বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব শেষ )

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X নির্ঘুম রাত! খুব উইক ফিল করছে রাজ। সমস্ত শরীর ব্যথানুবভ হচ্ছে।ভেতরটা জ্বলেপুড়ে ছারখার!! হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল।ঝাপসা দেখে সব কিছু তবুও অপলক বিরামহীন পড়ে যাচ্ছে ডায়েরি টা।একেকটা প্যাড়া পরছে আর অন্য রকম অনুভবে নিমিত্ত হচ্ছে।মুগ্ধতা নাকি বিরহ ব্যথায় আকুল হয়ে আছে সেটা ও বুঝতে পারছেনা রাজ! পুষ্পের জন্মদিনের সারপ্রাইজ টা কি সেটা জানার আগ্রহ বাড়লো। আবার চোখ রাখলো ডায়েরির পাতায়। জন্মদিনের আয়োজন জম্পেশ ভাবেই হল! দোয়া মিলাদ আর খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ! সবাই যার যার মত চলে গেল।একটা আংকেল।আর আন্টি থেকে গেল।ইনারা বাবার খুব ঘনিষ্ঠ!! চিটাগাং থেকে এসেছে।খোশগল্প হচ্ছিল আন্টির সাথে।।মোটামুটি ফ্রি ভাবেই কথা বলছিলাম।কিছুক্ষণ গল্প করার পর বাবা আর আংকেল রুমে ঢুকলেন।আন্টি বলে উঠলেন ফরিদ ভাই লুকোচুরির দরকার নাই।পুষ্পকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে আর কোন কথা নাই।আমি ওরে আমার ঘরে নিয়ে যাব!! আকাশ থেকে পড়লাম আমি।বাবা মা কে খুব খুশি দেখলাম।রাগে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলাম।সারারাত কাঁদলাম। আজ আন্টি আংকেল চলে যাচ্ছে।কিন্তু আমার খুব খারাপ লাগছে।এই কয়দিনে যদিও বিয়ের কথা শুনার পর আমি যত সম্ভব তাদের থেকে দূরে ছিলাম তবুও আজ খুব খারাপ লাগছে তাদের চলে যাওয়া দেখে।কেমন যেন একটা আত্মার টান!! মনের অজান্তেই আপন হয়ে গেল।তারা। আজ মা খুব কষ্ট পেয়েছে।আমি এখন বিয়ে করব না শুনে।অনেক বুঝালো মা আমায়। শিক্ষিত ফ্যামিলি বাবা মা লয়ার ১ ভাই ১ বোনের ছোট্র সুখের ফ্যামিলিতে আমি সুখী হবো ভেবে মা জোর করছিল। (রাজের আর বুঝতে বাকি রইল না কাদের কথা হচ্ছে) আমি আর ও পড়তে চাইলে পড়াবে সেই আশ্বাস দেওয়ায় বাবা মায়ের মুখের হাসি ফোটাতে আমি সায় দিলাম।মা বাবা হ্যাপি।দিনক্ষণ দেখে আয়োজন হবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার পড়তে লাগল!! আজ একটা ছেলে রাস্তায় খুব বিরক্ত করছিল।ইচ্ছে করছিল গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিতে। আজ আবার চিটাগাং থেকে আংকেল আন্টি আসবে ফুল ফ্যামিলি।নিয়ে।আমার ফুলের গাছ গুলিতে প্রচুর ফুল ধরেছে।জানিনা আমার হবু বর কেমন হবে।কি ফুল লাইক করে! জানলে সেই ফুলে সাজাতাম আজ বাড়িটা। আজ খুব খুশি লাগছে!! আমার হবু বর মাশা আল্লাহ্‌ খুব নম্রভদ্র আর হ্যান্ডসাম।তার চেয়ে কিউটি আমার হবু ননদিনী।।।নাম।গুলিও বেশ দারুণ। রাজ হল বরের নাম। আমি মনে মনে মিলিয়ে নিলাম পুষ্পরাজ। আমার বাগানে তার রাজত্ব!! হিহিহি।। ও হে ননদিনীর নামটা ও কিউট রিক্তা!! ২| কিছুক্ষণ এর জন্য রাজ হারিয়ে গেল সেই দিনের স্মৃতিরোমন্থনে!! দারুণ লেগেছিল প্রথম দর্শনেই পুষ্পকে।অপলক তাকিয়ে থেকে বোনের ঝাড়ি খেয়ে লজ্জায় থতমত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। সেখানে কাটানো দিন গুলি সত্যি স্বর্গ বাসের মতই লাগছিল।যদিও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত স্বর্গ অনুমান করা সম্ভব নয়।। রাজ ডায়েরি পড়ছে।মাঝে মাঝে কিছু গ্যাপ দিয়ে। আজ আমার গায়ে হলুদ।