বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জিহান রাগেমাগে এসে প্রিতির হাত ধরে তাকে দেয়ালের সাথে লাগিয়ে দিলো।।
জিহান:- কি ভাবস তুই নিজেকে?? এই সব করে নিজেকে আমার চোখে বড় করবি?? আমার বিছানায় আসবি?? ????????
প্রিতি:- এইসব কি বলছেন আপনি?? আমি আপনার স্ত্রী আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন??
জিহান:- আরে রাখ তোর স্ত্রী!!! মেয়েদের আমার ভালো ভাবে চিনা আছে।। ???????? সব মেয়ে এক।।।
প্রিতি:- কি এমন সমস্যা আপনার?? মেয়েদের কেন এমন করেন?? সবমেয়ে এক না।। আমি সবার মতো না।। আমি থাকতে চাই আপনার সাথে ভালো ভাবে।। ???????????? আমি বাচঁতে চাই আপনার হাত ধরে।। আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে আপনি কি ভুলে যাচ্ছেন??? মেয়েদের নিয়ে আপনার কেনো এতো রাগ আজকে আমাকে বলবেন আপনি।।
জিহান চলে যেতে চাইছিলো কিন্তু প্রিতি তার সার্টের কলার ধরে তাকে বললো
প্রিতি:- না আজকে আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যেতে পারবেন না।। আমার উত্তর দিন আগে।। কেনো মেয়েদের প্রতি আপনার এতো রাগ??
জিহান( প্রিতির হাত ছেড়ে।। ) :- হে!! সব মেয়ে এক।।। তুই ও এক আর ১বছর আগের মিনুও এক!! সবাই সার্থপর।। কেউ নেই এই দুনিয়াতে ভালবাসার মতো।। কেউ নেই বলে মাটিতে বসে পড়লো জিহান।।।
প্রিতিও জিহানের সাথে বসে গেলো।।
প্রিতি:- কি হয়েছে?? কে এই মিনু?? সে কি করেছে??
জিহান( কেঁদে কেঁদে ):-মিনু আমার প্রেমিকা ???? আমরা একজন আরেকজনকে খুব ভালবাসতাম ???????? না এইটা বললে ভুল হবে কেবল আমি ভালবাসতাম তাকে ???????? মেয়েরা খুব সার্থপর ( প্রিতির দিকে তাকায়।) তুইও সার্থপর।।
প্রিতি:- ভালবাসতেন ঠিক আছে তো কি হয়েছে?? মেয়েদের প্রতি এতো রাগ কেনো??
জিহান:- তোর কেন জানতে হবে?? আমার ব্যাক্তিগত বেপার আর তুইকে এইসব জানার?? তুই এই ঘরের কাজের মানুষ আর কিছুনা আমার জন্য।।।
প্রিতি:- আচ্ছা আর কোনদিন জানতে চাইবোনা আপনার কাছে।।
এই বলে প্রিতি উঠে চলে গেলো ওই জায়গা থেকে।। জিহান বসে আছে ঠিক ওই জায়গায় আর প্রিতির দিকে তাকিয়ে আছে।। মেয়েটাকে এতো অভিমান করতে সে দেখে নি আগে।।।
প্রিতির মুখে হাসি নেই।। এক মনে সে কাজ করছে।।। সবাইকে খেতে দিলো।।জিহানও এলো খেতে।।
জিহান প্রিতির দিকে তাকিয়ে আছে সে তাকে এমন দেখেনি কোনোদিন।।। প্রিতি তাকে ভাত দিলো।।
সবাই খেয়ে যে যার ঘরে চলে গেছে।। প্রিতিও এসে ঘুমিয়ে পড়লো জিহান আসার আগেই সে তার বালিশ নিয়ে মাটিতে।।।
জিহান এসে দেখে যে প্রিতি ঘুম।। সে তার বিছানায় এসে বসলো তারপর একটা সিগারেট ধরালো।। সে খেয়াল করলো যে সে অনেক দিন পর সিগারেট খাচ্ছে।। এক রাতে সে ১৮টা সিগারেট খেলো।। তার আগের কথা আবার মনে পড়ছে।। চোখে পানি তার।। মনে মনে ভাবছে আমি কি ভুল করছি?? মেয়েটা কি আসলেই সবার মতো না?? না আমার নরম হলে চলবে না।। আমি আবার কষ্ট পেতে পারবোনা।। আমি আর সহ্য করতে পারবোনা।। আবার মন ভাঙ্গার কষ্ট আমি সহ্য করতে পারবোনা।। পারবোনা আমি!!!!! আরেকটা ধরালো সিগারেট সে জানেনা সে এখন ২৪টা সিগারেট খাচ্ছে।।। একসময় ঘুমিয়ে গেলো জিহান।।
প্রিতি:- জিহান সাহেব!! জিহান সাহেব!!! অনেকবার ডাকে।।
জিহান হালকা চোখ খুলে:- কি সমস্যা??? ঘুমাচ্ছি চোখে দেখোস না???
