বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলেকে রাঙা চোখে শাসিয়ে নিজ রুমে চলে গেলেন ফাহমিদা বেগম।রুমে যেতেই রাজের বাবা
এডভোকেট রোকন সাহেব কিছুটা বিস্মিত হলেন উনার সহধর্মিণীর বিচলিত চেহারা দেখে।মনে মনে কিছু হিসেব মিলাতে চেষ্টা করলেন কি হতে পারে তা নিয়ে।তাই বাধ্য হয়ে খানিক নীরব থাকলেন আর প্রদক্ষিণ করছিলেন রাজের মায়ের ঘর থেকে বারান্দা আর বারান্দা থেকে ঘরে আসা যাওয়ার পায়তারার দৃশ্যটা।
কিছুক্ষণ পর একপ্রকার ক্লান্ত হয়েই রোকন সাহেবের পাশে এসে বসলেন।জ্ঞানী আর বিজ্ঞ আইনজীবী রোকন সাহেব।মানুষের মনের অবস্থাটা তার বাহ্যিক আচারন দেখে অনেকটা মিলাতে পারেন।যেমন চোর চুরি করলে তার ছটফটানি আর কাছুমাছু ই তাকে দুর্বল করে নিস্তেজ করে দিয়ে নিজেই অস্থির হয়ে যায় আর সেটা দেখে পুলিশ বুঝে যায় তেমনি কোর্টে এমন অনেক মক্কেল পাওয়া যায় যাদের কাছুমাছু তেই তাদের দুর্বলতা ফোটে আসে আবার অপরাধীর বাহ্যিক আচারন দেখেই বিচারক আর এডভোকেটদের ধারণা অনেক পরিবর্তিত হয়।
তেমনি ফাহমিদা বেগমের হঠাৎ পায়তারা আর উদ্বগ্নতাই তিনি অনেকটা সিরিয়াসলি ভেবে নিলেন।তবে মুহুর্তেই কিছু জিজ্ঞেস করলে হয়তো হিতেবিপরীত কিছু ঘটতে পারে তাই নীরবতাকেই উত্তম মেনে নিলেন।
রাজের মায়ের অস্থিরতা কিছুটা কমতে নিজেই বলা শুরু করলেন! ওগো শুনছো?
--রোকন সাহেবঃ কি রাজের আম্মা?
--রাজের মাঃ ছেলেটাকে মানুষিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।ওর আচার আচারন আমার কাছে স্বাভাবিক লাগছেনা!
---রোকন সাহেবঃকি বলছো রাজের আম্মা?
রাজ তো ঠিক ই আছে,খাচ্ছে ঘুমাচ্ছে, অফিস করছে, টাইমলি বাড়ি ফিরছে!! এতে অস্বাভাবিক এর কি আছে?
--রাজের মাঃ হ্যাঁ সবকিছুই ঠিক আছে তবে মনের দিক থেকে অনেকটা অসুস্থ! মনে মনে অনেক চাপা কষ্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসে নিজেই অসন্তুষ্ট বোধ করছে।
--রোকন সাহেবঃ তা ঠিক বলছো! এটা স্বাভাবিক। সবার ক্ষেত্রেই এটা ঘটে।একা একা থাকছে তো তাই এমন হচ্ছে।এটা নিয়ে ভেবো না।
পুষ্প ফিরে এলে সব ঠিক হয়ে যাবে।কথাটা শেষ না করতেই ফাহমিদা বেগম এক প্রকার ছুঁমেরে কথা কেড়ে নিয়ে বললেন! আরে আসল সমস্যা তো এখানেই।ও আজ ও পুষ্পকে অবিশ্বাস করে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছে।
চোখকপালে তুলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন রোকন সাহেব।কি বলছো এসব তুমি?
হ্যাঁ গো।ঠিক ই বলছি।রুমে একটা মানিব্যাগ পেয়ে আমু ওর ভেবে তুলে রাখছিলাম আর আজ সেটা পেয়ে সন্দেহটা বেড়ে আমার সামনেই...
