বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি সাধারণ প্রেমের গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সকাল সকাল বাসা থেকে বের হচ্ছি দেখে ভাবী বললেন, ‘কি ব্যাপার! এত সাজুগুজু করে এত তাড়াতাড়ি আজ কোথায় যাওয়া হচ্ছে?’ ‘এই তো এক ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করে আসি।’ আমার উত্তরে ভাবী যেন সন্তুষ্ট হলেন না। কেমন একটা রহস্যময় হাসি দিলেন। কাল মাঝরাতে যখন মোবাইলে কথা বলেছিলাম ভাবী তা শুনে ফেললেন নাকি? আমি আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। এখন আমাকে অনেক দূর যেতে হবে—খিলগাঁও থেকে মিরপুর। ঢাকাতে আমি একটা আসি না। তাই অপরিচিত পরিবেশে কেমন যেন অসহায়বোধ করছিলাম। এত দূর কিভাবে যাব? কিন্তু যেতে যে আমাকে হবেই। আজ এগারটায় ওর সাথে দেখা করার কথা। মিরপুর শেওড়াপাড়া ওভারব্রিজের নীচে আসবে সে। তারপর….আপাতত জানি না। খিলগাঁও থেকে ট্যাক্সি চড়ে মালিবাগ মোড়ে পৌঁছালাম। তারপর একটা বাসে উঠে বসলাম। এটা যাবে ফার্মগেট। আমি জানালার পাশে বসেছিলাম। এত মানুষ, এত ছুটোছুটি! কেমন যেন ক্লান্তিকর মনে হচ্ছিল। ফার্মগেট এসে পড়লাম ঝামেলায়। এখন মিরপুর কিভাবে যাব-তা তো জানি না। শেষে এক পান বিক্রেতা বললেন, ’১০ আর ১১ নম্বর বাসগুলো মিরপুর যায়।’ বাসে উঠে এবার বসার জায়গা পেলাম না। এক হাত দিয়ে মাথার উপরের হাতল ধরে রইলাম। অন্য হাতে পকেট শক্ত করে চেপে ধরলাম লাছে যদি পকেট কাটা যায়! এবারের ড্রাইভার বেশ রসিক মানুষ মনে হল। সে গান বাজাচ্ছিল, ‘গুলশান, বনানী আবার জিগায়….তেজকুনিপাড়ায় হালায় আবার জিগায়…..।’ -চলে এসেছেন। কোথায় আপনি? -এই তো তোমাদের বাসার গলির ভেতর হাঁটছি। -কি? যান যেখানে দাঁড়ানোর কথা সেখানে গিয়ে দাঁড়ান। আমি পনের মিনিটের মধ্যে আসছি। অজানা অচেনা জায়গায় কারো জন্য অপেক্ষা করাটা যে কতখানি বিরক্তিকর তা বলে বুঝানো যাবে না। কি করব বুঝতে পারছিলাম না। শেওড়াপাড়া বাজার থেকে হেঁটে ওভারব্রিজ পর্যন্ত এলাম। আবার উল্টো পথে গেলাম। একটু পরে সে এল। বাহ! গতবারের তুলনায় এবার সে অনেক সুন্দর হয়েছে। চুলও বড় হয়েছে। -কি খবর? কেমন আছ? -ভাল। আপনি? -এই তো। -তারপর কোথায় যাবেন? -আমি কিভাবে বলব? আমি তো এখানকার তেমন কিছুই চিনি না। তুমি যেখানে নিয়ে যাবে আমি সেখানেই যাব। এসব ঘটনায় সাধারণত ছেলেটা মেয়েটাকে পথ দেখায়। আমার ক্ষেত্রে ঘটল উল্টোটা। সাদিয়াই চালকের আসনে বসল। আমরা মিরপুর বাঁধের উদ্দেশ্যে রিকসা নিলাম। রিকশার পেছনে গাড়ি। হাজার মানুষের ছুটে চলার মাঝে আমাদের রিকশাও এগিয়ে চলল। দুজনই চুপচাপ। হঠাৎ কেমন যেন সিনেম্যাটিক ডায়ালগ দিয়ে ফেওললাম, তুমি না আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে গেছ….অনেক সুন্দর। -কি যে বলেন! মুখ পিমপলে ভরে গেছে। আর আপনি বলেন সুন্দর! সত্যি বলতে কি সেদিন ওকে আসলেই সুন্দর লাগছিল। বলতে দ্বিধা নেই ওর চোখ দুটো আমাকে যেন চুম্বকের মত টানছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল ছুঁয়ে দেখি! আরেকটা জনিস অনুভব করলাম। এর আগেরবার যখন ও আমার সাথে রিকশায় উঠেছিল তখন আমাদের মাঝে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি দূরত্ব ছিল। অথচ আজ সেটা নেই। মিরপুর বাঁধ আমার কাছে আজব জায়গা বলে মনে হয়। শুধু জুটি আর জুটি। রিকসায় জুটি। রাস্তায় জুটি। পার্কে জুটি। হঠাৎ এক