বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আফরিনের বিয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "আফরিনের বিয়ে" . এই মূহুর্তে আমি একটি বিয়ের কার্ড দেখছি- বার বার দেখছি কোথাও কোন ভুল আছে কি না? না কোথাও কোন ভুল নেই।পাত্রীর নাম,বাবার নাম,ঠিকানা সব ঠিক আছে।সবচেয়ে নির্ভুল পাত্রীর ছবিটা! ছবিটা আর কারো নয়,যার সাথে বিগত ৩ টা বছর সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে আসছি... আমার আফরিন, আমার অস্তিত্ব, আমার ভালবাসা!!! আফরিনের এই ব্যাপারে আমাকে কিছু না বলা আমাকে কষ্টের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।এই একটু আগেই তার সাথে কথা বললাম। পাত্র কে আমি চিনি।আমার বন্ধু হাবিবের বড় ভাই,বিদেশে সেটেলড্। কার্ডটা হাবিব আমাকে পাঠিয়েছে। যাই হোক আফরিন কেন আমাকে এই ব্যাপারে বলল না? কোন সমস্যা? না অন্য কিছু?আফরিনকে আবার ফোন দিলাম... -কি আবার কেন ফোন দিছ?একটু আগে না কথা বললাম? -না মানে তুমি কি কিছু বলতে চাও আফরিন? -কৈ না তো,বলার থাকলে তো আগেই বলতাম।কেন বলত? -না কিছু না,রাখছি। -ওকে। বুঝতে পারছি না কি করব?সব ঠিক ঠাক অথছ পাত্রী জানবে না এটা কি করে হয়? না আফরিন লুকাচ্ছে? এমন তো হওয়ার কথা না। জ্ঞানশুন্য হয়ে পরছি।নিজেকে সামলাব,না এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব? বৃষ্টিকে ফোন দিলাম...আফরিনের বান্ধবী। -হা শরীফ ভাইয়া,কেমন আছেন? -বৃষ্টি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবে?আমি জানি তুমি মিথ্যা বল না তাই তোমাকেই জ্বিগেস করছি প্লিজ..। -আরে অবশ্যই বলব,কি হয়েছে বলুন? -তুমি আফরিনের বিয়ের ব্যাপারে কিছু জান? -হা,কিছুদিন আগে আফরিন আমাকে তার বিয়ের ব্যাপারে বলেছিল যে তার বিয়ে নাকি ঠিক হয়েছে।পাত্র বিদেশে সেটেলড। আর সত্যি বলতে কাওকে জানাতেও নিষেদ করেছে,বিশেষ করে আপনাকে। -ও আচ্ছা! -আমি সরি ভাইয়া,আমি আপনাকে বলেছি এটা আফরিন জানতে পারলে আমাদের মাঝে সমস্যা হতে পারে তো বুঝতেই পারছেন..। -তুমি চিন্তা কর না।আমি কাওকে কিছু বলব না,ধন্যবাদ। আমার হাতটা কাঁপছে।ফোনের লাইন কাটতে গিয়ে পরিচিত বাটন টা খুঁজে পাচ্ছিলাম না! আমার হাতে আমার প্রিয় মানুষটাকে হারাবার দলিল তার সাথে প্রিয় মানুষটার লুকুচুরি,এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে? এতদিনের সম্পর্কের মানে কি দাড়াল? আফরিনের কাছে নিজের অবস্থান কতটা নিচে ভাবতেই কষ্টের ঝড় বয়ে যায় মনে।অথচ সব সময় চেষ্টা করি সম্পর্কের কোথাও যেন কিছু কমতির না থাকে। আমি আফরিনের সাথে কখনো কোন বিষয়ে ঝগড়া করি না।সবাই বলে ঝগড়া করলে নাকি সম্পর্ক মুধুর হয়।কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি না।