বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মুখে পানির ছিটে
পরতেই রায়হান ধরমর
করে উঠে বসে। তার
মাথাটা বেশ ভার হয়ে
আছে। চোখের পাতা
খুলেছে ঠিকই, কিন্তু
ঠিকমত কিছুই দেখতে
পাচ্ছে না। সে টের পেল
তার চোখ এক কালো
কাপড়ে শক্ত করে
বাঁধা। নড়েচড়ে বসার
চেষ্টা করল। তবে খুব
একটা নড়তে পারল না,
কারণ হাত-পাও দড়ি
দিয়ে শক্ত করে বাঁধা।
.
“লাট সাহেবের ঘুম
এতক্ষণে ভেঙ্গেছে
আপা” খুব গম্ভীর
একটা লোকের
কণ্ঠস্বর শুনতে পেল
রায়হান। এরপর
আরেকটা মেয়ের কণ্ঠ
শুনতে পেল সে, “চোখের
বাঁধনটা খুলে দাও ওর!”
কণ্ঠটা চিনতে পারল
রায়হান, এটা তো
নিতুর কণ্ঠ!! চোখের
বাঁধনটা খুলতেই একটা
ফিলামেন্ট বাতির
হালকা আলোর
ঝলকানি চোখে এসে
পরে রায়হানের। সে
চোখটা সাথে সাথে বন্ধ
করে ফেলে। এরপর মিট
মিট করে তাকানোর
চেষ্টা করতেই নিতুর
মুখটা দেখতে পায় সে।
ঠিক তার বিপরীত
দিকে বসে আছে। তার
মুখে এক চিলতে
হাসির রেখা, সেই
হাসিতে কি যেন একটা
আছে, অশুভ কিছু।
নিতু তার দিকে ঝুঁকে
বলে, “তো মিস্টার
রাজীব, কেমন
লাগছে?”
.
নিতুর মুখে রাজীব
নামটা শুনতেই তার
মাথাটা ঘুরে যায়। সে
মুখ ফুটে বলতে চায়,
“আমি রাজীব না,
রায়হান। কিন্তু তার
মুখ থেকে শুধু একটা
অস্ফুট শব্দ বের হয়ে
আসে, কারণ মুখটা টেপ
দিয়ে আটকানো। কিছু
বলার উপায় নেই।
~~~
দু সপ্তাহ আগের কথা,
রায়হান পাড়ার মোড়ে
বসে বন্ধুদের সাথে
আড্ডা দিচ্ছিল। এমন
সময় রাজীবের
ম্যাসেজ আসে,
রাজীবের বাসায় যেতে
বলছে। রাজীব,
রায়হানের সবচেয়ে
ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই
ছোটবেলা থেকে তাদের
বন্ধুত্ব। তবে রাজীব
বেচারা কোন ঝামেলায়
না পরলে রায়হানকে
বাসায় যেতে বলে না।
.
“নিশ্চয়ই কোন
ঝামেলা
পাকিয়েছিস?”,
রায়হান রাজীবকে
জিজ্ঞেস করে। দুজন
রাজীবের রুমে বসে
আছে। রাজীবের মা
একটু আগেই চা-নাস্তা
দিয়ে গেছেন, উনি চলে
যেতেই রায়হান আবার
জিজ্ঞেস করে,
- কিরে, কিছু বলছিস
না যে?
- দোস্ত, আমার একটা
ছোট কাজ করে দিবি?
- তোর কাজ? তাও
আবার ছোট?
- হ্যাঁ, তবে কাজটা
খুবই গোপনে করবি।
- এই ব্যাটা, এত
ভণিতা করছিস কেন?
কি হয়েছে খুলে বল!
- তুই তো জানিস আমি
গত ২-৩ মাস ধরে নিতু
নামের একটা মেয়ের
সাথে নিয়মিত কথা
বলি।
- হ্যাঁ, ভাল করেই
জানি। তো এতে সমস্যা
কি?
- সমস্যা হল আমাদের
সম্পর্কটা অনেক দূর
গড়িয়েছে, নিতু এখন
দেখা করতে চায়।
- এতে সমস্যা কি? যা,
দেখা কর।
- আরে সমস্যা তো
ওখানেই। এখন দেখা
করতে গিয়ে ভয়
লাগছে।
- এত ভয় লাগলে না
করে দে!!
