বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতল মনের ভাবনার মৃত্যু

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . গল্পঃ অতল মনের ভাবনার মৃত্যু . . পিংক কালারের প্রিন্টেড শার্ট গায়ে ক্যাম্পাসে ঘুরছে শাওন; কাঁধে ঝোলানো লেদার ব্যাগ; ডান হাতে কালো ব্যান্ড; মুখে খোঁচা-খোঁচা দাড়ি...পায়ে দামী জুতা ও ফেইড জিন্স প্যান্টের কারনে হালকা গড়নের শাওন'কে অনেক বেশি স্মার্ট আর ফ্যাশনেবল মনে হচ্ছে। . শারমিন ও নিধি হেঁটে যাচ্ছিল পাশ দিয়ে; শাওনের দিকে একবার মাথা ঘুরিয়ে তাকায় নিধি..শারমিনও তাকায়; তাকাতে গিয়ে নিধি প্রায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল..শারমিন চট করে ধরে ফেলে নিধির হাত। দ্বিতীয় বার তাকানোর সময় চোখাচোখি শাওনের সাথে..মুখ বাঁকা করে ভেংচি কেটে শারমিনের দিকে তাকায় নিধি; তাচ্ছিল্য ভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বাতাসে কথা ছুড়ে দেয়- . --অ্যা....যেন ফ্যাশন সম্রাট যাচ্ছে.! পিংক কালারের শার্ট পড়ে ফ্যাশনবল হতে চায়.. . শারমিন বলে- . --পিংক তো মেয়েদের কালার; ছেলে হয়ে মেয়েদের কালারে ভাগ বসাতে চায় আরকি..হিঃ হিঃ . ওপরে ওপরে টিজ করলেও ভেতরে ভেতরে ভাবে নিধি-ভালোই তো লাগছে; ছেলেদেরও দেখি পিংক কালারে দারুন মানায়..শার্টের রঙের কারনে ওর টোটাল পার্সোনালিটিতে কোনো বিরূপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে না.! ভাবতে ভাবতে চুপচাপ এগিয়ে যায় সামনে। . শাওন দুই তরুনীর ভঙ্গি দেখে কিছুটা থমকে যায়; মনে মনে ভাবে শুধু ছেলেরা নয়; এখন তো দেখছি মেয়েরাও অ্যাডাম টিজ করে..খানিকটা দূরে গাছের নিজে বসা আরিফকে দেখতে পায় শাওন; মিতুর সাথে আড্ডা দিচ্ছে..মিতু ওর গার্লফ্রেন্ড; শাওনের গার্লফেন্ড নেই..অন্য জুটিদের মাঝে হাজির হয়ে মাঝে মাঝে সে বেশ বিরক্তি তৈরি করে; বুঝেও হাজির হয় জুটিদের আড্ডায়। . ধীরে ধীরে ওদের সামনে এগিয়ে যায় শাওন; আরিফ ওকে দেখে উজ্জল চোখ নিয়ে কাছে আশার জন্য ইশারা করে...আরিফ লেমন গ্রিন কালারের ওপর ইয়েলোর লাইট শেডেড শার্ট পরেছে..মিতু বলে- --বাহ.! দুই বন্ধু তো দেখি আজ ফ্যাশনের কমন ট্রাডিশনাল ভেঙে দিয়েছে.. . শাওন জানতে চায়- --ট্রাডিশনাল কী.? . মিতু জবাব দেয়- . --ছেলেদের পোশাকের রং হবে সাদা-কালো,ব্লু-গ্রে কিংবা অ্যাশ-কালোর মতো...কিন্তু এই ড্রেস টা ব্যতিক্রম না.? . আরিফ বলে- --তাহলে তো আমরা কমন ট্রাডিশনাল ভেঙে ফেলেছি; উই আর লুকিং আনস্মার্ট.? . --না না..আনস্মার্ট হবে কেন.? তোমাদের লুক_ও গেটআপ তারুন্যের সাথে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ফিট লাগছে.. . --থ্যাংকস মিতু..কিন্তু জানো একটু আগে দু-জন মেয়ে আমাকে টিজ করেছে..