বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আহ কী যে সুখ—আহাদ আদনান

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বাংলা ভাষার বই নিয়ে পৃথিবীর নানা দেশে মেলা হয়। মেলা চলে ভার্চ্যুয়াল জগতেও। কিন্তু প্রিয় ঢাকা শহরের কেন্দ্রে ভাষার মাসে যে বইমেলা, এর তুলনা নেই কোথাও। জীবনের প্রথম বই হাতে নিয়ে নবীন লেখকের পৃথিবীর প্রশস্ততম হাসি, মোড়ক উন্মোচনের উত্তেজনা, নতুন বইয়ের কাঁচা গন্ধ, আহ কী যে সুখ এই প্রাণের মেলায়। বছরের সবচেয়ে মিষ্টি জলবায়ুতে যখন হেঁটে বেড়াই মেলার স্টলে স্টলে, কখন যেন পায়ে মেখে যায় ধুলা। পরিষ্কার জুতোর ওপর ধূসর আস্তর পড়ে। যাঁরা অনলাইনেই পড়ার কাজটা চালিয়ে দেন, বইয়ের সঙ্গে নেই যোগাযোগ, তাঁরা হয়তো ভাবছেন এই ধুলা মানে নোংরা ময়লা। এ জন্যই তো মেলায় যাই না। আমরা বলি, এই ধুলা সোনার মতো। যে মেলায় এই বাংলার ধুলা পায়ে লাগে না, সেটা কোনো মেলাই না। এই ধুলার একটা ভাষা আছে। এরা ডাকতে জানে। বইপ্রেমীরা এই ডাক শুনতে পারেন। তাই তাঁরা ছুটে আসেন প্রতি ফেব্রুয়ারিতে। এই ধুলা পাঠক, লেখকের পায়ে জড়িয়ে থাকে। এই ধুলা কাঁদতে জানে। এবারের ফেব্রুয়ারি কান্নায় ভাসবে সৈয়দ শামসুল হকের জন্য। এর আগে কেঁদেছিল হুমায়ূন আহমেদ, আবদুল হোসেন, শামসুর রাহমানের জন্য। এই ধুলাকে আবার আনন্দে উদ্বেলিত করবেন আল মাহমুদ, জাফর ইকবাল, নির্মলেন্দু গুণ, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক এবং আরও অনেকে। প্রতিবছরের মতো এই ধুলা জন্ম দেবে আরও কত কবি, সাহিত্যিকের। এই ধুলা তৈরি করবে ইতিহাস। এই ধুলার একটা গান আছে, সুর আছে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। এই সুর ‘আমি কি ভুলিতে পারি’? না, আমরা পারি না। কোনো বাঙালি পারে না। ঢাকার ধুলাতে ধুলাতে যে রক্ত মিশে থাকার গল্প, আমরা সেই গল্প ছড়িয়ে দিই সারা বাংলায়, সারা পৃথিবীতে। প্রত্যন্ত কোনো পাহাড়ি অঞ্চলে তাই যে শিশু তার মাতৃভাষায় পড়তে চায়, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, এই বইমেলার ধুলা তাকেও আমন্ত্রণ জানায়। এই আমন্ত্রণ মায়ের ভাষাকে টিকিয়ে রাখার আনন্দযজ্ঞের। একুশের বইমেলার ধুলার একটা শক্তি আছে। প্রবল বিশ্বায়ন, ঝাচকচকে আধুনিকতা, ব্যস্ত নাগরিকতার ভিড়ে কেউ যখন হেঁটে বেড়ায় এই বইমেলায়, ধুলায় ধুলায় শুদ্ধ করে নিজেকে, গন্ধ শুঁকে নতুন কেনা বইয়ের, তখন মনের অজান্তেই উচ্চারণ করে, তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আহ কী যে সুখ—আহাদ আদনান

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now