বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(চার)
.
আমেনা মাফলার সেলাই করে দিচ্ছে আর মতিন
সাহেব পাশে বসে বসে দেখছেন। আমেনা
বলল,
.
- এই ছেঁড়া মাফলার আর কত পড়বেন?
-- মাফলারটি ভাল। অনেক গরম।
- মামুনের একটা মাফলার আছে। পড়বেন?
-- ও পড়েনা?
- না। গত বছরের বলে আর হাত দেয়না।
-- দাওতো দেখি।
.
মাফলার হাতে নিয়ে মতিন সাহেব হতাশ হলেন।
একে মাফলার বললে মাফলার জাতির অবমাননা করা
হবে। বড়জোর স্টাইলের জন্য একে গলায়
ঝোলানো যায়, এটি দিয়ে শীত মানানো
কোনভাবেই সম্ভব হবেনা। মতিন সাহেবের
চেহারার হাবভাব দেখেই আমেনা আবার মাফলার
সেলাই করা শুরু করলেন।
.
তখন ছেলে মামুন ঘরে প্রবেশ করলো। সবার
প্রথমে তার নজর পড়লো বাবার নতুন
সোয়েটারের দিকে। বাবাকে বলল,
.
- আপনি এইবার নতুন সোয়েটার কিনলেন,
আমাকে কিনে দিবেন না?
-- গতবছর না জ্যাকেট কিনে দিলাম!
- ওইটা পুরনো হয়ে গেছে। বন্ধুরা সব নতুন
নতুন জ্যাকেট কিনছে। ওদের দেখলেই আমার
লজ্জা লাগে। মার্কেটে একটা নতুন মডেলের
জ্যাকেট দেখে এসেছি। ওইটা কিনে দেন
আমাকে।
-- দাম কত??
- বেশি না। ৩,২০০ টাকা।
.
মতিন সাহেব চুপ করে রইলেন। মামুন চলে গেল।
কিছুক্ষণ পড়ে আমেনা বলল,
.
- ছেলে শখ করেছে। কিনে দেন।
.
মতিন সাহেব কিছু বললেন না, শুধু দীর্ঘশ্বাস
ছাড়লেন। আমেনাও আর কিছু বলল না, কারণ তিনি এই
দীর্ঘশ্বাসের মর্ম জানেন।
.
(পাচঁ)
.
মামুন আজ ব্যাপক খুশি। কারণ বন্ধুরা ওর মাফলারের
প্রশংসা করেছে। প্রতি বছর নতুন নতুন না কিনলে
কি চলে! গতবছর যেই মাফলার আর জ্যাকেট
পড়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড করেছে
এইবার সেগুলো পড়ে আপলোড দিলে ইজ্জত
চলে যাবে। পাবলিক ফকির ভাববে। বাবাকে বলা
হয়ে গেছে। তিনি অবশ্যই কিনে দিবেন। বাবার
কাছে চেয়েছে কিন্তু তিনি দেননি এমন কখনো
হয়নি।
.
আসলে জ্যাকেটের দাম ২,২০০ টাকা। মামুন এক
হাজার বেশি চেয়েছে, কারণ বন্ধুদের সাথে
মিলে আগামীকাল শীতের পার্টি দিবে। বাবা কাল
টাকাটা দিলেই হয়। নতুন জ্যাকেট পড়ে পার্টিতে
গেলে ভাবই হবে অন্যরকম।
.
(ছয়)
.
- একটা কথা বলবো মতিন সাহেব। যদি কিছু মনে না
করেন।
.
কথাটা বললেন মতিন সাহেবের বস শাহীন সাহেব।
মতিন সাহেব বললেন,
.
- জ্বী স্যার বলেন।
-- আপনার কি শীত করেনা??
- স্যার, আমার শার্টের নিচে সোয়েটার আছে
আর গলায় মাফলারও আছে। আমার শীতও কম
লাগে।
-- এত শীতে এগুলো কিছুই না। আমার একটি
পুরনো কোট আছে। আপনাকে দিবো, আপনি
পড়বেন? যদি কিছু মনে না করেন।
- আপনি দিলে অবশ্যই নিবো। কিন্তু এই চাকরি
করে কোট পড়লে মানানসই লাগে না।
-- কথাটা আপনি খারাপও বলেননি। আচ্ছা, আপনি এই
টাকাটা রাখেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আপনাকে খুবই
পছন্দ করি এইজন্য দিলাম। কিছু মনে নিবেন না।
- না স্যার। অনেক ধন্যবাদ।
.
বসের কাছ থেকে ৫০০ টাকার নোটটি নিলেন
মতিন সাহেব। না নেয়ারও কোন কারণ ছিলো না।
আব্দুর রব তার কাছ থেকে কিছু টাকা পায়, দুই
মেয়ের বাড়িতে শীত উপলক্ষে জিনিশপত্র
পাঠিয়ে সামাজিকতা রক্ষা করতে হবে, ছেলের মন
রক্ষা করতে টাকা দিতে হবে। মতিন সাহেবের
টাকার দরকার, অনেক টাকা!
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now