প্রিতি:- আমি খুব ভালো ভাবে দেখতে পাচ্ছি।। আজকে আপনার অফিস আছে ভুলে গেলেন???
জিহান তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে ঘড়ির দিকে তাকালো।।
জিহান:- ৮টা বেজে গেছে আমাকে এতোক্ষন ডাকলিনা কেনো??
প্রিতি চুপ করে আছে।। জিহানের অফিসে যাওয়ার কাপর বের করে দিয়ে বিছানাটা গোছিয়ে দিলো তারপর রুম থেকে বের হয়ে গেলো।।।
জিহান তাকিয়ে ছিলো তার দিকে।।। সে চলে যাওয়ার পর বাথরুমে গিয়ে রেডি হয়ে নিচে গেলো।।
প্রিতি আগে থেকে তার খাবার দিয়ে দিলো।। কিন্তু প্রিতিকে দেখা যাচ্ছে না।।
জিহান খেয়ে চলে গেলো অফিসের উদ্দেশ্যে।।।
প্রিতি তার রুমে গিয়ে খুব কান্না করলো।। তার দুষটা কি ছিলো?? তার জীবন কেনো এমন হলো।। ???????????? এইসব চিন্তা করতে রইলো।।
সন্ধায় সবাইকে নাস্তা দিলো।। তারপর ঘরের সব কাজ শেষ করে তার রুমে গিয়ে বসলো।। তার পিঠ খুব ব্যাথা করছে।। ???????????? সে ভালো ভাবে বসতে পারছেনা। কোনো রকম করে বারান্দার চেয়ারটাতে বসলো।। একটু ঘুমালো।।
রাতে সবাইকে খেতে দিয়ে সে জিহানের জন্য খাবার টেবিলে সাজিয়ে রাখলো।। তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো এক সময় ঘুম চলে এলো তার।। খাবার টেবিলে ঘুমিয়ে গেলো।।
জিহান আসতে অনেক রাত হলো।। রাত ১২:৩০ টার দিকে এসেছে সে ঘরে।। এসে দেখে প্রিতি তার জন্য খাবার নিয়ে খাবার টেবিলে ঘুমাচ্ছে।।
জিহান খুব নরম মনের ছেলে।। সে এমন কিছু দেখলে নিজেকে সামলাতে পারেনা।। সে প্রিতির কাছে গিয়ে প্রিতির মুখে আসা চুলগুলো সরিয়ে দিলো।।
:- না না না এইসব করলে চলবেনা।। আমি নিজেকে নরম করতে পারবো না।। আমি আবার কষ্ট পেতে পারবো না।।
জিহান:- এই মেয়ে।। এই হারামী।। উঠ।।। ঘুমাচ্ছিস কেনো??
প্রিতি চমকে উঠলো হঠাৎ।।। উঠে দাড়ালো।।
প্রিতি:- এমনি চোখটা লেগে গিয়েছিলো।।।
জিহান একগ্লাস পানি নিয়ে প্রিতির মুখে মারলো।।
কিন্তু প্রিতি কিছু বলে নি।।
জিহান:- এবার ঘুম গেছে নাকি এখনও আছে?? আর লাগবে পানি??
প্রিতি:- না আর লাগবে না।। ঘুম চলে গেছে।।
জিহান:- যা আমার খাবার গরম করে নিয়ে আয়।। কাল থেকে আর ঘুমাবি না।। এইভাবে জেগে থাকবি।।
প্রিতি কোনো কথা না বলে জিহানের খাবার গুলো নিয়ে ওভেন থেকে গরম করে আনলো।।
জিহান একটু করে খেয়ে :- ছি!! এগুলো কি খাবার?? রান্না করতে জানোস না?? কাল থেকে ঠিক করে রান্না করবি।।
অথচ তার রান্না আজকে অনেক ভালো হয়েছে সবাই অনেক নাম করেছে।। জিহানও জানে যে প্রিতির আজকের রান্না ভালো হয়েছে কিন্তু বলেনি।।
জিহানের খাওয়া শেষে সে তার রুমে চলে গেলো।। প্রিতি সব খাবার ঠিক করে রেখে রুমে গেলো।।
জিহান সিগারেট খাচ্ছে তখন বিছানায় বসে।।
প্রিতির পিঠ ব্যাথা করছিলো অনেক তাই সে আজ বারান্দায় গিয়ে চেয়ারে শুয়ে পড়ে যাতে জিহান টের না পাই।।
প্রিতি বসতে চাচ্ছে কিন্তু তার পিঠের ব্যাথার জন্য সে নিচু হতে পারছেনা।।
প্রিতি আহ!! করে একটা শব্দ করলো জিহান শোনতে পেয়েছে সে দেখতে এসেছে প্রিতিকে।।
জিহান:- এতো চিল্লাছোস কেনো?? ঘুমাতে দিবি না??কি হয়ছে??
প্রিতি:- সরি।। আপনি গিয়ে শুয়ে পড়োন।। আমার কিছু হয় নি।।
জিহান প্রিতির হাত ধরে তাকে রুমে নিয়ে যেতে চাইলো।। প্রিতি তার হাত ছেড়ে বললো দরকার নেয় আপনি ঘুমান।।
জিহান:- চুপ!! আমার কথার বাইরে কথা বলবি না।।
প্রিতির হাত ধরে তাকে রুমে নিয়ে গেলো।।
শাড়িটা নামিয়ে তার পিঠে হাত দিলো প্রিতি আহ!! করে নড়ে উঠলো।।
জিহান পাশের টেবিলের ড্রয়ার থেকে move ক্রিমটা বের করে প্রিতির পিঠে লাগিয়ে দিলো।। তার পিঠের এক জায়গায় একদম কালো হয়ে গেছে।। ????????????
জিহান:- বিছানায় ঘুমা।।।
প্রিতি:- না আমি পারবো বলে বিছানা থেকে উঠতে যাবে সাথে সাথে জিহান তার হাত ধরে নিলো।।
জিহান:- আমার কথার বাইরে আর একটা কাজ বা কথা বলবি না।।। চুপচাপ ঘুমা এই বলে প্রিতিকে আস্তে করে তার পাশে শুয়ায় দিলো।। ????????????
প্রিতি জিহানের পাশে শুয়েয় ঘুমিয়ে গেলো।। জিহানের আর ঘুম হলো না।। সে প্রিতির চেহারার দিকে তাকিয়ে ছিলো।।
ঘুমের মধ্যে প্রিতি জিহানের গায়ে হাত তুলে দিলো।। জিহান প্রিতির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো ???????? প্রিতির মুখে আসা চুলগুলো সরিয়ে দিলো।। আর একটা ছোট্ট হাসি দিলো।।।
সকালে প্রিতির ঘুম আগে ভাঙ্গলো।। দেখে তারা একজনকে আরেকজন জড়ায় ধরে আছে।। কিছুক্ষন জিহানের দিকে তাকিয়ে রইলো।। জিহানের মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিলো।। তারপর উঠার চেষ্টা করলো কিন্তু জিহানের হাতে বাধা পড়লো।।
আরেকটু উঠার চেষ্টা করাতে জিহান নড়ে উঠলো।। ????????
হালকা চোখ খুলে প্রিতির মুখ দেখতে পেলো।। তাকিয়ে রইলো।।????????????
জিহান :- উঠে যখন গেছিস তাহলে চলে না গিয়ে শুয়ে রইলি কেনো বেহায়ার মতো ???
প্রিতি চুপ করে রইলো।।
জিহান খেয়াল করলো সে প্রিতিকে জড়ায় ধরে আছে যার কারণে প্রিতি যেতে পারছেনা।।
প্রিতিকে ছেড়ে দিয়ে:- সরি।। বলে সরে গেলো।।
প্রিতি কিছু না বলে উঠে গেলো।। বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে গেলো।।
জিহানও ফ্রেস হয়ে নিচে গেলো।।
প্রিতি কালকের মতো আজকেও তার খাবার দিয়ে চলে গেলো।।
জিহান খেয়ে অফিসে চলে গেলো।।
প্রিতি হাসছে কিছু একটা ভেবে।। ???????????? আজ অফিসে কি হয় আল্লাহ জানে ????????
জিহান অফিসে গিয়ে তার ব্যাগটা খুলেই,,,,
জিহান:- আহহহহহহহহহহহহহহহ!!!!!!!!!
অফিসের সবাই দৌড়ায় আসলো।। তার বাবাও এলো কি হয়েছে দেখার জন্য।।
সবাই কারণ জানতে পেরে হাসাহাসি শুরু করে দিলো।।
জিহান রাগে লাল হয়ে গেলো।। সে মনে মনে বলছে এই কাজ প্রিতি ছাড়া আর কেউ করতে সাহস পাবে না।। আজকে তার একদিন কি আমার একদিন।।
( জিহানের ব্যাগে ব্যাঙ ছিলো যাকে সে সবার চেয়ে বেশি ভয় পাই???????????????? )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now