বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমাঞ্চকর গল্পঃ স্বপ্ন ( সাইকো থ্রিলার)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X গলগল করে মুখ থেকে গড়িয়ে রক্ত পরছে। পেটের একাংশ চিরে ফেলা হয়েছে। সেখান দিয়ে শরীরের ভেতরের কিছু অংশ ঝুলে আছে। টপটপ করে রক্ত ঝরছে সেখান দিয়ে। চেহারাটা অস্পষ্ট। তবুও চেহারায় সূক্ষ্ম একটা হাসি দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় কেউ হাসতে পারে ব্যাপার টা ভাবলেই গায়ে কাটা দেয়। তবুও লোকটা হাসছেন। যেখানে মৃত্যু অনিবার্য সেখানে জীবনের শেষ হাসাটুকু হেসে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন লোকটা। লোকটার দাত বের হয়ে গেছে। দাতের ফাকা অংশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রক্তের রং লাল না কালো বুঝা যাচ্ছে না । তবুও স্পষ্ট এগুলো রক্ত। লোকটা হাসতে হাসতে তার হাত বাড়িয়ে দেয়। হাতেও ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে। ২ নুরুজী আজ ছয় দিন পর তার চেম্বারে বসেছে। চেম্বারে বসলেও তিনি আজ রোগী দেখছেন না।তার এসিস্ট্যান্ট কে বলে দিয়েছেন বিশেষ কারনে তিনি আজ রোগী দেখবেন না। কেউ আসলে তার সিরিয়াল টা রেখে বাসায় পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। কাল যথারীতি সিরিয়াল মেন্টেন করে রোগী দেখা হবে। নুরুজী রোগী দেখছেন না। কিন্তু অবসর সময় যে কাটাচ্ছেন তেমন ও না। তিনি "স্বপ্নের ব্যাখ্যা" নামক একটি বই নিয়ে বসেছেন। তিনি এইসব বইয়ে বিশ্বাস করেন তা নয়। তারপরেও তিনি বই টা দেখছেন। তিনি বই টা যোগাড় করেছেন তার বাসার দারোয়ান খলিলের কাছ থেকে। সেটাই নেড়েচেড়ে দেখছেন তিনি।বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি একটি স্বপ্ন বারবার দেখছেন। স্বপ্নটা অনেকটা এমন "নুরুজী ও আর একটা লোক গাছে উঠছেন। তারা গাছে উঠার প্রতিযোগিতা লেগেছেন লোকটা নুরুজীর আগে গাছে উঠে যাচ্ছেন। নুরুজী কোন ভাবেই লোকটাকে ধরতে পারছেন না। নুরুজী অনেক চেষ্টা করেও লোকটার আগে যেতে পারলেন না। লোকটা নুরুজীর আগে গাছের একদম উপরে উঠে গেছেন। নুরুজী তার পিছনে পিছনে উঠেছেন। লোকটা ঘুরে নুরুজীর দিকে তাকালেন। নুরুজী অবাক হয়ে দেখলেন লোকটা তো তিনি ই। আর তখন নিজেকে লোকটার ছায়া মনে হতে থাকে নুরুজীর। লোকটা নুরুজীর দিকে তাকিয়ে নুরুজী কে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন " নুরুজী আর নিচে পরতে পারে না। তার আগেই তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। নুরুজী বইটা খুঁজতে খুঁজতে "নিজেকে স্বপ্নে দেখা" অধ্যায়ে একটা জায়গায় পেলেন " যদি স্বপ্নে কেউ দেখে যে পাহাড়ের চূড়া অথবা গাছের উপর থেকে অথবা কোন কিছুর উপর থেকে নিজেকে নিজে ফেলে দিচ্ছে তাহলে তার সামনে অনেক বড় বিপদ। এবং সে বিপদের কারন হবে সে নিজেই। যতোই সাবধান থাকে কোন লাভ নেই। বিপদে তাকে পরতেই হবে। বিপদ অনিবার্য। নুরুজী ব্যাখ্যাটা পড়ে হাসতে থাকেন। তিনি এইসব বইয়ে বিশ্বাস করেন না।ফুটপাথের ১০টাকার বইয়ে যদি আসোলেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা পাওয়া যেতো তাহলে হয়তো স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক গরীব কোটিপতি হয়ে যেতো। কিন্তু অশ্চার্য্য ব্যাপার হলো এই সব বইয়ে গরীব রাই বেশি বিশ্বাস করে। তারা ভাবে যদি এই বইয়ের বাহানায় তাদের ভাগ্য ফিরে যায়। নুরুজী তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা এতো তারাতারি পেয়ে যাবে ভাবেন নি। এখন আর তার সময় কাটছে না। তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন মাত্র সন্ধ্যা ৭টা বাজে। ৯টা পর্যন্ত তার চেম্বারে থাকার কথা। তিনি তার এসিস্ট্যান্ট কে ডেকে বলে দিলেন কেউ আসলে পাঠিয়ে দিতে।তিনি আজ সিরিয়াল ছাড়াই রোগী দেখবেন। ৩ যে ছেলেটা নুরুজীর সামনে বসে আছে ছেলেটার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। চোখের নিচে কালো দাগের স্তর পরেছে। ছেলেটাকে দেখলে যে কেউ বলে দিতে পারবে ছেলেটা প্রচন্ড রকমের অস্থিরতায় ভুগছে। যার কারনে সে বাড়ি থেকে বের হবার সময় ও চুল গুলো ঠিক করার প্রয়োজন মনে করেনি।ছেলেটা যে রাতে ঘুমাতে পারে না তা তার চোখের নিচের কালো দাগ ই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে। নুরুজীর হাতে ছেলেটাকে নিয়ে যেসব তথ্য আছে সে সব তথ্য অনুযায়ী ছেলেটার নাম ইমন হবার কথা। তারপরেও নুরুজী মুখে একটি হাসি টেনে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম কি? ছেলেটি সহজ ভাবেই উত্তর দিলো "ইমন" নুরুজী পরিবেশ হালকা করার জন্য মুখের হাসিটা ধরে রেখে বললেন তা ইমন কেমন আছো তুমি? -জ্বী ভালো। নুরুজী বললেন "ভালো যে নেই তা বুঝতেই পারছি তোমাকে দেখে।তুমি যে শার্টের একটা বোতাম উল্টো লাগিয়েছো তাও লক্ষ্য করো নি। ইমন অবাক হয়ে নিচে তাকিয়ে দেখে ঠিকি সে একটি বোতাম অন্যটার জায়গায় লাগিয়ে রেখেছে। ইমন হটাত করেই অপ্রস্তুত হয়ে যায়।বোতাম টা ঠিক করার চেষ্টা করতে থাকে। নুরুজী ইমন কে সময় দেয়। তিনি বুঝতে পারছেন ইমন কঠিন সময় পার করছে। ইমনের বোতাম লাগানো হয়ে গেলে নুরুজী শান্তভাবে ইমনকে জিজ্ঞেস করেন "তা ইমন কি সমস্যা তোমার? " ইমন স্থির ভাবে উত্তর দেয় " স্বপ্ন" নুরুজী অবাক হয়ে যান কিছুটা। কারন এই স্বপ্ন নিয়ে তিনিও কিছু ঝামেলায় আছেন। নুরুজী তার অবাক হবার ভঙ্গী টা গোপন করে বলেন "স্বপ্ন আবার কিভাবে সমস্যা করতে পারে? " -আমি জানিনা তবে আমার সব সমস্যা একটি স্বপ্ন। নুরুজী জিজ্ঞেস করেন ইমন কে "কি স্বপ্ন দেখো তুমি? ইমন ঘামতে শুরু করেছে। ইমন বলার চেষ্টা করছে কিন্তু বলতে পারছে না। নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন "ইমন তুমি বলে ফেলো কোন ভয় পেও না। অস্থির হবার দরকার নেই। তোমার সময় নাও। আস্তে আস্তে বলো। রীতিমতো ইমনের হাত-পা কাপা শুরু করেছে।