ঝগড়া তারাই করে যাদের সম্পর্ক মধুর না,যাদের সম্পর্কে দুরুত্ব আছে। আমি সামান্য ঝগড়া করে আফরিনের কাছ থেকে দুরে থাকতে চাই না,এতটুকু সময় নষ্ট করতে চাই না তাই ঝগড়া করব কেন? তাছারা আমাদের মাঝে এমনিতেই ঝগড়া হয় না,কারন ভুল যেই করুক আমিই আগে সরি বলি।ভালবাসি যে তাকে অন্নেক.. । সেই আফরিন এমনটা করতে পারল? বিয়ের আর এক সপ্তাহ বাকি। বিয়েটা হচ্ছে গ্রামে। পৃথিবীটা খুব ছোট, আফরিন হয়ত জানেই না। আমার সৌভাগ্য?না আফরিনের দূর্ভাগ্য লুকুচুরিটা জেনে ফেলা? ফোনে আফরিন এখনো আমাকে স্বপ্ন দেখায়, ভালবাসার স্বপ্ন... ঘড় বাধার স্বপ্ন। বায়না ধরে। সুন্দর সুন্দর রোমান্টিক কথা বলে- বিয়ের পর আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে, সপ্তাহে একদিন আমাকে রান্না করতে হবে, তাকে ঘুড়তে নিয়ে যেতে হবে, বাবুদের খাইয়ে দিতে হবে..। তার এইসব কথা শুনে আমি আশ্চর্য হই! একটা মানুষ কত সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে? কত সাবলীল ভাবে কথা গুলো বলে? কোথাও একটু বাঁধে না? মনে হয় কত সুন্দর আমাদের সম্পর্ক!!! আমি হাসি, হাসির সাথে কখনো কখনো দুই-এক ফোটা চোখের জল এসে মিলিত হয়। কত সুন্দর তার অভিনয়!! বিয়ের আর কয়েকদিন বাকি। আমি দিন গুনছি আর আফরিনের অভিনয় দেখে যাচ্ছি... কি করে সে? তার সাথে একবার দেখা করা দরকার...। ফোন দিলাম- -হা বল..।(আফরিন) -আফরিন আমার সাথে একটু দেখা করবে? -আচ্ছা,কবে? -কাল সেইম প্লেস..। -আচ্ছা, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে বলার। -ওকে তাহলে দেখা হচ্ছে,রাখলাম। আমার সাথে কি কথা বলবে?তার মানে কি বিয়ের ব্যাপারে কিছু? বিদায় নিবে? বলবে ক্ষমা করে দিও আমাকে... বিশ্বাস কর আমার করার কিছু ছিল না!! এরকম কিছু?? সবকিছু কত সহজ তাই না? অপেক্ষা করছি বসে বসে।আজকের অপেক্ষা করা অন্যদিনের অপেক্ষা করার মত নয়। আজকে কষ্ট আর অভিমান নিয়ে বসে আছি।পরিচিত জায়গা,বাদামওয়াল ,ফুচকাওয়ালা সবাই ঠিক আছে।শুধু আমার অনুভূতি গুলো ঠিক নেই! আফরিন আসছে... আমি প্রস্তুতি নিচ্চি তার মুখ থেকে কঠিন কিছু শোনার। -কি ব্যাপার?তুমি মন খারাপ করে বসে আছ কেন? -কৈ নাতো,কেমন আছ আফরিন? -ভালো,অন্নেক ভালো..। আফরিন মুচকি হাসছে,তার চোখ দুটি চকচক করছে।খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে। আমার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। চোখ ভিজে আসছে..। দীর্ঘশ্বাস টা লুকাতে উঠে একটু পায়চারি করা শুর করলাম... -কি হল?(আফরিন) -না কিছু না,এমনি আর কি। -তাহলে পায়চারি করছ কেন?বস। -হা,তুমি কি বলবে বলেছিলে? -না,আসলে আমি সপ্তাহখানিকের জন্য গ্রামে যাচ্ছি।হয়ত নেট সমস্যা হতে পারে,তাই তুমি যেন কোন চিন্তা না কর। -এটাই?আর কিছু না? -নাহ,এটাই। আমি আবারো ধাক্কা খেলাম!এই যাওয়াতেই তার বিয়ে হবে।আমার প্রিয় মানুষটা অন্য কারো হয়ে যাবে! অথচ আফরিনের চেহারায় তার বিন্দুমাত্র বহিঃপ্রকাশ নেই! আজব!