বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মুখে পানির ছিটে
পরতেই রায়হান ধরমর
করে উঠে বসে। তার
মাথাটা বেশ ভার হয়ে
আছে। চোখের পাতা
খুলেছে ঠিকই, কিন্তু
ঠিকমত কিছুই দেখতে
পাচ্ছে না। সে টের পেল
তার চোখ এক কালো
কাপড়ে শক্ত করে
বাঁধা। নড়েচড়ে বসার
চেষ্টা করল। তবে খুব
একটা নড়তে পারল না,
কারণ হাত-পাও দড়ি
দিয়ে শক্ত করে বাঁধা।
.
“লাট সাহেবের ঘুম
এতক্ষণে ভেঙ্গেছে
আপা” খুব গম্ভীর
একটা লোকের
কণ্ঠস্বর শুনতে পেল
রায়হান। এরপর
আরেকটা মেয়ের কণ্ঠ
শুনতে পেল সে, “চোখের
বাঁধনটা খুলে দাও ওর!”
কণ্ঠটা চিনতে পারল
রায়হান, এটা তো
নিতুর কণ্ঠ!! চোখের
বাঁধনটা খুলতেই একটা
ফিলামেন্ট বাতির
হালকা আলোর
ঝলকানি চোখে এসে
পরে রায়হানের। সে
চোখটা সাথে সাথে বন্ধ
করে ফেলে। এরপর মিট
মিট করে তাকানোর
চেষ্টা করতেই নিতুর
মুখটা দেখতে পায় সে।
ঠিক তার বিপরীত
দিকে বসে আছে। তার
মুখে এক চিলতে
হাসির রেখা, সেই
হাসিতে কি যেন একটা
আছে, অশুভ কিছু।
নিতু তার দিকে ঝুঁকে
বলে, “তো মিস্টার
রাজীব, কেমন
লাগছে?”
.
নিতুর মুখে রাজীব
নামটা শুনতেই তার
মাথাটা ঘুরে যায়। সে
মুখ ফুটে বলতে চায়,
“আমি রাজীব না,
রায়হান। কিন্তু তার
মুখ থেকে শুধু একটা
অস্ফুট শব্দ বের হয়ে
আসে, কারণ মুখটা টেপ
দিয়ে আটকানো। কিছু
বলার উপায় নেই।
~~~
দু সপ্তাহ আগের কথা,
রায়হান পাড়ার মোড়ে
বসে বন্ধুদের সাথে
আড্ডা দিচ্ছিল। এমন
সময় রাজীবের
ম্যাসেজ আসে,
রাজীবের বাসায় যেতে
বলছে। রাজীব,
রায়হানের সবচেয়ে
ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই
ছোটবেলা থেকে তাদের
বন্ধুত্ব। তবে রাজীব
বেচারা কোন ঝামেলায়
না পরলে রায়হানকে
বাসায় যেতে বলে না।
.
“নিশ্চয়ই কোন
ঝামেলা
পাকিয়েছিস?”,
রায়হান রাজীবকে
জিজ্ঞেস করে। দুজন
রাজীবের রুমে বসে
আছে। রাজীবের মা
একটু আগেই চা-নাস্তা
দিয়ে গেছেন, উনি চলে
যেতেই রায়হান আবার
জিজ্ঞেস করে,
- কিরে, কিছু বলছিস
না যে?
- দোস্ত, আমার একটা
ছোট কাজ করে দিবি?
- তোর কাজ? তাও
আবার ছোট?
- হ্যাঁ, তবে কাজটা
খুবই গোপনে করবি।
- এই ব্যাটা, এত
ভণিতা করছিস কেন?
কি হয়েছে খুলে বল!
- তুই তো জানিস আমি
গত ২-৩ মাস ধরে নিতু
নামের একটা মেয়ের
সাথে নিয়মিত কথা
বলি।
- হ্যাঁ, ভাল করেই
জানি। তো এতে সমস্যা
কি?
- সমস্যা হল আমাদের
সম্পর্কটা অনেক দূর
গড়িয়েছে, নিতু এখন
দেখা করতে চায়।
- এতে সমস্যা কি? যা,
দেখা কর।
- আরে সমস্যা তো
ওখানেই। এখন দেখা
করতে গিয়ে ভয়
লাগছে।
- এত ভয় লাগলে না
করে দে!!