ইমন এক গ্লাস পানি একেবারেই খেয়ে ফেলে। কোন ভাবেই শান্ত হতে পারছে না সে। নুরুজী ইমনে অবস্থা বুঝতে পারেন তিনি বলেন "আচ্ছা ইমন তোমার বলা লাগবে না। বলতে কষ্ট হলে বাদ দাও। তুমি বাসায় চলে যাও। ইমন অস্থির হয়ে বলে উঠে না না আমার বলতে হবেই। আমি এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই। অনেক দিন থেকে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পরেছি। নুরুজী বললেন "তাহলে এক কাজ করো তুমি বাসায় চলে যাও তোমার কথা গুলো রেকর্ড করে নিয়ে আসো। অথবা লিখে নিয়ে আসো। ইমন বললো "আমি এখানেই লিখে দেই। আজ লিখে দিয়ে যাই। আমি ২-৩দিন পর আবার আসবো। সেদিন আপনি বলবেন এর সমাধান কি। আপনার এখানে কি খাতা কলম হবে? হ্যা অবশ্যই। বললেন নুরুজী। তিনি খাতা কলম ইমনের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। সাথে বললেন নিচে তোমার বাসার ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বারটা লিখে দিয়ো।আমি দুরে সরে গেলাম। তুমি আস্তে আস্তে লিখো। নুরুজী দুর থেকে ইমন কে দেখছেম ছেলেটা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। লিখে যাচ্ছে নিজের মতো করে। ছেলেটা অসম্ভব সুন্দর একটি ছেলে। চেহারার অস্থিরতার কারনে ছেলেটার সৌন্দর্য বোঝা যাচ্ছে না। ছেলেটা কোন সমস্যায় না থাকলে তাকে রাজকুমার অথবা প্রিন্স বললেও খুব বেশি অপরাধ হতো না।কারন ছেলেটার চেহারায় সৌন্দর্যের সাথে সাথে মায়া ও রয়েছে অসম্ভব। এই দুইটা জিনিস খুব কম মানুষের চেহারাতেই থাকে। ছেলেটার নাম্বার অথবা বাসার ঠিকানা নুরুজীর প্রয়োজন নেই। তবুও তিনি চেয়েছেন। কেন চেয়েছেন জানেন না। শুধু মনে হলো নাম্বার টা লাগবে।সাথে বাসার ঠিকানা টাও। ৪ নুরুজী ইমনের লিখাটা নিয়ে বসেছেন। ইমন নুরুজী কে রিকুয়েস্ট করেছিলো বাসায় যাবারর আগে যেনো তিনি লিখাটা না পড়ে। নুরুজীর ইমনের কথাটা রেখেছেন। তিনি খুলেন নি। বাসায় এসে সব কাজ শেষ করেই তিনি লিখাটা নিয়ে বসেছেন। তিনি লিখাটা পডার আগে ইমন কে নিয়ে কিছু লিখলেন তার কম্পিউটারে। নামঃইমন বয়সঃ ২১-২৩ এর মাঝে। মন্তব্যঃ ছেলেটা অত্যান্ত ধৈর্যশীল। তার কাছের মানুষ খুব কম। নিজে নিজের কাছে অনেক একা। কারো সাথে কোন কিছু শেয়ার করতে পারে না। যার কারনে স্বপ্নের বিবরন সহজ ভাবে দিতে পারছিলো না। খাতা কলমের সাহায্য নিতে হয়েছে। ছেলেটার লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে। খুব সম্ভবত তার সব কথা সে লিখে রাখে। কারন অতি অল্প সময়ে অনেক লিখা লিখে ফেলেছে সে। এবং কলম চালানো দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো এই কাজটায় সে বেশ অভ্যস্ত। ছেলেটা অনেক বড়লোক ঘরের ছেলে। আসার সময় গাড়ি দিয়ে এসেছে। গাড়িটা ছিলো "জাগুয়ার " ব্যান্ড এর। কারন এই গাড়ীর ডুয়েল টার্বো ইঞ্জিনের শব্দ অনেক দুর থেকে শুনলেই বোঝা যায়। আর ছেলেটা আসার আগে ও যাওয়ার সময় তিনি এই গাড়ীর ইঞ্জিনের শব্দ পেয়েছেন। নুরুজী ইমনের লিখাটা পড়তে শুরু করলেন "স্বপ্নটা আমি যখন প্রথমবার দেখি আমার বয়স খুব বেশি হবে না। বেশি হলে ৫-৬। তখন সবে মাত্র বুঝতে শুরু করেছি। এক রাতে আমি দেখলাম আমার বিছানার চারপাশে শুধু রক্ত আর আর রক্ত। আমি এদিক ওদিক তাকাতে থাকলাম দেখি দরজার সামনে একটি লোক দাড়িয়ে আছে। তার সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। পেটের কিছু অংশ খুবলে আছে। লোকটার মুখে কোন যন্ত্রনা ছিলো না। ছিলো শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন। লোকটা হাসছিলো। তখন আমার সামনে দিয়ে একটি তরুনী বয়সের মেয়ে তেড়ে যায় লোকটার দিকে। তার হাতে একটি ছুড়ি। সেটি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে লোকটার বুকে। লোকটা কোন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে না। আস্তে আস্তে লোকটা নিথর হয়ে যায়। সেদিন ছিলো আমার প্রথম খারাপ রাত। আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি সারারাত কাদি। আম্মুর কাছে চলে যাই। তবুও ভয় আমার কাটে না। এই বুঝি রক্ত আমার কাছে আসলো। এই বুঝি লোকটা আমার দিকে তেড়ে আসলো। আমি সেদিন বুঝতে পারি নি সেদিন থেকেই আমার খারাপ সময় শুরু হবে। তার পরদিন রাতে আমি ঠিক একই স্বপ্ন দেখি। আবার সেই ভয়। আবার সেই কান্না। অনেক ডাক্তারের কাছে গিয়েছি।হুজুরের কাছে গিয়েছি। তাবিজ কবজ হয়েছে। কোন ফল হয়নি। আমি এই স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে থাকি। একদিন রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি পানি খেয়ে আলো জ্বালাই। দেখি সে লোকটা আমার পাশে বসে আছে। গা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে।আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আমি ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই। এভাবে স্বপ্ন দেখা ওই লোক কে দেখা আমার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে যায়। স্বপ্নে বাস্তবে একটি মিল। লোকটি আমার কাছে এগিয়ে আসে। কিন্তু আমাকে স্পর্শ করতে পারেনা। তার আগে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই, ঘুম ভেঙে যায়। কিছু না কিছু একটা হয়। আমি ভয়ে একা একা কাঁদি। কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। পারি নি কোন এক অজানা কারনে। আমি আম্মু কে আব্বুকে ভয়ে কিছু বলতে পারি না। পাছে তারা আমাকে পাগল ভাবে পাগলাগারদ এ পাঠিয়ে দেয় সে ভয়ে। এর কি সমাধান আমি জানিনা। তবে এই রক্ত মাখা লোককে আমি আর দেখতে চাই না। আমি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চাই। ডাক্তার প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন। আমি বাঁচতে চাই। নুরুজী লিখাটা পড়া শেষ করে যত্ন করে রেখে দিলেন। আর "ছেলেটা অনেক ধৈর্যশীল " কথাটার নিচে আন্ডার লাইন করে দিলেন। মধ্যরাতে হটাত করেই নুরুজীর ঘুম ভেঙে যায়। তার মোবাইল টা বেজে চলেছে। মোবাইল নামক যন্ত্রটা নুরুজী সাথে রাখা যেদিন থেকে শুরু করেছে সেদিন থেকেই এই