সে হাসছে!! আমার ভিতরটা জ্বলে যাচ্ছে।কষ্ট পাচ্ছি ভীষন।তার ভালবাসায় কি কষ্ট নেই? আমি আফরিনকে জড়িয়ে ধরলাম.. -আরে কি হল?হঠাৎ জড়িয়ে ধরলে যে? -আমি মনে হয় তোমাকে ঠিকভাবে ভালবাসতে পারছি না।কিন্তু বিশ্বাস কর আমি চেষ্টা করছি অনেক।আমি অন্নেক ভালবাসবা তোমায়,দেখে নিও তুমি l।আগের চেয়ে আরো অনেক বেশী। আমি কাঁদছিলাম।ধরে রাখতে পারিনি নিজেকে আর। -আরে তুমি কাঁদছ কেন?কে বলেছে ভালবাসতে পার না?আমি জানি তুমি আমাকে কত্ব ভালবাস। -তবে তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে নাতো আফরিন? বল...? -না যাব না।এইবার ছাড়...আর কেন আসতে বলেছ? আমার ফিরতে হবে..। -তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করছিল তাই। -ওহ,দেখা হয়েছে?আমি এবার যাই? -চল আমি তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি.. আমরা দুইজন হাঁটছি,হাত ধরে। আমি আফরিনকে দেখছি। আর হয়ত এই হাতদুটো ধরার সৌভাগ্য হবে না আমার।আর হয়ত হাঁটা হবে না একসাথে,পাশাপাশি। ফিরে এসে একবার ভাবলাম বিয়েতে যাব না।কিন্তু মনটা মানতে চায় নি। শেষ বারের জন্য হলেও তাকে দেখতে আমাকে যেতেই হবে..।আমি শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত দেখতে চাই,যদি আফরিন আমার কথাটা একটু ভাবে... আজকে বিয়ে- গতকালই আমি এসেছি।রাতে কি করেছি,কোথায় ছিলাম সব অস্পষ্ট। একটা খারাপ স্বপ্ন, এই স্বপ্ন আমি দেখতে চাই না, আমি আর ঘুমাতে চাই না.. স্বপ্নের শেষ হোক ঘুম ভেঙ্গে। চারপাশে খুশির আমেজ,হৈহুল্লোর। অথচ আমি একজন ব্যাক্তি প্রানহীন। আমি সব দেখছি,আর আমার ভিতরে হাহাকার বাড়ছে,খুশি নেই। আমি ইচ্ছা করে এখানে কষ্ট কুড়াতে এসছি।হয়ত আমার ভালবাসার শেষ কিছু সম্ভল। বরযাত্রীর সাথে কনের এখানে এসেছি... সাথে একটা ছোট্ট গিফট্ বক্স।যে বক্সের গায়ে সুন্দর করে লেখা-"শুধুমাত্র আফরিনের জন্য" নিচে আমার নাম। সবাই খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত। হঠাৎ বৃষ্টির চোখে চোখ পড়ল। অবাক আর জ্বিগ্গাসু দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল! অনেক চিন্তিত মনে হচ্ছে তাকে। আমার উপস্থিতি হয়ত সে আশা করেনি। আমি তাকে ইশারায় দুশ্চিন্তা মুক্ত করলাম। খাওয়া পর্ব শেষে বর আর কনে কে সবার সামনে আনা হল।আড়াল থেকে আমি তাদের দেখছি। বধুবেশে আমি আফরিনকে এই প্রথম দেখলাম। বেনাড়শী,অলংকার আর মাথার টিকলি,তার ঘোমটা...। অপরুপ তার সৌন্দর্য! তার এই সাঁজ দেখে অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।কেনই বা পরবে না?সাঁজটা যে আমার জন্য নয়,অন্য কারো জন্য। সবাই হাসি তামাশা করছে আর আমি আমার চোখের জল লুকাতে ব্যাস্ত!!! নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলছি।কি করা উচিৎ কিছুই বুঝতে পারছি না।ছটফট করছি।