- সম্ভব হবে না বন্ধু,
কথা দিয়ে ফেলেছি।
- তা এখন কি করতে
চাইছিস?
- আমি কাল সকাল
থেকেই ফোনটা অফ
রাখব। তুই ওর সাথে
দেখা করে বলবি আমি
অসুস্থ, তাই আসতে
পারিনি। এজন্য তোকে
পাঠিয়েছি।
- আজব!! এই কথাটা
তো তুই ফোনেই বলতে
পারিস?
- পারতাম, তবে তোকে
পাঠানোর পেছনে
আমার একটা উদ্দেশ্য
আছে।
- কি উদ্দেশ্য?
- নিতুকে আমি এর
আগে কখনও দেখি নি,
শুধু ফোনেই কথা
বলেছি। তুই গিয়ে দেখে
আয় ও দেখতে কেমন,
মানে সুন্দরী কি না!
- এটা কি বলছিস? তুই
মেয়েটার ফেইসবুক
একাউন্ট জানিস না?
- আরে ও মফঃস্বলের
মেয়ে, এসব নাকি
ব্যবহার করে না।
ঢাকায় ওর খালার
বাসায় বেড়াতে
এসেছে। আবার
পরশুদিনই চলে যাবে।
তাই কালই দেখা
করতে বলেছে।
- ঠিক আছে, আমি
যাব।
- থ্যাংকস দোস্ত।
- তা তোর নিতু ম্যাম
আসবেন কোথায়?
- মিরপুর চিড়িয়াখানার
বাইরে।
- আর জায়গা পেলি না?
তো ওকে আমি চিনব
কি করে?
- নিতু বলেছে ও নীল
ড্রেস পড়ে আসবে,
আর আমাকে কালো
পাঞ্জাবী পড়ে যেতে
বলেছে।
- ঠিক আছে বন্ধু।
.
রাজীবের বাসা থেকে
বের হতেই রায়হান
ঠিক করে, সে কালো
পাঞ্জাবী পড়েই নিতুর
সাথে দেখা করতে
যাবে। এতে করে
একদিক দিয়ে নিতুর
ওকে রাজীব ভেবে
কনফিউশন সৃষ্টি
হবে। পড়ে যখন সে
মেয়েটাকে বলবে যে সে
রাজীব নয়, তখন
মেয়েটা বোকা বনে
যাবে।
~~~
রাজীব বলেছিল
সকাল ১১ টার দিকে
দেখা করার কথা।
রায়হান সকাল সাড়ে
১০টার মাঝেই
চিড়িয়াখানার বাইরে
পৌঁছে গেল। ১১টা
বাজার কিছুক্ষণ পর
রায়হান তার পেছন
থেকে একটা সুন্দর
মেয়েলী কণ্ঠস্বর
শুনতে পায়, “অ্যাই
রাজীব!” কোনও মেয়ের
কণ্ঠ যে এত মধুর হতে
পারে সেটা কখনও
রায়হানের কল্পনাতেও
ছিল না! রায়হান ঘাড়
ঘুরিয়ে মেয়েটিকে
দেখে যেন একটা শক
খেল। কোন মেয়ে যে
এত সুন্দর হতে পারে
সেটা মনে হয় রায়হানে
চিন্তাধারাতেও নেই।
নীল রঙের সালোয়ার-
কামিজ, ওড়না, ঠোঁটে
হালকা লাল
লিপস্টিক, দুধে
আলতা গায়ের রং।
মেয়েটার চেহারাটা
যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ
হাতে গড়েছেন।
রায়হান কিছুটা
আমতা আমতা করে
বলে,
- জী, আপনি কি
আমাকে বলছেন?
- হ্যাঁ, তুমিই তো
রাজীব, তাইনা?
.
মেয়েটাকে দেখে
রায়হান নিমেষেই যেন
সবকিছু ভুলে গেল। এই
মুহূর্তে তার সামনে
দাড়িয়ে থাকা মেয়েটি
ছাড়া যেন জাগতিক
সব কিছুই মিথ্যে।
রায়হান তার বন্ধুর
সাথে প্রতারণা করে
নিতুকে অস্ফুট কণ্ঠে
বলে উঠল, “হ্যাঁ,
আমিই রাজীব!”
