বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চরম একটি হাসির গল্প

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X হাসি নিয়ে গবেষণা হয়েছে বিস্তর। মানুষ ছাড়া আর কেউ হাসে না। এই নিয়ে আজিমভের একটা জটিল গল্প আছে, দ্য জোকস্টার ... আছে অসমঞ্জবাবুর কুকুরকে নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের গল্প। আমার গল্প হাসিকে নিয়ে। না, হাসি কোন বালিকার নামও নয়। তাকে নিয়ে আমার গোপন আশনাইয়ের রগরগে গল্পও বলবো না। আমি বলবো সেই হাসির কথা, যা আমরা মুখ খুলে সশব্দে হাসি। তবে শুরুতে একটা হাসির গল্প বলি। এক লোক মরুভূমিতে হারিয়ে গেছে। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত, হঠাৎ খুঁজে পেলো এক চেরাগ। তুলে ঘষা দিতেই বেরিয়ে এলো দৈত্য। যে কোন হুকুম তামিল করবে সে। লোকটা বললো, আমি বাড়ি ফিরে যেতে চাই। দৈত্য বললো, তথাস্তু, আমার পিছু পিছু আসুন। এই বলে বালির ওপর হাঁটা ধরলো সে। কিছুদূর হেঁটে চটেমটে লোকটা বললো, আমি আরো জলদি জলদি বাড়ি ফিরতে চাই। দৈত্য বালির ওপর দৌড় শুরু করে বললো, তথাস্তু, আমার পিছু পিছু দৌড়ান। যাঁরা এই গল্প পড়ে হাসলেন, তাদের এবার জিজ্ঞেস করি, কেন হাসলেন? কোন জায়গায় এসে হাসলেন? যাঁরা হাসেননি, তাঁদেরও বলি, কেন হাসলেন না? হাসির রহস্য কিছুটা ভেদ করেছেন ভিলায়ানুর রামাচন্দ্রন। মস্তিষ্কবিশারদ। মানুষের মস্তিষ্কের বিবর্তনের সাথেই হাসির রহস্যজড়িত, এই ধরে নিয়ে এগিয়েছেন তিনি। আর মানুষের মস্তিষ্কের বিবর্তনের ধাপ বহু, বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন গতি আর দিকে টেনে নিয়ে গেছে আমাদের মস্তিষ্ককে। কেউ যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, তারপর ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে ওঠে, আমরা অনেকেই হেসে উঠবো। কিন্তু সেই লোক যদি পড়ে গিয়ে মাথা ফাটায় বা অজ্ঞান হয়ে যায়, আমরা হাসবো না, বরং ছুটে যাবো সাহায্য করতে। হাসির রহস্যের একটা আবছা সমাধান আছে এখানেই। হাসিকে ফলস অ্যালার্ম সিগনাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রামাচন্দ্রন। দলবদ্ধ বৃক্ষচারী পূর্বপুরুষের আমল থেকেই সম্ভবত হাসির সূত্রপাত। বিপদ দেখলে সংকেত দেয়া প্রায় সব দলবদ্ধ প্রাণীর আচরণে গাঁথা, কিন্তু যদি সংকেত দেয়ার পর দেখা যায়, বিপদটা আসলে বিপদ নয়? সেক্ষেত্রে আরেকটি সংকেত দিয়ে দলের বাকিদের জানিয়ে দিতে হবে, আগের সংকেত ভুল ছিলো। ফলস অ্যালার্ম ভাইয়োঁ, ভয়ের কিছু নাই, চরে খাও। এই ফলস অ্যালার্মের সংকেত আমাদের ভেতরে সেই থেকে বিদ্ধ হয়ে আসছে। সময়ের সাথে এর কিসিম পাল্টে গেছে, মৌখিক ভাষার বিকাশের পর হয়তো এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। কিন্তু এরই সাথে আমাদের চেতনায় ফলস অ্যালার্ম ঠাঁই করে নিয়েছে অন্যভাবে। আমরা আবিষ্কার করেছি এক নতুন জিনিস, হাস্যরস। উদ্ভট কোন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রত্যাশিত বিপদ যখন প্রাপ্তিতে নিছক সাদামাটা চেহারা নিয়ে আসে, তখন সেই ফলস অ্যালার্মের সংকেত আমরা দিয়ে উঠি, চেতনার গভীর থেকে। হাসির গল্পটা খুব একটা হাসির বোধহয় হলো না। উৎসাহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন রামাচন্দ্রনের দ্য ইমার্জিং মাইন্ড বইটা। হাসুন সবাই প্রাণ খুলে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ « চরম একটি হাসির গল্প
→ চরম একটি হাসির গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now

