বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 3 )

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X রিক্তার আকস্মিক ডাকাডাকি তে সবাই দৌড়ে তার কাছে গেল।কিছুক্ষণ আগের রাগেগরগর করা অভিমানী মেয়েটার চেহারায় মুহুর্তেই যেন খুশির ঝলকানি তে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হল।অবাক হয়ে সবাই তাকিয়ে রইল তার পানে।মেয়ের খুশির কারণ জানতে তর সইছিলনা ফাহমিদা বেগমের।হন্তদন্ত হয়ে জিজ্ঞেস করে কিরে রিক্তা কি হয়ে মা? ---রিক্তাঃ মা দেখো দেখো পুষ্প ভাবির ফোন থেকে তোমাকে মেসেজ করছিল।আর তুমি ফোন টা হাতেই নাওনি। ----ফাহমিদা বেগমঃকই দেখি দেখি,, চশমাটা পড়তে পড়তেই রিক্তার হাত থেকে ফোন নিয়ে মেসেজ ওপেন করলো। প্রথম মেসেজঃআসসালামু আলাইকুম। মা কেমন আছেন? বাবার শরীরটা কেমন এখন?রিক্তা কবে বাড়ি ফিরবে? দ্বিতীয় মেসেজঃ মা বড্ড অভিমান করে আছেন আমার উপর তাইনা?হ্যাঁ তা হবার ই কথা।আমি যে হতভাগী!! বিধাতার লিখন যে আমি উল্টাতে পারব না।তাই পরিবেশ এবং পরিস্থিতির কাছে আমি অসহায় হয়ে গেছি।আমি খুব বাজে মেয়ে মা।আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। ৩য় মেসেজঃ মা জানি অনেক কষ্ট পাচ্ছেন সবাই।আমিও যে পাচ্ছিনা তা নয়!! কিন্তু কি করব বলেন? আমার ভাগ্য যে অভিশপ্ত!! আমার কপাল যে কলংকের অনলে দগ্ধো!! কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি পবিত্র মা।আমার কথা গুলি দুনিয়াতে মূল্যহীন আমি জানি।তবুও সত্যটা জানার প্রয়োজন ছিল সবার।আমি এতই অভাগিনী যে মিথ্যে আরোপ করা অপবিত্রতার দাগটা মুছে দেওয়ার সময় টা পেলাম না। ৪র্থ মেসেজেঃমা আমার জন্য কি একটুও বিশ্বাস ছিলনা কোন দিন কারো?সরিষা পরিমাণ ভালবাসার যোগ্য ছিলাম না আমি? আমি তো নিজের পথে চলেই আসছি!! আর জ্বালাতন করব না কাউকে কোনদিন।আমায় অভিশাপ দিন,,হাজার অভিযোগ দিন।আমি মাথা পেতে নেব।তবুও একটিবার আমার মেসেজ এর রিপ্লাই দিন।প্লিজ মা।আমার কলিজাটা শান্তি পাবে। মেসেজ গুলি সজোরেই পড়তেছিল ফাহমিদা বেগম যেন সবাই শুনতে পারে! একেকটা লাইন পড়ছিল আর অশ্রুজলে নিজের বুক ভিজে যাচ্ছিল।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোকন সাহেব গায়ের বল যেন হারিয়ে মেঝেতে বসে পড়লেন হাত পা ছেড়ে দিয়ে।রিক্তার চোখে আবার জল।টলমল। রাজ বাকরুদ্ধের মত দাঁড়িয়ে আছে। ২| শেষ মেসেজটা ওপেন করার শক্তি পাচ্ছিল না ফাহমিদা বেগম।হাত পা থরথর করে কাঁপছিল। রিক্তার দিকে বাড়িয়ে দিল ফোনটা। ৫ম মেসেজ টা ওপেন করে পড়তে শুরু করলো রিক্তা।। মা,,আমায় ক্ষমা করবেন এটাই আমার লাস্ট মেসেজ।তারপর আর কোনদিন পাবেন না আমাকে।লাইনটা পড়ার সময় হুহু করে কেঁদে দিল রিক্তা।সবার চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা জলবিন্দু বাঁধা উপেক্ষা করেই গড়িয়ে পড়লো।ফাহমিদা বেগম বিলাপ করেই বলে উঠলেন।