তাই আমি ওরে শাসিয়েছি।লোকটাকে কি করেছে আর পুষ্পকে কোথায় দিয়ে এসেছে ক্লিয়ার কিছুই বলেনি।উল্টাপাল্টা কথা বলছে।
অনেকটা চিন্তায় পড়ে গেলেন রোকন সাহেব।খানিক চুপ থেকে বললেন চলো দেখে আসি মানিব্যাগ টা।
২|
রাজের রুমে গিয়ে তাকে পেলোনা তার বাবা মা।
ডাক দিতেই বারান্দা থেকে এলো।
---রোকন সাহেবঃ রাজ তুমি ঠিক আছো?
---রাজঃজ্বী আব্বু আমি ঠিক আছি একদম।
---রোকন সাহেবঃতাহলে এতো রাতেও বারান্দায় কেন? এখন তো ঘুমানোর কথা?
---রাজঃআসলে আব্বু ঘুম আসছিল না!
---রোকন সাহেবঃকেন?
---রাজঃএমনিতেই।
কিছুটা রুঢ় কন্ঠেই বলে উঠলেন রোকন সাহেব, রাজ তুমি ভুলে যেওনা তুমি একটি আইনজীবী পরিবারের মেম্বার!! কিছু লোকাতে চেয়ে আমাদেএ লজ্জিত করোনা তুমিও বিপাকে পড়োনা।আমরা কখনওই চাইনা তুমি কষ্টে থাকো।তোমার সুখেই আমাদের সুখ।আমাদের সময় শেষ।তোমার সময় এখন।নিজেকে পরিপাটি করে গুছিয়ে নেওয়ার সময়।
----রাজঃজ্বী আব্বু তাই চেষ্টা করছি।
---রোকন সাহেবঃচেষ্টা এমন হলে আজ ও মান অভিমান ভুলে কেন পুষ্প কে বাড়িতে ফিরিয়ে আনলে না?
---রাজঃ বাবা প্লিজ ওর কথা বলবেন না!! বলেই মাথা নিচু করে ফেললো
উত্তেজিত হয়েই বলে উঠলেন রাজের বাবা কি করেছে সে? তার কোন অপরাধ তো আমি কোন দিন পাইনি! নিজের পিতাকে অতোটা সেবা হয়তো মেয়েটা করেনি।এতবার বাবা বাবা বলে পাগল করে তুলেনি ভালবাসার জন্যে। ।নিজের মাকে হয়তো এতবার মা বলে কাছে কাছে থাকেনি, এতটা কাজে আর সংসারে সময় দেয়নি।নিজের বোনকে হয়তো এতোটা আদর স্নেহ করেনি।নিজের ভিটেমাটি আর নিজের জন্য হয়তো এতোটা ভালবাসা তার নেই যতটা আমাদের জন্য!! এটাই কি তার অপরাধ?
---রাজঃনা আব্বু তা নয়,আপনি জানেন না বর্তমান যুগের অবস্থা আর পরিবেশ! মেয়েরা কতটা.... বলার আগেই ঠাস করে রাজের মা একটা চড় বসিয়ে দিলেন ছেলের গালে।
মানি ব্যাগটা হাতে নিয়ে রোকন সাহেব কে দিয়ে বললেন নাও খুলে দেখোতো এটায় কি প্রমাণ করে?
হাতে নিয়ে খুলতে লাগলেন রোকন সাহেব।চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে রাজ।কিছু টাকা পয়সা আর কয়েকটা ছবি পাওয়া গেল।একটা কাগজে কিছু লিখা!! চশমাটা নেই তাই পড়তে পারছেনা।রাজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো পড়ে শুনাতো এটায় কি লিখা?
৩| কাগজটা হাতে নিয়েই রাজের কৌতূহল বাড়লো! এটায় একটা এড্রেস আর লোকেশন ম্যাপ ড্রয়িং করা আর তাদের বাড়ি থেকে সামান্য দূরেই মেয়রের কলা বাগানের রাস্তা এবং মেয়রের বাসার নম্বর দেওয়া।
---রোকন সাহেবঃকিরে রাজ চুপ করে আছিস কেন?