(২য় খন্ড) খস্তগীরের বিস্ময়কর চিত্রগ্রহন যন্ত্র ০১- একবার পড়ুন

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X ১…ছুটির দিন; বারান্দায় বসে আয়েস করে সদ্য ভাজ ভাঙা পত্রিকা পড়ছিলাম, আর মনে মনে সরকারের পিন্ডি চটকাচ্ছিলাম ৷ এমন সময় বেরসিকের মত ফোনটা বেজে উঠল৷ হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো খস্তগীরের দরাজ কন্ঠ৷ কোনোরকম ভূমিকায় না গিয়ে বলল, দোস্ত আজ রাতে তোর দাওয়াত৷ একটু বিকাল বিকাল আসবি, অনেক গল্প জমে অছে ৷তোর জন্য বিশেষ কবুতরের ফ্রাই রান্না হবে৷ আমি এস এম এসে বাসার ঠিকানা পাঠিয়ে দিচ্ছি৷ এই কথা বলেই আমাকে কোনরকম সুযোগ না দিয়ে লাইন টা কেটে দিল৷ আমার বুঝতে বাকি রইলনা যে দাওয়াত হল বাহানা, নিশ্চই নতুন কোনো ঝামেলা পাকানোর চেষ্টায় আছে এই পাগল৷ বিশেষ কবুতরের ফ্রাই? দিব্যলোকে ভেসে উঠল, পরীক্ষাগারে কবুতরকে মুরগির মত বড় করার গবেষনায় ব্যার্থ বিকলাঙ্গ কোন এক প্রানীর ফ্রাই করা দেহ৷ শিড়দাড়া বেয়ে ভয়ের একটা স্রোত পায়ের পাতা পর্যন্ত নেমে গেল৷ গলায় আটকে থাকা দমটা এক ঢোকে পাকস্থলিতে পাঠিয়ে করুন মুখ করে পাশে পিস্তল নিয়ে খেলতে থাকা ছেলেটার দিকে তাকালাম৷ কি জানি ছেলেটা কি বুঝল! হাত থেকে পিস্তল ফেলে দিয়ে আব্বু আব্বু করে কোলে ঝাপিয়ে পড়ল৷ বাচ্চারা নাকি ফেরেশতা৷ সে কি আমার কোনো আশংকা আঁচ করতে পেরেছে? দুরু দুরু বক্ষে দীপ্ত পদক্ষেপে বেলা থাকতে থাকতে খস্তগীরের বাড়িতে হাজির হলাম৷ ভেবেছিলাম সমগ্র বাড়ি জুড়ে থাকবে কবুতরের জঞ্জালে ভরপুর৷ আর তাদের বিষ্ঠার গন্ধে মৌ মৌ করবে চারিদিক৷ নানান যন্ত্রপাতি এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, খাটের ওপর স্তুপ হয়ে থাকবে বই আর জার্নালের স্প্রিন্ট আর রান্নাঘর পূর্ন থকবে নানা রকমের টেস্টটিউব আর ক্যামিকেল ভর্তি জারে৷ কিন্তু ঘরে ঢুকেই প্রথম ধাক্কাটা খেলাম৷ চমৎকার মিষ্টি গন্ধ েলাম নাকে৷ নিশ্চই মেহমানের আগমনের উপলক্ষে ছড়িয়েছে৷ বাড়ির সবকিছু টিপটপ গোছানো দেখে একটু অবাক হলাম ৷ কৌতুহল চাপতে না পেরে বললাম, কি রে, তোর কবুতরের ল্যাবরেটরি কই? কবুতরের ল্যাবরেটরি মানে? মানে তোর কবুতরের গবেষনার কথা বলছি৷ তীর্যক একটা চাহনি দিয়ে খস্তগীর বলল, তুই কি আমাকে পশু পাখির গবেষক মনে করিস নাকি? আরে না, ঐ যে,, তোকে ঐদিন বাজারে কবুতরকে ঘুসি মারতে দেখলাম৷ ও ঐটা তো আমি কবুতরের সাহস পরীক্ষা করে দেখছিলাম৷ মানুষের মত পশুপাখিও দুই রকমের৷ পরিশ্রমী আর অলস৷ অলস কবুতরগুলো বেশিরভাগ সময়ই ঝিমিয়ে কাটায়৷ তাই এদের মাংস হয় নরম আর চর্বি বেশি থাকে৷ খেতেও খুব মজা৷ ওর কথা শুনে আমার প্রায় ভিমরী খাওয়ার দশা৷ অতঃপর বিশেষ কবুতরের ফ্রাই এর রহস্য উন্মোচন হল৷___(চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (২য় খন্ড) খস্তগীরের বিস্ময়কর চিত্রগ্রহন যন্ত্র ০১- একবার পড়ুন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন