বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আজ শৈত্যপ্রবাহ-০৩ (শেষ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (সাত) . মতিন সাহেব ছেলেকে টাকাটা দিলেন। মামুন বলল, . - আপনি এমনভাবে টাকা দিচ্ছেন যেনো আমি জোর করে নিচ্ছি। হাসিমুখে দেন। . মতিন সাহেব হাসিমুখ করতে পারলেন না। টিভিতে নাটক দেখতে ভাল লাগে, বাস্তব জীবনে নাটক দেখতে ভাল লাগেনা। মামুন এমন নাটক প্রতিবারই করে। টাকা না দিলে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়, দেরিতে বাড়ি ফেরে। আর টাকা নেয়ার সময় এইসব ডায়লগ দেয়। পাশের বাড়ির রহিমের ছেলে নাকি টিউশনি করে নিজের খরচ নিজে চালায়। বাবার কাছ থেকে কোন টাকা নেয়না। এমনকি মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বিলও দিয়ে দেয়। মতিন সাহেবের কাছে এইসব ঘটনাকে রুপকথার গল্প মনে হয়। . মামুন জানিয়ে গেল সে রাতে বাসায় খাবে না। বাসায় ফিরবেও না। বন্ধুদের সাথে পার্টি দিবে। . মতিন সাহেব আমেনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, চলো ছাদে চলো। . আমেনা মুচকি করে হাসলো। মতিন সাহেবের এমন কথার সাথে আমেনা পরিচিত। লোকটার ছাদে বসে থাকতে ভাল লাগে, কিন্তু পাশে অবশ্যই আমেনা থাকতে হবে। সমাজের নিষ্ঠুরতায় জর্জরিত লোকটির স্ত্রী-প্রীতি এক বিন্দুও কমেনি। . (আট) . ছাদে বসে আছে মতিন সাহেব ও আমেনা। আজ প্রচণ্ড শীত। শীতকালটা মতিন সাহেবের অনেক পছন্দ শীত সহ্য হয়না, তবুও শীতের সৌন্দর্য অনেক পছন্দ মতিন সাহেবের। নিরবতা ভাঙ্গিয়ে আমেনা বলল, . - গ্রামে শীতের জন্য কিছু পাঠাতে হবে। মনে আছেতো? -- হু। - টাকাপয়সা কিছু আছে আপনার কাছে? -- যা আছে হবেনা। ধার করতে হবে। - আমার কাছে কিছু আছে। ওগুলো নিয়েন, ধার করতে হবেনা। . প্রসঙ্গ পাল্টাতে মতিন সাহেব বললেন, . -- এইবার তোমার জন্য কোন কাপড়ও কেনা হয়নি। - আমার দরকারও নেই। শাল দিয়েই আমার শীত মানিয়ে যায়। আমিতো তেমন ঘর থেকে বের হই না! আপনি দেখি শীতে কাপছেন। চলেন ঘরে চলে যাই। -- না। - তাহলে আমার শালের নিচে আসেন। -- হু। . মতিন সাহেব চিন্তিত। এবারের চিন্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে। বিয়ের এত বছর হয়ে গেছে কিন্তু আমেনাকে কখনো কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাননি মতিন সাহেব। কোনদিন আমেনা বায়না না করলেও আজকের "আমিতো তেমন ঘর থেকে বের হইনা" কথাটার মাধ্যমে নিজের আক্ষেপ হয়তো প্রকাশ করে ফেললো আমেনা। সেটা ভেবেই মন খারাপ যাচ্ছে মতিন সাহেবের। আমেনা বলল, . - আজ শৈত্যপ্রবাহ! . মতিন সাহেবের ছোট্ট উত্তর, হু! . হু ছোট্ট শব্দ হলেও মতিন সাহেবের একটি হু মানে একটি ইতিহাস! . || সমাপ্ত || . লেখক - মুনীর আহমদ। উৎসর্গ - সমাজের সকল বাবাকে। . (লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কারও জীবন কাহিনী অনুসরণ করে লেখা হয়নি। তবুও কাকতালীয় ভাবে মিলে গেলে লেখক দায়ী থাকবে না।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আজ শৈত্যপ্রবাহ-০৩ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now