বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনিকেত! এই অনিকেত!
ওঠো তাড়াতাড়ি| ধরফরিয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখি
অহনা আমার উপর ঝুকে আছে, তার কালো চুলগুলো
ফ্যানের বাতাসে আমার নাকে-মুখে বাড়ি খাচ্ছে|
অনেকটা উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন করলাম
- কি হইছে?
- বিরাট এক কান্ড ঘটছে।
- কি হইছে একটু ঝেড়ে কাশো। তোমার কাছে সাধারণ
জিনিসওতো বিরাট কিছু।
- কিছুদিন আগে তুমি যে গোলাপের গাছটা এনেছিলে
সেটাতে ফুল ফুটেছে| তিনটা ফুল| একটা পুরো ফুটছে আর
দুটা অর্ধেক|
- এখন কটা বাজে?
- সাড়ে পাঁচটার মত হবে,কেন?
- কেনো মানে!!! যাও এখান থেকে!!
প্রচন্ড ধমকের স্বরেই বললাম....অহনা চলে গেলো
অভিমান করে|
.
.
আজ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি। কই একটু আরামে
ঘুমোবো তা না সকাল সাড়ে পাঁচটায় ঘুম ভাঙিয়ে দিলো|
মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেছে। গোলাপ ফুলের নিকুচি
করি। আমি পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম ঘুমানোর জন্য, কিন্তু
ঘুম আসছেনা| মনের ভিতর খচখচানি শুরু হয়ে গেছে| গাছে
ফুল ফুটবেই, তাই বলে এত মাতামাতির কি আছে
বুঝিনা..... ধুর! এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা|
সবকিছুতেই ওর বাড়াবাড়ি। সাধারণ জিনিস নিয়েও
তুলকালাম কান্ড করতে উস্তাদ। মা-বাবার পছন্দে ওর
সাথে বিয়ের মাত্র ছমাস হলো। এরমধ্যেই অহনা সবার খুব
প্রিয় হয়ে গেছে| ছোট বোন, মা-বাবা সবাই ওর একনিষ্ঠ
ভক্তই বলা চলে| মাঝে মাঝে হিংসা হয়, আমার থেকে
আমার বউয়ের প্রতি তাদের টান দেখে। অস্থির
পাগলাটে প্রকৃতির একটা মেয়ে| অনার্স পাশ করে
ফেলেছে অথচ কিশোরী টাইপ ছাপটা স্পষ্ট বুঝা যায়|
এরকম একটা মেয়ের কাছে গোলাপ ফোটার মত ঘটনা
বিরাট কান্ড হতেই পারে|
.
.
বিয়ের কিছুদিন পরের ঘটনা......
রাত দুটোর মত বাজে| হঠাত্ ঘুম ভেঙ্গে গেলো, দেখি বৌ
বিছানায় নাই|
গেলো কই? বারান্দাতেও নাই ড্রয়িংরুমেও নাই। খুঁজতে
খুঁজতে মহারাণীকে আবিষ্কার করলাম ছাদে| বৃষ্টিতে
ভিজতেছে আর গান গাইতেছে| অবাক হয়ে তাকিয়ে
আছি আমি...কেমনে কি??!! রাত দু টা বাজে এমন সময়
কোন পাগলে বৃষ্টিতে ভিজবে!
.
- ঐ, সমস্যা কি তোমার??
- ওহ, তুমি? কখন আসলা? আর সমস্যা নেইতো কোনো।
- আমি মাত্রই আসছি কিন্তু এতরাতে বৃষ্টিতে ভিজছো
ঠান্ডা লেগে যাবেতো|
- নাহ লাগবেনা|
- লাগতেওতো পারে। চলে আসো।
- উহু লাগবেনা, এই একটা রিকোয়েস্ট করবো, রাখবে?
- বলো?
- যদি রাখো তারপর বলবো|
- আচ্ছা বলো যথাসাধ্য রাখার চেষ্টা করবো|
- আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে| প্লিজ নিয়ে আসোনা।
- এতরাতে! সব দোকানতো বন্ধ|
- জ্বী না স্যার, মোড়ের একটা দোকান এখনো খোলা,
এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে|
- কিন্তু....
- চলো না যাই প্লিইইইজ না করো না.....
- চলো যাই মানে! তুমিও যাবা নাকি?
- প্লিইইইজ.....
.
.
.
না করতে পারলাম না|
- যাও ছাতা নিয়ে আসো|
- উহু ভিজে ভিজে যাবো এবং তুমিও আমার সাথে ভিজে
ভিজে যাবা। একদিন ভিজলে কিচ্ছু হবেনা।
.
.
.
কি আর করা উপায় নেই। অগ্যতা রাজি হতে হলো|
আইসক্রিম হাতে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছি আমি আর
অহনা। অহনা আমার একটা হাত খুব শক্ত করে ধরে আছে|
তার অপর হাতে আইসক্রিম ধরা| ল্যামপোস্টের আলোয়
দেখতে পেলাম মায়াবতী মেয়েটার মুখ ছোট বাচ্চাদের
মত আনন্দে ঝলমল করছে| আমি কেমন যেন ঘোরলাগা
অনুভূতিতে ডুবে গেলাম। একজন কিশোরের প্রথম প্রেমের
মত সর্বগ্রাসী প্রেমে আমিও পড়লাম| কিন্তু বৃষ্টিতে
ভেজার ফলস্বরুপ আক্রান্ত হলাম প্রবল জ্বরে| সেবা
শুশ্রুষার চুড়ান্ত করলো অহনা। নিজ হাতে খাইয়ে দেয়া,
ঔষধ খাওয়ানো, মাথায় পানি ঢালা, গা মুছে দেয়া, সব|
একমুহুর্তের জন্যও আমার পাশ থেকে নড়েনি| তৃতীয় দিন
একটু ধাতস্থ হলাম| অহনার সাহায্যে বিছানায় ভর দিয়ে
আধশোয়া হলাম। ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে
ফ্যালফ্যাল করে। কিন্তু এ কোন অহনা!! মুখে বিশ্বজয়ের
হাসি কিন্তু চোখের নিচে কালো দাগটাগ পড়ে কেমন
যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে মায়বী মুখখানা| বুকের
ভেতরটায় মোচড় দিয়ে উঠলো| হাতটি ধরে বললাম,
ভালোবাসো খুব??? ও কোনো উত্তর দিলোনা, আচমকা
আমায় জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো| আরে পাগলী
কাঁদছো কেন? ভালোবাসিতো বৌটারে, অনেক বেশি |
তারজন্য আরো হাজারটা দিন বৃষ্টিতে ভিজতে পারি।
দেখো, এরপর থেকে আর কখনো জ্বর আসবেনা। একথা
বলার সাথে সাথে ওর কান্না আরোও কয়েকগুণ বেড়ে
গেলো| আমি শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম অহনাকে। ও
কান্না করেই চলেছে..........
.
.
ওর এসব পাগলামো হুটহাট বায়না ধরা সব সয়ে গেছে|
প্রথম প্রথম বিরক্ত লাগতো। এখন আর বিরক্ত লাগেনা|
বরং ওর বায়না ধরা আর পাগলামো না দেখতে পেলেই
বিরক্ত লাগে| তাইতো মাঝেমাঝেই রাগিয়ে দেই
পাগলিটাকে| রাগ করলে একা একাই কথা বলে গাল
ভারী করে। আমি আড়াল থেকে দেখি আর মনে মনে
হাসি|
.
.
.
যাইহোক....
