বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আলো আধারের সংসার

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M A Kadir Efthe (০ পয়েন্ট)

X পর্ব : ১ - মা। কি বলছো কি এইসব? - হ্যাঁ ঠিকি বলছি। আর যা বললাম তাই কর বাবা। - না মা। এটা হয় না। এটা কিছুতেই হয় না। - কেন হয় না। - কারণ আলো কে আমি বিয়ে করতে চাই না। তাই হয় না। - কি বলছিস কি তুই? - হ্যাঁ মা। আমি পারবো না। তুমি এটা বলো না আমায়। - দেখ বাবা আধার তুই বিয়ে টা কর। না হলে মেয়েটার, আর কোথাও বিয়ে হবে না। - তাতে কিছু যায় আসে না আমার। আমি তা পারবো না মা। - দেখ আধার রাগ করিস না বাবা। আমি জানি তুই আলো কে পছন্দ করিস না। এক প্রকার দেখতেই পারিস না ওকে। তার পরেও আমি এমন একটা কথা বললাম তোকে। তুই আলো কে বিয়ে করে নে বাবা। - কেন মা? কেন আমাকে বিয়ে করতে হবে? কেন আলো কে বিয়ে করব আমি? একজনের ভুলের মাশুল অন্যজনকে দিচ্ছো তুমি? - না আধার তা নয়। আমি তেমন টা বলছি না। আবার অন্যদিক থেকে তেমনটাই। দেখ তুই যদি আলো কে বিয়ে করে নিস তাহলে মেয়েটার ও একটা সংসার হবে। আর তোর আপুর সংসারটাও বেঁচে যাবে। তুই আলো কে বিয়ে করে নে। - পারবো না। পারবো না আমি মা। তুমি জানো আমি আলো কে দেখতে পারি না। আর তাকে বিয়ে করে সংসার করবো? কখনোই না। পারবো না আমি। - মানলাম তুই আলো কে দেখতে পারিস না। আলো কে তোর পছন্দ নয়। তুই তো ছোট থেকেই আলো করে সহ্য করতে পারিস না। আলো কে তোর বাবা ছোট বেলায় রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। তারপর থেকেই তো তুই তাকে সহ্য করতে পারিস না। আলো কে তোর চোখের অন্ধকার মনে হয়। সেই ছোট থেকেই তো তুই এর চুল ধরে টানতি, গালে চিমটি মারতি, কান মলে দিতি, খারাপ ব্যবহার করতি। মারধোরও করতি আলো কে। যার কারণে তোকে আমেরিকায় রেখে পড়াশুনো করিয়েছি। তোর ওই রকম অত্যাচারের জন্যেই তা করা হয়েছিল। কিন্তু আমি সব জেনেই এটা বলছি তোকে। আধার তুই আলো কে বিয়ে কর। - মা আমি পারবো না। প্লিজ মা এইসব বলো না তুমি। তুমি প্লিজ থামো এখন। আর ভালো লাগছে না আমার। - কেন আধার কেন? আলো কে তুই কেন দেখতে পারিস না। কেনো ও তোর চোখের বিষ? - আমি সত্যিই আলো কে দেখতে পারি না। সহ্য হয় না আমার। আমাকে আমেরিকা পাঠানোর পর থেকে প্রতিটা দিন ওর প্রতি রাগ জমিয়েছি। এখন তো আমার সহ্যই হয় না ওকে। দেখলেই ইচ্ছে কে খুন করে ফেলি। অসহ্যকর একটা মেয়ে। আমি ওকে বিয়ে করতে পারবো না। - কেন রে? আলোর মাঝে কি কমতি আছে? বল। নিজের মেয়ের মতো করে মানুষ করিয়েছি। বল না আলোকে তোর বিয়ে করতে কি আপত্তি? সেই ছোট থেকে মেয়েটা এই বাড়িতে আছে। কতটা ভালো। আমার তোর বাবার কত খেয়াল রাখত। তোর বাবা মারা যাওয়ার পর আমাকে নিজের মায়ের মতো আগলে রেখেছে। আমাকে সবাই কে কত যত্ন করে। তোকেও তো মেয়েটা খুব যত্নে রাখে। তাহলে বিয়ে করতে সমস্যা কি? - সমস্যা আছে মা। সমস্যা আছে। আমি বলতে পারছি না তোমায়। আমি পারবো না বিয়ে করতে। তুমি আমাকে আপুর সংসার বাঁচাতে এটা বলতে পারো না মা। - পাড়ি। আমি পাড়ি আধার। তুই বিয়ে টা করলে সব দিক থেকেই ভালো হবে বাবা। - মা। প্লিজ মা। প্লিজ, তুমি বিয়ে নিয়ে আমাকে জোর করতে পারো না কিন্তু। আমি যথেচ্ছ বড় হয়েছি। আমার সিদ্ধান্ত আমি নিজেই এখন নিতে পারি। বিয়ের মতো এমন একটা জিনিসে তুমি আমাকে কিছুতেই জোর করতে পারো না। আমি আলো কে বিয়ে করতে পারবো না মা। কারণ আমি ঝা........ - চুপ। আধার চুপ কর। আর একটা কথাও বলবি না। আমি পাড়ি। আমি তোকে জোর করতে পারি বিয়ে নিয়ে। কারণ আমি তোর মা। তুই আলো কেই বিয়ে করবি। না হলে আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। এটাই শেষ কথা। রাতে জানিয়ে দিস কি চায় তোর। বিয়ে করবি নাকি আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো তা দেখবি। সিদ্ধান্ত তকেই দিলাম। আলিন চৌধুরী নিজের ছেলে আধার কে কথা গুলি বলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। এদিকে আধার চিন্তায় পড়ে গেছে। নিজের মার সম্পর্কে জানা আছে ওর। এই কিছুদিন হলো সে আমেরিকা থেকে আসল। আসা শুরু হতে না হতেই এই রকম? আধারের রাগ উঠছে। কিন্তু তা সহ্য করতে পারছে না। ভীষণ রেগে আছে ছেলেটা। এর কিছুটা সময় পর, আলো ঘরে এলো। আলো ভয়ে ভয়ে বলে উঠল, - আসব? - তুই? আধার রাগি চোখ নিয়ে আলোর কাছে গেল। চুলের মুটিতে ধরে ঘরের ভিতর নিয়ে এলো। রাগে চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়ছে আধারের। রাগে ফেন ফুসে উঠছে। আর আলো ব্যথায় কুঁকড়ে উঠছে। আধার চুলের মুটি টা আরো শক্ত করে ধরে আলোর মুখেটা নিজের প্রায় কাছে নিয়ে এলো। - তুই আমার সামনে এলি কেন? কেন এসেছিা বল? আমি বলেছি আমার কফি লাগবে? লাগলেও আমি নিজে বানিয়ে আনব। তারপরেও তোর মতো মেয়ের হাতে কিছু খাবো না। এলি কেন আমার সামনে? - ছাড়ুন। লাগছে আমার। ছেড়ে দিন। - লাগছে? লাগুক। লাগার জন্যেই তো ধরলাম। চলে যা তো মুখের সামনে থেকে যা। নিজের মূল্যবান বক্তব্য গুলি দিয়ে আধার আলো কে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল। ধাক্কা দেওয়ার কারণে কাপের গরম কফি টা আলোর হাত বেয়ে নিচে পরে গেল। আলো চিৎকার করে উঠল। তবে আধার সে দিক দিয়ে নজরই দেয় নি। গিয়ে ফোন নিয়ে বসে পড়ল। দুঃখে আলো চোখের পানি ফেলতে ফেলতে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। দৌড়ে বিছানার উপর গিয়ে উবু হয়ে শুয়ে পড়ল। চোখের পানি দিয়ে বিছানার চাদর ভিজিয়ে ফেলছে। মনে মনে ভাবতে লাগল, - কেন উনি আমার সাথে এমন করে? কেন করে? কি ভুল আমার? আমাকে তো উনি সেই ছোটকাল থেকেই দেখতে পারে না। কেন? ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি, এই রকম করে উনি? ছোট বেলায় তো আপনিই আমাকে কারো সাথে মিশতে দিতেন না। কারো সাথে মিশতে গেলে একলা নিয়ে এসে মারতেন। তখনো তো কিছু বলতাম না আপনায়। কারো সাথে কথা বললেও তো আপনি আমার কাল মলে দিতেন। ব্যথা পেলেও তো কিছু বলতাম না। সেই তখন থেকেই তো আপনাকে আমার ভালো লাগত। আমার উপর আপনার রাগ, আমাকে মারা, এই সব কিছুর পরেও আপনার প্রতি আমার একটা মায়া কাজ করত। ভালো লাগত খুব। এখনো লাগে। এখনো তো আপনাকে আমার ভালো লাগে। আপনি আমাকে কেন সহ্য করতে পারেন না? কি ক্ষতি করেছি আপনাকে? কি এমন করলাম যার কারণে এখনো আমার উপর আপনার এতটা রাগ? কেনই আপনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না? কেন?? আলো কথা গুলি ভাবছে। আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। আধার করবে টা কি ভেবে পাচ্ছে না। চিন্তার বাহিরে কথা গুলি বলল মা। আলো কে নাকি বিয়ে করতে হবে। যে মেয়েকে চোখে দেখতে পারে না। তাকে বিয়ে করতে হবে। একটা রাস্তার মেয়ে কিনা হবে চৌধুরী বাড়ির একমাত্র বউ। আধার ভাবতে পারছে না এই গুলি। কিন্তু তার মায়ের কথাটা ফেলে দেওয়ার নয়। মায়ের রাগ সম্পর্কে তার ধারণা আছে। বিয়ে না করে যে তার মা সত্যিই বাড়ি ছাড়বে তা বেশ বুঝতে পারছে আধার। মাথাটা যেন বিগড়ে যাচ্ছে আধারের। একটুও ভালো লাগছে না। এমন সময়, - আপনার খাবার দেওয়া হয়েছে। মামনি বলল খেয়ে নিতে। তারাতারি নিচে আসুন। কথাটা বলেই আলো ১ সেকেন্ড দেরি করেনি। এক দমে কথা বলে চলে গেল। কারণ এটা তার নতুন কিছু না। যতবার আধারের সামনে যায় সে ততবারই আধার তার সাথে খারাপ কিছু করে। হাত এত শক্ত করে ধরে যার কারণে আলো ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে। নয় তো বা চুলের মুঠি চেঁপে ধরে। যাই করুক না কেন। আলো ব্যথা পায়। তার উপর তখন এমন রাগ করেছে। সেই কারণে আলো ভিতরে না গিয়ে বাহির থেকে কথা গুলি বলে চলে গেল। আধারের রাগ যেন সাত আসমান ছুঁয়ে গেল। রাগের উপর রাগ চেঁপে বসল তার মাঝে। এ যেন "আগুনের মাঝে ঘী ঢালবার মতো।" রাগ যেন এখন তার কমবেই না। রাগে ফুসতে থাকে সে। ভাবতে শুরু করেছে সে। - আলো তোকে তো আমার একটুও সহ্য হয় না। তুই আমার চোখে দুশমন। তোর জন্যে আমাকে আমার মার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তোর জন্যে এতটা দিন আমাকে একা একা কষ্ট পেতে হয়েছে মার দূর থাকা নিয়ে। আমি মাকে তো ভালোবাসি। আর সেই মার কাছ থেকে তুই আমাকপ দূরে রেখেছিস এখন আমার বিয়ে? মার কথা তো আর ফেলতে পারি না। যা বলবে মা তাই হবে। তবে তুইও বুঝবি আলো, এই আধার কি জিনিস? আমার উপর ঝুলে পরছিস তো, কেউ বিয়ে করবে না বলে। পরে দেখবি কি হয় তোর। বিয়ে টা নয় হয় করব। কিন্তু তোর সুখ হবে না এটাও বলে পারি আলো। চলবে..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আলো আধারের সংসার
→ আলো আধারের সংসার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now