বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাসর ঘরের অদ্ভুদ ভালোবাসা ( শেষ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X ছেলেটা প্রখর মেধাবী আর বিনম্র ছিল। কিন্তু এক সন্ধ্যায় আমার সারাজিবনের ধারনা আর দুই বছরে একটু একটু করে জমানো ভালবাসা আত্মহত্যা করলো। সেদিন আমাকে জয়নাল ফোন দিয়ে জানিয়েছিল নিউমার্কেটে ওর বন্ধু আলামিনের জন্মদিনের পার্টিতে আমাকেও যেতে হবে। আমি বিশ্বাসের দাস। ওর এক কথায় আমি রাজি হয়ে গেলাম। অনুষ্ঠানে সবার মাঝে জয়নাল আমাকে তার স্ত্রীর ভূমিকায় আগলে রেখেছিল। দীর্ঘক্ষন পার্টি চলার পর একে একে সবাই বিদায় নিল আর আমরা দুজনে আলামিনের ঘরেই গল্প করতে থাকলাম। আমাদের আলোচনার একটা সময় জয়নাল এখানকার মহা নির্জণতার সুযোগ নিল। শেষ হলো আবার সারাজীবনে সঞ্চীত অমূল্য সম্পদ সতীত্ব। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই জয়নাল আমাকে বাড়িতে পৌছেদিল বাড়িতে পৌছানোর কিছুক্ষণ বাদেই আমি ফোন দিলাম জয়নাল কে। প্রথমবার কল বাজলো কিন্তু রিসিভ হলো না, তারপর থেকে অনবরত তার ফোনের সুইচ অফ পেয়েছি। ভাগ্য আমার সহায় ছিলনা তাই সময়ের সাথে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ফেললাম। পুরুষ জাতীর প্রতি প্রচন্ড রকমের ঘৃণা জন্মে আমার হৃদয়ে। সব সময় ভাবতাম নারী যেন পুরুষের কাছে শুধুই ভোগের পণ্য। ভেবেছিলাম বিবাহ করে কোন পুরুষ কে ঠকাবোনা। বাবা মা কে অনেক বোঝানোর পরেও তারা বোঝার চেষ্টা করেনি। আপনাকে বিয়ের আগেই সব বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে সুযোগটাও আমার হাতে ধরা দেয়নি। শুনেছি আপনি আমাকে ছাড়া বিবাহ করবেন না। তাই আত্মহত্যাও করেনি, আমি চাইনি আমার জন্য আর একটা প্রান নষ্ট হয়ে যাক। অনেক কষ্ট আর সময় নিয়ে চাপা কান্নার সাথে কথাগুলো জানান দিলো ইমরানের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তামান্না। এত কিছু বলার পরেও কোন সাড়া না পেয়ে তামান্না ঘোমটা সরিয়ে উপরের দিকে দৃষ্টি রাখলো। কিন্তু এ কি ? ইমরান তো অঝোর ধারায় কান্না করতেছে। এই মূহুর্তে তামান্নার কাছে খুব খারাপ লাগতেছে। এ সময়ে ঘটনাটা না বললেও মনে হয় হতো। তামান্নার আলোচনা শেষ হয়েছে বুঝতে পেরে নিজেকে সামলে নিয়ে তামান্নার দিকে একটা শরবতের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে সে একটা হাতে তুলে নিল এবং অল্পাংশ পান করলো। তারপর তামান্নাকে বসতে বলে ওয়াশ রুম থেকে কান্নায় ফুলে উঠা চেহারাটা ধুয়ে এলো ইমরান। নতুন স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এবার মুখ খুললো ইমরান। যে নিষ্ঠুর মানুষটা আপনাকে ঠকিয়েছে সেটা আমার মায়ের পেটের আপন ভাই। ঘটনার দিন আপনাকে বাড়িতে এগিয়ে দিয়ে ভাইয়া শিববাড়ি মোড় থেকে একবন্ধুকে পিক করে ডাকবাংলোর দিকে যাবার সময় একটা কার্গো ভ্যানের সাথে এক্সিডেন্ট করেন। বাইকে ঐ সময়ে অবস্থানরত ভাইয়ার বন্ধু মুন্নাভাই বলেছিল ফোন কল ধরতে যেয়ে এমন দুর্ঘটনা হয়েছে। মৃত্যুর সময় ভাইয়া উনার বন্ধুকে বলেছিল। মুন্না, আমার ছোট ভাই ইমরান কে বলবি সে যেন তামান্নাকে বিবাহ করে নেয়। মেয়েটার সাথে আমার বড্ড অন্যায় হয়ে গেছে। ভাইয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ হয়নি। কারন, ভাইয়ার বুকের উপর দিয়েই ভারী গাড়িটা চলেছিল। নিশ্চিত এবং তৎক্ষণিক মৃত্যু ছিল। কথাগুলো যখন শেষ হলো তখন ইমরান দাড়ানো অবস্থায় ছিল। তামান্না দৌড়ে এসে ইমরানের পায়ে পড়ে কান্না করতে লাগলো, আর ইমরান তখন মেয়েটার দু বাহুতে হাত রাখলো, সোজা দাঁড় করিয়ে বুকে টেনে নিল। ইমরান ওর রক্তাক্ত ভাইয়ের দেওয়া উপদেশ পালন করতে পেরে যেমনই আনন্দিত ঠিক প্রিয় মানুষ না পেলেও তার বাড়িতে বউ হয়ে আসতে পারায় তামান্নাও বড্ড উচ্ছ্বাসিত আজ। সব কষ্ট আর বেদনাকে পিছনে ফেলে ওদের জীবনটা আজ নতুন করে শুরু হলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাসর ঘরের অদ্ভুদ ভালোবাসা ( শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now