বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমরা কেউ বাসায় নেই – ০৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভাইয়ার স্বভাবও মার মতো অলস প্রকৃতির। গোসলের মতো প্রাত্যহিক কাজ তিনি আলস্যের কারণে করেন না। সপ্তাহে বড়জোর দুদিন তিনি গোসল করেন। গোসল না করার পেছনে তার যুক্তি হচ্ছে, পৃথিবীর অনেক দেশেই খাবার পানির ভয়ংকর অভাব, সেখানে আমি গায়ে ঢেলে এতটা পানি নষ্ট করব? অসম্ভব। মা যেমন শুধু দেবদাস পড়েন, ভাইয়া সে রকম না। তার ঘরভর্তি বই। যতক্ষণ তিনি জেগে থাকেন ততক্ষণ তার মুখের সামনে বই ধরা থাকে। আমি আমার নাম মনজু। ভাইয়া যে রকম ব্রিলিয়েন্ট আমি সে রকম গাধা। দুবার বিএ পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছি। দ্বিতীয়বার ফেলের বিষয়টা শুধু ভাইয়া জানে। বাবা-মা দুজনকেই পা ছুঁয়ে সালাম করে বলেছি, হায়ার সেকেন্ড ক্লাস পেয়েছি। মা মিষ্টি কিনে বাড়িতে বাড়িতে পাঠিয়েছেন। আমাকে বলেছেন, তোর পাসের খবরে এত খুশি হয়েছি! আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম তুই এবারও ফেল করেছিস। [মার স্বপ্নের ব্যাপারটা বলতে ভুলে গেছি। মা যা স্বপ্নে দেখেন তাই হয়। একবার মা স্বপ্নে দেখলেন, রিকশা থেকে পড়ে বাবা পা ভেঙে ফেলেছেন। এক সপ্তাহ পর একই ঘটনা ঘটল। বাবা রেগে গিয়ে মাকে বলেছিলেন, এ ধরনের স্বপ্ন কম দেখলে ভালো হয়। ভালো কিছু দেখবে, তা-না পা ভাঙা, হাত ভাঙা। থাবড়ানো দরকার। মা খুব লজ্জা পেয়েছিলেন।] রহিমার মা রহিমার মা আমাদের কাজের বুয়া। বিরাট চোর, তবে খুব কাজের। ভাইয়ার প্রতি তার আলাদা দুর্বলতা আছে বলে আমার ধারণা। ভাইয়ার যেকোনো কাজ করার জন্যে সে ব্যস্ত। ভাইয়ার সঙ্গে নানা ধরনের গল্পও করে। একদিন ভাইয়াকে বলল, ‘বুঝছেন ভাইজান, শইটলটা নিয়া পড়ছি বিপদে। মানুষের বাড়িত কাম করব কী সবাই শইলের দিকে চায়া থাকে।’ ভাইয়া বলল, ‘তাকিয়ে থাকার মতো শরীর তো তোমার না রহিমার মা। কেন তাকিয়ে থাকে? কী যে কন ভাইজান, রইদে পুইড়া চেহারা নষ্ট হইছে, কিন্তু শইল ঠিক আছে। আইজ পর্যন্ত এমন কোনো বাড়িতে কাম করি নাই যেখানে আমারে কুপ্রস্তাব দেয়নি। হয় বাড়ির সাহেব কুপ্রস্তাব দেয়। সাহেব না দিলে বেগম সাবের ভাই দেয়।’ আমাদের বাড়ি থেকে তো এখনো কোনো কুপ্রস্তাব পাও নাই। সময় তো পার হয় নাই ভাইজান। সময় আছে আর আমার শইলও আছে। যেদিন কুপ্রস্তাব পাব আপনারে প্রথম জানাব। এটা আমার ওয়াদা। রহিমার মার বিয়ে হয়নি এবং রহিমা নামে তার কোনো মেয়েও নেই। সে ১৫-১৬ বছর বয়সে কাজ করতে গেল। কোনো বেগম সাহেব তাকে রাখে না। কুমারী মেয়ে রাখবে না। সে নিজেই তখন বুদ্ধি করে রহিমার মা নাম নিল। দেশের বাড়িতে তার স্বামী আছে, রহিমা নামের মেয়ে আছে। তখন চাকরি হলো। আমাদের এখানে দুই বছর ধরে আছে। পরিবারের সবার কথাই তো মোটামুটি বলা হলো। এখন যে বাড়িতে থাকি তার কথা বলি। বাড়ি একটি জীবন্ত বিষয়। বাড়ির জন্ম-মৃত্যু আছে। রোগব্যাধি আছে। কোনো কোনো বাড়ির আত্মাও আছে। আবার আত্মা শূন্য নিষ্ঠুর বাড়িও আছে। আমরা থাকি ঝিগাতলার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছাকাছি, একটা গলির ভেতর। গলির নাম ছানাউল্লাহ সড়ক। ছানাউল্লাহ আওয়ামী লীগের এক নেতা। গলির নামকরণ ছানাউল্লাহ সাহেব নিজেই করেছেন। নিজ খরচায় কয়েক জায়গায় সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছানাউল্লাহ সড়ক বলে না। বলে মসজিদের গলি। গলির শেষ মাথায় মসজিদ আছে বলেই এই নাম। মসজিদের গলিতে বাবা ছকাঠা জায়গায় একতলা বাড়ি বানিয়েছেন। দোতলা করার শখ আছে। শখ মিটবে এ রকম মনে হচ্ছে না। বাবার