লোক এসে বলল, মামা ছইওয়ালা নৌকা আছে। আসেন আপুরে নিয়া নৌকাই ঘুইরা আসেন। আমি বললাম, নৌকায় উঠবে? সাদিয়া আমাকে এক বাক্যে না করে দিল। আমরা বাঁধের উপর বসলাম। সামনে শুকনো নদী। নদীর পাড় ঘেষে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। একটা ছোট কার্গোকে দেখলাম ঘুরে ঘুরে বালি তুলছে। -তারপর কি অবস্থা? কি খবর? আমি বললাম। -কি আর খবর হবে? প্রতিদিনই তো আপনার সাথে কথা হয়। সবই তো জানেন। নতুন কোন খবর নেই। এরপর কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। আসলে এখানে আসার আগে মনে হয়েছিল একে সামনে পেলে কথার ঝড় বইয়ে দেব। অথচ এখন বলার মত কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। আমি বললাম, মোবাইলেই তোমার সাথে গল্প জমে। এখন কেমন যেন লাগছে। -আচ্ছা ঠিক আছে। যান দূরে যেয়ে আমাকে কল দেন আমি রিসিভ করছি! আবার কিছুক্ষণব চুপচাপ বসে থাকি। -আচ্ছা তুমি আমাকে আর কতদিন ‘আপনি’ করে বলবে? আমার এসব আপনি-টাপনি আর ভাল লাগছে না। প্লিজ ‘তুমি’ করে বল। প্লিজ। -আছা বাবা বলব, বলব। পরে বলব। গান শুনবেন। নেন গান শুনেন। সাদিয়া তাঁর এমপিথ্রি প্লেয়ারের হেডফোনের একটা কর্ড আমার কানে ভরে দিল। অন্যটা নিজের কানে রেখে দিল। মাহমুদুজ্জামান বাবুর গান বাজছে, আমি বাংলার গান গাই….। আস্তে আস্তে সূর্যের তাপ বাড়তে লাগল। এমনিতেই আমার মাথায় চুল কম। তারপর খোলা জায়গায় সরাসরি সূর্যের আলো। মাথা ঝিমঝিম করা শুরু করল। ওর অবশ্য তেমন একটা লাগল না। কারণ আমাকে দিয়ে সূর্যকে আড়াল করে সে বসেছিল। বসুক। বেশিক্ষণ সূর্যের আলোয় থাকলে আমার হাত-পা কাঁপতে থাকে। যাক তারপরও ওকে আড়াল করে রাখারই চেষ্টা করলাম। কেননা আমি যে ওকে ভালবাসি, ভীষণ ভালবাসি। হঠাৎ ওর হাত ধরলাম। এক ঝটকায় ও হাত ছাড়িয়ে নিল। একটু কষ্ট পেলাম। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এটা ঠিক না। এটা ঠিক না। কিন্তু পারলাম না। পরে যে কখন আবার ওর হাত ধরে ফেলেছিলাম তা নিজেই টের পাইনি। এভাবে কতক্ষণ যে ওর হাত ধরে ছিলাম তা বলতে পারব না। দুপুর হয়ে এলে আমরা জায়গা পরিবর্তন করলাম। একটা পুকুরের পাশে গাছের নীচে ছায়ায় গিয়ে বসলাম। সত্যি বলতে কি সারাদিন আমাদের তেমন একটা কথা হল না। শুধু চুপচাপ পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে বসে থাকা হল। বেশিরভাগ সময়ই আমি বেহায়ার মত ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ও প্রায়ই বলছিল, দ্যাখেন, এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না। আমার ব্যাপারটা ভাল লাগে না। কিন্তু আমি কি করব? আমি যে কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। শুধু ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল। দূরে দেখলাম, আমাদের মত এক জোড়া বসে আছে। হঠাৎ ছেলেটা মেয়েটাকে জোর করে ধরে একটা কিস দিয়ে দিল। মেয়েটা রাগ করে উঠে গেল। ছেলেটা ‘সরি, সরি’ বলতে বলতে তাঁর পেছনে ছুটল। আজকের দিন আমার কাছে বছরের সবচেয়ে ছোট দিন বলে মনে হচ্ছিল। এত তাড়াতাড়ি বিকাল হয়ে গেল! ইচ্ছে হচ্ছিল না ফিরে যাই। তবুও ফিরতে হল। সাদিয়া রিকসা নিয়ে বাসায় চলে গেল। আমি শেওড়াপাড়া বাজারের সামনে নেমে গেলাম। আবার সেই ফেরার পালা, আবার সেই বাস, ‘গুলশান, বনানী আবার জিগায়…….তেজকুনিপাড়ায় হালায় আবার জিগায়….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now