আজ আর ঘুম হবেনা|ভিতরে ভিতরে অপরাধবোধ জেগে
ওঠছে| অহনাকে এভাবে না বললেও পারতাম| অভিমানী
মেয়েটা নির্ঘাত অভিমান করে চোখ থেকে ঝরণা
জড়াচ্ছে| আমি জানি ওকে এখন কোথায় পাওয়া যাবে|
টিশার্টটা গায়ে চাপিয়ে সোজা বাসা থেকে বেরিয়ে
দোকানে চলে আসলাম। খুব সকালে কিন্ডারগার্টেনের
ক্লাস থাকায় বেশ কয়েকটা দোকান খোলা থাকে এসময়।
.
.
আমার হাতে এখন ওর পছন্দের আইসক্রিম। যা
ভেবেছিলাম তাই হলো, ছাদের পশ্চিম কোণটাতে
রেলিংয়ে হাত দিয়ে মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে আছে
পাগলীটা| চোখ মুখ ফুলে ঢোল হয়ে আছে। নিশ্চিত
কান্না করে করে এই অবস্থা করেছে। একটা মানুষ
কিভাবে এত কাঁদতে পারে আমার মাথায় আসেনা|
প্যাকেটটা খুলে আইসক্রিমটা ওর দিকে বাড়িয়ে
দিলাম| অহনা আইসক্রিমটা হাতে নিয়ে আগের মতই
দাঁড়িয়ে আছে| আর আমি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি
অহনার দিকে, সকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় তার খোলা চুল
উড়ছে, চোখ ভর্তি জল, ঠোটের কোনায় মৃদু একটা হাসির
রেখা জেগে ওঠছে ধীরে ধীরে। অহনার হাতে ধরা
আইসক্রিমটা এরই মধ্যে গলতে শুরু করেছে সেই সাথে
গলছে তার টুকরো অভিমান। সাথে পাল্লা দিয়ে বিস্তৃত
হচ্ছে মৃদু হাসির রেখাটা......
-অন্ধকারাচ্ছন্ন হিমু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
৮০ বছরের প্রেম.............
আমার মায়ের দাদা হঠাৎ করে বেড়াতে এলো। মায়ের দাদা বলে কথা! বয়স মাত্র ৮০-এর কাছাকাছি।
তবে এখনো যথেষ্ট জোর আছে শরীরে। মুখে দাঁতের নামগন্ধ নেই। নকল দাঁত ব্যবহার করে। জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলে। তবে চেহারা সুন্দর। তার একটা ভালো অভ্যাস আছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জগিং করে। ভাবা যায়! ৮০ বছরের বুড়ো, কিন্তু জগিংয়ে এক্সপার্ট।
একদিন ভোরে জগিং করার জন্য আমাকে সঙ্গে নিল।
বেশ কিছুক্ষণ জগিং হলো। হঠাৎ দেখলাম, এক বুড়ি লাঠি নিয়ে ঠকঠক করতে করতে এগিয়ে আসছে। বুড়ো তাকে দেখে পুরো চেঞ্জ হয়ে গেল। বাঁকা কোমরটা সোজা করে দাঁড়াল। পকেট থেকে ৫০ টাকা বের করে আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘হোটেল থেকে নাশতা করে আয়। ’
আমার মনে সন্দেহ জাগল। নাশতা করতে না গিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে বুড়োর কাণ্ড দেখার মতলব আঁটলাম। বুড়ি কাছে আসতেই বুড়ো রোমান্টিক স্টাইলে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল—
৮০ বছর করেছি অপেক্ষা আমি,
তুমি আসবে বলে ওগো সুন্দরী...
বলবে কি গো কিছু আমায়?
বাসব ভালো তোমায় আমি সারা জীবন ভরি।
কবিতা শুনে আমি অজ্ঞান হতে হতে সামলে নিলাম। শালার বুড়ো কয় কী? মরার মতো অবস্থা, এখনো নাকি সারা জীবন ভালো বাসবে! বুড়ো বয়সে প্রেম জেগেছে!
হঠাৎ ‘ঠাস’ করে একটা শব্দ হলো। বুড়ি চলে যাচ্ছে। আমি আড়াল থেকে এক লাফে কাছে আসতেই দেখলাম, বুড়ো তার নকল দাঁতের পাটিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ স্পষ্ট। বুড়োর পরিণতি দেখে হাসি এলেও, ওই পরিবেশে হাসার সাহস পেলাম না। তবে বুড়ো হয়তো আমার পরিস্থিতি বুঝতে পারল। ধমক দিয়ে বলল, ‘হাসার কিছু নেই। যেখানে ফুল সেখানে কাঁটা, যেখানে চাঁদ সেখানে কলঙ্ক, যেখানে প্রেম সেখানে ছেঁকা। এরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চড় খাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে মনে রাখিস, বেলের শক্ত খোলসের মধ্যেই কিন্তু থাকে সুমিষ্ট খাদ্যোপাদান। ’
কথাটা শুনে আবার হাসি পেল, কিন্তু চেপে গেলাম। তবে একটা ব্যাপার স্বীকার করতেই হবে, বুড়ির হাতে জোর আছে বৈকি! নাহলে এক চড়ে দাঁত খসিয়ে দিতে পারত না। হোক নকল দাঁত, খসেছে তো।
বুড়ো এক হাতে দাঁত আর অন্য হাতে গাল ধরে বাড়ি ফিরল। দরজা দিয়ে ঢোকার সময় দারোয়ানকে দেখেই দাঁতগুলো মুখের ভেতরে চালান করে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার চেষ্টা করল।
রাতে আমি আর বুড়ো টিভি দেখছি। একটা হিন্দি সিনেমা চলছে। সিনেমায় একপর্যায়ে হিরোইন ভিলেনের গালে কষে চড় দিল। বুড়োর দিকে আমি একনজর তাকালাম। দেখলাম, সে-ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে চোখ পড়তেই বুড়ো চেঁচিয়ে উঠল, ‘কী সব আজেবাজে মুভি দেখিস! চ্যানেল পাল্টা। ’
আমি মাইন্ড করলাম না। বুঝলাম, সকালের জমানো কষ্ট এখন জেগে উঠেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বুড়ো পুরো পরিবেশটা বদলে দিল। প্রতিবাদী কণ্ঠে বলে উঠল, ‘একবারে না পারিলে দেখো শতবার। আমি আবার ওই বিদুষীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে যাব। ’
আমিও বুড়োকে সাপোর্ট দিলাম, ‘ঠিক বলেছ। কাল ভোরে আমরা আবার যাব। তবে এবার নকল দাঁতের পাটিটা বাসায় রেখে যেয়ো কিন্তু। ’
বুড়ো মুখ গম্ভীর করে বলল, ‘ইয়ার্কি হচ্ছে? প্রেম-ভালোবাসা ইয়ার্কির জিনিস না। ভয়কে দূর কর। তোরা যদি প্রেমে ভয় পাস, তবে চলবে কিভাবে?’
পরের দিন ভোরে আমি আর বুড়ো আবার জগিংয়ে বের হলাম। সময়মতো আজকেও লাঠি নিয়ে ঠকঠক করতে করতে বুড়ি এগিয়ে এলো। আমি বুড়োকে সুযোগ দিতে আবার আড়ালে চলে গেলাম। বুড়িটা বুড়োকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল; কিন্তু বুড়ো তা হতে দিল না। খপ করে হাত ধরে ফেলল। অমনি বুড়ি চেঁচিয়ে উঠল, ‘কে কোথায় আছিস, বাঁচা রে। ইভ টিজিং করছে। ’
বুড়ির চেঁচানো শুনে গ্রাম পুলিশের হাবিলদার ছুটে এলো, ‘কী হয়েছে, দাদি?’
বুড়ি বলল, ‘দেখ না, শালার বুড়ো প্রতিদিন আমাকে ইভ টিজিং করে। ’
শুনে গ্রাম পুলিশের হাবিলদার হি হি হেসে দিল। আমিও আড়াল থেকে বেরিয়ে হাসিতে যোগ দিলাম।
###Collected..