বুকের ধুকধুকানি টা বেড়েই চলছে।কষ্ট পাচ্ছি তবুও কেন যেন তাকে দেখতে ভালো লাগছে। আশ্চর্য এক অনুভূতি! আফরিন হাসছে,হাসিতে তাকে আরো সুন্দর দেখাচ্ছে।তাকে দেখে মনেই হয় সে খুব খুশি তার বিয়েতে।মনেই হবে না যে এই মেয়েটার সাথে কারো একটা সুন্দর সম্পর্ক ছিল।একটা মানুষ এত সহজে কিভাবে সবকিছু লুকাতে পারে? হঠাৎ আফরিন আমাকে দেখে ফেলল!! ভয় আর বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। সম্পর্কের আগে আমি আফরিনের চোখের প্রেমে পরেছিলাম। সে চোখ দেখে মনে হয়েছিল সে আর যাই করুক কাওকে কষ্ট দিতে পারবে না! তাকে ভালবাসা যায়...। সেই চেনা চোখ এখন অন্য কথা বলে.. আমি বুঝতে পারি, বুঝতে পারি সে চোখ আমাকে বলছে- "তুমি এখানে কেন? দয়া করে এমন কিছু করনা যেটা আমার জন্য খারাপ কিছু বয়ে আনে!!" সে ভয় পাচ্ছে আমাকে! তার চোখ বলছে আমি তার বিরক্তির কারন।বিব্রতবোদ করছে সে..। আমি বার বার আমার চোখে তাকে বুঝাতে চেষ্টা করছি যে-তুমি শুধু মুখে একবার বলে দিতে যে-তুমি আমাকে চাও না, তুমি আমাকে আর ভালবাস না! আমি নিজেই হারিয়ে যেতাম... তবুও এভাবে আমাকে কষ্ট দিলে কেন? এভাবে আমাকে নিয়ে খেললে কেন? তার এই বিরক্তবোধ আর লুকুচুরি দেখে নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিলাম- কেন তুই বেহায়ার মত তার পিছনে লেগে আছিস? আমি আফরিন এবং তার বরের দিকে হাত ইশারা করে বলে দিলাম যে- তোমাদের দারুন মানিয়েছে,আর দুই হাত আকাশের দিকে ইশারা করে বললাম যে তোমাদের জন্য অনেক দোয়া রইল। চোখটা মুছে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে পিছু ফিরে হাঁটা শুরু করলাম।আমি চলে যাচ্ছি... এখানে থাকলে হয়ত যে কোন সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলতে পারি। কে বলেছে কেও কাওকে কষ্ট দিয়ে সুখে থাকতে পারে না? কেও যদি কারো কাছ থেকে কষ্ট পেয়েও তার জন্য প্রার্থনা করে তবে সে কি সুখি হবে না? শুনেছি অতি কষ্টে নাকি মানুষের মন পবিত্র হয়ে যায়.. তবে আমি তো পবিত্র মন থেকে প্রার্থনা করেছি,আমার ডাক খোদা অবশ্যই শুনবেন। গিফট্ বক্সটা সে যদি কোন দিন খুলে তবে সেখানে একটা ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচের হৃদয় আর এক টুকরু চিরকুট পাবে। যে চিরকুটে লেখা আছে-- "ভালবাসার শেষ নেই কখনো। একদিন আমাকে ভালবেসেছিলে, এখন অন্য কাওকে... শেষে আমি এতটুকুই বলতে চাই- অন্নেক কষ্ট দিয়েছিস রে পাগলি, তবুও তোর জন্য-ই প্রার্থনা করি... সুখি হ.. আর অন্নেক ভালো থাকিস্ ..." আচ্ছা ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচের হৃদয়ের মর্ম টা কি সে বুঝতে পারবে? হয়ত না.....।।। লেখা-Nazrul Islam Shorif(অর্থহীন আমি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আফরিনের বিয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now