.
মেয়েটি একটা আলতো
হাসি হেসে বলল,
“আমি নিতু”। নিতুর
হাসি দেখে রায়হানের
গলা যেন শুকিয়ে কাঠ
হয়ে যেতে চাইছে। সে
কিছু বলার আগেই
নিতু হাত বাড়িয়ে ওর
হাতটা ধরল। এবার
যেন রায়হানের হাঁটুতে
কাঁপুনি ধরে গেল,
ঘামতে শুরু করে দিল
সে।
- কি ব্যাপার রাজীব?
তোমাকে কেমন যেন
অসুস্থ মনে হচ্ছে!
- না, আমি ঠিক আছি!
- আচ্ছা তোমার ফোন
নাম্বারটা অফ কেন?
সেই কখন থেকে ট্রাই
করে যাচ্ছিলাম।
- আর বল না, আমার
মোবাইলটা গতকাল
চুরি হয়ে গেছে।
আজকেই একটা নতুন
সিম কিনেছি।
- ও তাই? তাহলে
তোমার নতুন
নাম্বারটা দাও।
.
রায়হান নাম্বারটা
দিতেই নিতু সেটা ওর
মোবাইলে সেইভ করে
নিল। সে নিজের স্থির
কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই
অবাক হয়ে যাচ্ছে, কি
করে সে এত মিথ্যা
কথা বলছে তা ওর
কল্পনাতে কাজ করছে
না। তবে মিথ্যে
বললেও ওর এই ভেবে
ভাল লাগছে যে সে এত
সুন্দরী এক মেয়ের
সাথে সে এতটা
ঘনিষ্ঠভাবে
ঘোরাফেরা করতে
পারছে। রায়হান এক
মুহূর্তের জন্য
মেয়েটার মুখ থেকে
দৃষ্টি সরাতে পারছে
না। তার মনে কেবল
একটা কথাই আসছে,
“নিতু শুধুই আমার। ওর
জন্য শুধু রাজীব কেন,
সারা পৃথিবীর সাথে
প্রতারণা করতে
পারব।”
~~~
আজকের দিনটা
রায়হান কোনদিন
ভুলতে পারবে না।
নিতুকে নিয়ে সে
অনেকক্ষণ হাঁটল,
দুপুরে লাঞ্চ করল।
সারাটাক্ষণ নিতু ওর
হাতটা ধরে ছিল। কি
করে যে সময়টা দ্রুত
কেটে গেল সেটা ওর
কল্পনাতেও ছিল না।
বিকেলের দিকে নিতু
বলল,
- চল, এবার ফেরা যাক।
- এখনই? আরেকটু
থাকলে হয় না?
- ঈশ, আমাকে আমার
খালার বকুনি শোনাতে
চাও বুঝি?
- আরে না, ঠিক আছে
চল। তা তুমি কিভাবে
যাবে?
- খালার গাড়ি দিয়ে
দিয়েছিলেন আসার
সময়। চল তোমাকেও
নামিয়ে দেব যেখানে
নামতে চাও।
.
নিতু একটা ফোন
করতেই ড্রাইভার
গাড়ি নিয়ে এল। ওরা
ভেতরে গিয়ে বসতেই
ড্রাইভার একটা
প্যাকেট নিতুর দিকে
এগিয়ে দিয়ে বলল,
“আপা, আপনি না
বার্গার আনতে
বলেছিলেন? এই নিন।”
নিতু প্যাকেট থেকে
দুটো বার্গার বের
করল, একটা বার্গার
রায়হানের দিকে
এগিয়ে দিয়ে বলল,
“নাও, এটা খাও”।
রায়হান বার্গারটা
নিয়ে খেতে থাকল।
দুজনে ব্যাকসিটে গা
ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে
আছে। আবেশে
একসময় রায়হানের দু
চোখ যেন জুড়িয়ে
আসছিল। একসময় সে
ঘুমিয়ে পড়ল।
~~~
নিতু রায়হানের দিকে
ঝুঁকে একটা পৈশাচিক
হাসি দিয়ে বলল,
“আমরা এখন কোথায়
আছি জানো রাজীব?