যন্ত্রটা পেইন দিয়ে যাচ্ছে। নুরুজী ফোনটা রিসিভ করেন। হ্যালো বলেন। ওপার থেকে ভারী গলায় একটা আওয়াজ আসে "নুরুল ইসলাম জীবন বলছেন?" নুরুজী হ্যা সূচক উত্তর জানায়। গলাটা আরো গম্ভীর করে লোকটা বলেন "আপনি ইমনের কেইস টা ছেড়ে দিন। ওকে আপনার দেখা লাগবে না। যতো টাকা লাগে পাবেন। নুরুজী ধাক্কার মতো খান কিছুটা। তিনি বলেন "আপনি কে বলছেন? " ওপার থেকে উত্তর আসে " আমি যে ই হই আপনি ইমনের ট্রিটমেন্ট করবেন না সোজা কথা। তার জন্য আপনি যথেষ্ট মূল্য পাবেন। নুরুজী সোজা জানিয়ে দেয় "আমার অর্থের দরকার নেই। আমি ইমনের কেইস টা ছাড়ছিনা।" লোকটা এইবার উগ্র ভাবে কথা বলা শুরু করে "তাহলে তো আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ভালো চান তো ইমন থেকে দুরে থাকুন। নুরুজী হাসেন তিনি বলেন " প্লিজ আমার সাথে বাংলা ছবির ডায়লগ মারবেন না। কি করবেন করেন দেখা যাবে।" লোকটা আরো ক্ষেপে গিয়ে বলেন "ভালো হবে না। পস্তাতে হবে আপনাকে। অনেক পস্তাতে হবে এর জন্য বেশি সাহস ভালো না" লোকটা ফোন কেটে দিয়েছে। নুরুজী হাসছেন। নুরুজী পুরোপুরি সফল। তিনি লোকটাকে ২মিনিট ৩০সেকেন্ড কথা বলাতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে খুব সহজের লোকটার লোকেশন বের করা যাবে। লাভের লাভ আরো একটি হয়েছে। লোকটিকে রাগিয়ে দেয়া গেছে। যার ফলে লোকটার কথার মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য আঞ্চলিক টান চলে এসেছিলো। এখন ইমনের থেকে একটু খোঁজখবর নিলেই লোকটা আসোলে কে বের করা যাবে।রাগ চমৎকার একটা জিনিস। মানুষের ভিতরের সকল লুকায়িত তথ্য প্রকাশ পায় এই রাগের মাধ্যমে। তবে নুরুজী ও জেদ করে কি করে ফেললো সে বুঝতে পারছে না। কাজটা কি ঠিক হলো? তার যদি সত্যি ই কোন বিপদ হয়। যাই হয় হোক ইমন ছেলেটাকে সাহায্য করা দরকার। নুরুজী একটি ফোনকলের মাধ্যমে অনেক কিছুই পেয়ে গেছেন। তিনি আগে ভাবছিলেন ইমনের এই সমস্যা শুধুই স্বপ্নঘটিত। অথবা নরমাল ব্রেইন ডিজঅর্ডার। কিন্তু এখন একটা ব্যপার ক্লিয়ার হয়ে গেছে ব্যাপার টা শুধুই স্বপ্ন ঘটিত নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে বড় কোন ঘটনা। যা নুরুজী কে খুঁজে বের করতেই হবে। আর এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ই হবে ইমনের একমাত্র ঔষধ। নুরুল এই নুরুল উঠ। অনেক দূর থেকে ডাক টা ভেষে আসছে। নুরুজী চোখ খুলে দেখে তিনি একটি গাছের উপরে বসে আছেন। গাছটা অনেক উঁচু। সেই গাছের নিচ থেকে কেউ তাকে ডাকছে। নুরুজী খুব ভালো করে লক্ষ্য করে দেখেন লোকটা আর কেউ নয় তিনি নিজেই। নুরুজী উপর থেকেই কথা বলার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু তার মুখ থেকে কোন কথা বের হয় না। নুরুজী লক্ষ্য করছেন নিচে থাকা লোকটার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। নুরুজী অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছেন না। তিনি ঘামা শুরু করেছেন। নিচে থাকা নুরুজীর মতো লোকটা চিৎকার করব বললেন "নুরুল তুই ভুল করলি। তুই নিজের বিপদ ডেকে আনলি । তোকে আগেই সাবধান করেছিলাম। তুই কথা শুনিস নি। তুই ভুল করলি নুরুল বড্ড বড় ভুল করলি। নুরুজী আবারো কিছু বলতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন। তিনি প্রাণপণে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন কিছু বলার জন্য। কিন্তু পারছেন না। তিনি তাকিয়ে তাকিয়ে নিচে থাকা তার মতো লোকটার হাসি দেখছেন। হাসির শব্দ বেড়েই চলেছে। সব কেমন যেনো ঘোরের মতো হয়ে যাচ্ছে। হাসিটা মিলিয়ে যাচ্ছে দূর থেকে দূরে। সামনে সব কিছু ধবধবে সাদা হয়ে যাচ্ছে। নুরুজী চোখ খুলে অনুভব করেন তার সারা ষরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। মাথাটা ঝিম মেরে আছে। মাত্র দেখা স্বপ্নটাকে স্বপ্ন মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বাস্তব। মনে হচ্ছে তিনি এই দুনিয়াতে নেই। সব কিছু কেমন যেনো লাগছে। ঘুম কেটে গেলেও নুরুজীর ঘোর কাটেনি। তিনি বিছানা থেকে উঠে চোখে মুখে পানি দেন। বাহিরে তাকিয়ে দেখেন সকাল হয়ে গেছে। নুরুজী আর না ঘুমানোর পরিকল্পনা করেন। সকাল ৭টা বাজে। পাশের হোটেল থেকে খাবার আসবে নয়টায়। কিন্তু নুরুজীর এখুনি ক্ষুদা লেগেছে। তিনিসেটাকে পাত্তা না দিয়ে ভাবতে থাকেন কি দেখলেন তিনি? পরক্ষনেই নিজের মন কে শান্তনা দেন এগুলো কিছু না। সারাদিন এটা নিয়ে ভাবায় এমন স্বপ্ন দেখেছি। যেটা হওয়া স্বাভাবিক। আর স্বপ্ন কোন দিন সত্যি হতে পারেনা। নুরুজী স্বপ্নের কথা মাথা থেকে তাড়িয়ে দেবার চিন্তা করতে থাকেন। তখনি তার ইমনের স্বপ্নের কথা মনে পরে যায়। ছেলেটা বিপদে আছে। ওকে সাহায্য করা দরকার। তিনি আজ ই ইমনের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। একান্ত কিছু কথা। ইমন ছেলেটা নুরুজীর পাশে বসে আছে। আজ ছেলেটা লাল রঙের একটা শার্ট পড়ে এসেছে। চুল গুলো ও সুন্দর ভাবে ঠিক করে এসেছে। আজ ছেলেটার ভিতরের রুপ ফুটে উঠেছে। একটি ছেলে এতো সুন্দর হয় কি করে তা আসোলেই ভাববার বিষয়। নুরুজী মুখে হাসি টেনে বলেন "কি ইমন কেমন আছো?" ইমন আজ প্রথমবারের মতো আলতো করে একটি হাসি দিয়ে বলে "হ্যা ভালো আছি। আপনি? " "আমি ভালো আছি। আসতে কোন সমস্যা হয় নি তো?" ইমন কে জিজ্ঞেস করলেন নুরুজী। "নাহ। সমস্যা হয় নি। আপনি আমাকে গাড়ি ছাড়া আসতে বলেছেন আপনি কিভাবে জানলেন আমার গাড়ি আছে? আর আমার স্বপ্নের সমাধান কি হয়েছে?" "মনে হয় হয়েছে। আমার কিছু প্রমান দরকার। তাই তোমাকে ডাকা। আমি কিছু প্রশ্ন করবো।যতোটা পারো সত্যি উত্তর দিবে।" আচ্ছা অবশ্যই। বললো ইমন। -আচ্ছা ইমন তোমার আব্বু আম্মু তোমার সাথে কেমন ব্যাবহার করে? -হ্যা ভালো। তারা কোন দিন আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন না। -গুড। আচ্ছা তুমি যে লোকটাকে দেখো তার চেহারার হালকা বিবরন কি তুমি আমাকে দিতে পারবে? -হ্যা অবশ্যই। ইমন বর্ণনা দেয় লোকটার। নুরুজী ইমনের কথা গুলো রেকর্ড করে রাখে। ইমন নুরুজী কে জিজ্ঞেস করে এতে কি লাভ হবে? নুরুজী একটা হাসি দিয়ে বলেন "সময় হলে দেখতে পাবে। নাও জুস টা খেয়ে নাও। আর হ্যা আমি তোমার বাসায় একটু যেতে চাই।