সম্ভবত শার্টের কালার নিয়ে... . --টিজ করলে বলতে হবে-তাদের চোখ নেই; মন নেই; চোখ থাকলে দেখতো আজ শাওনকে কী অসাধারন লাগছে.. . --ওহ.! থ্যাংকস ফর কমপ্লিমেন্ট মিতু। . --কমপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই..এটাই বাস্তবতা। . মিতুর কথা পুরোটা শুনেনি শাওন; ওর চোখ চলে যায় বামে...ক্যাম্পাসের বাম পাশের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সেই মেয়েটি; যে তাকে দেখে ভেংচি কেটেছিল। ওর চোখ চুম্মুকের মত সেটে যায় মেয়েটির হাঁটার ভঙ্গির ওপর।সরু দেহ; পরনে সাধারন সালোয়ার কামিজ; কামিজে নীল রঙের এমব্রয়ডারি করা কাজ..ওড়না কালো রঙের,মাঝে মাঝে সাদা ফুলের কাজ.. একদম সিম্পল সাজ; সিম্পল একটা মেয়ে...ফ্যাশন সচেতন শাওনের কোনো ফ্যাশনই চোখে পড়ে না মেয়েটির মাঝে। দেখে মেয়েটির হাঁটার কৌশল; দেহের দোল; প্রতিটি পদক্ষেপে চমকে ওঠা দেহের বাঁক...মিতু বলে- --কাকে দেখছো শাওন.? . --একটা সাধারন তরুনীকে দেখছি..যার দেহের ভাষা অসাধারন; মুখটা মিষ্টি.. . --আরে ওই অসাধারন মেয়েটি হচ্ছে আমার ফ্রেন্ড মিমের ছোট বোন নিধি..এবার ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে.. . --প্লিজ একটু ডাকো-না ওকে.? . --কেন.? . --কেন'র উওর জানা নেই..ওর সঙ্গে পরিচিত হতে ইচ্ছে করছে..ওই মেয়েটি'ই আমাকে ভেংচি দিয়ে টিজ করেছিল.. . --কি বলো..ও টিজ করেছিল.? . --হ্যাঁ . --ও তো একদম সাধারন মেয়ে; ওর তো টিজ করার কথা না.! . --ও-ই চিনতে পেরেছি আমি..প্লিজ ডাকো; চলে যাচ্ছে তো.! . মিতু ওঠে দাঁড়ায় একটু জোড়েই ডাকে-নিধি..নিধি মাথা ঘুরিয়ে তাকায়..মিতু ওকে ইশারায় ডাকে..একটু এগিয়ে থমকে দাঁড়ায় নিধি..দেখতে পায় শাওনকে; মিতু আপুর পাশে দাঁড়িয়ে আছে..শাওনকে দেখেই চিনে ফেলে; কিছুক্ষন আগে দেখেছিল..ওকে দেখেই ভেংচি কেটে বেরিয়ে এসেছিল ভেতর থেকে..বাজে কমেন্ট করেছিল..কেন এমনটা করেছিল বুঝে ওঠতে পারেনি নিধি..অথচ টিজ করার মতো তত স্মার্ট মেয়ে নয় সে.. . মিতু আবার ডাকে- --আসো; এদিকে আসো নিধি.. . নিজেকে সহজ করে নেয় নিধি; নিজের ভেতর জেগে ওঠা বাধার সুতো ছিড়ে এগিয়ে যায় সামনে... . --কেমন আছো নিধি.? (মিতু) . >>নিধি লজ্জায় লাল হয়ে,নীল হওয়ার আগেই মাথা কাত করে বলে- ভালো আপু.! . --মিম কেমন অাছে.? . --ভালো.আপনি কেমন আছেন.? . --হুম ভালো..আচ্ছা শুনো পরিচয় করে দেই এ হলো শাওন; আর আরিফকে তো চিনই..!! . --জ্বি অারিফ ভাইয়াকে চিনি.. . শাওনের দিকে তাকিয়ে নিধি বলে- কমার্সে ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছি..আপনি.! 'শাওন কথা বলতে পারে না; বোকার মত ওর দিকে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়...নিধি আবার বলে- --আরিফ ভাইয়া-মিতু আপুকে নিয়ে একদিন বেড়াতে আসবেন আমাদের বাসায়... . কথা শেষ করে ফিরে যাচ্ছিল; হঠাৎ দাঁড়িয়ে শাওনের দিকে তাকায়; মুচকি হেসে বলে-আপনিও আসবেন ওনাদের সঙ্গে...শাওন মুখে কিছু বলে না; কিছুটা বোকার মত মাথা দোলায় সে;কথা শেষ করে সামনে এগিয়ে যায় নিধি.. . মিতু মুচকি হাসি দেয়; নিধি চলে যাওয়ার পর উল্লাসের সঙ্গে বলে- তোমার বোধ হয় গতি হলো এবার। . --আরে না; কি যে বলো তুমি..আমার একার ইচ্ছে তে সব হবে নাকি.! . --অপর পক্ষের ভেতরটাও তো চুরমার হয়ে গেছে নিশ্চয়; দেখলিনা যাওয়ার জন্য তোকে আলাদা করে বলে গেল.. (আরিফ) . --ওটা তো সৌজন্য বলা..দুজনকে নিমন্ত্রন করছে,সামনে একজন উপস্থিত আছে তাকে না বললে বেমানান দেখায়..এজন্যই বলা..!! . --আরে না..তোকে তো একা নিমন্ত্রন করতে পারে না; তাই আমাদের আগে বলে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিয়েছে...হয়ে যাবে মামা-লেগে থাক.! . --আরে ধুর.! কি যে বলিসনা তোরা; আমি এসবের মধ্যে নাই ভাই... . --হুমম সেটা দেখা যাবে.. . ৬ দিন পরে- --হ্যালো মিতু..তোমার কাছে কি নিধির নং আছে..? . --হুম আছে মনে হয়...কি করবা.? . --ওর সাথে কেন জানি কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে.. . --হা হা বড়শিতে আটকে গেছো তুমি; ওর মনের বড়শিতে গেথে গেছে তোমার মন.. . --আরে ধুর..ফাজলামী রাখো; সিরিয়াসলি নম্বরটা দাও.. . --এক মিনিট ধরো; ডাইরি থেকে বের করে দিচ্ছি.. . একটু পর- --কনগ্রাচুলেশন শাওন... . --কনগ্রাচুলেশনের কি হলো.! নম্বর দাও.. . --এত অস্থির হচ্ছ কেন বাবা.! নম্বরটা পেয়েছি; নাও লিখে নাও..নম্বরের জন্যই কনগ্রাচুলেশন; বেস্ট উইসেস ফর সাকসেস.. . --থ্যাংক ইউ সো মাচ মিতু.. . --হুম থ্যাংকস লাগবেনা; সাকসেস হলে জানিয়ে দিও.. . --আচ্ছা জানাবো; বাই . নিধির সেল নম্বরটা একবার শুনেই মুখস্থ করে ফেলে শাওন; নিজে চেষ্টা করে মুখস্থ করেনি...'স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেইনে গেথে গেছে নম্বরটি; বাসায় এসে মনে মনে যাচাই করে দেখে নম্বরটি ভোলেনি সে; ভাবতেই মন সতেজ হয়ে ওঠে..সতেজ মন বলে দেয় সাহস করে এক্ষনি একটা ফোন করো..হাতে ফোন তুলে নম্বর ডায়াল করে, ওকে বাটনে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে একটা জড়তা এসে হাত চেপে ধরে..টুট করে কেটে দিয়ে ফোনটা সোফায় রেখে দেয়; বড় করে একটা শ্বাস নেয় শাওন..নিঃশ্বাস ছেড়ে সহজ হয়; আবার ডায়াল করে; ইয়েস রিং হচ্ছে; নিধি ফোন ধরে- --স্লামাআলাইকুম; কে বলছেন প্লিজ.! . বুক ধড়ফড় বেড়ে যায়; গলা শুকিয়ে যায় শাওনে..শক্ত হয়ে বলে- --আমি শাওন.. . --ওহ.! শাওন ভাইয়া আপনি.? . --হ্যাঁ..