বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আশা করেছিলেন লোকটি

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ছোট্ট এ প্রশ্নটি আশা করেছিলেন লোকটি। আশাহত করলাম। সামনে মেলে ধরা বিল্ডিংয়ের আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের দিকে মনোযোগ দিলাম। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম সেটা। ‘প্রথম যিনি বাড়ি করতে চেয়েছিলেন, তিনি রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছেন।’ খুক করে একটু কেশে ফিসফিস করার মতো লোকটি নিজেই বললেন, ‘ঘুষখোর ছিলেন তিনি। সম্ভবত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ঘুষের টাকা-পয়সার হিসাব মেলাচ্ছিলেন। জটিল সেই হিসাব মেলাতে মেলাতে রাস্তার ভেতর চলে গিয়েছিলেন। একটা বাসের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন।’ গলার স্বর ভালো লাগছে না লোকটির, বলার ভঙ্গিও। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আমার। কিন্তু পরনিন্দামূলক কথা পছন্দ না আমার, থামানো দরকার। কিছুটা রূঢ় স্বরে তাই বললাম, ‘ঘুষখোর ছিলেন- এটা আপনি জানলেন কীভাবে?’ ‘এটা জানতে তো বিদ্ধান হতে হয় না, জনাব।’ গলা থেকে খসে আসতে চাওয়া মাফলারটা আরও একটু আঁটোসাঁটোভাবে চাপিয়ে তিনি বললেন, ‘ধোঁয়া চেনেন তো, ওই যে আগুনের ধোঁয়া? আগুনের গরমে যেমন ধোঁয়া ওঠে, তেমনি টাকার গরমেরও এক ধরনের ধোঁয়া ওঠে। মাছের বাজারে গেলে ওই ধোঁয়া দেখতে পাবেন- কেউ হয়তো বিশ-পঁচিশ টাকার মাছ কিনতে হিমসিম খাচ্ছে, কেউ আবার হাজার টাকার মাছ কিনে ফেলছে কোনোরকম দরদাম না করেই। এটাকে বলে টাকার গরমের ধোঁয়া। সাধারণত অবৈধভাবে কামাই করা টাকায় ধোঁয়া দেখা যায় বেশি। লোকটি সরকারি চাকরি করতেন, ওই চাকরি করে কয় টাকা বেতন পাওয়া যায়? তিনি এখানে ছয়তলা বাড়ি করতে এসেছিলেন। এবার বোঝেন, ঘুষখোর না হলে টাকাগুলো এসেছে কোথা থেকে!’ ‘তবুও ভালোভাবে না জেনে কোনো কিছু বলা উচিত না।’ লোকটি হেসে উঠলেন। এখানে আসার পর তার প্রথম হাসি মুখ। হাসলে সব মানুষকেই সুন্দর লাগে, তাকে লাগছে বিভৎস। হাসির সময় থুতনির কাছে ভাঁজ পরে তার। এতে কাটা দাগটা আরও গর্তের মতো মনে হয়, কুঁচকে যাওয়া পোড়া মাংসের মতো মনে হয় সেটা। থুতনির কাছে কাটা দাগটায় আবার চুলকাতে লাগলেন তিনি। সম্ভবত হাসির সময় কিংবা কথা বলার সময় ওই জায়গাটার পেশিতে একটু টান লাগে, সুরসুরি লাগে, চুলকাতে ইচ্ছে করে তাই। রাস্তার ওপাশের দোকান থেকে চা নিয়ে এলো একটা ছেলে। লোকটিকে তেমন ভালো লাগছে না, চলে গেলে বাঁচি। তবু ভদ্রতাবশত বললাম, ‘চা খাবেন?’ কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতে লোকটি বললেন, ‘আমি তো খেতে পারি না।’ কথায় সংশোধনী আনার জন্য বেশ দ্রুত গতিতে তিনি বললেন, ‘মানে চা খেতে পারি না। অথচ জানেন, দিনে অন্তত সাত-আট কাপ চা খেতাম আগে। কখনও কখনও আরও বেশি।’ ‘আপনার কি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে?’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আশা করেছিলেন লোকটি
→ আশা করেছিলেন লোকটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now