নেয়ে যাবে কি আমাকে? ইমন অস্থিরতার একটা ভাব দেখিয়ে বললো হ্যা অবশ্যই" নুরুজী ইমনের বাসাটাটা দেখে এসেছে। তিনি ভেবেছিলেন তিনি গেলে ইমনের বাবা মা ব্যাপারটা সহজ ভাবে নিতে পারবে না। অথচ ইমনের বাবা মা নুরুজী কে দেখে প্রচন্ড খুশি হয়েছে। অনেক আপ্যায়ন করেছে। এমনকি তাদের প্রতিটা রুম নুরুজী কে ঘুরিয়ে দেখেছে।যদি ইমনের কোন কাজে আসে। তারাও মনে প্রানে চায় যে ইমন সুস্থ হোক। সব হিসেব প্যাচ লেগে যাচ্ছে। নুরুজী প্রথমে ভেবেছিলো ফোনটা ইমনের বাবা করেছে। কিন্তু তাকে দেখে তেমন মনে হলো না।তাহলে ফোনটা কে করেছে। ভাবতে ভাবতে নুরুজীর মোবাইলে সে নাম্বার থেকে ফোন আসে। নুরুজী ফোনটা রিসিভভ করে না চেনার একটি ভঙ্গী করে জিজ্ঞেস করলেন কে? অপর পাশ থেকে উত্তর আসলো "অনেক বড় ডাক্তার হয়ে গেছেন তাই না। দেখি কিভাবে কি করেন। তবে আপনার পস্তাতে হবে। না করেছিলাম কথা শুনেন নি। আজ ইমনের বাসায় গিয়ে ভুলটা করছেন আপনি। অনেক পস্তাতে হবে। নুরুজী কিছুই বলে না। একটা হাসি না। ওপারে লোকটা ক্ষেপে গিয়ে কিছু খারাপ ভাষায় বকতে থাকে। নুরুজী ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা বন্ধ করে দেয়। এই সব ফালতু ফোন কলের পিছনে বসে থেকে লাভ নেই। তার এখন অনেক কাজ। অনেক গুলো কাজ করতে হবে। আর তিনি বুঝে গেছেন ফোনের অপর পাশের লোকটা আহাম্মক ছাড়া আর কিছুই না। তিনি কিছু করতে পারবে না হুমকি ধামকি ছাড়া।কারন যারা সত্যি কিছু করার ক্ষমতা রাখে তারা ঠান্ডা মাথায় করে। বকা দিয়ে মুখ খারাপ নয়। নুরুজী আজ সকাল সকাল ই ব্যাস্ত হয়ে পরেছেন। থানায় যেতে হবে। সকালে থানা থেকে ফোন এসেছিলো। ফোনে থ্রেড দেয়া আহাম্মক টাকে সহজেই গ্রেফতার করা গেছে। নুরুজী সে লোকটার চেহারা একটু দেখতে চান। কে এই লোক। হয়তো এই লোকের ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসবে সকল রহস্যের হিসেব। নুরুজী থানায় এসে যা দেখলেন তা দেখে তিনি মোটামুটি একটা ধাক্কা খেয়ে ফেললেন। তিনি এই দৃশ্য দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। একটি লোক থানার অসির পায়ে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। আর বাচ্চাদের মতো কান্না করছে। আর ২জন হাবিলদার লোকটার পায়ে ধরে টানা হিচড়া করছেন। কিন্তু যতো জোরে টান দিচ্ছেন লোকটা অসির পা ততো জোড়ে চেপে ধরে রাখছে। ভাবটা এমন অসি সাহেবের পায়ের ইঞ্জুরি না ঘটিয়ে তিনি পা ছাড়বেন না। অসির নাম খুব সম্ভবত মিঃ হারুন। হারুন সাহেব চিৎকার করে বলছেন "পা ছাড় ব্যাটা। আমাদের হাতে কিছু নেই। নুরুল সাহেব আসলে সব হবে। এ কথা বলায় লোকটার কান্নার বেগ বেড়ে যায়। এতোটাই বেড়ে যায় যে নাক দিয়ে সর্দি বেরুতে থাকে। কিন্তু সেদিকে লোকটার খেয়াল ই নেই। হারুন সাহেব এই দৃশ্য দেখা মাত্রই বলা শুরু করেন "ছি ছি ইয়াক। এই ব্যাটা পা ছাড়লি নাকি সেলের ভিতরে নিয়ে পেঁদানি দিবো? নুরুজী হালকা একটি কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন। হারুন সাহেব নুরুজীর দিকে তাকিয়ে বললেন ওইতো নুরুজী এসেছেন। এটা বলার সাথে সাথে যা ঘটলো তার জন্য নুরুজী মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। লোকটা হারুন সাহেবের পা ছেড়ে,হাত দিয়ে নিজের নাক পরিষ্কার করতে করতে দৌড়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন নুরুজীর পায়ে। বলা শুরু করলেন "স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি কিছু জানিনা। আমারে বড়সাব আপনারে ফোন দিতে কইছে আমি ফোন দিছি। স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি গরীব মানুষ।" লোকটা বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে লোকটা আসোলেই সরল। একটু বেশি ই সরল। নুরুজী বললেন "আগে পা ছাড়ো। তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু তোমাকে সত্যি সত্যি সব বলতে হবে। লোকটার কান্নার বেগ এইবার একটু কমে। তিনি মনে হয় নুরুজীর কথায় আস্বস্থ্য হয়েছেন। তিনি নুরুজীর পা টা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাড়ান। বাচ্চাদের মতো হাত দিয়ে চোখের পানি নাকের পানি মুছতে মুছতে পুরো মুখ মাখামাখি করে ফেলেন। একদিম বিচ্ছিরি অবস্থা হয়ে যায়। নুরুজী তার পকেট থেকে একটি টিশ্যু বের করে লোকটাকে দেন ঠিক মতো পরিষ্কার করার জন্য। নুরুজী বসে আছে সামনে বসে আছে খলিল। একটু আগে জানা গেছে লোকটার নাম খলিল। লোকটা ইমন দের বাসার দারোয়ান। ইমনের বাবা ৫০০টাকার বিনময়ে খলিল কে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। খলিল গরীব মানুষ। অতশত বুঝে না। ভেবেছে শুধুমাত্র ফোন করে যদি ৫০০টাকা পাওয়া যায় তাহলে আর ক্ষতি কি। প্রতিদিন তো আর এমন সুযোগ আসেনা। কিন্তু এই সামান্য ফোনকল যে তাকে থানা পর্যন্ত নিয়ে আসবে সেটা খলিল স্বপ্নেও ভাবেনি । নুরুজী খলিল কে ছেড়ে দিতে বলেছেন তবে সেটা ২দিন পর। এখন ছেড়ে দিলে খলিলের বিপদ হতে পারে। এটা শুনে বেচারা খলিল আবার কান্না শুরু করেছে। একটাই কথা "আমার দুইটা ছুডু মাইয়া আছে। আমি না গেলে ওরা একলা একলা ডরাইবো। খাইতে পারবো না।ঘরে বাজার নাই" নুরুজী খলিল কে অভয় দিয়ে বলেন তুমি চিন্তা করো না খলিল আমি তোমার মেয়েদের দেখে রাখবো। ইন্সপেক্টর হারুন নুরুজী কে জিজ্ঞেস করলেন "ইমনের বাবা কেন ওর ট্রিটমেন্ট বন্ধ করতে চায়? বাবা হয়ে ছেলের ক্ষতি চায় কেন? নুরুজীর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।তিনি বললেন "কাল রাত পর্যন্ত আমার মনেও এই প্রশ্ন টা ছিলো।