- সম্ভব হবে না বন্ধু,
কথা দিয়ে ফেলেছি।
- তা এখন কি করতে
চাইছিস?
- আমি কাল সকাল
থেকেই ফোনটা অফ
রাখব। তুই ওর সাথে
দেখা করে বলবি আমি
অসুস্থ, তাই আসতে
পারিনি। এজন্য তোকে
পাঠিয়েছি।
- আজব!! এই কথাটা
তো তুই ফোনেই বলতে
পারিস?
- পারতাম, তবে তোকে
পাঠানোর পেছনে
আমার একটা উদ্দেশ্য
আছে।
- কি উদ্দেশ্য?
- নিতুকে আমি এর
আগে কখনও দেখি নি,
শুধু ফোনেই কথা
বলেছি। তুই গিয়ে দেখে
আয় ও দেখতে কেমন,
মানে সুন্দরী কি না!
- এটা কি বলছিস? তুই
মেয়েটার ফেইসবুক
একাউন্ট জানিস না?
- আরে ও মফঃস্বলের
মেয়ে, এসব নাকি
ব্যবহার করে না।
ঢাকায় ওর খালার
বাসায় বেড়াতে
এসেছে। আবার
পরশুদিনই চলে যাবে।
তাই কালই দেখা
করতে বলেছে।
- ঠিক আছে, আমি
যাব।
- থ্যাংকস দোস্ত।
- তা তোর নিতু ম্যাম
আসবেন কোথায়?
- মিরপুর চিড়িয়াখানার
বাইরে।
- আর জায়গা পেলি না?
তো ওকে আমি চিনব
কি করে?
- নিতু বলেছে ও নীল
ড্রেস পড়ে আসবে,
আর আমাকে কালো
পাঞ্জাবী পড়ে যেতে
বলেছে।
- ঠিক আছে বন্ধু।
.
রাজীবের বাসা থেকে
বের হতেই রায়হান
ঠিক করে, সে কালো
পাঞ্জাবী পড়েই নিতুর
সাথে দেখা করতে
যাবে। এতে করে
একদিক দিয়ে নিতুর
ওকে রাজীব ভেবে
কনফিউশন সৃষ্টি
হবে। পড়ে যখন সে
মেয়েটাকে বলবে যে সে
রাজীব নয়, তখন
মেয়েটা বোকা বনে
যাবে।
~~~
রাজীব বলেছিল
সকাল ১১ টার দিকে
দেখা করার কথা।
রায়হান সকাল সাড়ে
১০টার মাঝেই
চিড়িয়াখানার বাইরে
পৌঁছে গেল। ১১টা
বাজার কিছুক্ষণ পর
রায়হান তার পেছন
থেকে একটা সুন্দর
মেয়েলী কণ্ঠস্বর
শুনতে পায়, “অ্যাই
রাজীব!” কোনও মেয়ের
কণ্ঠ যে এত মধুর হতে
পারে সেটা কখনও
রায়হানের কল্পনাতেও
ছিল না! রায়হান ঘাড়
ঘুরিয়ে মেয়েটিকে
দেখে যেন একটা শক
খেল। কোন মেয়ে যে
এত সুন্দর হতে পারে
সেটা মনে হয় রায়হানে
চিন্তাধারাতেও নেই।
নীল রঙের সালোয়ার-
কামিজ, ওড়না, ঠোঁটে
হালকা লাল
লিপস্টিক, দুধে
আলতা গায়ের রং।
মেয়েটার চেহারাটা
যেন সৃষ্টিকর্তা নিজ
হাতে গড়েছেন।
রায়হান কিছুটা
আমতা আমতা করে
বলে,
- জী, আপনি কি
আমাকে বলছেন?
- হ্যাঁ, তুমিই তো
রাজীব, তাইনা?
.
মেয়েটাকে দেখে
রায়হান নিমেষেই যেন
সবকিছু ভুলে গেল। এই
মুহূর্তে তার সামনে
দাড়িয়ে থাকা মেয়েটি
ছাড়া যেন জাগতিক
সব কিছুই মিথ্যে।
রায়হান তার বন্ধুর
সাথে প্রতারণা করে
নিতুকে অস্ফুট কণ্ঠে
বলে উঠল, “হ্যাঁ,
আমিই রাজীব!”
.
মেয়েটি একটা আলতো
হাসি হেসে বলল,
“আমি নিতু”। নিতুর
হাসি দেখে রায়হানের
গলা যেন শুকিয়ে কাঠ
হয়ে যেতে চাইছে। সে
কিছু বলার আগেই
নিতু হাত বাড়িয়ে ওর
হাতটা ধরল। এবার
যেন রায়হানের হাঁটুতে
কাঁপুনি ধরে গেল,
ঘামতে শুরু করে দিল
সে।
- কি ব্যাপার রাজীব?
তোমাকে কেমন যেন
অসুস্থ মনে হচ্ছে!
- না, আমি ঠিক আছি!
- আচ্ছা তোমার ফোন
নাম্বারটা অফ কেন?
সেই কখন থেকে ট্রাই
করে যাচ্ছিলাম।
- আর বল না, আমার
মোবাইলটা গতকাল
চুরি হয়ে গেছে।
আজকেই একটা নতুন
সিম কিনেছি।
- ও তাই? তাহলে
তোমার নতুন
নাম্বারটা দাও।
.
রায়হান নাম্বারটা
দিতেই নিতু সেটা ওর
মোবাইলে সেইভ করে
নিল। সে নিজের স্থির
কণ্ঠস্বর শুনে নিজেই
অবাক হয়ে যাচ্ছে, কি
করে সে এত মিথ্যা
কথা বলছে তা ওর
কল্পনাতে কাজ করছে
না। তবে মিথ্যে
বললেও ওর এই ভেবে
ভাল লাগছে যে সে এত
সুন্দরী এক মেয়ের
সাথে সে এতটা
ঘনিষ্ঠভাবে
ঘোরাফেরা করতে
পারছে। রায়হান এক
মুহূর্তের জন্য
মেয়েটার মুখ থেকে
দৃষ্টি সরাতে পারছে
না। তার মনে কেবল
একটা কথাই আসছে,
“নিতু শুধুই আমার। ওর
জন্য শুধু রাজীব কেন,
সারা পৃথিবীর সাথে
প্রতারণা করতে
পারব।”
~~~
আজকের দিনটা
রায়হান কোনদিন
ভুলতে পারবে না।
নিতুকে নিয়ে সে
অনেকক্ষণ হাঁটল,
দুপুরে লাঞ্চ করল।
সারাটাক্ষণ নিতু ওর
হাতটা ধরে ছিল। কি
করে যে সময়টা দ্রুত
কেটে গেল সেটা ওর
কল্পনাতেও ছিল না।
বিকেলের দিকে নিতু
বলল,
- চল, এবার ফেরা যাক।
- এখনই? আরেকটু
থাকলে হয় না?
- ঈশ, আমাকে আমার
খালার বকুনি শোনাতে
চাও বুঝি?
- আরে না, ঠিক আছে
চল। তা তুমি কিভাবে
যাবে?
- খালার গাড়ি দিয়ে
দিয়েছিলেন আসার
সময়। চল তোমাকেও
নামিয়ে দেব যেখানে
নামতে চাও।
.
নিতু একটা ফোন
করতেই ড্রাইভার
গাড়ি নিয়ে এল। ওরা
ভেতরে গিয়ে বসতেই
ড্রাইভার একটা
প্যাকেট নিতুর দিকে
এগিয়ে দিয়ে বলল,
“আপা, আপনি না
বার্গার আনতে
বলেছিলেন? এই নিন।”
নিতু প্যাকেট থেকে
দুটো বার্গার বের
করল, একটা বার্গার
রায়হানের দিকে
এগিয়ে দিয়ে বলল,
“নাও, এটা খাও”।
রায়হান বার্গারটা
নিয়ে খেতে থাকল।
দুজনে ব্যাকসিটে গা
ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে
আছে। আবেশে
একসময় রায়হানের দু
চোখ যেন জুড়িয়ে
আসছিল। একসময় সে
ঘুমিয়ে পড়ল।
~~~
নিতু রায়হানের দিকে
ঝুঁকে একটা পৈশাচিক
হাসি দিয়ে বলল,
“আমরা এখন কোথায়
আছি জানো রাজীব?
আমরা এখন ঢাকা
থেকে অনেক দূরে। এটা
একটা পুরনো বাড়ি। এই
বাড়ির মাটির নিচের
কুঠুরিতে আমরা
আছি। আশে পাশের
কোথাও কোন
জনবসতি নেই।”
রায়হান কিছু একটা
বলতে যেয়েও ব্যর্থ
হল। ওর মুখের টেপের
বাধন এতটাই শক্ত
করে বাঁধা যে কিছু
বলতে যেয়ে উল্টো
মুখে ব্যথা লাগছে, শুধু
‘ও’ ‘আ’ ছাড়া কোন
শব্দই বের হচ্ছে না।
.
নিতু আবার বলে উঠল,
“আমি জানি তোমার
মনে হাজার প্রশ্ন
জাগছে। আরে একটু
সবুর কর, বলছি সবই।
আচ্ছা, তার আগে
একটু ভেবে দেখোতো
দুই বছর আগে ট্রেনে
ঘটা একটা দুর্ঘটনা
মনে করতে পার
কিনা?” রায়হান
অসহায়ের মত দুই
দিকে মাথা নাড়ায়।
.
“মনে পড়ছে না? এত
তাড়াতাড়িই ভুলে
গেলে? আড়াই বছর
আগে তুমি আর তোমার
দুই বন্ধু, রাশেদ এবং
অপু মিলে সিলেটে
যাচ্ছিলে ট্রেনে করে।
ট্রেন তখন মেঘনা
ব্রিজের উপর ছিল।
কোনও একটা বিষয়
নিয়ে তোমাদের তিন
বন্ধুর মাঝেই ঝগড়া
শুরু হয়, ঝগড়ার এক
পর্যায়ে তুমি আর অপু
মিলে ট্রেনের দরজা
দিয়ে ধাক্কা মেরে
রাশেদকে ট্রেন থেকে
ফেলে দাও। ব্রিজের
রেলিং এর ফাঁক দিয়ে
সে সরাসরি নদীতে
পরে যায়। রাশেদ
বেচারা সাঁতারও জানত
না। ডুবেই মারা যায় সে।
যারা যারা এই ঘটনা
দেখেছিল, তাদের
কেউই তোমাদের
চেহারা দেখতে পায় নি
বলে তোমাদের এই ঘৃণ্য
রূপ লুকিয়েই থাকে।”
.
এই পর্যন্ত বলে একটু
দম নিল নিতু। তারপর
সে আবার বলতে শুরু
করে, “রাশেদ বাসায়,
এমনকি কলেজেও
কাউকে কিছু না
জানিয়েই এই ট্রিপে
ঘুরতে বেরিয়েছিল।
আর সেই কারণে
পুলিশও কাউকে ট্রেস
করতে পারেনি। সেই
রাশেদ আমার কে ছিল
জানো......?” কথাটা শেষ
না করতে নিতুর দু চোখ
বেয়ে অশ্রুধারা নেমে
আসে, ফিলামেন্ট
বাতির অল্প
আলোতেও সেটা স্পষ্ট
দেখতে পায় রায়হান।
.
নিতু তার দু চোখ মুছে
আবার বলতে শুরু করে,
“রাশেদ আমার আপন
বড় ভাই। তুমি আর অপু
আমার ভাইয়ার খুনি।
তুমি হয়ত ভাবছ,
এতদিন পর কি করে
তোমার খোঁজ পেলাম?
সত্য কখনো চাপা
থাকেনা মিস্টার
রাজীব। আমি ১ বছর
আগে ভাইয়ার একটা
বই ঘাটতে ঘাটতে
একটা কাগজ খুঁজে পাই।
সেখানে সিলেটে
যাওয়ার সময় কি কি
নিতে হবে তার একটা
লিস্ট ছিল। সেই
লিস্টে লেখা তোমার
আর অপুর নামটাও
ছিল। সেখান থেকে
বুঝলাম তুমি আর অপু
দুজনই ভাইয়ার সাথে
ছিলে। এরপর ভাইয়ার
কিছু পরিচিত কলেজ
ফ্রেন্ডদের ধরলাম,
তাদের কাছ থেকে
তোমার আর অপুর
নম্বরটা পেলাম। ব্যাস!