রাজ রে!!! বাবা রাজ কি করলি রে বাবা!! ও রাজ।। একটু থেমেই আবার পড়া শুরু করলো রিক্তা। মা,আমি দোষী নির্দোষী সেটা যাচাই না করেই এতো টা পর করে দিলেন আমাকে? এতটা দূরে রাখতে পারলেন আমাকে? কি করে পারলেন?আপনি না বলছিলেন আমি আপনাদের বউ না, মেয়ে? আমি আর কিছু বলতে পারছিনা মা।আপনারা না আইনজীবী? দেশ ও সমাজের জাতির ন্যায় অন্যায় বিশ্লেষক? জাতির জন্য লড়ে জয় লাভের হাদিয়াটা আমার দিকে এইভাবে ওতপেতে ছিল? আমার হাত কাঁপছে মা।কোন অভিযোগ নেই আমার কারো প্রতি।আমি ছাড়া আপনারা সুখী হলে আমি ও সুখী। এজনমে এই সুখেত্যাগ যদি পরজনমে আমার মঙ্গল হয় তবে তাই হোক।আল্লাহ্‌ সব জান্তা।বিচারকের বিচারক। আচ্ছা মা,আমার কথা বাদ দিচ্ছি। আগামী ১তারিখ বাবার চেকাপের ডেট!! ভুলে যাবেন না।প্রেসক্রিপশন টা আর রিপোর্ট গুলি আমার ড্রয়ারে আছে।আর আত্মকথার ডায়েরি নামের একটা ডায়েরি আছে আমার সুটকেসের সেকেন্ড পার্টের ভেতরে।এতে বাবা কে সুস্থ রাখার নিয়ম গুলি লিখে রেখেছি আমি।যদিও এই ডায়েরি জীবনে কেউ কোনদিন ধরে দেখার সুযোগ পায়নি আজ বাধ্য হয়েই বাবার জন্য বলতে হল।এতে ।রূটিন করে। সব গুলি নিয়ম মেনে বাবা কে ভাল সেবা করতে পারলে খুব দ্রুতই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে বলেছিল ডাক্তার।তাই আমি যেন ভুলে না যাই সে জন্য লিখে রেখেছি।অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি সব।আজ খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।আমার জন্য নয় বাবার জন্য।জানিনা কেমন আছে! আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন সবাইকে সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের তৌফিক দান করেন। আমীন। আপনি ও নিয়মিত খাবার খাবেন। শরীর খারাপ হলে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।রিক্তার জন্য এত্তগুলি আদর ভালবাসা রইল।আর রাজের জন্য শুভ কামনা।যেন নতুন করে সংসারী জীবন সুখময় হয়। আবারো ক্ষমা চাচ্ছি সবার কাছে।আল্লাহ্‌ হাফেজ!!! ৩| মেসেজ পড়া শেষ হতেই রিক্তা অবুঝ বাচ্চাদের মত ভাইয়ের গায়ে কিল দিচ্ছিল আর উচ্চস্বরে চিৎকার করে কাঁদছিল।নির্বাক হয়ে বসে আছেন এডভোকেট রোকন সাহেব।বিলাপ করে যাচ্ছে এডভোকেট ফাহমিদা বেগম। কেন তার এই ফোন হাতে নিতে মনে ছিলনা সেই অপরাধে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে আর নিজের বুকে কিল মারছে।মরা বাড়িতে পরিনত হয়ে গেল মুহুর্তে বাড়িটা।গগনবিদারী আত্ম চিৎকার হচ্ছে রাজের ভেতরটায়। কাঁন্না থামিয়ে দৌড়ে পুষ্পের ড্রয়ার খুললো রাজ।পুষ্পকে হারিয়েছে।বাবাকে হারাতে দেওয়া যাবে না।দ্রুতই পুষ্পের সাজেশন মত কাজ করা লাগবে।ড্রয়ার খুলে এলোমেলো সেই কাগজ গুলি আর ডায়েরি গুলি হাতে নিল।প্রেসক্রিপশন আর বাবার ডাক্তারি চেকাপ রিপোর্ট গুলি পেল।একে একে সব গুলি ডায়েরি দেখলো।