বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--“বাবা”
বাবার সাথে সোফায় বসে টিভি দেখছিলাম। যদিও বাবা ফোন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন! হঠাৎ অরুনিমা অামায় ফোন দিলো, তাই ড্রইং রুম থেকে উঠে গুটিশুটি পায়ে নিজের রুমে চলে অাসলাম!
কিন্তু খেয়াল করলাম যে অামি অামার রুমে একা অাসি নি। অামার সাথে পিছন পিছন বাবাও এসেছেন।
-- কি করো? (অরু)
-- তেমন কিছু না,
-- সন্ধ্যে পরে অার যে কল দিলে না!
-- অাসলে ফোনে ব্যালেন্স ছিলো না অরু..
-- ওও অাচ্ছা। তাহলে ডিনার পরে কল দিবো ওকে?
-- ওকে..
.
অরুর সাথে কথা বলতে বলতে রুমের মধ্যে প্রায় তিন-চার বার এপাশ অপাশ করার পর বেলকোনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু এরপরেও বাবা অামার পিছু ছাড়ছেন না!
ঠিক যেমন কোনো ছোট শিশু তার মায়ের কোলে উঠার বায়না নিয়ে সারা বাড়ি মায়ের অাচল ধরে ঘুরে বেড়ায়...অাবার খানিকটা ভয়ও হচ্ছিলো, বাবা কি অরুর কথা বুঝতে পেরে গেলো?
এবার খানিকটা বিরক্ত হওয়েই বললামঃ
-- কি ব্যাপার বাবা? তুমি না সোফায় বসে ছিলে! অামার পিছন পিছন এসে অামার রুমে কি করছো?
--" অারে তোর সাথে অামার ওয়াইফাই কানেক্টেড। একটা ভিডিও গান ডাউনলোড দিচ্ছিলাম। কিন্তু তোর ফোন অাসায় নেটওয়ার্ক স্লো হয়ে গেলো অার তাই তোর পিছন পিছন অাসলাম”
বাবার কথা শুনে তাকিয়ে দেখি সত্যি অামার Hotspot সহ ডাটা অন করা! এবং প্রায় তিনশো এমবির মতো হাপিস হয়ে গেছে।
অামি হাসবো না কাঁদবো ঠিক করতে পারছিলাম না...
রাগে দুঃখে দশ তালা বিল্ডিং থেকে ঝাপ দিতে ইচ্ছে করেছিলো। কারণ অামি নিজেই বাবা কে ফেইসবুক দেখে শুরু করে কি করে কোনোকিছু ডাউনলোড করতে তাও শিখিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তা যে অামার ফোনের ডাটা কানেকশন দিয়ে কিস্তিমাত হবে তা টের পাই নি।
.
কিছুদিন অাগের ঘটনা, অামাদের পাশের ফ্ল্যাটে বাবার এক বন্ধু থাকেন। ঐ দিন রাত্রে হয়তো বাবার ঐ বন্ধু কোনো কারণে বাবাকে অনলাইনে অপেক্ষা করতে বলে বাথরুমে গিয়েছিলেন!
কিন্তু বাবা কিছুক্ষন পর ইনবক্সে না দিয়ে ভুলে ভুলে উনার বন্ধুর টাইমলাইনে লিখেছেন “কিরে দুস্ত অার কত হাগু করবি? তাড়াতাড়ি অায় অামার ঘুম পেয়েছে” পোষ্টটা দেখে প্রায় পাঁচমিনিট হাত পা ছুড়ে প্রথমে হেসেছিলাম তারপর হঠাৎ দেখি টুং করে শব্দ করলো! অামি কোনোরকম হাসি থামিয়ে চেক করলাম, হঠাৎ দেখি বাবা অামার টাইমলাইনেও পোষ্ট করেছেন “বাবা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো,কাল না তোমার কলেজ? পোষ্টে ইতিমধ্যেই হাহা রিয়েক্ট এবং বন্ধুদের কমেন্ট অারম্ভ হয়ে গিয়েছিলো। ইদানিং অামি কলেজ বা রাতে বাসায় ফিরতে দেরি হলে বাবা ইমোতে ভিডিও কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেন অামি কোথায়? অামি যদি বলি যে বাবা এটাতো ফোন দিয়েও বলা যায়! উত্তরে বাবা বলেন “২০১৮ সালে ফোন দিয়ে কাউকে কোথায় অাছে সেটা জিজ্ঞেস করা বড্ড বেমানান"
প্রথম প্রথম একটু রাগ হলেও এখন অার হয় না! কারণ এই মানুষ গুলোই সারাজীবন পরিশ্রম করে অামাদের সুখের অাশা নিয়ে নিজের অাত্মসুখ কে বলি দিয়ে সব কিছু করে গেছে। এই শেষ বয়সে এসে যদি এই বাবা নামক মানুষগুলো ভার্চুয়াল লাইফ নিয়ে একটু অানন্দে থাকে তবে থাকুক না! অামরা না হয় একটু সহ্য করবো, ঠিক যেমনটা ছোট বেলায় বাবার সাথে বাজারে গেলে বাবা অামাদের বায়না গুলো সহ্য করতো! বেঁচে থাকুক পৃথিবীর সব বাবা নামক মানুষগুলো...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now