বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নওজোয়ান খেজুর বাগানে। খেজুর গাছের চূড়ায় উঠে কাচে ব্যস্ত।
মনিব গাছের নিচে বসে আরামে বিশ্রাম করছে।
এমন সময় মনিবের ভাতিজা এসে বললো, মক্কা থেকে আজ এক ব্যক্তি ইয়াসরিবে। বনী কায়লারা তাঁর কাছে ছুটে গেছে।
লোকটি নিজেকে ‘নবী’ বলে দাবি করছে। লোকটির কথা কানে যেতে না যেতেই নওজোয়অন চমকে উঠলো।
তার হৃদপিণ্ডে রক্তের চাপ বেড়ে গেল। মনে পড়লো- বৃদ্ধের কথা। এ কি তাহলে সেই নবী! যিনি মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে মদীনায় হিজরত করেছেন
গাছ থেকে নে এলো সে।
জিজ্ঞেস করলো তার কাছে- তুমি কি বললে? আর একবার বলো তো?
দাসের জিজ্ঞাসায় মনিব রেগে গেল। তার গালে সজোরে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো, তোমার তাতে কী হে?
মনিবের চড়েড় আঘাতেও দমে গেল না দাস। বৃদ্ধের কথা মতো সে মক্কা থেকে আগত লোকটিকে পরীক্ষা করতে চাইলো। সত্যিই তিনি নবী কি না।
সন্ধ্যার পর নওজোয়অন কিছু খেজুর নিয়ে মক্কা থেকে আগত লোকটির কাছে গেল। খেজুরগুলো তাঁকে দিয় বললো,
শুনেছি আপনি পুণ্যবান ব্যক্তি। আমার কাছে কিছু সদকার জন্যে খেজুর আছে। এগুলি আপনি গ্রহণ করুন।
লোকটি খেজুরগুলি নিয়ে তাঁর সঙ্গীদেরকে বললেণ- তোমরা খাও।
আশ্চর্য! তিনি নিজে একটি খেজুরও খেলেন না।
নওজোয়ান প্রথম পরীক্ষায় সত্যের সাফল্যে আনন্দিত হলো।
তার বিশ্বাসের ভীত শক্ত হয়ে উঠলেঅ- ইনি সত্যিই সেই নবী। যার কথা বৃদ্ধ আমাকে বলেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষাটিও করা প্রয়োজন।
একদিন- বাকি আলগারকাদ গোরস্তানে নবী (সা) তাঁর এক সঙ্গীকে দাফন করেছিলেন। তাঁর গায়ে ছিল এক ধরনের ঢিলা পোশাক।
যুবকটি সেখানে গেল। নবীকে দেখতে থাকলো। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ভালো কর। যুবকটি নবীর কাঁধের দিকে বারবার তাকাতে থঅকলো। খুঁজতে থাকলো তার প্রার্থিত নমুনাটি।
যুবকটির উৎসাহ নবী (সা) দৃষ্টিগোচর হলো।
তিনি বুঝলেন- সে কী দেখতে চায়।
নবীজী নিজের পিঠের চাদরটি সরিয়ে নিলেন। আর সাথে সাথেই বিদ্যুতের মতো চমকে উঠলো নবুওয়াতের মোহরটি।
নওজোয়ান বিশ্বাসের সমুদ্রে নেমে যায়। আন্দে দিশাহারা হয়ে সে নবীজীর মোহরটি চুমুতে চুমুতে ভরে দেয়।
তার দু’চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। সে পানি বিষাদের নয়, বিশ্বাসের।
আনন্দের।
পাওয়ার তৃপ্তিতে ভরে উঠলো তার তৃষিত হৃদয়ের দু’কূল।
নবীজী জিজ্ঞেস করলেন- তোমার পরিচয়?
নওজোয়ান তার পরিচয় দিল। সেই সাথে বললো তার পেছনের সকল কথা।
সব শুনে নবীজী খুশি হলেন। আনন্দিত হলেন।
তিনি সঙ্গী-সাথীদেরকে বললেন- নওজোয়ানর জীবনের কথা। তার সত্য অনুসন্ধানের কথা। তার ত্যাগের কথা।
নবীর (সা) সঙ্গীরা সে কথা শুনে খুব খুশি হলেন।
নবীজীর পরামর্শে একদিন দাসত্বের জীবন থেকে মুক্তি পেল নওজোয়ান। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে।
মুক্তির পর নবীজীর সাথে থেকেই কাটিয়ে দেন সারাটি জীবন। সত্যের আলোতে গড়ে তোলেন নিজের জীবন।
দাসত্ব জীবনের কারণে তিনি বদর এবং উহুদ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। এই না পারার কারণে তার বুকে জমে থাকে কষ্টের কুয়াশা।
বেদনার বৃষ্টি ঝরতে থাকে অষ্ট প্রহর।
এরপর এলো খন্দকের যুদ্ধ। নওজোয়ান ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং প্রাজ্ঞ। তিনি পরামর্শ দিলেন এই যুদ্ধে পরিখা খননের জন্য। নবীজী তার এই সুন্দর পরামর্শ গ্রহণ করলেন।
খন্দকের যুদ্ধে খনন করা হলো পরিখা।
আদরে আদরে বেড়ে ওঠা এক যুবক।
সত্য গ্রহণের জন্যে ত্যাগ করেছেন জীবনের যাবতীয় সুখ। দুনিয়ার অস্থঅয়ী জীবনের প্রতি তার ছিল না এতটুকু মোহ। তাইতো তিনি বসবাসের জন্যে তৈর করননি কোনা সুন্দর ঘর। বানাননি বিলাসের সামগ্রী ।
অতি সাধারণভাবে জীবন যাপন করতেন তিনি।
তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত অর্থেই মুসাফির।
মুসাফিরের মতোই ছিল তার জীবন যাপন, কিন্তু আখেরাতের প্রতি ছিল তার অবিচল আস্থা।
আল্লাহর প্রতি ছিল পর্বতের মতো সুদৃঢ় বিশ্বাস এবং নবীজীর প্রতি ছিল অসীম ভালোবাসা।
নওজোয়ানের বয়স বাড়তে থাকে।
বার্ধক্যের সিঁড়িতে পা রাখলেন তিনি। ধাপে ধাপে এগিয়ে গেলেন মৃত্যুর দিকে।
অন্তিম রোগ শয্যায় শায়িত তিনি।
তিনি কাঁদছেন। তার দু’গণ্ড ভিজে যাচ্ছে অশ্রুধারায়।
হযরত সা’দ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন- আপনি কাঁদছেন কেন? রাসূল (সা) তো আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। হাউজে কাউসারের কাছে আপনি রাসূলের সাথে মিলিত হবেন।
তিনি কম্পিত কণ্ঠে বললেন, আমি মৃত্যুভয়ে কাঁদছিনে।
তবে?
তিনি বললেন- রাসূল (সা) আমাদেরকে মুসাফিরের মতো চলতে বলেছিলেন। অথচ আমার কাছে অনেক জিনিসপত্র জমা হয়ে আছে।
সেই জিনিসগুলো আর কিছু নয়। মাত্র একটি বড় পিয়ালা, আমার একটি থালা ও একটি পানির পাত্র। সত্য সন্ধানী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আত্মত্যাগী এই দুঃসাহসী মুসাফিরের নাম সালমান আল ফারসী।
সত্যের আলোর খোঁজে যিনি ছুটছেন অনন্ত জীবন- দিক থেকে দিগন্তে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now