নাহ আত্মকথার ডায়েরি টা এখানে নেই।খুব কৌতূহলি হয়ে খুঁজছিল। ভাইয়া? রিক্তার কথায় পিছন ফিরে তাকালো রাজ।অসহায় দৃষ্টিপাত দুই ভাই বোনের।নিয়তির নির্মম চালে কি থেকে কি হয়ে গেল।কাগজ গুলি হাতে নিয়ে বাবা মায়ের সামনে গেল তারা। প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্ট গুলি রিক্তা যতন করে রেখে এলোমেলো কাগজ গুলি ভাজ করলো একটা কাগজ খুললো। ১ম কাগজঃ আসসালামু আলাইকুম, আম্মা। হিহিহি হিহিহি।।। আম্মা একটা কথা বলি? রাগ করবেন না কিন্তু! আমার না আম্মা বলতে কেমন যেন লাগে!! মা ডাকটা খুব আপন মনে হয়।প্রাণ জুড়ে যায় এই ডাকটায়।আমি মা ডাকলে আপনি রাগ হবেন? কথা গুলি না আমি সামনাসামনি বলতে পারছিনা।তাই লিখে দিলাম।ভুল হলে ক্ষমা করবেন।আসসালামু আলাইকুম। খুব ভালবাসা মা।। এক্কেবারে কাগজের শেষ প্রান্তে লিখাটা ফাহমিদা বেগমের। দেখেই বুঝে গেল রিক্তা। হুম খুব রাগ করবো।তুমি আমায় মা না ডাকলে। হাহাহা হাহাহা।।আমিও অনেক ভালবাসি তোমায় পাগলী মেয়ে কোথাকার।। চোখের জল মুছে শ্রোতাদর্শক এর মত দেখছে আর শুওনছে সবাই। ৪| আসসালামু আলাইকুম আব্বা।কেমন আছেন এখন? আমার পঁচা হাতের সকাল সকাল বাজে চা খেয়ে নিশ্চয় রেগে আছেন আমার উপর? সরি আব্বা।রাগ করবেন না প্লিজ।আমি জীবনে এই প্রথম ৪র্থ কাউকে চা বানিয়ে দিয়েছি।তার আগে নিজে আর বাবা মা কে ছাড়া কাউকে দেইনি। আচ্ছা আব্বা।আমাকে আপনার মেয়ে করে নিবেন? বাবা বলে ডাকার অধিকার দিবেন? আমার আব্বু কে আমি বাবা বলেই ডাকি আর এখন তো আপনি ও আমার বাবা!! বাবা ডাকটা না একদম ভেতর থেকে আসে।খুব ভাল বাসি বাবা।।প্লিজ বাবা।।।দিবেন না সেই অধিকার মেয়ে হয়ে থাকার? প্লিজ বাবা রাগ করবেন না। ফাহমিদা বেগমের মতই রোকন সাহেব মেয়ের অধিকার দিয়ে ভালবাসায় বন্ধি করে আপন করে নিলেন পুষ্পকে। পুরুনো কথা গুলি ফের মনে পড়তে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।একে একে সব গুলি কাগজ পড়লো রিক্তা।সেইম রুপেই রিক্তার থেকে বোনের অধিকার।রাজের কাছ থেকে ভালবাসার অধিকার আদায় করে কাগজ গুলি যতন করে রেখে গেল পুষ্প।হয়তো কাগজ গুলি ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যাবে লিখা গুলি।কিন্তু কথা গুলি আজীবন জিঁইয়ে রাখবেন রোকন সাহেবের পরিবার।খুব ইচ্ছে করছিল মেয়েটাকে আবার বুকে জড়িয়ে কাঁদতে তার। অতীতের স্মৃতিতে ঢুকতে হল সবাইকে একই সময়ে।অশ্রুসিক্ত নয়ন নিয়ে কথাবার্তা শেষ করতেই রিক্তা বললো ভাইয়া? ভাবির লাগেজের সেই ডায়েরি টা?? চলবে.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব শেষ )
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 4)
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 3 )
→ আত্মকথার ডায়েরি (পর্ব 2)
→ আত্মকথার ডায়েরি (প্রথম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now