আমরা এখন ঢাকা
থেকে অনেক দূরে। এটা
একটা পুরনো বাড়ি। এই
বাড়ির মাটির নিচের
কুঠুরিতে আমরা
আছি। আশে পাশের
কোথাও কোন
জনবসতি নেই।”
রায়হান কিছু একটা
বলতে যেয়েও ব্যর্থ
হল। ওর মুখের টেপের
বাধন এতটাই শক্ত
করে বাঁধা যে কিছু
বলতে যেয়ে উল্টো
মুখে ব্যথা লাগছে, শুধু
‘ও’ ‘আ’ ছাড়া কোন
শব্দই বের হচ্ছে না।
.
নিতু আবার বলে উঠল,
“আমি জানি তোমার
মনে হাজার প্রশ্ন
জাগছে। আরে একটু
সবুর কর, বলছি সবই।
আচ্ছা, তার আগে
একটু ভেবে দেখোতো
দুই বছর আগে ট্রেনে
ঘটা একটা দুর্ঘটনা
মনে করতে পার
কিনা?” রায়হান
অসহায়ের মত দুই
দিকে মাথা নাড়ায়।
.
“মনে পড়ছে না? এত
তাড়াতাড়িই ভুলে
গেলে? আড়াই বছর
আগে তুমি আর তোমার
দুই বন্ধু, রাশেদ এবং
অপু মিলে সিলেটে
যাচ্ছিলে ট্রেনে করে।
ট্রেন তখন মেঘনা
ব্রিজের উপর ছিল।
কোনও একটা বিষয়
নিয়ে তোমাদের তিন
বন্ধুর মাঝেই ঝগড়া
শুরু হয়, ঝগড়ার এক
পর্যায়ে তুমি আর অপু
মিলে ট্রেনের দরজা
দিয়ে ধাক্কা মেরে
রাশেদকে ট্রেন থেকে
ফেলে দাও। ব্রিজের
রেলিং এর ফাঁক দিয়ে
সে সরাসরি নদীতে
পরে যায়। রাশেদ
বেচারা সাঁতারও জানত
না। ডুবেই মারা যায় সে।
যারা যারা এই ঘটনা
দেখেছিল, তাদের
কেউই তোমাদের
চেহারা দেখতে পায় নি
বলে তোমাদের এই ঘৃণ্য
রূপ লুকিয়েই থাকে।”
.
এই পর্যন্ত বলে একটু
দম নিল নিতু। তারপর
সে আবার বলতে শুরু
করে, “রাশেদ বাসায়,
এমনকি কলেজেও
কাউকে কিছু না
জানিয়েই এই ট্রিপে
ঘুরতে বেরিয়েছিল।
আর সেই কারণে
পুলিশও কাউকে ট্রেস
করতে পারেনি। সেই
রাশেদ আমার কে ছিল
জানো......?” কথাটা শেষ
না করতে নিতুর দু চোখ
বেয়ে অশ্রুধারা নেমে
আসে, ফিলামেন্ট
বাতির অল্প
আলোতেও সেটা স্পষ্ট
দেখতে পায় রায়হান।
.
নিতু তার দু চোখ মুছে
আবার বলতে শুরু করে,
“রাশেদ আমার আপন
বড় ভাই। তুমি আর অপু
আমার ভাইয়ার খুনি।
তুমি হয়ত ভাবছ,
এতদিন পর কি করে
তোমার খোঁজ পেলাম?
সত্য কখনো চাপা
থাকেনা মিস্টার
রাজীব। আমি ১ বছর
আগে ভাইয়ার একটা
বই ঘাটতে ঘাটতে
একটা কাগজ খুঁজে পাই।
সেখানে সিলেটে
যাওয়ার সময় কি কি
নিতে হবে তার একটা
লিস্ট ছিল। সেই
লিস্টে লেখা তোমার
আর অপুর নামটাও
ছিল। সেখান থেকে
বুঝলাম তুমি আর অপু
দুজনই ভাইয়ার সাথে
ছিলে। এরপর ভাইয়ার
কিছু পরিচিত কলেজ
ফ্রেন্ডদের ধরলাম,
তাদের কাছ থেকে
তোমার আর অপুর
নম্বরটা পেলাম। ব্যাস!
এরপর অপুর সাথেও
তোমার মত করেই
প্রেমের অভিনয় শুরু
করি। তুমি খোঁজ নিলে
হয়ত জানতে পারতে যে
তিন মাস আগে অপুও
নিখোঁজ হয়ে
গিয়েছিল। চাইলে
দেখতে পার, তোমার
পাশেই একটা কংকাল
পড়ে আছে। ওটাই অপু।”
.
রায়হান ওর পাশের
কংকালটা দেখতে পায়।
সেটা দেখতেই ওর
মনের ভেতর একটা ভয়
গ্রাস করে। রাজীব যে
এমন একটা কাজ
করতে পারে সেটা ওর
কল্পনাতেও ছিল না।
কিন্তু সে কি করে
বলবে যে সে রাজীব
নয়, রায়হান!!ওর মুখ
তো টেপে আটকানো।
বন্ধুর সাথে করা
সামান্য প্রতারণার
ফলাফল যে এতটা
ভয়ংকর হবে, সেটা সে
স্বপ্নেও ভাবে নি।
.
নিতু আবার বলতে
থাকে, “আমি জানতাম
আইনের মাধ্যমে
তোমাদের কোন লঘু
শাস্তি দেয়া সম্ভব
ছিল না। তাই ভাবলাম
নিজেই শাস্তি দেব।
আসলে তোমরা
ছেলেরা সবই বোকা।
মেয়ে দেখলেই
তোমাদের চোয়াল ঝুলে
পড়ে। অপুকে প্রেমের
জালে ফাঁসাতে প্রায় ৬
মাস লেগেছিল। কিন্তু
তোমাকে তো মাত্র
কয়দিনেই পটিয়ে
ফেলেছি। ফোনে কথা
বলতে বলতেই আমার
প্রেমে পরে গেলে। দেখা
করার পরেতো পাগলই
হয়ে গেলে!
স্যান্ডউইচে যে ঘুমের
ওষুধ মেশানো থাকবে,
সেটা বোধহয় তুমি
ধারণাও করতে পার
নি।”
.
“আমার ইচ্ছা ছিল
তোমাদের দুজনকেই
নিজ হাতে খুন করব।
কিন্তু তোমাদের মেরে
আমি আমার হাত
নোংরা করতে চাই নি।
তাই অপুকে এখানে
যেভাবে ফেলে
গিয়েছিলাম,
তোমাকেও ঠিক
সেভাবেই রেখে যাব
রাজীব। এটাই তোমার
শাস্তি। এই বাড়িটাতে
ভূতের ভয়ে কেউ আসে
না। আর এই কুঠুরিতে
তো কেউ স্বপ্নেও
আসতে চাইবে না। তবে
ভাগ্য ভাল হলে কেউ
এসে তোমাকে বাঁচাতেও
পারে। তোমার পরিণতি
এখন তোমার ভাগ্যের
ওপর রাজীব।”
.
রায়হান প্রবলবেগে
নিজের হাত-পা
ছুড়াছুড়ি করতে
চেষ্টা করল। কিন্তু
এতে দড়ির বাঁধনগুলো
যেন আরও শক্তভাবে
এঁটে বসল। নিতু লাইট
নিভিয়ে দিয়ে
ড্রাইভারকে নিয়ে
কুঠুরির সিঁড়ি বেয়ে
উপরে উঠে গেল। বাইরে
গাড়ি দাড় করানোই
ছিল। একটু পরেই সেটা
স্টার্ট নেয়ার শব্দ
শোনা গেল। অসহায়
রায়হান একা বসে রইল
অন্ধকার কুঠুরিটার
ভেতর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
ভর্তি মদের গ্লাসটা গলায় উপুড় করে মুখ বিকৃত করে শেরিল শ্যারন বলল, ‘এই শালা নিশ্চয় আহমদ মুসা। মনে একটু ভয়-ভীতি নেই। কথা বলছে যেন এটা শ্বশুর বাড়ি। এরকম পাথরের মত নার্ভ তো আহমদ মুসা ছাড়া আর কারো নেই। শালাকে এইবার ফাইনাল ফাঁদে ফেলেছি। মৃত্যুর বাইরে তার মুক্তি নেই।’
থামল শেরিল শ্যারন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেরিল শ্যারন বর্তমানে ইহুদী গোয়েন্দা সংস্থা ইরগুন জাই লিউমি ও ওয়াল্ড ফ্রিডম আর্মি (WFA) দুয়েরই প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে, ডেট্রয়েটে। চরম সাম্প্রদায়িক হিসাবে তার বদনাম ছিল মার্কিন সেনাবাহিনীতে। বৈষম্যমূলক কিছু কাজের অপরাধেই তার চাকুরী যায় সেনাবাহিনী থেকে। চাকুরী যাবার পরেই সে জেনারেল শ্যারনের গোয়েন্দা দলে যোগ দেয়। এখন সে আজর ওয়াইজম্যানের WFA এর সাথে কাজ করছে।
শেরিল শ্যারন থামতেই তার টেবিলের ওপাশে বসা বডি বিল্ডার গোছের জো বিশপ বলল, ‘তার ধরা পড়ার পেছনে বেশি কৃতিত্ব কিন্তু আমাদের নিউইয়র্ক অফিসের জেমস-এর। সেই তো খবর দিয়েছে বিদেশী চেহারার দুজন লোক আজ রাতেই ডেট্রয়েটে রওয়ানা দিয়েছে।’
জেমস হলো আয়াজ ইযাহুদের বাড়িতে হামলাকারীদের একজন। হামলাকারীদের মধ্যে সে একমাত্র পালাতে পেরেছিল। নিউইয়র্ক অফিসসহ সব জায়গায় সেই তাদের অভিযানের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের খবর পৌঁছায়। সে আয়াজ ইয়াহুদের বাড়ির পাশে শেষ পর্যন্ত ওঁৎপেতে ছিল। আহমদ মুসা ও কামাল সুলাইমান আয়াজ ইয়াহুদের বাড়ি থেকে বের হলে সে তাদের পেছনে পেছনে যায়। আহমদ মুসারা ডেট্রয়েটে যাবার জন্যে যে প্লেনের টিকিট কেটেছে সেটাও সে জেনে নেয় এবং জানিয়ে দেয় ডেট্রয়েট অফিসকে।
‘জেমস নিজের থেকে যে বুদ্ধিমানের কাজ করেছে তার তুলনা হয় না। তাকেই নিউইয়র্কের চীফ বানিয়ে দেবার সুপারিশ আমি করব।’ বলল শেরিল শ্যারন।
‘কিন্তু স্যার, এখনও তো আমাদের চীফ আজর ওয়াইজম্যানের কাছ থেকে কোন মেসেজ এল না। এই কথিত আহমদ মুসাদের আমরা কি করব, কোথায় রাখব, সেটা তো আমাদের জানা দরকার।’ জো বিশপ বলল।
‘এখনও হয়তো উনি আকাশে আছেন। ফ্লোরিডা পৌঁছার পরেই আমাদের বার্তা পাবেন। তারপরই আসবে তার জবাব।
জো বিশপ হাত ঘড়িটা দেখল। বলল, ‘স্যার বিমানটা যদি ঠিক সময়ে ফ্লাই করে থাকে, তাহলে সিডিউল মোতাবেক এখন থেকে ২০ মিনিট আগে তিনি ফ্লোরিডায় পৌঁছে গেছেন।’
জো বিশপের কথা শেষ হবার সাথে সাথেই শেরিল শ্যারনের মোবাইল সেটটা বেজে উঠল।
সেটটা উঠাল শেরিল শ্যারন।
‘হ্যালো। গুড মর্নি। আমি এস. শ্যারন বলছি।’ বলল শেরিল শ্যারন।
‘গুডমনিং, আমি আজর ওয়াজম্যান। তোমার জরুরি মেসেজটা কি, তাড়াতাড়ি বল।
শেরিল শ্যারন আহমদ মুসাদের পাকড়াও করার ঘটনাটা জানিয়ে বলল, ‘আমাদের মনে হচ্ছে স্যার সে আহমদ মুসাই হবে।’
গলা ছড়িয়ে সোৎসাহে বলে উঠল আজর ওয়াইজম্যান, তার চেহারা ও শরীরের বর্ণনা দাও তো।
বর্ণনা দিল শেরিল শ্যারন।
বর্ণনা শুনে আজর ওয়াইজম্যান বলে উঠল, ‘মিলে যাচ্ছে শ্যারন। তুমি ঠিকই ধরেছ। হাইম হাইকেলকে উদ্ধারে আহমদ মুসা আসতেই পারে।’
তারপর একটু নিরব থেকেই উচ্ছাসিত গলায় আজর ওয়াইজম্যান বলল, ‘তুমি ইতিহাস সৃষ্টি করেছ শ্যারন। তুমি শিয়াল ধরতে গিয়ে সিংহ ধরার মত কাজ করেছ। তোমাকে ধন্যবাদ। কোথায় রেখেছ তাকে?’
