে বাড়তে সেটা ছয়টা পর্যন্ত পৌছালো(আমাদের সংসারে সদস্য সংখ্যা ছিল ছয় জন)।মনের আনন্দেই কাজ করতাম।তখন বুঝি নি মা আসলে আমাকে কাজ শেখাচ্ছেন। এভাবে আমার মেঝো বোন বড় হল সেও একটু একটু করে থালা বাসন ধোয়া শিখে গেল।আমরা দুজন ভাগ করে সকাল বিকাল থালা বাসন ধোয়া, ঘর ঝাড়ু দেয়া এমন টুকটাক কাজ গুলি করতাম। সেভেন পড়ার সময় একদিন মা আমাকে কবুতর কাটতে দিলেন।মনের আনন্দে মার দেখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে কবুতর কাটলাম।শেষে মা বললেন এভাবেই মুরগি কাটতে হয়।আমি কি খুশি মুরগি কাটাও শিখে গেছি!!! দেখে দেখে মাছ কাটাও শিখে গেছি। প্রথম রান্না করলাম আলুর ডাল(আলুর দম)।পাশের বাড়ির এক দাদি গল্প করছিল কিভাবে আলুর ডাল রান্না করতে হয়। শুনে নিজেই রান্না করলাম।মা বাড়িতে ছিল না।ভাত খেয়ে মা আমার দাদিকে বললেন এমন মজার তরকারি উনি কম খেয়েছেন। প্রথম মাংস রান্না করতে গিয়ে বিপদে পরে গিয়েছিলাম।মা নানার বাড়িতে বেড়াতে গেছে আব্বা মাংস নিয়ে আসলেন।আব্বা জিজ্ঞেস করেছিলো পারবো কিনা। আমি বলেছি পারবো, আব্বা নিশ্চিন্তে ছিলেন।খেতে বসে দেখেন মাংস আর মসলা সমান সমান।আমি মাংস বসিয়ে ভাবছি কেন ঝোলটা মার মতো হচ্ছে না।তাই আমি সমানে মসলা দিয়ে যাচ্ছিলাম।এটা মাথায়ই আসেনি ঝোল কমলেই আসল টেস্ট পাবো।ঝোল কমলে দেখি মাংস আর মসলা থকথক করছে।আব্বা কিছু বলেননি। আরাম করে খেয়েছেন।ভাব দেখিয়েছেন খুব মজা হয়েছে। একটু বড় হওয়ার পর মাঝে মাঝেই রান্না করতাম।মজার ব্যাপার হচ্ছে আব্বা আমার আর মার রান্নার মধ্যে ডিফারেন্স খুঁজে পেতেন না। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আমরা এভাবেই ঘরের কাজ, রান্না বান্না সব শিখেছি।আমরা চার বোন ঘরের সব কাজ ভাগ করে করতাম।কাজ নিয়ে কোন ঝামেলা হত না। যারা যার ভাগের কাজ সময় মতো করে ফেলতাম। অনেকেই বলেন পড়াশোনার জন্য অন্য কোন কাজ বিশেষ করে রান্না, কাটাকুটি এসব শেখা হয় নি।আবার অনেক মায়েরাও গর্ব করে বলেন আমার ছেলে মেয়ে এক গ্লাস পানিও ঢেলে খেতে শেখেনি।এটা কি আসলেই গর্বের বিষয়?পড়াশোনার ফাঁকে অবশ্যই মাঝে মাঝে একটু সময় পাওয়া যায়। ঐ সময়টাতে মাকে একটু হেল্প করলে, মাকে হেল্প ও করা হল আবার মোটামোটি একটা ধারনাও নেয়া হল। রান্না শেখা মানেই এই না শশুড় বাড়িতে গিয়ে সবাইকে রান্না করে খাওয়াতে হবে এই জন্য শেখা।না, এই কাজগুলি নিজের জন্যই জানা দরকার।কে কোন পরিস্হিতে পরবো সেটা তো আমরা জানি না। সব সময় কাজের লোক নাও থাকতে পারে। অনেকেই হয়তো বলবেন আগে শিখিনি তাতে কি পরে তো ঠিকই শিখে গেছি।হা পরে শিখেছেন কিন্তু প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে।নাকের পানি চোখের পানি এক করতে হয়েছে।কোন কাজ শিখলে সেটা জীবনের এক পর্যায়ে কোন এক সময় ঠিকই কাজে লাগে। মায়েদের উচিত মেয়ের সাথে ছেলেকেও কিছু ট্রেনিং দেয়া।ছেলেরা কেন মেয়েদের উপর ডিপেন্ড করবে?ওরাও যে কোন সাংসারিক সমস্যায় হাত বাড়িয়ে দিবে।ছেলেরা কত জটিল প্রবলেম সলভ করে ফেলে আর সংসারের কাজ তাদের কাছে কেন জটিল মনে হবে!!!!।কোন কাজই ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ভাগ করা নেই।আজকাল ঘরের বাহিরে ছেলে মেয়ে সবাই সব ধরনের কাজ করছে। আমাদের দেশের সিস্টেম হলো সংসারের সব কাজ শুধু মেয়েরা করবে।অথচ এখন ছেলে মেয়ে উভয়েই বাইরে কাজ করে। মেয়েটাকে বাইরের কাজ করে এসে আবার ঘরের কাজগুলি করতে হয়। অথচ বাসায় এসে দুজনে হাত লাগিয়ে যদি ঘরের কাজগুলি শেষ করে ফেললে কত শান্তি। যাকে ভালোবাসি তার কষ্টে যদি আমি কষ্ট না পেলাম, তার পাশে না দাড়ালাম তাহলে সেটা কেমন ভালোবাসা!!!! যারা বড় হয়েছেন, হাজব্যান্ড হয়েছেন,বাবা হয়েছেন তারা কতটুকু পরিবর্তন হবেন জানি না। কিন্তু আমরা যারা মা হয়েছি তাদের উচিত সন্তানকে সেভাবেই গড়ে তোলা যা আমরা আমাদের হাজব্যান্ডদের কাছ থেকে আশা করি। আমি আমার ছেলেকে সব সময় বলি "আমার কষ্ট দেখে তুমি যদি কষ্ট না পাও তাহলে পৃথিবীতে কারও কষ্টেই তুমি কষ্ট পাবে না "।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ # বাস্তবতার ভালোবাসা # অনুগল্প
→ বাস্তবতা
→ বাস্তবতার রুদ্ধশাস কাহিনী
→ স্বপ্ন ও বাস্তবতা
→ বাস্তবতা থেকে ইসলামিক জীবনযাপন
→ বাস্তবতা
→ বাস্তব অভিঙ্গতা তথা বাস্তবতা
→ নাগিন নাটকের বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ স্বপ্ন বাস্তবতা ১
→ এটাই বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ ""বাস্তবতা""
→ বাস্তবতা অনেক কঠিন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now