বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 4)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X ১| রিক্তা আর রাজ দুই ভাই বোন মিলে পুষ্পের লাগেজ থেকে বের করে আনলো বহু কাঙ্ক্ষিত সেই আত্মকথার ডায়েরি টা।রিক্তার বাবার সুস্থ থাকার টিপস গুলির জন্য যতটানা আগ্রহ আর উত্তেজনা মনে, তার থেকে বেশি আগ্রহ আর অস্থির পুষ্পের মনের অজানা সকল অব্যক্ত কথা গুলি পড়তে।আত্মকথার ডায়েরি মানেই তো তার একান্ত নিজের কথা গুলি ডায়েরি কে পরম সাথী বানিয়ে তার বুকে কলম খুঁচিয়ে লিখা।একান্ত কিছু কথা থাকে মানুষের যেগুলি স্বপ্ন হয়ে আশা বেঁধে বাঁচিয়ে রাখে তাকে।নিজের সেই কথা গুলি হয়তো অনেকে স্মৃতি করে রাখে।অনেকে লিখেন ডায়েরি। সেইরূপ পুষ্পের আত্মকথার ডায়েরি নামটা শুনেই প্রচণ্ড আকৃষ্ট এবং কৌতূহলী হয়ে উঠে রিক্তা।তবে মনে মনে নিজের চাইতে বেশি ভালবেসে ফেলে পুষ্পকে।তার সততা আর যোগ্যতার এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত হয়তো এই ডায়েরি। নয়তো কোনদিন এই ডায়েরি টার কথা কাউকে বলতো না। ---রাজঃএই রিক্তা কি ভাবছিস এইভাবে চুপিসারে? ভাইয়ের ডাকে নড়েচড়ে উঠলো রিক্তা। ---রিক্তাঃ না ভাইয়া কিছুনা।কই দাও ডায়েরি টা আমি পড়ব। ---রাজঃআচ্ছা তুই পরে পড়িস! তার আগে আমি বাবার সুস্থ থাকার নিয়ম গুলি দেখে নেই। মাথা নেড়ে সায় দিল রিক্তা। ২| ---রাজ ডায়েরি টা হাতে নিয়েই দেখলো উপরে লিখা আছে → আত্মকথার ডায়েরি। নিচের দিকটায় লিখাঃসততাই বল। আত্মকথার লিখাটার উপর অনেক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল রাজ।শিরদাঁড়া বেয়ে একটা স্নিগ্ধ পরশ অনুভূত হল।কেমন যেন একটা নিস্তব্ধতায় বিরাজ করছে।লিখাটার প্রতি যতটা আকর্ষিত তার থেকে বেশি হৃদয়ে আঁচ কেটে গেল চিরচেনা সেই লিখনী দেখে।হাজার বার ভালবাসি কথাটি যেই হাতে লিখা।মান অভিমান এর দিনের লেনাদেনা খানাপিনা চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেষ হতো এই পরম মায়াময় নরম হাতের পরশে খাতার পাতায় কলমের ভাষায়।মনে পড়ে গেল সেই দুষ্টুমিষ্টি ভালবাসা,খুনসুটি আর বোবা মানব মানবীর অভিনয়ের দিনগুলির কথা।আঁখিকোণ জলে ভরপুর! যেকোন মুহুর্তেই বাঁধ ভেঙ্গে ভাসিয়ে দিতে পারে গাল দুটো আর বুকটাকে।ভাইয়ের পাশে থেকে রিক্তা বুঝতে চেষ্টা করছিল তার অনুভূতি টা। রিক্তা নড়েচড়ে বসতেই রাজ বাস্তবে ফিরে এলো। পৃষ্ঠা উল্টালোঃপ্রথম লাইনে লিখাঃ→বিসমিল্লাহ্‌হির রাহমানির রাহীম। এই আল্লাহ্‌ আমায় জ্ঞান দান করুন। আর আমাকে সেই পথে পরিচালিত করুন যে পথ সত্যের সন্ধান দিয়ে আলোকিত করে।আমাকে নেক ঈমানি হায়াৎ দারাছ করুন।সুস্থ রেখে আপনার এবাদত করার তৌফিক দান করুন।আর শয়তানের শয়তানি থেকে পথভ্রষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।আমাকে সহ দুনিয়ার সকল আশরাফুল মাখলুকাত এর হেফাযতকারী হয়ে আমাদের হেফাযত করুন।আমীন। প্রথম থেকে প্রায় একতৃতীয়াংশই লিখা তার আল্লাহ্‌ ভক্তিতত্ত্ব আর ফহরেযগার সততা নিয়ে। নিজের বিবেক নিজেকে এইভাবে দংশন করবে কোনদিন ভাবতে পারেনি রাজ।