বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ তপুর বিয়ে
লিখেছেন- লাল বৃত্ত
একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরী করে তপু। চাকরীর প্রথম বেতন পেয়ে বাসায়
এসে সবাইকে মিষ্টি দিচ্ছে। তপুর গ্রামে শিক্ষিতের হার ৩ বা ৪%। মানে শিক্ষার আলো এখনও পৌছেনি সেখানে। যে সকল গ্রাম এখনও মধ্যযুগীয় অবস্থায় আছে। তপুর গ্রাম তার মধ্যে একটি। সে প্রথম গ্রামের বাহিরে অর্থাৎ শহরে চাকরী করা ছেলে। গ্রামের লোক জনের কাছে গিয়ে তপুর বাবা হঠাৎ ঘোষণা দেয় রুপার সাথে তপুর সামনে সপ্তাহে বিয়ে। কথাটা তপু শুনে খুব অবাক হয়।আকাশ থেকে পড়ে সে। তার বাবা তাকে না জানিয়ে এমন একটা সিন্ধান্ত নিয়ে নিল। তপু তার বাবাকে বলে কথাটা কি সত্য বাবা লোকে যা বলছে। তপুর বাবা তপুকে জানিয়ে দেয়
"যা শুনছো সব
সত্যি কতা আসিত্তে সপ্তা তুমার বিয়া।" তপু বলে বাবা আপনার কথা আমি রাখতে পারছি না। আমি রুপাকে এখন
বিয়ে করতে পারবো না।
আমি জানি আপনারা আমার ভাল চান। রুপা খুব ভাল মেয়ে। আমি তাকে চিনি। সে কলেজে পড়ে কিন্তু সমস্যা হল............ কথাটা শেষ করার আগে তপুর বাবা বলে, "আমি গাঁয়ের লুকদের বুলেছি তুমার বিয়া রুপার সাতে দিমু টাই তুমার কুুনু কতা আমি শুনমু না।" কথাটি শেষ করে তপুর বাবা ঘর থেকে বের হয়ে বাজারের দিকে বের
হয়ে চলে যায়। তপুর বাবা মধ্যযুগীয় বাবা। আর অন্যের
কথা শুনে লাফালাফি করা উনার স্বভাব। আর গ্রামে অশিক্ষিত লোকদের ভিতরে উসকায়ে দেওয়া লোকজনের অভাব নেই। তপুর বাবা বাজারে যেতেই কয়েকজন লোক তপুর
বাবাকে উসকি দিয়ে বলে তুমি তো
খুব
বড় বড় কথা বলো তোমার ছেলে এখন বিয়ে করবে না তুমি কিছুই করতে পারবে না........
সবার সব কথা শুনে তপুর
বাবা বাজারে ঘোষণা দেয় "আমার পছন্দের ম্যাইয়াকে তপু বিয়া না করলে আমি মেথর হয়ে সুবার বাড়ির পায়খানা ছাপ করে দিব।"
তপুর বাবার ঘোষণাটা গ্রামে বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ছে। কথাটা নিয়ে খুব হৈ চৈ শুরু হইছে। তপুর মায়ের কানে কথটা আসার পর তপুর
মা তপুকে রাজি করার চেষ্টা করছে। তপুর কাছে তার মা জানতে চাই রুপাকে সে কেন বিয়ে করবে না। তপু বলে মা আমি একটি প্রতিজ্ঞা করেছি। তাই এখন আমার রুপাকে বিয়ে করা
সম্ভব
নয়। তপুর মা জানতে চাই কি সেই প্রতিজ্ঞা। তপু
বলে মা আমি ভার্সিটি পড়া অবস্থায় একটি পাগলকে দেখতাম। সে কখনও কাউকে কিছু বলতো না। কিন্তু যেই না সে এ্যাম্বুলেন্স দেখতে পেত সঙ্গে সঙ্গে সে সেটা ভাঙ্গার চেষ্টা করতো। পরে আমি স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে জানতে পারি সে এই ভার্সিটিরই ছাত্র ছিল। তার বিয়ে হয়েছিল অল্প বয়সের একটি মেয়ের সাথে। কিন্তু মেয়েটির কম বয়সে মা হতে গিয়ে মারা যায়। খবরটি শুনার পর থেকে সে পাগল। তাই আমি প্রতিজ্ঞা করি ১৮ বছরের কম কোন মেয়েকে আমি বিয়ে করবো না। রুপার বয়স এখন ১৭। তাই আমি তাকে এখন বিয়ে করতে পারবো না। ১৮ বছর হলে তবেই বিয়ে করবো।
তপুর মা,তপু দুজনে বুঝিয়েও তার বাবাকে রাজি করাতে পারে না। এখন তপুর শেষ ভরসা হল মহির স্যার। তপু তার কলেজের শিক্ষক মহির স্যারের কাছে যায়। মহির স্যার এসে তপুর বাবার সাথে কথা বলে। তপুর বাবা অলৌকিক ভাবে রাজি হয়। ঠিক হয় এক বছর পরে তপুর বিয়ে হবে।
গতকাল রুপার বয়স ১৮ হয়েছে। আজ তপুর বিয়ে হচ্ছে। তপুর
বাড়িতে বাজছে সানাই। আপনারাও আমন্ত্রিত।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now