বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আঙ্গুলেরা পাঁচ বোন

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jewel (০ পয়েন্ট)

X ৩৪ হাজার ফুট ওপরে বসে মেঘ দেখছে তারা। কারা? বৃদ্ধা, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা। এই প্রথম বিমানে উড়ল পাঁচ বোন। আগেও বিমানে উঠেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘরে। তবে সেই বিমান আকাশে ওড়েনি। মাটিতেই ছিল। তারা বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে, কিছুক্ষণ ঘুরেটুরে বাড়ি ফিরে এসেছিল। এবার বিমানে করে ৩৪ হাজার ফুট ওপরে চলে এল। বিমান হয়তো আরও ওপরে উঠবে! জানালায় পাঁচ বোন। একজন আরেকজনের গায়ে পড়ে, ঠেলাঠেলি করে মেঘ দেখছে। হঠাৎ কনিষ্ঠা বলে, ‘ওই দেখো, তিরিবিনি নদী।’ চার বোন চোখ বড় করে তাকায়। আসলেই তো। স্কুলে যাওয়ার সময় ছোট বোন কনিষ্ঠা যেভাবে বেণি করে, ঠিক তেমনি তিনটি বেণির মতো চলে গেছে তিরিবিনি নদী। এঁকেবেঁকে কই গেছে নদী তা জানে না তারা। বৃদ্ধা চোখ রাঙিয়ে বলে, ‘এটা তিরিবিনি নয়; ত্রিবেণি নদী, বুঝলি? এই নদী চলে গেছে আরেকটা গ্রহে। যেই গ্রহ থেকে এসেছি আমরা।’ মধ্যমা বলে, ‘কী জটিল-কঠিন কথা বলো বৃদ্ধা আপু, কনিষ্ঠা তো সবার ছোট। এখনো ভালো করে সব উচ্চারণ করতে পারে না। ত্রিবেণিকে সে তিরিবিনি বলেছে, এতে সমস্যা কী। ছোট থাকতে তুমিও তো এমন করে বলতে; মনে নেই? আর আমরা কোন গ্রহ থেকে এসেছি বুঝিয়ে বলো তো?’ বৃদ্ধা জবাব দেওয়ার আগেই অনামিকা বলে, ‘বড়রা ছোটবেলার কথা মনে করতে পারে না, তাই ছোটদের সঙ্গে রেগেমেগে কথা বলে।’ বৃদ্ধা আর কথা বলে না। চুপসে যায়। আনমনে মেঘ দেখে। অন্যদের চোখও মেঘের দিকে। হুট করে তর্জনী গর্জে ওঠে, ‘আরে, হচ্ছে কী; সবাই আমার গায়ে পড়ে তো ভর্তা বানিয়ে দিচ্ছিস!’ তর্জনীর কথা মাটিতে পড়তে দেয় না মধ্যমা। বলে, ‘ওহ, তিনি রানি ভিক্টোরিয়া হয়েছেন, গায়ের সঙ্গে লাগলেই তেলেবেগুনে তেতে ওঠেন!’ কনিষ্ঠা ঝগড়া থামাতে বলে, ‘দেখো, এই প্রথম এত ওপরে এলাম। কোথায় মেঘটেঘ দেখবে, উদাস হবে। গান-কবিতা বলবে; তা না। বরং ঝগড়া করছ তো করছই। ওই দেখো, সাদা মেঘ তুলোর মতো উড়ছে।’ সাদারও যে কত রং হতে পারে তা এই প্রথম বুঝতে পেরেছে তারা। নানা রঙের সাদা। বক সাদা, তুলো সাদা, কাশফুল সাদা, চুন সাদা, দই সাদা, দুধ সাদা, কাগজ সাদাসহ কত্ত কত্ত সাদা! সূর্যের আলো গায়ে মেখে সাদারা রং বদলায়। এই এত্ত এত্ত সাদার ভেতর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে পাঁচ বোন। বিমান থেকে সাদা মেঘের সঙ্গে ধাক্কা খায়। একদিকে আলতো করে হেলে পড়ে। পাঁচ বোন ভয়ে চিত্কার দিয়ে ওঠে। বৃদ্ধা তাদের শিখিয়েছে, ওপরে ওঠার সময় বা কখনো ভয় পেলেই যেন জোরে চিত্কার দেয়। এতে ভয় চলে যায়। তার মতে, ভয়ের ওষুধ এই একটাই—চিল চেঁচানো! বৃদ্ধা ছাড়া অন্য চার বোন চেঁচাচ্ছে। এর ভেতর বিমানে