খুব অনুসূচনা হচ্ছে!! চিৎকার করে কেঁদে পাথরের পাহাড়টা বুক থেকে নামিয়ে একটু সুখ পেতে আকুল তার মন।নিজের নোনাধরায় পাপের দাগ গুলি ধুয়ে দিতে চায়।তারপর একটা চিহ্ন রেখে খুঁজতে লাগলো ডাক্তারের পরামর্শ গুলি।এলোমেলো পাতা উল্টাচ্ছে।অবশেষরূপে পেল এবং মা কে বুঝিয়ে দিল।রিক্তা কে লিখে রাখতে বললো। ৩| গভীর রাত!! ভরা পূর্ণিমা!! জোৎস্নার আলোতে পৃথিবীটা অসাধারণ সেজেছে।ঝিঁঝিঁপোকার শব্দ শুনে আর আকাশের মেঘে আর চাঁদ তারার লুকোচুরির খেলা দেখছিল রাজ।আত্মকথার ডায়েরি টা বারান্দার টেবিলের উপর রেখে প্রেক্ষণ করছিল পকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যতত্ত্ব। মনে খুব হাহাহাকার।এমন কোন জোৎস্না রাত ছিলনা যে রাতে রাজের হাত ধরে ছাদে নিয়ে যায়নি পুষ্প।ভীষণ জোৎস্না প্রেমী ছিল! শুধু প্রেমী বললে ভুল হবে এক প্রকার জোৎস্নায়াসক্ত ছিল সে।রাতের অর্ধেকটায় কাটিয়ে দিত কখনো রাজের কাঁধে মাথা রেখে,কখনো চুপিচুপি প্রেমের গল্পের ছলে রাজের কোলে শুয়ে শুয়ে!! জোৎস্না স্নান যেন তার অতৃপ্ত রয়েই যেত।রাজের অনুরোধেই ঘরে ফিরতো মধ্য রাতে।! আহ!!! কি অদ্ভুত বিধাতার রীতি।! আজ এই ভরা জোৎস্নাটা উপভোগ করার সেই অনুপ্রাণিত করা মানুষ টাই নাই।হয়তো তার ও মন খুব বিষণ্ণতায় থাকবে আজ!! ইয়া আল্লাহ্‌ আমায় একটু শান্তি দাও।। চিন্তারাজ্য থেকে বেড়িয়ে ডায়েরি পড়ায় মনোযোগী হতে চেষ্টা করছে রাজ। মেয়েটার ডায়েরি লিখায় এক্সপার্ট বাট কোন তারিখ দেওয়া নেই দেখে রাজ কিছুটা অবাক হলো। আজ বন্ধুরা সবাই ডি এস এল আর দিয়ে পিক তুলছিল।আমাকেও খুব জোরাজুরি করছিল নিকাব খুলে পিক তুলতে। কিন্তু আমি নিকাব সহ হিজাব করেই পিক তুলতে বলায় ওরা বিদ্রূপ করলো।আমি এতে মোটেও উদ্বিগ্ন নই।বরং এরাই লজ্জিত হলো!! আমার উপর হয়তো অভিমান করেছে তাতেও আমি চিন্তিত নই।কারণ আমার পিক এবং আমাকে আমার আল্লাহ প্রদত্ত সেই মহান মানুষটি ই দেখেবে। আজ ১লা ফাল্গুন। বসন্তের আগমনে পকৃতি সেজেছে।ফুলে ফুলে সুসজ্জিত চারোদিক।কোকিলের কুহুকণ্ঠ উদাসিত করে প্রাণ।আমার আজ খুব খুশি লাগছে।কেন এতো খুশি লাগছে জানিনা। আজ আমাদের বাড়ির পাশে মেলা বসেছে। কত রঙের মানুষ কতো রকমের জিনিষ পত্রে নাগরদোলায় বাঁশির সুরে মুখরিত পুরো পরিবেশ।সবাই মেলায় যাচ্ছে।বন্ধুরা নাগরদোলায় চড়বে।আমার ও খুব ইচ্ছে জাগলো।মাকে বললাম।মা রাজী হলেন না।মনটা খারাপ হয়ে গেল।পরে অবশ্য রাজী না হওয়ার কারণ বললেন এবং আমার মন ভাল হয়ে গেল। তবে আশা বাঁধলাম বুকে আমার স্বপ্নের পুরুষের পাশে বসে হাত ধরে চড়বো।। অসহ্য!! দেশটা আর দেশ নেই।ডিজিটাল আর আধুনিকতার নামে বেহায়াপনার অগ্রগতি!! প্রকাশে রাস্তায় ছেলেমেয়ে জড়াজড়ি করে চলছে!! ইয়া আল্লাহ্‌ আমাকে তুমি হেফাযত করো।শয়তানের ধোকা থেকে রক্ষা করো। জীবনে এই প্রথম কেউ প্রপোজ করলো। তাও আবার সামনা সামনি নয়।মর্ডান যুগে আদি স্টাইলে লাভ লেটার!! হিহিহি! খুব হাসি পাচ্ছিল।