বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি কলেজে রাজ নামের একটা ছেলে পড়তো।ক্লাসের সবার সাথে তার আত্নীয়ের মতো সম্পর্ক।কারো সাথে সে কখনো খারাপ ব্যাবহার করেনা।রাজের প্রিয় বান্ধবি সিমি।মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের একমাত্র আদরের মেয়ে সিমি।সিমি অতি আদরের মেয়ে হওয়ার কারনে তার খাম খেয়ালিপনা খুব বেশি।কিন্তু ওর খামখেয়ালিপনা,ওর বাচ্চা বাচ্চা ভাব রাজকে বার বার উতলা করে তোলো সিমিকে ভালোবাসতে।তাই বন্ধুত্বের আড়ালে রাজ অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছে সিমিকে।সিমির প্রতি রাজের কেয়ারিং এর অন্ত নেই।তার টাকা পয়সা,পোশাক,বই,অসুস্থ হলে সেবা করা খেয়েছে কিনা প্রতিটা জিনিসের খেয়াল রাখতো রাজ।রাজের জিবনের প্রতিটা কথা সিমি জানে এবং সিমির সসব কথা রাজ জানে।সিমি ফেসবুকে অনেক ছেলের সাথে চ্যাট করে,সিমি অনেক ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে।যা রাজ একদম পছন্দ করে না।একদিন রাজ ভাবলো তার মনের কথা সিমিকে বলে দেবে।কিন্তু তার আগেই এক দমকা হাওয়াই রাজের সব স্বপ্ন ভেঙে গেলো।রাজ কলেজে যেয়ে দেখলো সিমি একটি ছেলের সাথে হাত ধরে ঞোরা ঘুরি করছে।রাজকে দেখেই ওরা এগিয়ে আসলো এবং সিমি বললো,
সিমি: রাজ তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই,,,,,আমার বয়ফ্রেন্ড সুমন।আর সুমন ও আমার বেস্টফ্রেন্ড রাজ।
রাজ:হ্যালো,,,,,,,(কান্না চেপে রেখে)
রাজ এবার বললো তোরা থাক,,, আমি আসছি বলেই স্থান ত্যাগ কোরলো।
রাজ ফেসবুকে একটা স্টাটাস দিলো, সেটা ছিলো:যাকে ভালোবাসা যায় তার জন্য সবকিছু করা যায়,কিন্তু প্রিয় মানুষটার অন্য ছেলেকে ভালোবাসতে দেখলে বাচার ইচ্ছেটাও চলে যায়।
রাজ অনেকদিন কলেজে আসেনা।কিন্তু সিমি তার পড়াশোনা,পরিবার,ভালোবাসা নিয়ে এতোটাই বিজি যে রাজের খবর নেওয়ার মতো সময় সিমির নেই। যে ছেলে জিবনে সিগারেট স্পর্শ করেনি,সে এখন সিগারেট ছাড়া বাচতে পারে না।কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিলো সে।
একদিন সিমি সুমনের সাথে বাইকে করে ঘুরতে বের হলো এবং এ্যাক্সিডেন্ট করলো।সিমির অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়েছে।রাজ জানতে পারার সাথে সাথে রক্ত দেওয়ার জন্য ছুটলো।নিজের রক্ত দিয়ে সে সিমিকে বাচালো।কিন্তু ডাক্তারকে নিষেধ করে দিলো কাউকে বলতে।রাজ রক্ত দিয়েই চলে গেলো।
সিমি সেন্স ফিরে পাওয়ার পর জানতে চাইলো সুমন কেমন আছে।সুমন ভালো আছে বলতেই সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো সে।একদিন রাজের সাথে সিমির সামনাসামনি দেখা হয়ে গেলো।
সিমি বললো: কিরে রাজ কলেজে আসা বন্ধ করে দিলি,আর কোনো খোজ খবরও নেই!!?
রাজ বললো: আমি ভালো আছি,সুখে আছি।আর কিছু!!!!!?
সিমি: এই নে আমার বিয়ের কার্ড।তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড,,,,,তুই না আসলে আমি খুব কষ্ট পাবো।বলেই সিমি চলে গেলো।
বিয়ের দুইদিন আগে সুমন একটা বাসের সাথে এক্সিডেন্ট করে।তার চোখ দুটো নষ্ট হয়ে যায়।
রাজ এই কথা সোনা মাত্রই ছিটে চললো, সেই হাসপাতালে যেখানে সুমন আছে।রাজ ডাক্তারকে বললো,,,,, আমি চোখ দেবো ডাক্তার!!!!
ডাক্তার: দুঃখিত,,, আমরা জিবিত মানুষের কাছ থেকে দুটি চোখ নিতে পারিনা।রাজ একটা চিঠি ডাক্তারের হাতে দিয়ে বললো,,,কথা দিন ডাক্তার সাহেব,আমার মৃত্যুর পরে এই চিঠি আপনি সিমির কাছে পৌছে দেবেন!!!!?????????
ডাক্তার তার কাছে সবকিছু খোলামেলা ভাবে জানতে চাইলে রাজ ডাক্তারকে সবকিছু খুলে বলে। সব শুনবার পরে ডাক্তারের চোখেও পনি চলে আসে।রাজ একটা চাকু দিয়ে নিজের হাতকে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে,তার পরে রক্ত দিয়ে দেওয়ালে লেখে সিমি আই লাভ ইউ।নিজের বুকে চাকু ঢুকিয়ে দেয় রাজ।কিছুক্ষণ পর রাজের দেহ নিথর হয়ে যায়।মুখটা মলিন,,, মনে হচ্ছে শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে সে।সিমি অনেক কেদেছে সেদিন।যখন ডাক্তার তাকে চিঠিটা দিয়েছিলো,,,,,,,,
তাতে লেখা ছিলো,,,,,::: আমি রাজ।এক নিঃস্বার্থ প্রেমিক।তোমাকে বার বার বলতে যেয়েও বলতে পারিনি যে,,,আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। ভালোবেসেছিলাম তোমার পাগলামিকে,তোমার ছেলেমানুষিকে,তোমার মনটাকে,,,তুমি বুঝলে না।তাইবলে আমার ভালোবাসাকে তুমি ঠুনকো ভেবোনা!!!! বন্ধু হয়ে ছায়ার মতো সঙ্গী ছিলাম তোমার।।। তোমাকে নিজের রক্ত দিয়ে বাচিয়েছি তোমার সত্তায় চিরদিন মিশে রবো আমি।আমার চোখ দুটি সুমনকে দিয়ে গেলাম,,যে চোখ দিয়ে মৃত্যুর পরেও তোমাকে আমি দেখবো,,অপলক দৃষ্টিতে।।।।।চির বিদায়।।।।।
সেদিন সিমির চোখের জলে ভিজে গেছিলো চিঠিটা।।।।।।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now