আগের ভারসাম্য ফিরে এল। চার বোন বুকে থু থু দিয়ে নিজেদের সামলে নিচ্ছে। অমনি নাক বোঁচা পুতুলের মতো এক এয়ার হোস্টেস তাদের দিকে এগিয়ে এল। মাথা নামিয়ে কুর্নিশ করে পাঁচ বোনকে একটা গরম তোয়ালে দিল। শীতে যেমন ঠকঠক কাঁপুনি আসে, তেমনি তিন বোন অভিনয় করে ঠকঠক কয়েকবার কেঁপে নিল। তারপর গরম তোয়ালে দিয়ে নিজেদের গা মুছতে থাকে। মুছতেই থাকে। পুতুল এয়ার হোস্টেসটা আবার আসে। জুসের একটা গ্লাস বাড়িয়ে দেয়। তর্জনী গ্লাসে চুমুক দিয়েই ওয়াক-থু, ওয়াক-থু করে বলে, ‘ছি! কী বিচ্ছিরি; কী বিচ্ছিরি! জুসের এমন ছিরি!’ বৃদ্ধা বলে, ‘বিমান যত ওপরে ওঠে, তত খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়; এ তো সবাই জানে। তুই জানিস না ক্যান তর্জু?’ তর্জনীকে আদর করে বৃদ্ধা তর্জু ডাকে। তর্জু মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘তুমি তো আইনস্টাইন, সব জানো। না জানলেও নতুন নতুন থিওরি দাঁড় করাও।’ এর ভেতর কেবিন ক্রু ঘোষণা দিল, ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, আমরা এখন প্রায় ৩৪ হাজার ফিট ওপরে চলে এসেছি। মাত্রই আমরা ভারতের আকাশ ত্যাগ করে নেপালের আকাশে ঢুকে পড়েছি। আর অল্প কিছুক্ষণ পর বিমানের ডান পাশ দিয়ে আপনারা দেখতে পাবেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত হিমালয়। যারা বিমানের ডান পাশে বসেছেন, তাঁরা সোজা তাকালেই হিমালয় দেখতে পাবেন।’ পাঁচ বোন এবার খুব মনোযোগ দিয়ে জানালায় চোখ রাখে। বিমান যাচ্ছে। হ্যাঁ, এই তো, দূরে স্থির মেঘের পাহাড় দেখা যাচ্ছে। কনিষ্ঠা বলে, ‘ওইটাই কি হিমালয়?’ মধ্যমা বলে, ‘আরে না, ওইটা মেঘ, দেখে বুঝিস না?’ ‘হ্যাঁ, সাদা মেঘই তো!’ বলে কনিষ্ঠা। বৃদ্ধ গম্ভীর ভাব নিয়ে বলে, ‘কিছুই তো বোঝো না। শুধু শুধু বড় হচ্ছ। ওইটাই হিমালয়। ওপরে বরফ থাকায় এমন দেখাচ্ছে। সাদা বরফে পড়েছে রোদ। তাই চিকচিক করছে।’ তর্জনী ফের গর্জে ওঠে, ‘আচ্ছা আমার গায়ে পড়া ছাড়া তোমরা কি কিছুই দেখতে পাও না? বাপরে বাপ, খালি গায়ে হেলে পড়ে। একটু সোজা হয়ে দেখো।’ মধ্যমা, অনামিকা আর কনিষ্ঠা বুঝতেই পারেনি যে তারা হিমালয় দেখতে দেখতে কখন তর্জনীর গায়ে হেলে পড়েছে। ছোট্টমোট্ট কনিষ্ঠা হিমালয় দেখে আর তিরিবিনি নদীর কথা ভাবে। অন্য চার বোন নিচের দিকে তাকায়। দেখে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড় নিচে। কেবিন ক্রু ঘোষণা করে, ‘একটু পরেই আমরা নামতে যাচ্ছি নেপালের ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে।’ ধীরে ধীরে বিমানটি পাহাড়ের মাঝ দিয়ে রানওয়ে ছুঁই ছুঁই করে। কনিষ্ঠা তখনো ভাবে তিরিবিনি নদীর কথা। আর সেও ভাবে। কে? যেই ছোট্ট মেয়েটার হাতে বসে পাঁচ বোন এতক্ষণ গল্প জমিয়েছিল সে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আঙ্গুলেরা পাঁচ বোন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now