আবার রাগ ও হচ্ছিল। উত্তরের অপেক্ষায় আছে।কি করব এখন? সরাসরি না করে দিলে হয়তো কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে!! আবার হ্যাঁ বললে আমার সারা জনমের আমল গুলি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।দুটানায় পড়ে গেলাম। মা কে বলে দেখি।মা নিশ্চয় সুন্দর আইডিয়া দিবেন।মা আমার পরম বন্ধু।এখন সব কিছুই খোলামেলা মাকেই বলি।এতে আর যাই হোক আমার ভুল হলে শোধরানোর রাস্তা পাবো।আর মা কখনওই আমার অমঙ্গল চাইবেনা। ৪| ডায়েরির পাতা যতই উল্টাচ্ছে রাজ ততই আকৃষ্ট হচ্ছে!! নতুন করে আবার পুষ্পের প্রেমে পড়তে চাচ্ছে।কি সুনিপুণ স্পষ্টবাদী। দারুণ ছিল তার বুদ্ধিমত্তা।। আর সততার দৃষ্টান্ত পানির মত সাদা।রাত বাড়ছে।কোলাহলময় শহরটা একদম নীরব।সামনের রাস্তা দিয়ে মাঝে মধ্যে দুএক্টা গাড়ি যাচ্ছে।ল্যাম্পপোস্ট এর সোডিয়াম আলোটা পূর্ণিমাআলোর কাছে পরাজিত। খুব ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে বলতে আম এক্সট্রিমলি স্যরি পুষ্প!! প্লিজ ফিরে এসো। তোমার জন্য পুরোটা বাড়িতে বিরহের বীণ বেজে কাতর করে দিচ্ছে!! দেখো ভরাপূর্ণিমা রাত অতৃপ্ত!! ফিরে এসো পুষ্প!!! খানিক ঝিম মেরে থেকে আবার চোখ বুলালো ডায়েরি তে। আজ আমি খুব এক্সাইটেড!! বাট কেন তা লিখব না।।।হিহিহি!! জীবনে এই প্রথম আজকে আমাকে দেখতে এলো খুব অস্বস্তি ফিল করছি।আমি বিয়ে করবো না।।আর ও পড়াশোনা করব।পড়াশোনা শেষ করে গরীব দুঃস্থ মানুষদের জন্য কাজ করব।মানুষের সেবা করব।মা বাবা কে কথা গুলি বলেও কাজ হলোনা।তারা আর পড়াবে না।খুব বেশি কি পড়িয়ে ফেললো আমায়।কলেজের গণ্ডি সবে ডিঙ্গিয়ে ভার্সিটিতে পদার্পণ!! তাহলে এত বছরের কষ্ট গুলির কি মূল্য থাকবে যদি একটা ডিগ্রী না নিতে পারি? যদি আমার পড়াশোনার আলোতে কাউকে আলোকিত না করতে পারি? নাহ!! উপায় পেলাম না।অবশেষে জীবনে প্রথম বারের মত কোন পর পুরুষ ড্যাব ড্যাব করে দেখে নিল আমাকে।খুব বিরক্তি লাগছিল। মনে মনে আল্লাহ্‌ কে ডেকেই গেলাম। আল্লাহ্‌ আমার ডাক শুনেছে। আজ খুব সেজেছি!! আমি বরাবরি সাজগোজ পছন্দ করিনা।খুব সিম্পল আমার চলা।তবুও কেন জানি আজ সাজতে ইচ্ছে করলো।ইচ্ছেটা পুরুণ করলাম।। আজ আমার ২০ তম জন্মদিন!! তবে কখনো জন্মদিন পালন করা হয়না।বাবা হুজুর।ডেকে দোয়া পড়ান।তবে এইবার জন্মদিনটা একটু ভিন্ন রকম হলো।বাবার বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করলো।অনেক মানুষ আসলো।তবে কেক কাটা হলো না।মা চুপিচুপি বললেন অনেক বড় একটা সারপ্রাইজ পাবো।কিন্তু ক্লিয়ার কিছু বললো না।অস্থিরতা বাড়লো।অপেক্ষা.... চলবে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব শেষ )
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 4)
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 3 )
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 2)
→ আত্মকথার ডায়েরি (প্রথম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now