আমি শাওন. . --ভাইয়া কি ব্যাপার; আমার নম্বর কোথায় পেলেন.? . --মিতু দিয়েছে; কোনো ব্যাপার নেই..এমনি ফোন করলাম; তোমাদের বাসা কি যাত্রাবাড়িতেই.? . --হ্যাঁ..আপনার বাসা কোথায়.? . --আমার বাসাও যাত্রাবাড়ি ধলপুরেই.. . --ওহ তাহলে তো অনেক কাছাকাছি'ই থাকি আমরা...!! . --হুম.. . নিধির সহজ ও স্বতঃস্ফুর্ত কথা শুনে গলে যায় শাওন..সাহসী হয়ে ওঠে মন; সাহস নিয়ে বলে- --ক্যান আই ইনভাইট ইউ ফর এ কাপ অব কফি.? . --থ্যাংকস ফর দি ইনভাইটেশন; কিন্তু ভাইয়া-আপনার সঙ্গে কফি খেতে হলে আরেকজনের অনুমতি লাগবে যে.! . --কার অনুমতি.? মা-বাবার.? . --না, ভাইয়া আরেকজনের.. . --কে সে.? . সহজভাবে নিধি জবাব দেয়-ওর নাম সোহাগ; আমার বয়ফ্রেন্ড..সোহাগ আমাকে কোনো ছেলের সঙ্গে মিশতে দেয় না; কথা বলতে দেয় না..অবশ্য অনুমতি নিলে বাঁধা দেয় না.. . চিকন একটা ব্লেড যেন গলায় বসে গেছে নিধির কথা শুনে; স্বর কেটে গেছে; অবশ হয়ে গেছে শাওন; উড়ে গেছে মনের শক্তি; ভেঙে গেছে দেহের গাঁট; মাথা ঘুরে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল..সোফার হাতলে ঠেস দিয়ে পতন_ঠেকায় সে; লাইন কেটে দিয়ে একবার বড় করে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে; শ্বাস নিতে পারছে না; বুকে চেপে বসেছে পাহাড়..কষ্ট হচ্ছে; ভীষন কষ্ট হচ্ছে..মনে মনে একবার উচ্চারন করে- মা মাগো এত কষ্ট কেন.! জীবন এতো বিষাদ কেন মা.! চোখের আলো নিভে যাচ্ছে; অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে চারপাশ; আশে পাশে কেউ নেই..একা; একদম একা সে.! . পাঠক দৃষ্টিকোনঃ শাওন আর কোনো দিন কালারফুল ড্রেস পরেনি; ফ্যাশনেবল গেটআপে দেখা যায়নি তাকে আর কখনো..সাদামাটা ড্রেস পরে ঘুরে বেরিয়েছে কিছুদিন..কলেজে যায়নি আর; গিয়েছে নেশাখোর পাড়ার এক ছেলের কাছে; সে বলেছে 'ডাল খা' কষ্ট ভুলে যাবি..!! কষ্ট ভোলার জন্য সে অন্ধকার পথে ডুবে যায়.. দিনে ঘুমায়; সন্ধ্যায় বের হয়ে নেশার আস্তানায় চলে যায়; নেশায় বুদ হয়ে থাকে। . 'জীবন পুষ্পশয্যা না' এই প্রবাদের অর্থ বুঝতে পারেনি শাওন; কষ্টকে জয় করার পথ খুঁজে পায়নি; আলোর পথের সন্ধান পায়নি সে..কষ্ট জয় করারও পথ আছে; কেউ তাকে সেই পথের সন্ধান বলে দেয়নি। কে আছে তার সুহৃদ.? কে তাকে আলোর পথ দেখাবে আবার.? কে বলবে-ওঠো শাওন; সামনে তাকাও..দেখো খোলা আকাশ কতো বড়.! দেখো-'আকাশ কতো নীল; নীল আকাশে কীভাবে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা...কে বলবে তাকে-"চলো শাওন; আমরা আকাশ জয় করি" . লিখাঃ MN Nasir Hossain


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতল মনের ভাবনার মৃত্যু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now