কিন্তু সব কিছু হাতে পেয়ে এখন সব কিছু পানির মতোই পরিষ্কার। আমি থানায় আসার আগেই জানতাম ইমনের বাবার লোক ধরা পরবে। কিন্তু সেটা কে তাই দেখার জন্য আসা আরকি।" হারুন সাহেব বললেন "তার মানে আপনি আগে থেকেই সব জানতেন? " "না সব জানতাম না। শুধু ধারনা ছিলো। আর কাল সব প্রমান হাতে পেয়েছি। "কই আমি কি দেখতে পারি" "নাহ। আগে ইমন কে দেখাবো। ইমনের বাবা মা কে দেখাবো। চাইলে আপনি আসতে পারেন আমার সাথে" ইন্সপেক্টর হারুন লোভনীয় ভাবে বলেন "এমন একটি রহস্য উন্মোচনের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারলে মন্দ হবে না" নুরুজী একটি হাসি দিয়ে বলেন "আপনি সাথে কিছু ফোর্স নিয়ে নিন তাহলে। ওখানে অনেক কিছুই হতে পারে।" ৫ নুরুজী তার বাসায় বসে আছেন। বরাবর বসেছে ইমন ও ইমনের বাবা মা। ইমনের বাবা মায়ের মুখে কৃত্তিম হাসি স্পষ্ট। নুরুজী তাদের তোয়াক্কা না করে ইমনকে জিজ্ঞেস করলেন "ইমন তুমি কি প্রস্তুত? তোমার সব কিছুর সমাধান আমার হাতে চলে এসেছে। ইমন উত্তেজিত ভাবে বললো "হ্যা আমি প্রস্তুত। আপনি বলেন তারাতারি বলেন।" নুরুজী সামনে রাখা প্যাকেট থেকে একটি ছবি বের করলেন। ছবিটা ইমনকে দেখিয়ে বললেন "ইমন এটা কে চিনো? " ইমন না সূচক উত্তর জানিয়ে দিলো। নুরুজী হাসলেন। ইমনের মায়ের দিকে তাকালেন। তার চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি। নুরুজী সেদিকে খেয়াল না করে বললেন আমি জানতাম তুমি চিনবে না। নুরুজী প্যাকেট থেকে আরো একটি ছবি বের করলেন। রক্ত মাখা চেহারার একটি ছবি।ইমন কে দেখিয়ে বললেন এটা কে চিনো? ইমন চমকিয়ে উঠে। ওর হাত পা কাপা শুরু করেছে। ইমন তোতলাতে থাকে। নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন ইমন ভয় পেয়ো না। চিনো কিনা বলো। ইমন বললো হ্যা চিনি। এই লোকটাকেই আমি স্বপ্নে দেখি। ইমনের মা খেঁকিয়ে উঠলো। বন্ধ করেন এই সব। কি আলতু ফালতু কাজ এগুলো। আপনি ডাক্তার ঔষধ দিন।এইসব ছবি দেখানোর মানে কি। নুরুজী সেদিকে লক্ষ্য না করে ইমন কে বললেন "গুড। ওই রক্ত মাখা লোকটাই এই ছবির লোক। ইমন লোকটার ছবি ভালো ভাবে দেখছে। লোকটা অসম্ভব সুন্দর। ইমনের চেয়েও অনেক বেশি। ইমন ছবি থেকে মুখ সড়িয়ে নুরুজী কে লক্ষ্য করে বললো, আপনি এই ছবি গুলো কোথায় পেয়েছেন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোমাঞ্চকর গল্পঃ স্বপ্ন ( সাইকো থ্রিলার)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now

২৮.আমেরিকার এক অন্ধকারে (৭-শেষ)

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরাফাত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X আকাশে উড়ল হেলিকপ্টার। জানালা দিয়ে আহমদ মুসা হাত নাড়ল ডাঃ আহমদ আশরাফ ও পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে। নিউ মেক্সিকো এয়ার ফিল্ডের হেলিপ্যাডে ডাঃ আহমদ আশরাফের পরিবারের সবা্ই এসেছে আহমদ মুসাকে বিদায় জানাবার জন্যে। আহমদ মুসা খুব খুশী হলো হেলিপ্যাডে আসা ডাঃ আশরাফের স্ত্রী ফায়জা আশরাফ ও মেয়ে সারা সাদিয়ার পোশাক দেখে। ফুলহাতা ও পা পর্যন্ত নামানো গাউন পরেছে, তার উপর পরেছে বড় ওড়না। দেখেই মনে হচ্ছে এর চলমান সাধারণ জনস্রোত থেকে পৃথক, এরা মুসলিম। আহমদ মুসার খুব কষ্ট লাগছে মনে, পরিবারটা খুবই আহত হয়েছে। ওদের দাবী ছিল দু’একটা দিন অন্তত থাকি। আবার পরিস্থিতির নাজুকতা দেখে বাধা দেয়ারও পথ পাচ্ছে না। এই অবস্থার টানা পোড়নে পরিবারটি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। ডাঃ আহমদ আশরাফ ও ফায়জা আশরাফ পরিণত বুদ্ধির মানুষ বলে তাদের অবশেষে বুঝানো গেছে। কিন্তু অবুঝ সারা সাদিয়া এবং আহমদ আশফাকের জেদ থামানো যায়নি। যুক্তিতে না পেরে কেঁদে ফেলেছে তারা। কোন যুক্তি না পেয়ে আহমদ আশফাক কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, আপনার সাক্ষাত লাভের সুযোগ ও সামর্থ আমাদের অতীতেও ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। আল্লাহই আপনাকে আমাদের মাঝে নিয়ে এসেছেন। আল্লাহ যখন সুযোগ আমাদের দিয়েছেন, তখন আপনার উপর আমাদের একটা অধিকার রয়েছে। মেহমান তিন দিন যেমন থাকতে পারেন, তেমনি মেহমানকে তিন দিন আমরা রাখতেও পারি। মেহমানকে আমরা যেমন তিন দিন রাখতে নীতিগতভাবে বাধ্য, তেমনি মেহমানও তিন দিন থাকতে নীতিগতভাবে বাধ্য’। যুক্তি শুনে হাসতে হয়েছে আহমদ মুসাকে। আহমদ মুসা বলেছিল তাকে, ‘আমি দোয়া করছি, আল্লাহ তোমাকে একজন নাম করা কুটনীতিক, না হয় সেরা একজন আইনজীবি করুন। তোমার যুক্তির কাছে আমি পরাজিত। কিন্তু থাকা সম্ভব হচ্ছে না ভাই’। আহমদ আশফাকের যুক্তির চেয়ে সারা সাদিয়ার যুক্তি ছিল আরও প্রবল। আহমদ মুসার পরিচয় পাওয়া এবং সেদিন আহমদ মুসা তাকে বড় ওড়না পরতে বলার পর সে আহমদ মুসার সামনে আর আসেনি। কিন্তু বিদায়ের প্রস্তুতির সময় সারা সাদিয়া এসে ড্রইং রুমের দরজায় দাঁড়ায়। পরনে লম্বা গোলাপী গাউন। বড় সাদা চাদরে ঢাকা মাথাসহ গা। দরজায় দাঁড়িয়ে মুখ নিচু করে ভারী কন্ঠে বলেছিল সে, ‘এক ঝলক আলো জ্বেলে পথ দেখিয়ে, আবার অন্ধকারে নিমজ্জিত করে চলে যাচ্ছেন আপনি’। ‘না বোন, যে পথের কথা আমি বলেছি, তা কখনই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় না। কোরআন এবং হাদিস তোমাদের ঘরেই রয়েছে। পথের দিশারী ওগুলোই’। ‘আমাদের কি সে যোগ্যতা আছে? থাকলে আপনি যা বলেছেন, তা আমরা আগে বুঝিনি কেন? কেউ আমাদের বোঝায়নি কেন?’ ‘আরও পড়তে হবে। আরও বোঝার চেষ্টা করতে হবে, তাহলে দেখবে চলার পথটা তোমার সামনে সুষ্পষ্ট হয়ে গেছে’। ‘জ্ঞান ও যোগ্যতা অনুসারে মানুষ বোঝে। আমার বা আমাদের সে জ্ঞান ও যোগ্যতা থাকলে আগেই তো বুঝতাম। জ্ঞান ও যোগ্যতা শাণিত করার জন্যে অবশ্যই আপনাদের দরকার হয়’। ‘ঠিক বলেছ বোন। এ এক বাস্তব সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে মুসলিম নেতৃবৃন্দরা। ওয়াশিংটনের গ্রীন ভ্যালিতে আমেরিকান কাউন্সিল অব মুসলিম এ্যাসোসিয়েশনের যে সম্মেলন হয়ে গেল, তার প্রধান এজেন্ডাই ছিল এটা। এ সমস্যার তারা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন’। ‘আমার অনেক বান্ধবীকে আমি টেলিফোনে বলেছি। তাদের নিয়ে একটা সভা করব। তারা একবারেই অন্ধকারে। আমিহ ভেবেছিলাম আপনি সেখানে কথা বলবেন। তাহলে তাদের নিয়ে আমি এ্যাসোসিয়েশন গড়তে পারব, কিছু কাজ শুরু করতে পারব’। আহমদ মুসা জুতার ফিতা বাঁধছিল। সারা সাদিয়ার এই শেষ কথা আহমদ মুসার মনে আঘাত করে। ফিতা বাঁধা বন্ধ করে সে মুখ তুলে একটু ভাব। তারপর বলে, ‘আমি খুবই দুঃখ বোধ করছি বোন থাকতে পারবো না বলে। কিন্তু খুবই খুশী হয়েছি যে, তুমি কাজ শুরু করেছ। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি কথা দিচ্ছি, আমি ওয়াশিংটনে গিয়ে তোমাদের সভার জন্যে একটা মেসেজ পাঠাব তোমার কাছে। আমর পক্ষ থেকে সেটা তুমি সভায় পাঠ করে শোনাবে’। হাসি ফুটে উঠল সারা সাদিয়ার মুঝে। সে দু’ চোখের পানি মুছে বলল, ‘সত্যি আপনি পাঠাবেন?’ ‘কথা দিচ্ছি পাঠাব’। ‘তাহলে আমি শুধু সেটা সভায় পড়েই শোনাব না, আয়না দিয়ে বাঁধিয়ে রাখব। এটা হবে আমাদের সংগঠবের অনুপ্রেরণার উৎস’। ‘তাহলে খুশী তো?’ ‘ধন্যবাদ ভাইয়া’। ‘তাহলে ভাইয়া আমার খুশীর কি হবে? বড় বলে এ একটা সান্ত্বনা পুরষ্কার পেল, কিন্তু আমি?’ আহমদ মুসার পাশে বসে থাকা আহমদ আশফাক বলে উঠেছিল অভিমান ক্ষুব্ধ কন্ঠে। হেসে ছিল আহমদ মুসা। বলেছি, ‘সারা এগিয়েছে। তুমি এগোওনি। ঠিক আছে, তুমি যাতে আগাও এজন্যে তোমাকে একটা চিঠি লিখব’। ‘আপনি আমাকে সত্যিই চিঠি লিখবেন?’ আনন্দে চিৎকার করে বলেছিল আহমদ আশফাক। হেলিকপ্টার দ্রুত চলছিল। হেলিপ্যাড ছেড়ে ডাঃ আশরাফরা এক সময় চলে গেল চোখের আড়ালে। আপনাতেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল আহমদ মুসার মুখ থেকে। এভাবেই স্মৃতি অতীতের অন্ধাকারে হারিয়ে যায়। আর ফিরে আসে না। ফিরে যাওয়া যায় না। জীবনটা শুধু সামনে চলারই পথ, ফেরার পথ নয়। কিন্তু অতীত হয়েও তো অতীত হয় না। স্মৃতির আকাশে বেদনার তারা হয়ে অতীত তো জ্বলেই চলে। পেছন দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে সামনে তাকাল আহমদ মুসা। বাতাসের স্রোত কেটে দ্রুত এগিয়ে চলেছে জেট হেলিকপ্টার। এ এক নতুন ধানের পরিবহন হেলিকপ্টার। ছোট বিমানের বিকল্প হিসেবে এগুলো আজ ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। অন্য হেলিকপ্টারের মত প্রচন্ড শব্দ হয় না। দু’টি শক্তিশালী জেট ইঞ্জিনে চলে এ হেলিকপ্টার। ‘মিঃ আহমদ মুসা, আমার খুব আনন্দ হচ্ছে আপনাকে পেয়ে। মনে হচ্ছে কি জানেন? মনে হচ্ছে, এই প্রথম আমরা ইহুদীবাদীদের বিরুদ্ধে একটা সফল যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছি’। বলল বেঞ্জামিন বেকন। ‘কেন তা মনে হচ্ছে?’ ‘কারণ ইস্যুটা ভাল এবং আপনার নেতৃত্বে। আপনি যখনই এফ.বি.আই প্রধান জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখানই বুঝেছি ছোটখাট কোন বিষয় হলে আপনি এ সিদ্ধান্ত নিতেন না। বড় ঘটনা ও অকাট্য প্রমাণ না থাকলে আপনি জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে দেখা করার জন্যে এতটা আগ্রহী হতেন না্’। ‘মিঃ বেঞ্জামিন, কোন বিষয়কে আমি বড় মনে করলেই তিনি মনে করবেন তা নাও হতে পারে। তাছাড়া ইহুদীবাদীদের সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা কি, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে’। ‘এই শেষ বাক্যটা আমাকে উদ্বিগ্ন করল আহমদ মুসা। আমাদের আজকের মার্কিন রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের যে যত উপরে আছে, তার উপর ততটা বেশী ইহুদীবাদীদের কালো হাত চেপে বসে রয়েছে’। ‘শিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী মার্কিন জাতির জন্যে সত্যিই এটা লজ্জাজনক নয় কি?’ ‘অবশ্যই আহমদ মুসা। লজ্জাজনক আরও এই কারণে যে, আমরা মার্কিনীরা আমাদের ইতিহাসকে ভালবাসি, কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না। আমাদের পূর্ব পুরষরা ইহুদীদের ব্যাপারে যে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে গেছেন, সেদিকে আমরা কান দিচ্ছিনা। যেমন আমাদের কাউন্টার ফাদারস্ দের প্রথম ও শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিহ্ব জর্জ ওয়াশিংটন বলেছেন, ‘তারা (ইহুদীরা) আমাদের শত্রু সৈন্যের চেয়েও অধিক দক্ষতার সাতে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে। আমরা সার্বিক মুক্তির যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং যে মহৎ উদ্দশ্য সাধনের সংগ্রামে আমরা লিপ্ত তার শতভাগ বৈরী তারা। আমাদের প্রত্যেকটা স্টেট আগে থেকেই এ সামাজিক কীট (ইহুদীবাদীদের) দমনে যে তৎপর হয়নি, এ জন্যে আমাদের অনুশোচনা করতে হবে’। (Maxims of George Washington By A.A. Applaton & Co.) ঠিক অনুরূপ কথাই বলেছেন বেঞ্জামিন ফ্রাংকলীন ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ার কনস্টিটিউশনাল কনভেনশনে দেয়া তাঁর ভাষণে। তিনিও সে ভাষণে বলেন, ‘আমি জেনারেল ওয়াশিংটনের সাথে একমত যে, আমাদের এই নতুন জাতিকে একটি অপপ্রভাব ও অনুপ্রবেশ থেকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। ভদ্রমহোদয়গণ, সে ভয়ংকর অনুপ্রবেশের নাম ‘ইহুদী’। যে দেশেই ইহুদীরা কোন বড় সংখ্যায় প্রবেশ করেছে, সে দেশেই তারা সেখানকার নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সূচিত করেছে ও ব্যবসায়িক সংহতি বিনষ্ট করেছে। ইহুদীরা সেখানে জনগণ থেকে নিজেদের আলাদা করে রেখেছে এবং কোন ক্রমেই সেখানকার মানুষের সাথে একাত্ম হয়নি। সে দেশের জাতীয়তার বুনিয়াদ যে খৃষ্ট ধর্মের উপর তার ক্ষতি করার চেষ্টা তারা করেছে। তারা সৃষ্টি করেছে রাষ্ট্রের মধ্যে আরেক রাষ্ট্র। আর বিরোধিতার সম্মুখীন হলেই তারা সে দেশে আর্থিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এর দৃষ্টান্ত স্পেন ও পর্তুগাল।…….