এরপর অপুর সাথেও
তোমার মত করেই
প্রেমের অভিনয় শুরু
করি। তুমি খোঁজ নিলে
হয়ত জানতে পারতে যে
তিন মাস আগে অপুও
নিখোঁজ হয়ে
গিয়েছিল। চাইলে
দেখতে পার, তোমার
পাশেই একটা কংকাল
পড়ে আছে। ওটাই অপু।”
.
রায়হান ওর পাশের
কংকালটা দেখতে পায়।
সেটা দেখতেই ওর
মনের ভেতর একটা ভয়
গ্রাস করে। রাজীব যে
এমন একটা কাজ
করতে পারে সেটা ওর
কল্পনাতেও ছিল না।
কিন্তু সে কি করে
বলবে যে সে রাজীব
নয়, রায়হান!!ওর মুখ
তো টেপে আটকানো।
বন্ধুর সাথে করা
সামান্য প্রতারণার
ফলাফল যে এতটা
ভয়ংকর হবে, সেটা সে
স্বপ্নেও ভাবে নি।
.
নিতু আবার বলতে
থাকে, “আমি জানতাম
আইনের মাধ্যমে
তোমাদের কোন লঘু
শাস্তি দেয়া সম্ভব
ছিল না। তাই ভাবলাম
নিজেই শাস্তি দেব।
আসলে তোমরা
ছেলেরা সবই বোকা।
মেয়ে দেখলেই
তোমাদের চোয়াল ঝুলে
পড়ে। অপুকে প্রেমের
জালে ফাঁসাতে প্রায় ৬
মাস লেগেছিল। কিন্তু
তোমাকে তো মাত্র
কয়দিনেই পটিয়ে
ফেলেছি। ফোনে কথা
বলতে বলতেই আমার
প্রেমে পরে গেলে। দেখা
করার পরেতো পাগলই
হয়ে গেলে!
স্যান্ডউইচে যে ঘুমের
ওষুধ মেশানো থাকবে,
সেটা বোধহয় তুমি
ধারণাও করতে পার
নি।”
.
“আমার ইচ্ছা ছিল
তোমাদের দুজনকেই
নিজ হাতে খুন করব।
কিন্তু তোমাদের মেরে
আমি আমার হাত
নোংরা করতে চাই নি।
তাই অপুকে এখানে
যেভাবে ফেলে
গিয়েছিলাম,
তোমাকেও ঠিক
সেভাবেই রেখে যাব
রাজীব। এটাই তোমার
শাস্তি। এই বাড়িটাতে
ভূতের ভয়ে কেউ আসে
না। আর এই কুঠুরিতে
তো কেউ স্বপ্নেও
আসতে চাইবে না। তবে
ভাগ্য ভাল হলে কেউ
এসে তোমাকে বাঁচাতেও
পারে। তোমার পরিণতি
এখন তোমার ভাগ্যের
ওপর রাজীব।”
.
রায়হান প্রবলবেগে
নিজের হাত-পা
ছুড়াছুড়ি করতে
চেষ্টা করল। কিন্তু
এতে দড়ির বাঁধনগুলো
যেন আরও শক্তভাবে
এঁটে বসল। নিতু লাইট
নিভিয়ে দিয়ে
ড্রাইভারকে নিয়ে
কুঠুরির সিঁড়ি বেয়ে
উপরে উঠে গেল। বাইরে
গাড়ি দাড় করানোই
ছিল। একটু পরেই সেটা
স্টার্ট নেয়ার শব্দ
শোনা গেল। অসহায়
রায়হান একা বসে রইল
অন্ধকার কুঠুরিটার
ভেতর
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
আহমদ মুসা ‘ডেট্রয়েট’-এর ‘অলিভার এইচ পেরী’ রোডটা দেখে বিস্মিতই হলো।
অলিভার এইচ পেরী রোডটা ডেট্রয়েট-এর অভিজাত উত্তর এলাকার মাঝখান দিয়ে পুবে এগিয়ে কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সেন্টক্লিয়ার কেনাল-এর তীর ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত কেনাল এভিনিউতে গিয়ে পড়েছে।
সংকীর্ণ সেন্টক্লিয়ার কেনাল-এর মাঝখান দিয়ে কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত। সেন্টক্লিয়ার কেনালটা দক্ষিণে গিয়ে ‘লেক ইরী’তে, আর উত্তর প্রান্তটা মিশেছে গিয়ে ‘লেক সেন্টক্লিয়ার’-এর সাথে।
অলিভার এইচ পেরী রোডের পুব প্রান্তে দাঁড়িয়ে চারদিকটাকে অদ্ভূত সুন্দর লাগল আহমদ মুসার। সেই সাথে তার মনটা ছুটে গেল কয়েকশ বছর আগের অতীতে। সে অতীতটা বড়ই রক্তরঞ্জিত। এই অঞ্চলেও বাস ছিল রেড ইন্ডিয়ানদের। ১৬৬৮ সালে প্রথম এই অঞ্চলে ফরাসি বসতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে বিদেশীদের সংঘাত শুরু সেই থেকেই। বৃটিশরা এই অঞ্চল দখল করে নেয় ১৭৬৩ সালে। রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে তাদের শেষ ভয়ংকর যুদ্ধ হয় ১৭৯৪ সালে। এই মিচিগান এলাকা বৃটিশরা ১৮১৩ সালে শেষবারের মত দখলে আনে। এই দখলের ‘লেক ইরী’ যুদ্ধের বিজয়ী বৃটিশ সেনাপতি ছিলেন অলিভার এইচ পেরী। সেই বৃটিশ সেনাপতি অলিভারের নামেই ডেট্রয়েটের এই রাস্তা।
ডেট্রয়েটের এই রাস্তার সৌন্দর্য্য ও সিচুয়েশন আহমদ মুসাকে যতখানি অভিতূত করল, ঠিক ততখানি বিরক্ত হলো বাড়ির নম্বরটা খুঁজতে গিয়ে। আজর ওয়াইম্যানের ঐ লোকের কাছ থেকে পাওয়া ই-মেইল অনুসারে যে বাড়িতে এনে হাইম হাইকেলকে তোলা হয়েছে তার নম্বর হলো ৭৭৬, কিন্তু সাত শতের ঘরে কোন নাম্বারই এই রাস্তায় নেই। আবার যেখান তাকে শিফট করা হয়েছে, সেই নম্বর হলো ৮৩৩ ই-মেইল অনুসারে। কিন্তু যেখানে ৭শ’র ঘরের নম্বরই নেই, সেখানে ৮ শতের ঘরের নম্বর আসবে কোত্থেকে?
দেখে-শুনে হতাশ কণ্ঠে কামাল সুলাইমান বলল, ‘মনে হচ্ছে ভাইয়া ই-মেইলটাই ভূয়া।’
আহমদ মুসার চোখে-মুখে হতাশার কোন চিহ্ন নেই। কিন্তু ভাবছে সে। বলল, ‘যেখান থেকে যেভাবে ই-মেইলটা পাওয়া গেছে, তাতে এটা ভূয়া হবার সম্ভবনা নেই কামাল সুলাইমান।’
‘কিন্তু নম্বর দুটা যে ভূয়া তা দেখাই তো যাচ্ছে।’ বলেই কামাল সুলাইমান হঠাৎ লাফ দিয়ে ঘুরে আহমদ মুসার মুখোমুখি দাঁড়াল। বলল দ্রুতকণ্ঠে ভাইয়া নম্বরের মধ্যে কোন ধাঁধা আছে কি না!’
‘সেটাই ভাবছি কামাল সুলাইমান।’ বলল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসার কথা স্বগতোক্তির মত শোনাল। ভাবছিল আহমদ মুসা। এক সময় সে বলে উঠল, ‘যেখান থেকে হাইম হাইকেলকে শিফট করা হয়েছে, সেই ঠিকানা জর্জ আব্রাহামের মেসেজে আছে। কিন্তু তাতে বাড়ি নাম্বার নেই, বাড়ির নাম আছে। আমরা যদি বাড়ির নাম ধরে খুঁজে বাড়িটা বের করতে পারি, তাহলে বাড়ির নম্বর পাওয়া যাবে এবং সে নম্বরের সাথে এই ই-মেইলের নম্বর মিলালেই নম্বরের ধাঁধাঁ পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
বলেই আহমদ মুসা তার মোবাইল বের করে মেসেজটা দেখে নিল। বাড়িটার নাম ‘অলিভার হাউজ।’
‘বাড়ির নাম ‘অলিভার হাউজ’ কামাল সুলাইমান। নামটা বিখ্যাত। নিশ্চয় বড় আকারেই লেখা থাকবে নামটা। চল খুঁজে বের করি।’
বলে আহমদ মুসা হাঁটা শুরু করল।
সন্দেহ সৃষ্টি না করে এমনভাবে দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার কষ্টকর সন্ধান শেষে ‘অলিভার হাউজ’ তারা পেয়ে গেল। রাস্তার দক্ষিণ পাশের পুব প্রান্তের শেষ বাড়ি ওটা। বাড়িটার ছাদ থেকে সেন্টক্লিয়ার কেনালে প্রায় থু থু ফেলা যায়। আর ছাদ সোজা নিচে তাকালেই কেনাল এভেনিউ।
বাড়িটার সামনে গিয়ে মুহূর্তের জন্যে দাঁড়াল আহমদ মুসা। পুরাতন ধরনের বিশাল বাড়িটার শ্বেত পাথরের নেম প্লেটে বাড়িটার নামের নিচেই জ্বল জ্বল করছে বাড়িটার নম্বরঃ ৩৩৮ অলিভার এইচ পেরী রোড।
আহমদ মুসা কামাল সুলাইমান দুজনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দেখল বাড়ির নাম ও নম্বর।
‘ই-মেইল যে ভূয়া, এই বাড়ির নাম ও নম্বরই আবার তা প্রমান করল ভাইয়া।’ বলল কামাল সুলাইমান।
‘তুমি একজন গোয়েন্দা। চিন্তা না করে কমেন্ট করা তোমার সাজে না। তুমিই বলেছ ই-মেইলের নম্বরের মধ্যে ধাঁধাঁ থাকতে পারে। সে কথা তুমি ভুলে যাচ্ছ কেন?’ আহমদ মুসা বলল।
‘স্যরি ভাইয়া, আপনি পাশে থাকায় আমি গোয়েন্দা সে কথা ভুলে গেছি। কারণ সূর্য যখন আকাশে থাকে, তখন চাঁদের কোন দায়িত্ব থাকে না।’
আহমদ মুসা কামাল সুলাইমানের এই কথার কোন জবাব দিল না।
ভাবছিল সে।
এক সময় আহমদ মুসার মুখটা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, ‘কামাল সুলাইমান ই-মেইলের বাড়িটার নম্বর কত আছে?’
‘৮৩৩ ভাইয়া।’
‘এ বাড়িটার নম্বরটা ডান দিকে পড়তো কত দাঁড়ায়?’
কামাল সুলাইমানের মুখও উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ‘ইউরেকা’, ইউরেকা’, পাওয়া গেছে ভাইয়া। ই-মেইলে এ বাড়ির নম্বর ডান দিক থেকে লিখে ৩৩৮ কে ৮৩৩ বানিয়েছে।’
‘নতুন বাড়ির যেখানে হাইম হাইকেলকে শিফট করা হয়েছে, তার নম্বর লেখার ক্ষেত্রেও তাহলে ওরা ঐ নীতির অনুসরণ করেছে।’ আহমদ মুসা বলল।
‘ঠিক ভাইয়া। তাহলে নতুন নম্বর দাড়াচ্ছে ৬৭৭ যাকে ডান দিক থেকে লিখলে দাঁড়ায় ৭৭৬ যা ই-মেইলে লিখা হয়েছে।’ সাফল্যের আনন্দে মুখ উজ্জ্বল করে বলল কামাল সুলাইমান।
‘এতক্ষণ ধরে রাস্তার বাড়িগুলোর নম্বর সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে রাস্তার উত্তর পাশের পুব প্রান্তের কোন বাড়ি হবে এটা। যতদূর মনে পড়ছে শেষ বাড়িটাই নম্বরই এই নম্বর ছিল। সে বাড়িটাও দেখেছি এ বাড়িটার মতই বিশাল ও পুরানো ধাঁচের।’ আহমদ মুসা বলল।
‘চলুন ভাইয়া, যাওয়া যাক।’
‘চল, নম্বরটা দেখা যাক। তবে বাড়িতে এখন ঢুকব না।’
রাস্তা ক্রস করে আহমদ মুসা ও কামাল সুলাইমান চলল অলিভার এইচ পেরী রোডের উত্তর পাশে পুব প্রান্তের দিকে।
দুজনে গিয়ে দাঁড়াল বাড়ির সামনে।
দুজনেরই পরণে ট্যুরিস্ট পোশাক। কাঁধে ট্যুরিস্ট ব্যাগ। দুজনের মাথার চুল কালো-লালে মেশানো, কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। মুখ ভরা দাড়ি। লাল। মুখে রয়েছে লাল মেক আপ। সব মিলিয়ে তারা দুজন নিখুঁত ইউরোপীয় ট্যুরিস্ট পরিণত হয়েছে।
বাড়িটা প্রাচীর ঘেরা।
রাস্তার পাশে কারুকাজ করা বড় গেট।
গেটের পরে বাগান। বাগানের পর বিশাল এলাকা নিয়ে তিনতলা বাড়িটা দেখা যাচ্ছে। বাড়িটার অন্য তিন পাশেও দক্ষিণ পাশের মত বাগান হবে মনে করল আহমদ মুসা। এ ধরনের বাড়িতে কোন অভিযানে যাওয়া সুবিধাজনক, ভাবলো আহমদ মুসা।
আহমদ মুসারা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাড়িটার নম্বর আনন্দের সাথে দেখছে আর এসব ভাবছে। আর পথচারীরা ভাবছে দু’বিদেশী ট্যুরিস্ট বাড়িটার ঐতিহ্য, বিশাল ও সুন্দর গেটটার কারুকাজ দেখছে হাঁ করে।
হঠাৎ এক সময় আহমদ মুসা ও কাসাল সুলাইমান দুজনেই অনুভব করল, তাদের পেছনে কয়েকজন লোক এসে দাঁড়াবার পরমুহূর্তেই শক্ত দুটি বস্তু এসে তাদের পিঠে ঠেকল। স্পর্শের ধরন থেকে তারা নিশ্চিতই বুঝল তা বাঘা সাইজের রিভলবারের নল হবে।
সঙ্গে সঙ্গে তারা দুজনই একসাথে ফিরে তাকাচ্ছিল। কিন্তু পেছন থেকে কে একজন শক্ত কণ্ঠে বলল, ‘রিভলবারের সাইলেন্সার আছে। মাথা ঘোরাবার চেষ্টা করলেই গুলী করে দেব। চল সামনে চল।’
তার কথার সাথে সাথেই রিভলবারের নলের গুতো খেল তারা পিঠে।
ঘাড় আর ফেরানো হলো না আহমদ মুসাদের। লোকদের দেখতেও পেল না, জানাও হলো না কয়জন তারা। রিভলবারের গুতো খেয়ে তারা সুবোধ বালকের মত হাঁটতে লাগল সামনের দিকে। পেছনের লোকেরাও ছায়ার মত আসতে লাগল তাদের পেছনে।
তারা গেটের মুখোমুখি হতেই গেট খুলে গেল।
আহমদ মুসারা ও পেছনের লোকেরা ভেতরে প্রবেশ করতেই পেছনে দরজা বন্ধ হয়ে গেল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
আহমদ মুসারা চারদিকটা দেখার জন্যে চোখ তুলে মাথা ঘুরাচ্ছিল। এমন সময় ঘাড়ে কানের নিচটায় প্রচন্ড হাতুড়ির মত একটা আঘাত এসে পড়ল।
গোটা দেহ তার ঝিম ঝিম করে উঠল। ঘুরে গেল মাথা। দুই চোখ তার বন্ধ হয়ে গেল। বোধশক্তি হারিয়ে গেল এক নিকশ অন্ধকারে।
আহমদ মুসা ও কামাল সুলাইমানের দেহ এক সাথেই সংজ্ঞা হারিয়ে খসে পড়ল মাটিতে।