জমি কেনার কিছু ইতিহাস আছে। জমিটা তিনি এবং তাঁর এক বন্ধু ফজলু চাচা কিনেছিলেন। জমি কেনার এক সপ্তাহের মাথায় ফজলু চাচা মারা যান। জমি রেজিস্ট্রি এবং নামজারি বাবা নিজের নামে করে নেন। ফজলু চাচার স্ত্রী তাঁর বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে কয়েকবার এই বাড়িতে এসেছিলেন। প্রতিবারই বাবা অতি ভদ্রভাবে বলেছেন, ভাবি! ফজলু এবং আমি দুজনে মিলেই জায়গাটা কিনতে চেয়েছিলাম। শেষ মুহূর্তে ফজলু টাকাটা দিতে পারেনি। টাকা নিয়ে সে রওনা হয়েছিল এটাও সত্যি। পথে টাকা ছিনতাই হয়। ফজলু সাত দিনের মাথায় মারা যায়। টাকার শোকেই মারা যায়। ভদ্রমহিলা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার গয়না বিক্রি করা টাকা। পদ্মর বাবা বলেছিল, টাকা আপনার হাতে দিয়েছে। আপনাকে শান্ত করার জন্যে বলেছে ভাবি। এতগুলো টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেল। কাউকে বলাও তো কঠিন। ভাই, আমি এখন কী করব বলুন। পড়াশোনা নাইন পর্যন্ত। কেউ তো আমাকে কোনো চাকরিও দেবে না। বিভিন্ন অফিসে চেষ্টা করতে থাকুন। নতুন নতুন মার্কেট হচ্ছে, তাদের সেলস গার্ল দরকার। তারা বেতনও খারাপ দেয় না। আমিও চেষ্টা করব। বাবা যতক্ষণ কথা বলছিলেন বাচ্চা মেয়েটা ততক্ষণই একটা কঞ্চি হাতে ছোটাছুটি করছিল। আমি বললাম, এই খুকি কী করছ? সে বলল, আমার নাম খুকি না। আমার নাম পদ্ম। আমি বললাম, এই পদ্ম, তুমি কঞ্চি নিয়ে কী করছ? বিড়াল তাড়াচ্ছি। বিড়াল কোথায়? তোমাদের বাড়িতে অনেকগুলো বিড়াল। তুমি দেখতে পাচ্ছ না। আমি পাচ্ছি। ওই দেখ একটা কালো বিড়াল। পদ্ম কঞ্চি হাতে কালো বিড়ালের দিকে ছুটে গেল। ভাইয়ার কাছে শুনেছি, দু-তিন মাস পরপর ভাইয়াকে দিয়ে বাবা ফজলু চাচার স্ত্রীকে পাঠিয়েছেন। মেয়েদের এক স্কুলে আয়া শ্রেণীর চাকরিও জোগাড় করে দিয়েছিলেন। আমাদের এই বাড়ির আর্কিটেক্ট বাবা। মাঝখানে খানিকটা খালি জায়গা রেখে চারদিকে ঘর তুলে ফেলেছেন। বড় ঘর, মাঝারি ঘর, ছোট ঘর-ঘরের ছড়াছড়ি। এর মধ্যে দুটি ঘর তালাবদ্ধ। এই দুটি হলো গেস্টরুম। গেস্ট আসে না বলে তালা খোলা হয় না। আমার মার ধারণা, বাড়িতে কোনো ঘর দীর্ঘদিন তালাবন্ধ থাকলে সেখানে ভূত-প্রেত আশ্রয় নেয়। মা মোটামুটি নিশ্চিত তালাবন্ধ ঘরের একটিতে একজন বৃদ্ধ ভূত বাস করে। মা অনেকবার খড়ম-পায়ে ভূতের হাঁটার শব্দ শুনেছেন এবং খক খক কাশির শব্দ শুনেছেন। মনে হয় যক্ষ্মা রোগগ্রস্ত ভূত। ভূত সমাজে অসুখ-বিসুখ থাকা বিচিত্র কিছু না। ভূতটা খড়ম পায়ে হাঁটে কেন তা পরিষ্কার না। খড়ম বাংলাদেশ থেকে উঠে গেছে। গ্রামের দিকেও স্পঞ্জের স্যান্ডেল। আমাদের এই ভূত অপ্রচলিত খড়ম কোথায় পেল কে জানে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৯
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৭
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৬
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৫
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৪
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১৩
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১২
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১১
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-১০
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৯
→ আমরা কেউ বাসায় নেই – ৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৮
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৭
→ আমরা কেউ বাসায় নেই-৬

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now