বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আনন্দের স্কুল লাইফ

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X জীবনের সব চেয়ে মজার কিছু অংশ জুড়ে থাকে স্কুল লাইফের সেই দিন গুলো হাসি-ঠাট্টা,ফাজলামি খেলাধুলা সেই সব অসাধারণ এক স্মৃতি।।।আসেন আজ ফাজিল সাহেবের স্কুল লাইফ কেমন কেটেছে বলি যদিও আমি হাই স্কুল অর্থাৎ ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত ক্লাসের কিছু মজার স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করব।।১ম পর্বে স্কুল লাইফের সেই ক্লাস ফাঁকির স্মৃতি গুলো বলব যদিও বেশির ভাগ ওই মনে নাই।। . ★স্কুল লাইফের সব থেকে মজার এবং বীরত্বের কাজ ছিল স্কুল পালানো ক্লাস সিক্সে মোটামুটি ভদ্র টাইপ ছেলে ছিলাম এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন থাকার কারণে ক্লাস সিক্সে স্কুল পালানো আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।প্রথম স্কুল পালাই সেভেনের মার্চ মাসে সেই এক আলাদা অনুভূতি একসাথে ভয় এবং আনন্দ কিন্তু কথায় বলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয় সেটাই আমাদের সাথে হল সামনে পরলেন স্যারেরা আমরাও কম যাই না ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে ছুটলাম ওইদিকে হে'ড স্যার কিভাবে যেন জেনে গেলেন যে তিনার স্কুলের একদম ছেলে ব্যাগ নিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে অমনিও উনিও পিছনে ছুটলেন যদিও ধরতে পারেননি তাতে কি হয়েছে পরের দিন আজব কি গজব মাইর সেটা দেখিয়েছিলেন।।এর পরে হালকা পাতলা পালানো হয়েছে ক্লাস এইটে তেমন পালানোর সুযোগ পাইনি তবে নাইনে উঠে হাতের কাছে চাঁদ পাওয়া গেল আহা কি সুখের জীবন স্যারেরা ছুটেন একদিকে অন্যদিকে আমরা মাঝে মাঝে ক্লাসে কোন ছেলে নাই শুধু মেয়ে বাহির থেকে কোন শিক্ষা অফিসার আসলে নির্ঘাত বলবে যে এটা গার্লস স্কুল।।।কয়েকদিন আমাদের গ্রুপ কে অফিসে ডাকা হল একদিনের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে.. স্যার-তা তোমরা ক্লাস না করে কোথায় গিয়েছিলে।। আমরা-ইয়ে স্যার আসলে যেতে চাইনি বাট কাপড় নষ্ট হয়ে গিয়েছে খেলার জন্য।। -তো ছুটি নিলা না কেন? -এত জনের তো আর ছুটি দিবেন না।। -তাই বলে ছুটি নিবা না তোমরা পাইছো কি??তোমাদের গার্জেনের নাম্বার দাও।। -স্যার ভূলে গেছি।। -ফাজলামি পাইছো নাম্বার দাও।। (অনেক সময় আমরা একফ্রেন্ড আরেক ফ্রেন্ডের নাম্বার দিয়ে দিতাম এতে ফোন দিলে ফোন অফ পাওয়া যাবে) -স্যার আর ভূল হবে না.. বলেই আমরা স্যারের পায়ে এতে স্যারের মন গলে রসমালাই আমরাও শেষ বারের মত আবার চান্স পাই তবে সেটা কত নাম্বার শেষ চান্স সেটা ভাবতে থাকি।। . তারপর যেদিন আমরা স্কুল পালাই নাই সেইদিন যারা স্কুল পালাত পরের দিন তাদের নাম লিখে স্যারের সামনে গিয়ে তাদের দেখিয়ে বলতাম এখন কি দিয়া দিব এইভাবে ব্ল্যাকমেইল করে কত সিঙ্গারা পেটে গেছে সেটাই বড় কথা।।।আরেকবারের কথা স্যার আসছেন ওইদিকে আমরা যে যেমনে পারি দৌড়াইয়া সরে পরছি কেউ কেউ ২তালা থেকে বাথরুমের ছাদে লাফ দিছে সেখান থেকে নিচে নেমে গেছে তো আমাদের শাওন সাহেব তিনি বাথরুমের ছাদে লাফ দিয়ে পরছেন ঠিকি কিন্তু ওইখান থেকে মাটিতে লাফ দিতে ভয় পাচ্ছেন বেচারার অবস্থা সেই সময় এতই করুণ হয়েছিল যে বলার মত না ওইদিকে স্যার চলে আসছেন.. -তুই ওইখানে কি করস...(স্যার) -না মানে স্যার কিছুনা..(শাওন) -কিছু না মানে তুই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পালাচ্ছিস।। -না স্যার সেটা না।। -সেটাই নেমে আয় বলছি নেমে আয়।। -স্যার নামতে পারছিনা।। -তাহলে উঠছিস ক্যান।। -স্যার নামতে পারবনা সেটা ভেবে তো লাফ দেই নাই।।এখন মজা বুঝতেছি।। -হ্যাঁ মজা বুঝ আজ তুই এখানেই থাকবি সারা দিন।। -স্যার নিচে নাম্বার একটা ব্যাবস্থা করে দেন।। -আমি কি তরে উপরে তুলছি যে নামাইয়া দিব আজ তুই ওইখানেই থাকবি তর বাপ রে আমি আনাচ্ছি।। . বেচারা শাওনের সেইদিনের মুখ খানা আজও আমার সামনে ভেসে উঠে এর পর থেকে শাওন আর বাথরুমের ছাদে লাফ দেয়নি।।ক্লাস নাইনে একবার পলায়ন করে আমরা দোকানে বসে বসে সিঙ্গারা,সমুচা সাবার করছি হঠাৎ ভূমিকম্পের মত স্যার দের আগমন ধরা খাওয়ার আগেই আমরা পিছনের দরজা দিয়ে দৌড় কিন্তু পরেরদিন ক্লাসে স্যার দাঁড় করিয়ে ইতিহাস রচনা করলেন এইভাবে অনেক দিন পিছনের দরজা দিয়া দৌড়াইছি ধান ক্ষেত,বাথরুমের ছাদ সব দিক দিয়া দৌড়ানির মত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।।।একবার স্যারের হাতে সরাসরি ধরা পরলাম তাও একসাথে ৩জন স্যার স্যার-কোথায় যাস।। আমি-(ভয়ে) বাসায় স্যার।। -ছুটি নিয়েছিস নাকি ফাঁকি।। -এ কি বলেন স্যার ছুটি নিয়েছি।। -কার কাছ থেকে নিয়েছিস।। -BZ স্যারের কাছ থেকে.. -এর পরের ক্লাস আমার তুই হয় আমার কাছ থেকে নিবি বা হেড স্যারের কাছ থেকে তুই BZ স্যারের কাছ থেকে নিবি কেন?? -না মানে আপনাকে খুঁজে পাই নাই তো।। -কি কারণে যাচ্ছিস.. -বাসায় বিশাল অসুবিধা স্যার।। -আচ্ছা তর বাসায় ফোন করে দেখি... বাসায় ফোন দিয়ে দেখলেন কিছুই হয়নি অতঃপর বাকিটা কি আর বলতে হয় উহা না বলাই উত্তম।।। . একবার ৩নাম্বার ক্লাস বাদ দিয়ে আড্ডা দিয়ে ৪র্থ নাম্বার ক্লাসে ঢুকে দেখি স্যার আমাদের ডেকে পাঠালেন।। -তোরা ৩য় সাবজেক্টের সময় কোথায় ছিলি।। -স্যার ফুটবল আনতে গিয়েছিলাম।। -তাই বলে এত জন যাবি।। -আসলে স্যার মেহেদীর বাসায় বল সে একা যাবেনা তারসাথে সায়মন যাবে নয়ত সে যাবেনা আবার সায়মন যাবেনা নুরুল ছাড়া আবার নুরুল যাবেনা আমি ছাড়া আবার আমি যাবনা সাগর ছাড়া আবার সাগর যাবেনা শাওন ছাড়া আবার শাওন যাবেনা রাহী ছাড়া এইভাবে সবাই চলে গেছি।।। -এটা শোনে স্যার শাস্তি দেয়ার বদলে হাসতে হাসতে শেষ তবে এভাবে বলার কারণ ও ছিল কারণ আমরা আগেই জানতাম স্যার আমাদের কোন শাস্তি দিবেন না।। . স্কুল লাইফের এই ফাঁকি দেয়ার দিন গুলো মিস করব শুধু যে মিস করব তা না এই দিন গুলার কথা ভেবে চোখের জল ও ফেলব চাইলেও এই দিন গুলা আর ফিরে আসবেনা।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আনন্দের স্কুল লাইফ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now