বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার ছোট বোন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন ভৌমিক (০ পয়েন্ট)

X আমার ছোট বোন ফোনটা বাজছে বাড়ি থেকে ফোন। আমি নিশ্চিত ফোনটা আমার ছোট বােনই করেছে। আমি ছােট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেবিল থেকে আলগোছে ফোনটা তুলে নিলাম । হ্যা, আমার ছোট বােনই। মোবাইলের স্ক্রিনে লেখা, "চকলেট পাগলি"। আসলে ও চকলেট খেতে খুব পছন্দ করে, তাই ওর নাম্বারটা মোবাইলে আমি এই নামে সংরক্ষণ করেছি। এত কষ্টের মাঝেও এই লেখা দেখে আমার হাসি পেয়ে গেল। বিষাদময় হাসি হেসে আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে শিশুতােষ কণ্ঠে আমার বােন বলে, “জানিস ভাইয়া, আজকে না মা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। আসার সময় অনেকগুলো চকলেট কিনে দিয়েছে। আমি বাড়িতে এসে সবগুলাে চকলেট একসাথে খেয়ে ফেলেছি, তাই জিহ্বার চামড়ায় ক্ষত হয়ে গিয়েছে। পরে ভাত খেতে কী যে ঝাল লেগেছে! হি হি হি।” আমি স্বাভাবিকভাবেই বললাম “সবগুলো চকলেট একসাথে খাওয়ার কি দরকার ছিল? আমার জন্য কয়টা বাঁচিয়ে রাখতি, আমি বাড়িতে আসব কালকে।” ওপাশ থেকে ও বলে “ছি ভাইয়া, তুই এত কিপটা, নিজে চাকরি করিস, আর চকলেট কিনে খেতে পারিস না?” আমি হাসি, কিছু বলি না। ও এবার একটু অন্য স্বরে বলে, “আচ্ছা ভাইয়া, আমার কি হয়েছে? মা আমাকে নিয়ে ডাক্তার আংকেলের কাছে। আর ডাক্তার আংকেল আমাকে।দেখার পর মাকে কীসব জানি বলে। আর মা একদম মন মরা হয়ে যায়। সেদিন দেখলাম, আড়ালে গিয়ে কাঁদছে।” আমি নিশ্চুপ হয়ে যাই। গলার স্বর যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলি, “তোর কি হয়েছে সেটা তুই বললেও বুঝবি না। আর ছেলে মেয়ের অসুখ হলে বাবা মায়ের মন একটু খারাপ হয়। এটাই স্বাভাবিক। তুই ভালাে হলে ওনারাও স্বাভাবিক হয়ে যাবেন। আচ্ছা, আমার একটু কাজ আছে। এখন রাখি?” “না, রাখিস না। হি হি হি! আচ্ছা ঠিকআছে। রাখ।” বলে ও ই ফোনটা কেটে দেয়। এইহল আমার বোন, মরনব্যাধি ক্যান্সার ওকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে, বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। এরপর দিন আমি বাড়ি যাই। আমার বোন আমাকে দেখে আহ্লাদে আটখানা হয়ে যায়। আমি সারাদিন ওর সাথে খেলি, গান গাই, ওকে বই পড়ে শোনাই। ওর প্রাণোচ্ছলতা আর চঞ্চলতা আমাকে খুশি না করে আরও বিষন্ন করে তােলে। রাতে ও বায়না ধরে “আমি ভাইয়ার সাথে ঘুমাবো” কেউই অমত করে না। ওর পাশে শুয়ে পাশে শুয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে আমি নিজেই গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। কার তীব্র কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়, চোখ মেলে দেখি আমার ছোট বোনকে ধরে বাবা মা কাঁদছে। প্রতিবেশিরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করি, “কি হয়েছে বাবা?” বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “তাের বোন আর নেই রে!” আমি নিথর হয়ে যাই। মুহূর্তেই যেন সম্পূর্ণ জগত আমার চোখের সামনে ভেঙে পড়তে থাকে। ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠি আমি। সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। পাশে তাকিয়ে দেখি, বােন শুয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে ওর বুক স্পর্শ করে দেখি, হৃদপিণ্ড এখনাে চলছে। বেঁচে আছে ও। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। “যাক! আগেরটা তাহলে স্বপ্ন ছিল।” আমি আলতো করে ওকে হাত দিয়ে তুলে নিয়ে বুকে চেপে ধরি। ও প্রথমে অস্ফুট কণ্ঠে বলে ওঠে, “ছাড় না ভাইয়া।” কিন্তু এরপর আমাকে জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। আমি ওকে বুকে চেপে ধরে ভাবি, “ইশ! সারা জীবন যদি ওকে এভাবে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে পারতাম। জীবন কেন এই নিষ্ঠুর? কেন?” (এই ধরণের গল্প খুবই গতানুগতিক। তাই আমি একটু ভিন্নভাবে শেষ করার চেষ্টা করেছি। কেমন হয়েছে তা পাঠক বিচার করুন)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার ছোট বোন
→ ছোট বোন আমার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now