আমরা যদি তাদের তাড়াতে না পারি, তাহলে দু’শ বছরের মধ্যে আমাদের উত্তর-পুরুষরা এ দেশে কামলায় পরিণত হবে, আর ইহুদীদের হাত থেকে মুক্ত হবার জন্যে যদি চূড়ান্ত ব্যবস্থা আপনারা না করেন, তাহলে আমাদের উত্তর পুরুষরা আমাদের কবরের উপর অভিসম্পাত করবে। ভদ্রমহোদয়গন, ইহুদীরা যেখানেই জম্মগ্রহন করুক, যত জেনারেশনই তারা প্যালেস্টাইন থেকে বাইরে থাকুক, তাদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না। শত জেনারেশন তারা আমেরিকায় থাকলেও তাদের চিন্তাধারা কখনই তাদের আমেরিকান হতে দেবে না’। মিঃ আহমদ মুসা, এ ধরনের শত সহস্র সতর্কবাণী আমাদের পূর্ব পুরুষদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ইহুদী টাকার গোলক ধাঁধাঁয় বন্দী হওয়ায় সে সবই বিফলে গেছে। তাই আমরা নাগরিকরা চেষ্টা করছি কিছু করার জন্যে’। থামল বেঞ্জামিন বেকন দীর্ঘ এক বক্তব্য দেয়ার পর। ‘কি সাংঘাতিকে! আপনাদের জাতির যারা নির্মাতা, তাদের এসব স্পষ্ট সতর্কবাণী সত্ত্বেও আমেরিকান অর্থনীতি, মিডিয়া এবং রাজনীতি ইহুদী কুক্ষিগত হতে পারল কেমন করে?’ বলল আহমদ মুসা। ‘কি বলব জনাব, এ দুঃসহ জ্বালায় আমরা মরছি’। বেঞ্জামিন বেকন বলল। ‘মিঃ বেঞ্জামিন, আপনাদের রাজনীতিকদের কাছে তাদের দেশপ্রেমের চেয়ে ইহুদী টাকাই কি বড় হয়ে গেল?’ ‘তা হয়নি জনাব। মার্কিন রাজনীতিকরা নগদ লাভ করতে গিয়ে ইহুদীদের নগদ কিছু কনসেশন দেন। এই কনসেশনগুলোর যোগফল ইহুদীদের জন্যে হয়েছে আশীর্বাদ, মার্কিনীদের জন্যে হয়ে উঠেছে অভিশাপ। মার্কিন রাজনীতিকরা এটা বোঝেন, কিন্তু নগদ লাভের প্রশ্ন তাদেরকে সক্রিয় হতে দেয় না। একটা মজার ব্যাপার দেখুন, মার্কিন সংবিধান দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার সুযোগ আছে। তাই যিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তিনিই দ্বিতীয় টার্মেও নির্বাচিত হওয়ার আশা করেন। তাই আমরা দেখি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হবার পর প্রত্যেক প্রেসিডেন্টই হ্হুদী স্বার্থের অনুগত থাকেন যাতে দ্বিতীয় টার্মের নির্বাচনে ইহুদী অর্থ ও মিডিয়ার সাপোর্ট মেলে। কিন্তু দ্বিতীয় টার্মে নির্বাচিত হবার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টরা স্বাধীন নীতি অনুসরণ করেন। কিন্তু যখনই স্বাধীন নীতি গ্রহন করেন, তখনই তারা ইহুদী চক্রান্ত ও ইহুদী ট্র্যাপে পড়ে নাজেহাল হন, এমনকি অনেককে ক্ষমতাও হারাতে হয়’। ‘এই ভয়ংকর ইহুদী ট্র্যাপ থেকে মার্কিনীদের উদ্ধার কিসে?’ বলল আহমদ মুসা। ‘আমি জানি না জনাব। তবে এবার আপনি একটা কিছু করতে পারেন’। ‘কিন্তু আমরা মুসলমানরাও তো মার্কিনীদের শত্রু’। আহমদ মুসা বলল। ‘না এটা ঠিক নয়। ইহুদী প্রপাগান্ডার ফলে কিছু বিভ্রান্তি আছে অবশ্য। কিন্তু থাকবে না। কারণ মুসলমানদের সোসাইটি ওপেন। আর ষড়যন্ত্র নয়, গণতন্ত্র ইসলামের পথ’। ‘ধন্যবাদ বেঞ্জামিন’। তাদের এই আলোচনা অবিরাম চললই ওয়াশিংটন না পৌঁছা পর্যন্ত। আহমদ মুসাদের হেলিকপ্টার যখন ওয়াশিংটনে ল্যান্ড করল, তখন রাত নেমেছে। বেঞ্জামিন ন্যাসভিল থেকেই ওয়াশিংটনে ‘ফ্রি আমেরিকা’র লোকদের টেলিফোন করে দিয়েছিল। বেঞ্জামিন বেকনদের হেলিকপ্টার ল্যান্ড করতেই একটা মাইক্রো ছুটে এল। হেলিকপ্টারের পেমেন্ট আগেই করা হয়েছিল। আহমদ মুসা ও বেঞ্জামিন বেকন হেলিকপ্টার থেকে নেমে গাড়িতে উঠল। গাড়ি চলতে শুরু করল। ‘আমার কয়েকজন বন্ধু থাকেন ওয়াশিংটনে। আমি সেখানে উঠতে পারি’। বেঞ্জামিন বেকনকে লক্ষ্য করে বলল আহমদ মুসা। ‘আপনি যেটা ইচ্ছা করবেন, সেটাই হবে। তবে আমার অনুরোধ, জর্জ আব্রাহম জনসনের সাথে দেখা করার পূর্ব পর্যন্ত আপনি আমাদের সাথে থাকুন। আমি আপনার সম্পর্কে একটা এ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ‘অনডিউটি’ ওয়াশিংটনে এসেছি। সুতরাং আপনার চলাফেরার ব্যাপারে আমি আপনাকে সহযোগিতা করতে পারব’। ‘আমার সম্পর্কে এ্যাসাইনমেন্ট কিভাবে নিলেন?’ বলল আহমদ মুসা বিষ্মিত কন্ঠে? ‘আমি অফিসকে বলেছি, আমি আহমদ মুসাকে ফলো করব। ওয়াশিংটন পর্যন্ত আমাকে যেতে হতে পারে। এই এ্যাসাইনমেন্ট অফিস মঞ্জুর করেছে। ‘ধন্যবাদ বেঞ্জামিন। তাহলে আমি আপনাদের মেহমান হচ্ছি’। ‘ধন্যবাদ জনাব’। বলল বেঞ্জামিন খুশী হয়ে। ছুটে চলছে তখন গাড়ি নিরবে ওয়াশিংটনের ব্যস্ত রাজপথ ধরে। ওয়াশিংটনে পৌঁছার পর ৪০ ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আজ বিকেল ছয়টায় জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে আহমদ মুসার সাক্ষাতের সময় নির্দিষ্ট হয়েছে। ওয়াশিংটনে আসার পরপরই সাক্ষাতের সময় করার জন্যে বেঞ্জামিন বেকন আহমদ মুসাকে বলেছিল। কিন্তু আহমদ মুসা তাকে বলেছিল, তার সাথে দেখা করার আগে ওয়াশিংটনে আমার কিছু কাজ আছে তা সারতে হবে। অনেকের সাথে কিছু কথাবার্তাও বলতে হবে। আহমদ মুসা তার সে সব কাজ ও কথাবার্তা শেষ করার পর গতরাতে যোগাযোগ করেছিল জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে। জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা হওয়ায় আহমদ মুসা ও বেঞ্জামিন বেকন দু’জনেই খুশী। তবে বেশী খুশী বেঞ্জামিন বেকন। তার ধারণা জর্জ আব্রাহাম জনসনকে কোন কিছু বুঝানো গেলে সি.আই এ এবং পেন্টাগণকে তা বুঝানো খুব সহজ হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা কমিটিতে জর্জ আব্রাহাম জনসন যেমন সিনিয়র, তেমন গৌরবপূর্ণ রেকর্ডের অধিকারী। সবার সমীহ সে পায়। জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে দেখা করার বিষয় ঠিক করতে গিয়ে আহমদ মুসাকে বেশ কথা বলতে হয়েছে। আহমদ মুসার টেলিফোন পেয়ে প্রথমে ভূত দেখার মতই আঁৎকে উঠেছে জর্জ আব্রাহাম জনসন। প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছে, ‘আপনি কি পুলিশ কাস্টডিতে, না মুক্ত অবস্থায় কথা বলছেন?’ আহমদ মুসা বলেছে, আপনার পুলিশ কাস্টডিতে যাওয়ার আগে আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই, অতি গোপনীয় কিছু বলার জন্যে, যে কথা আমি আর কাউকে বলব না’। ‘আপনার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আপনি জানেন?’ বলেছিল জর্জ আব্রাহাম জনসন। ‘জানি গুরুতর অভিযোগ’। বলেছিল আহমদ মুসা। ‘তাহলে আপনি আত্মসমর্পন করে আমার সাথে সাক্ষাত করতে পারেন’। বলল জর্জ আব্রাহাম। ‘আপনি ব্যবস্থা করে রাখবেন, আপনার সাথে কথা শেষ হওয়ার পরে আপনি আমাকে কাস্টডিতে নেবেন। আপনি সাক্ষাতকার না দেয়া পর্যন্ত আমি ধরা দেব না। আর আপনার পুলিশ ও গোয়েন্দারা ইচ্ছা করলেই যে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, ব্যাপারটা তেমন নয়’। বলল আহমদ মুসা। ‘ঠিক আছে, আমি সাক্ষাত করব। কিন্তু একটা বিষয় আপনি বলুন, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটা কি সত্যি?’ জর্জ আব্রাহামের কন্ঠে অনুরোধের সুর। ‘এফ.বি.আই চীফ হিসেবে অভিযোগ তো আপনিই দাঁড় করিয়েছেন। আপনি এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছেন কেন?’ ‘এফ.বি.আই চীফ হিসেবে এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিনা, জিজ্ঞেস করছি ওহাইও নদীর মৃত্যু গহবর থেকে যে শিশুকে আপনি বাঁচিয়েছিলেন, সে শিশুর দাদা হিসেবে। আর এ জিজ্ঞাসা আপনার জন্যে আমার উদ্বিগ্ন স্ত্রীর পক্ষ থেকে’। বলে জর্জ আব্রাহাম। ওহাইও নদীর সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল আহমদ মুসার। ভেসে উঠেছিল চোখের সামনে জর্জ আব্রাহম জনসন এবং তার স্ত্রীর সেই ছবিও। মনটা ভিজে উঠে আহমদ মুসার। বলে, ‘ঘটনাটা সত্য, অভিযোগ সত্য নয়, জনাব। ‘গড ব্লেস ইউ মাই বয়। যদিও জানি তোমার অপরাধহীনতা তুমি প্রমাণ করতে পারবে না। তবু তোমার কথা আমি শুনব। তুমি এস। স্নেহ সিক্ত হয়ে উঠেছিল জর্জ আব্রাহাম জনসনের কন্ঠ। ‘ধন্যবাদ, বাই’। বলে টেলিফোন রেখে দিয়েছিল আহমদ মুসা। জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে আহমদ মুসার সাক্ষাতকার ঠিক হওয়ার আনন্দে বুঁদ হওয়ায় বেঞ্জামিন বেকনকে লক্ষ্য করে আহমদ মুসা বলল, ‘আপনি বলেছেন জর্জ আব্রাহাম সৎ ও দেশপ্রেমিক অফিসার। কিন্তু জানেন কি, এর সুবিধাও আছে, অসুবিধাও আছে?’ ‘জানি, কিন্তু অপানার উপর আমার আস্থা আছে। জর্জ আব্রাহামকে বুঝানোর মন্ত্র আপনার কাছে না থাকলে আপনি তার সাথে সাক্ষাত করতে না’। ‘ধন্যবাদ মিঃ বেঞ্জামিন। আল্লাহ আপনার আশা সফল করুন’। তখন বেলা ৪টা। আহমদ মুসা বলল, ‘যাই তৈরী হয়ে নেই জর্জ আব্রাহামের ওখানে যাবার জন্যে’। বেঞ্জামিন বেকন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, সবে বিকেল চারটা। দেখা করার সময় হলো বিকেল ছয়টা’। আহমদ মুসা হাসল। উঠে দাঁড়িয়ে ভেতরে চলে গেল। মিনিট পরেন পর বেরিয়ে এল একজন আরবী শেখের পোশাক পরে। বলল বিষ্ময়ে হা হয়ে যাওয়া বেঞ্জামিন বেকনকে, ‘আমার নাম শাইখ আব্দুল্লাহ আলী আল নজদী। কয়েকদিন আগে আমি ওয়াশিংটন ইসলামিক সেন্টারের ডিরেক্টর হিসেবে সউদি আরব থেকে এসেছি। আজ বিকেল ৫টায় যাচ্ছি এফ.বি.আই চীফ জর্জ আব্রাহাম জনসনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এবং সেই সাথে সেন্টারের কাজ সম্পর্কে তাকে ব্রীফ করতে’। আহমদ মুসার মুখ ভরা হাসি। ‘ছদ্মবেশ ও নতুন নামের একটা যুক্তি আছে তা বুঝলাম, ক্নিতু সাক্ষাতকার ছয়টায়, পাঁচটায় কেন যাচ্ছেন? বলল বেঞ্জামিন বেকন। তার বিষ্ময় তখনও কাটেনি। ছয়টায় তো আহমদ মুসার সাথে তার সাক্ষাত, আর পাঁচটায় সাক্ষাত আমার সাথে, মানে শাইখ আব্দুল্লাহ আলী আল নজদীর সাথে’। ‘বুঝলাম না’। ‘খুবই সোজা। আমি এখন শাইখ আব্দুল্লাহ আলী আল নজদী হিসেবে দেখা করতে যাচ্ছি’। তারপর? তারপর দরকার হবে না, ছয়টায় যাওয়ার। ‘কিন্তু এর প্রয়োজন কি আমি বুঝতে পারছিনা। বরং আপনি যে শাইখ আব্দুল্লাহ নন, এটা এফ.বি. আই পুলিশ ইন্টেলিজেন্সের কাছে সহজেই ধরা পড়ে যাবে। কারণ এ ধরণের কোন লোক যখন সাক্ষাতকারে যান, তখন আগে থেকেই তাদের খোঁজ খবর রাখা হয়, এমন কি তাদের বাড়ির উপর চোখ রাখা হয়’। ‘দুপুরে খাবার পর পোশাক পরে একটা গাড়িতে শাইখ বেরিয়ে এসেছেন। আমি যতক্ষণ সাক্ষাতকারে থাকব, ততক্ষণ তিনি নিখোঁজ থাকবেন। তিনি যে গাড়ি নিয়ে দুপুরের পর বেরিয়েছেন, সেই গাড়িতেই আমি যাচ্ছি জর্জ আব্রাহামের সাথে দেখা করতে’। ‘সব বুঝলাম, কিন্তু প্রয়োজনটা বুঝছি না’। বুঝছেন না? ‘না’। ‘দু’টি ঘটনার কথা ভাবুন তো। আমি আপনাকে জানিয়েছি, ন্যাসভিলে টেলিফোন করে ডাঃ আশরাফের কাছে জানতে পেরেছি আমি ও আপনি যে হেলিকপ্টারে ওয়াশিংটনে এসেছি তা ন্যাসভিলের ইহুদী লবী জানতে পেরেছে। আরেকটি ঘটনা আপনি আমাকে বলেছেন। এফ.বি.আই হেড কোয়ার্টারে আপনার ব্যাচমেট অন্যসব ডিউটি অফিসার ন্যাসভিলের সাথে আপনি কথা বললে তিনি জানতে চান বিকেল ছয়টায় আমার সাথে আপনি যাচ্ছেন কি না’। থামল আহমদ মুসা। ‘এ দু’টি ঘটনায় কি বুঝা যায়?’ বলল বেঞ্জামিন। ‘দু’টি জিনিষ পরিষ্কার হয়, আপনার সাথে আমি ওয়াশিংটনে এসেছি, এ গোপন কথা ইহুদী লবীর কারোই অজানা নেই। দ্বীতিয়তঃ, আজ বিকেল ছয়টায় আমি জর্জ আব্রাহামের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, এটাও ইহুদী লবীর জানা হয়ে গেছে’, আহমদ মুসা বলল। ‘বুঝেছি জনাব, আপনি আশংকা করছেন ছয়টায় দেখা করা আপনার জন্যে নিরাপদ হবে না। এই জন্যে বিকল্প ব্যবস্থা । নির্ধারিত সময়ের আগেই সেখানে চলে যাবেন’। শুষ্ক কন্ঠে কথাগুলো বলে একটু থামল বেঞ্জামিন বেকন। গলাটা একটু পরিষ্কার করে নিয়ে আবার বলতে শুরু করল, ‘কি সর্বনাশ, ইহুদীদের এত সাহস হয়েছে! তারা এফ.বি.আই প্রধানের মেহমানকেও তাঁর সাথে দেখা করতে দেবে না!’ প্রয়োজন হলে কিডন্যাপ করবে! একটু থেমে একটা ঢোক গিলে আবার বলল, ‘আপনি যান। আপনার পেছনে আমি থাকছি। আমার এখন রীতিমত ভয় করছে আমাদের প্ল্যান কার্যকরি হওয়ার বিষয়ে। ‘আসুন তবে, সাবধান!’ বলে আহমদ মূসা ব্রিফকেসটি হাতে নিয়ে ফিরে দাঁড়াল। চলতে শুরু করল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ওঠল শাইখ আব্দুল্লাহ আলী আল নজদীর গাড়িতে। দ্রুত একটা টেলিফোন সেরে বেঞ্জামিন বেকনও বাড়ীর গাড়ি বারান্দায় এসে আরেকটা গাড়িতে চড়ে বসল। কিছু দূরত্বে দু’টি গাড়িই এগিয়ে চলছে FBI হেড কোয়ার্টারের দিকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ২৮.আমেরিকার এক অন্ধকারে (৭-শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন