বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্যাপারগুলো এতদিন ঠিকঠাকই ছিল। প্রচণ্ড খারাপভাবে হলেও ভালো ছিল। অত্যাচার যতই হোক না কেনো এই বলে মনকে বোঝাতাম যে ‘মা –বাবা শাসন করতেই পারে। এটাকে দুঃখ হিসেবে নেয়ার কিছু নেই’ কিন্তু আজ যখন মুখ ফসকেই হোক আর স্বেচ্ছায়ই হোক যাকে এতদিন মা বলে জানতাম তিনি বলেই ফেললেন আমি তাদের সন্তান নই আমাকে অনাথ আশ্রম থেকে আনা হয়েছিলো তখন পুরো পৃথিবীটা যেনো থমকে গেলো। আমি প্রথমে ভাবলাম বোধ হয় রাগের মাথায় বলে ফেলেছে ।আমি হেসে মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম ‘মা, রাগ করেছ বুঝলাম অন্য কিছু বল আমাকে বকা দাও কিন্তু এভাবে বলো না।খুব কষ্ট হয়’। মনে হল আমি যেন ময়লা আবর্জনা এভাবে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো মা। চেয়ারের কোনার সাথে লেগে কনুই কেটে রক্ত বেরিয়ে গেলো। কনুই কেটে যাওয়ার ব্যাথায় নাকি মায়ের কথায় আর অবহেলায় আমি কাঁদতে লাগলাম ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। কষ্টে বুক ব্যাথা করে উঠলো। কান্নায় কথা বলতে পারছিলাম না। কোনোরকমে বললাম ‘মা তুমি আমার সাথে এমন করছ কেনো? আমার সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে মা। প্লিজ আমাকে একটু বুকে নিয়ে আদর করো। ছোটবেলার মতো’
-‘যা যা দূর হ। যা বললাম সত্যি বললাম। এতদিন চেপে রেখেছিলাম। আর পারব না। আমাদের তখন সন্তান হচ্ছিল না কিন্তু আমি একটা সন্তান ছাড়া থাকতে পারছিলাম না তাই তোকে অনাথ আশ্রম থেকে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার বলেছিল আমার কনদিন সন্তান হবে না। কিন্তু এখন খোদার রহমতে আমার একটা সন্তান হল। আজ এতো বছর পর। আমি চাইনা তোর কারনে ওর কোন ক্ষতি হোক! তুই ঘর থেকে বেড়িয়ে যা...!”
আমার মনে হচ্ছিল এই সব দুঃস্বপ্ন। একটু পরই আমার ঘুম ভেঙে যাবে। উফফফ ঘুম ভাঙ্গে না কেন? আমি আমি আর নিতে পারছি না। এ যে ভীষণ দুঃস্বপ্ন!
= “মা কি বলছ এইসব? আমি তোমাদের মেয়ে। বাবু তো আমার ছোট ভাই। আমি ওর ক্ষতি করবো কেনো? মা প্লিজ একবার বলো তুমি দুষ্টামি করছ...”
-“তোর সাথে দুষ্টামি করছি?! তুই আমার কথা বিশ্বাস করিস না? না করলে যা মর। তোর একদম ছোটকালের ছবি কতবার দেখতে চেয়েছিলি। কোনোদিন দেখাতে পেরেছি? পারব কোত্থেকে? তখন তো তোকে আমিই দেখিনি। সবসময় বলেছি তোর ছোটবেলার ছবিগুলো আমি হারিয়ে ফেলেছি। মিথ্যা বলেছি। আজ যা বললাম এটাই সত্য।
...... আসলেই তো। আমি অনেকবার মায়ের কাছে আমার ছোটবেলার ছবি দেখতে চেয়েছিলাম। কখনো মা দেখায়নি।সবসময় বলেছে হারিয়ে গেছে......। তবে কি সত্যিই.........।।
হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম আমি। মায়ের পা জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলাম-
= মা মা প্লিজ প্লিজ মা আমি আর তোমার কথার অবাধ্য হবো না। কখনো কোথাও যেতে চাইবো না। কিছু খাবার জন্য আবদার ও করবো না। কখনো কিছু চাইবো না। কথা দিচ্ছি মা। প্লিজ একবার বল তুমি মিথ্যা বলছ...।
- আমি মিথ্যা বলছি??? তুই আমাকে বিশ্বাস করিসনা?? এক্ষুনি বাসা থেকে বের হয়ে যা। তোকে আরেকবার যেন আমি না দেখি। এই মুহূর্তে বের হ!
আমাকে মা দ্বিতীয়বার একটা ধাক্কা দিলেন। এই ধাক্কাটা বেশ জোরে ছিল। আমি পা মচকে পড়ে গিয়ে কপালে জোরে বাড়ি খেলাম। মাথাটা ভো ভো করে উঠলো। ব্যাথাটা ঠিক টের পাচ্ছি না। আমার পৃথিবী নড়ে গেছে। অস্তিত্বে টান পড়েছে............ এতক্ষনে মনে হতে লাগলো মা বোধ হয় ঠিক বলছেন। হয়তো সেজন্য মা আমার সাথে এমন করতেন। বাবু হওয়ার আগে পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। যেদিন থেকে শুনলাম আমার একটা ভাই হবে আমি খেয়াল করতাম মা আমাকে আর আগের মতো আদর করতেন না। আমি একটু আদর পাওয়ার জন্য মায়ের আসে পাশে ঘুরঘুর করতাম মা কেন জানি আমি কাছেই যেতে দিতো না। আমাকে দেখলেই রেগে যেতো। রাগারাগির এক পর্যায়ে হাতের কাছে যা পেত তাই ছুঁড়ে মারত। আমার কপাল ,হাত কেটে যেতো। আমি কাঁদতাম। রাতে রুমের দরজা বন্ধ করে কাঁদতাম । কেটে যেতো সে ব্যাথায় না। মায়ের আচরনে কষ্ট পেয়ে কাঁদতাম। মাঝে মাঝে একটু শব্দ করে কাঁদতাম। দরজার কাছে মুখ রেখে কাঁদতাম যাতে শব্দ মায়ের কানে যায়।। আর আশা নিয়ে বসে থাকতাম এই বুঝি মা এসে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরবে......... মা আসতো না। আজ সব সমীকরন কেমন করে জানি মিলে যেতে লাগলো। সত্য বলতে কি আমার তখনো পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছিল না। একবার মনে হল আসলেই ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার নাটক করি। তখন মা ঠিকই এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে মা এসব রাগের মাথায় বলেছে। এসব সত্যি না।
আমি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এক পা আগাই আবার মায়ের দিকে তাকাই। মা অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে ছিল। আমার দিকে একবারও তাকালো না। প্রচণ্ড অভিমান হল। আর থাকব না। সত্যিই বেড়িয়ে যাব।
উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছিলাম আমি। পাগলের মতো কাঁদছিলাম।রাস্তার মানুষ তাকিয়েছিল আমি। যেন পাগল দেখছে! আমার মাথা কাজ করছিল না। পাগলের মতো ছুটছিলাম তবুও বারবার মনে হচ্ছিল কেউ পিছন থেকে ডাকবে। বলবে ‘মা ফিরে আয়’...
......কেউ ডাকেনি। আমি পাগলের মতো ব্যাস্ত রাস্তা দিয়ে ছুটছিলাম। কোথায় যাচ্ছি জানি না। চোখ মুছতেই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো। জামার হাতা দিয়ে চোখ মুছছিলাম। হঠাৎ কারা জানি হই হই করে উঠলো ।বুঝে উঠার আগেই মনে হল কিছু একটা আমাকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিলো। আমি একটু উড়ে গিয়ে পড়লাম। চোখ এতক্ষণও ঝাপসা ছিল এখন কেমন জানি লালছে লালছে লাগছে সব। শরীর প্রচণ্ড ব্যাথায় অবশ লাগছিলো। চোখ মেলে দেখলাম আসে পাশে মানুষের ভিড়। মানুষ কৌতূহল নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে। চোখ বুঝে আসছে। চোখ আর খুলে রাখতে পারছি না। জীবনীশক্তি নিঙরে বেড়িয়ে যাচ্ছে। কষ্ট করে আবার চোখ খুলে ভিড়ে চোখ বুলাতে লাগলাম। - মা এসেছে কি?? মা আমাকে একটু বুকে জড়িয়ে ধরো মা। আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে মা,আমাকে একটু শক্ত করে বুকে চেপে ধরো মা।কতদিন তোমার গায়ের ঘ্রান পাই না। মা প্লিজ........................।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now