‘ভূগর্ভস্থ কয়েদ খানায়। পিছ মোড়া করে হাত পা বাঁধা হয়েছে। তার উপর ক্লোরাফরম করে সংজ্ঞাহীন করে রাখা হয়েছে। ঘরের দরজায় দুজন পাহারাদার রাখা হয়েছে।’
‘গুড। কিন্তু আহমদ মুসার জন্যে এটুকু যথেষ্ট নয়। তুমি নিজেই ঘরটার উপর চোখ রাখ। মনে রেখ অস্যধ্য সাধন করার ক্ষমতা আহমদ মুসার আছে। আমি জরুরি কাজ সেরে আজ রাতেই রওয়ানা হব। ততক্ষণে তাকে যে কোন মূল্যে ধরে রাখ। মনে রেখ তাকে ধরে রাখা হাইম হাইকেলের চেয়েও লক্ষগুনে জরুরি। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা দুনিয়ায় আমাদের অস্তিত্ব নির্ভর করছে তাকে নিশ্চিহ্ন করার উপর। সে কাজ আমি করব, আসছি। গুড বাই।’
শেরিল শ্যারন টেলিফোন রেখে বলল, ‘দেখেছ বিশপ, বসের গলা কাঁপছে। যার সম্পর্কে কথা বলতে এতদূর থেকে বসের গলা কাঁপছে, তাকে আমরা পাকা ফল ছিঁড়ে নেয়ার মত কেমন সহজে ধরে ফেললাম।’
‘যতটা ভয়ংকর শুনেছি, তেমন মনে হয়নি স্যার। ভয়ংকররা স্বভাবগতভাবেই গোঁয়ার হয়, কিন্তু একে দেখলাম নিরেট ভদ্রসন্তান।’
‘ভদ্র ভয়ংকররাই বেশি ভয়ংকর হয়। আহমদ মুসা সে রকমই একজন।’ বলেই হাত ঘড়ির দিকে তাকাল শেরিল শ্যারন। বলল দ্রুত কণ্ঠে জো বিশপকে, ‘এখন হাইম হাইকেল জেগে উঠার কথা। যাও বল, ওকে লাঞ্চ খাইয়ে আবার ঘুমিয়ে দিতে হবে। ঘুমের ঔষধ আগের ডোজ অনুসারেই।
শুনেই জো বিশপ উঠতে যাচ্ছিল। এ সময় ইন্টারকম প্যানেলের ইমার্জেন্সী লাল বাতি জ্বলে উঠল। সেই সাথে বেজে উঠল টেবিল সাইরেন। তারপর শ্যারনের পি.এ-এর টেলিফোন, ‘স্যার কোথাও থেকে গুলীর আওয়াজ আসছে। সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ থেকে ইমার্জেন্সি ঘোষনা করা হয়েছে।’
লাফ দিয়ে উঠল শেরিল শ্যারন।
শেরিল শ্যারন ও জো বিশপ দুজনেই ছুটে বাইরে বেরিয়ে এল।
লক্ষ্যবিহীনভাবে ছুটতে গিয়ে শেরিল শ্যারন বলল, ‘অসাধ্য সাধন যে করতে পারে, সেই আহমদ মুসার বন্দীখানার দিকে আগে চল।’