---রাজঃসব বলার পর রোকন সাহেব বললো
আর কিছু আছে কিনা দেখে নেই।পার্ট পার্ট করে সব বাহির করে অবশেষরূপে পেল একটা পরিচয় পত্র।দেখেই রোকন সাহেব বুঝে বললেন এটা পড়!! রাজ পড়ে বিরাট এক ধাক্কা খেল।চোখ থেকে জল ছেড়ে দিয়ে বলল আব্বু আম্মু আমায় ক্ষমা করে দাও।লোকটা আসলেই গোয়েন্দা সংস্থার লোক ছিল।মেয়রের তথ্যাদি বের করতে এসেছিল।কথাটা ছুঁমেরেই ফাহমিদা বেগম বলে উঠলো মেয়রের তথ্যাদি বের করতে এসে তার লোকের তাড়া খেয়েই হয়তো প্রাণ বাঁচাতে তোর রুমে এসে উঠে।আর তোর অপেক্ষায় মেয়েটা দরজা খুলে রেখেছিল সেই সময়ে লোকটা রুমে ঢুকলো আর তোর আগমন। রাজ এবং রোকন সাহেব মাথা নেড়ে সায় দিল।তারপর ফাহমিদা বেগম কড়া ভাবেই বলে সেদিন লোকটি এভাবেই বলছিল কিন্তু তুই শুনিসনি।
লজ্জিত হয়ে রাজ বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলো।রোকন সাহেব জিজ্ঞাসা করলো লোকটিকে কোথায় দিয়ে আসছিল।রাজ বললো থানায়।দেরি না করে রোকন সাহেব থানায় কল করে।নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে রাজ নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে।পাশে থেকে সব শোনে রাজের বোন রিক্তা বলে উঠে!! ছিঃভাইয়া।এতটা দিন এক সাথে চলার পরেও তোমার কনফিডেন্স দেখে আমি অবাক!! ছিঃ বলেই রুমে চলে গেল।
মাথা নিচু করে বসে আছে রাজ।রোকন সাহেব থানায় কথা বলে সিউর হলেন লোকটার সমন্ধ্যে এবং তার উদ্যেশ্য সম্পর্কে। থানা থেকে লোকটি আপন ঠিকানায় চলে যায়।রোকন সাহেবের ইচ্ছে করছিল ছেলেকে বেধড়ম কিছুক্ষণ পেটাতে!! কিভাবে এতো বোকা হয় সত্য মিথ্যে এবং পুরো ঘটনা যাচাই না করে কিভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে।
রাগ সামলে নিজেকে কোন রকম সংযত করে নিয়ে বললেন।যা ক্ষতি হবার হয়েছে।আমি মনে করেছিলাম সাময়িক রাগারাগি। রাগ ভাঙলে ঠিক হয়ে যাবে।সবার ভাগ্য খারাপ ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। আর রাজের মাকে শাসালেন কেন সব খুলে বলা হয়নি তাই।
তারপর বললো পুষ্প কে গিয়ে কাল সকালেই নিয়ে আসতে।রাজ আর না লুকিয়ে বলে ফেললো এবার খুলাখুলি ভাবেই।আব্বু আমায় ক্ষমা করবেন।সেদিন ওকে নিয়ে ওদের বাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তায় কিছুটা খারাপ বিহেভ করেছিলাম।তারপর বাস স্টপে রেখে টিকেট কিনে ফিরে এসে দেখি ও নাই।পরক্ষণে আমার ফোনে মেসেজ দিল।আমি আপনার সাথে আমার পবিত্র চরিত্রের উপর আরোপ করা মিথ্যে কলঙ্ক নিয়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছি না।আপনি ফিরে যান।প্লিজ আমার বাসায় কিছু জানাবেন না।আমি আমার পথে চলে গেলাম।আল্লাহ্ হাফেজ।পরে আমি বহু চেষ্টা করেও সেই নাম্বারে ওকে পাইনি।বলেই হোঁহোঁ করে কেঁদে দিল রাজ।
মাথায় হাত দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়লেন রাজের বাবা মা দুই জন ই।
রিক্তা রেগেমেগে বলল আমি আর এক মুহুর্তের জন্য এ বাড়িতে থাকছিনা।ভোরেই চলে যাব।
নিজের রুমে গিয়ে লাগেজ গুছিয়ে নেওয়ার সময়
মায়ের পুরোনো মোবাইল টা পেল ওয়ারড্রব এ।হাতে নিতেই দেখতে পেলো স্ক্রিনে কয়েকটি মেসেজ।মেসেজ ওপেন করতেই ভড়কে গেল!!
আরে এতো ভাবির নাম্বার থেকে আসা মেসেজ।
মলিন মুখে যেন একরাশ খুসির আভাস।
গলা ফাটিয়ে সবাইকে ডাকলো।
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now