অনুভূতি কি লিখে বা বলে বুঝাতে পারব না।তবে খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা মা কে ছেড়ে যেতে হবে তা ভেবে।।আল্লাহ্‌ আমায় শক্তি দাও সবর করার। আজ আমার বিয়ে।।খুশি ভেজার কিছুই বুঝতেছিনা।তবে কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে। বাবা মা ভিটেমাটির আর নিজের হাতে সাজানো ফুল বাগান এই শহর এই পরিবেশ ছেড়ে যেতে। হয়তো আজকের পরেই বন্ধি হয়ে যাব সংসার নামক বস্তুর সাথে।জানিনা ভাগ্যে কি আছে। স্বামি রুপে আমার রুমে জীবনে এই প্রথম কোন পুরুষ নীরব একা রাতে প্রবেশ করলো।। শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ্‌।। চাওয়া থেকে প্রাপ্তি টা বেশি হল।আমি চেয়েছিলাম তার পায় ছুঁয়ে সালাম করে পায়ের।নিচে স্বর্গ পেতে।সে আমায় বুকে টেনে কপালে চুমু এঁকে দিল।নিজেকে হারিয়ে ফেললাম অজানায় সুখের রাজ্যে। জীবনে প্রথম পুরুষের স্পর্শ।।খুব অপ্রস্তুত ছিলাম।নার্ভাস ফিল করছিলাম।কি বলব! কি করব! কোনটা করা উচিৎ কিছুই বুঝতে পারছিনা!! শুকরিয়া আল্লাহর কাছে সে স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধুসুলভ আচারণ করে আমার মনের ভীতি দূর করে সাহস সঞ্চার করার সুযোগ দিল।আলহামদুলিল্লাহ্‌। ৩| রাজের চোখেমুখে তৃপ্তির হাসি।মেয়েটার সরলতা আর সততা বার বার তাকে আকৃষ্ট করেছে।সত্যি খুব ভাগ্যবান ছিল রাজ।বাট আজ সেই মেয়েটা তার পাশে নেই ভাবতেই মলিন হয়ে গেল হাসিমাখা বদন। আবার চোখ ডায়েরি তে।। আজ জীবনের প্রথম নতুন বাবা কে চা বানিয়ে খাওয়ালাম। নতুন বাবা মানে আমার শ্বশুর আব্বা।হিহিহি।।তবে কেন জানি নতুন বা প্রথম সেই অনুভূতিটা আসলো না।মনে হলো আমার বাড়িতেই আমি আছি।এরা সবাই আমার অতি আপন।চির চেনা!! মা কেও চা দিয়ে আসছি। অনুভূতি সেইম। একটা পাগলী করেছি।মুখ ফোটে যখন কিছু বলতে পারিনা তখন কাগজ কলমের সাহায্যে মনের কথা বলতে হয়।সো সেটাই করলাম আজ। প্রথম দিনেই বাবা মাকে খুব ভালবাসি লিখে দিলাম।অধিকার চাইলাম মেয়ে হয়ে থাকার।তারা হয়তো আমায় দুষ্টু ভাববে।তবুও মন বললো তাই বাঁধা দিলাম না।। আমি আজ খুব হ্যাপি।বাবা মা দুজনেই মেয়ের অধিকার দিয়ে ভালবেসে বুকে নিয়েছে।শুকরিয়া। তারপর রাজ দেখতে পেল একটা পৃষ্ঠায় বাবা মায়ের ছবি এঁকেছে পুষ্প নিজেই।খুব সুন্দর করে হুবুহুব মিল। দারুণ অংকন ক্ষমতা তার বলতেই হবে।আর নিচে লিখা আছে এই দুইটা হলো আমার ছেলে আর মেয়ে।রুকু আর মিদা।।হিহিহি!!! উম্মাহ বাবুরা।।হিহিহি।। অশ্রুঝরা চোখে কিছুটা খুশির চাহনি কিছুটা সুখের ঝিলিক রাজের।একবুক ভালবাসা নিয়ে আবার ফিরে পেতে চায় এই দুষ্টু মিষ্টি রাজের পুষ্পকে!! আজ আমার রাজের উপর বড্ড অভিমান। এই জয়োৎসব রাতে কেউ এভাবে নাক ডেকে ঘুমায়? খুব খুশি লাগছে আজ।পুরো পরিবার মিলে আমাদের বাড়িতে যাচ্ছি।বাবা মা রিক্তা আর রাজের অফুরন্ত ভালবাসায় আমি মুগ্ধ! আমি সিক্ত। আমি দুনিয়াতে সব চেয়ে সুখী আমার স্বামি শ্বশুর শাশুড়ি ননদিনী সবাই একটু বেশি ই ভাল।খুব ভালবাসে আমায়।অনেক মূল্যায়ন করে।ইয়া আল্লাহ্‌ এই অবস্থান্টা তুমি মৃত্যু পর্যন্ত স্থির করো আর এই সুখ তুলে নেওয়ার আগে আমায় তুলে নিও।আমি ভালবাসার জন্য পাগল।ধন সম্পদ কিছুই চাইনা। ৪| রাজের আর ডায়েরি পড়ার শক্তি নেই। খুব ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে নিজেকে। না পড়ে শুধু পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছে।এক্কেবারে শেষের পাতায় এসে থমকে গেল। রক্ত দিয়ে লিখা কিছু কথা। প্রিয় রাজ।জীবনের প্রথম পুরুষ তুমি।বাসর রাতে তুমি বলেছিলে আমার স্থান তোমার পায়ের নিচে নয় বুকে আর আমি বলেছিলাম তোমায় আমার মাথার তাজ করেই রাখব।আমি শতভাগ চেষ্টা করেছি।আল্লাহ্‌ স্বাক্ষী।আমি বিন্দুমাত্র হেরফের চলিনি।আমার চাওয়া ছিল শুধু তোমাদের বিশ্বাস আর ভালবাসা।জানিনা আজ আল্লাহর কেমন পরিক্ষায় আমি পড়েছি।তবে শুনেছি সত্যের জয় অনিবার্য। আমি সত্যের পথে ছিলাম আছি।থাকব।লোকটাকে আমি চিনিনা।কোথা থেকে কিভাবে এসে দৌড়ে সোজা আমাদের রুমে ঢুকল আর তুমি ও আসলে।সত্যে মিথ্যে যাচাই না করে আমায় মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বন্ধি করে রাখছো।জানিনা প্রভাতে আমার ভাগ্যে আর কি অপেক্ষা করছে।খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।তিল তিল করে গড়া আমার পবিত্র চরিত্রে কিভাবে পারলে নিমিষেই কলংকের কালি লেপ্টে দিতে? আত্মহত্যা মহাপাপ!! না হয় এই মিথ্যে কলংক বোঝা না বয়ে এখানেই ইতি ঘটাতাম আমার। তারপরেও বেঁচে থাকতে খুব কষ্ট হলে মরে যেতাম যদি তোমার অনাগত বংশপ্রদীপ আমার গর্ভে না উঁকি দিত।আমি আর লিখিতে পারছিনা।আজকে এই শুভ বার্তাটা দেওয়ার জন্য পথ চেয়ে দরজা খুলে বসে থেকে ওত পেতে থাকা অভিশাপ যে আমায় আঁকড়ে ধরবে জানতাম না।তুমি খুব ভাল থেকো।আমি।যদি মরেও যাই তবুও তোমাদের ভাল বেসে যাব। পাগলের মত কেঁদে রাতটা পার করে সকাল হতে না হতেই বাবা মা আর রিক্তার কাছে শেষের লাইন গুলি পড়ার জন্য বলে হাউমাউ করে কেঁদে দিল রাজ।এতোদিন অনুতপ্ত ছিল পুষ্পের সাথে করা অন্যায়ের জন্য আর আজ তার বংশপ্রদীপের জন্য।আর পারলো না রাজ। ছেলের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে রোকন সাহেবের পরিবার কে।অসুস্থ হয়ে শয্যা শয়ী রাজ।পাগলের মত ডাকে পুষ্পকে।ছেলের অবনতি দেখে এডভোকেট রোকন সাহেব অসুস্থ শরীর নিয়েই চলে গেলেন পুষ্পদের বাড়ি।ঠান্ডা ভাবে বুঝালেন পুষ্পের বাবা কে,যে অভিমান করে পুষ্প চলে আসছে।এখন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খবর নিতে।।ঘটনা শুনে পুষ্পের বাড়ি রাজের বাবা কে নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন পুষ্পের খুঁজে।একে একে আশে পাশের সব আত্মীয়দের বাড়ি গুলিতে না পেয়ে চলে গেলেন ঢাকা তে। পুষ্পের বন্ধুদের কে ফোন জিজ্ঞেসা ও চলছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দীর্ঘ ১ মাস পর খুঁজ মিলল পুষ্পর।। চোখের জলে বন্যা বয়ে গেল সবার।ঘটনা সব শুনে নিজেও বাচ্চাদের মত কাঁদলো পুষ্প। রাজ কে ডেকে সামনে দিয়ে আড়ালে গেল সবাই। অভিমান আর ঘৃণা ভরা মন নিয়ে মুখ ফিরিয়ে অন্যদিক তাকিয়ে আছে পুষ্প।লজ্জা উপেক্ষা করে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে রাজের বুকে ডাকলো পুষ্পকে। পুষ্প তোমার রাজ কে ক্ষমা করে দাও।পুষ্পের রাজ কে বরণ করো সব ভুলে গিয়ে।এভাবে অশ্রুজলে মনের ঘৃণা আর ভুল মুছে দিয়ে জড়িয়ে ধরে জয় করলো পুষ্পরাজ তাদের আত্মজীবনী।। আবার হয়তো লিখতে থাকবে তাদের আত্মকথার ডায়েরি।। ভাল থাকুক পুষ্পরাজ রা।। লিখে যাক আত্মকথার ডায়েরি।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব শেষ )

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now