বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হঠাৎ ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ~ হঠাৎ ভালবাসা ~ লিখেছেন- দুরন্ত তাহমিদ পরীক্ষা শেষ। কোন চাপ নাই, না রাত জেগে পড়া, না অন্য কোন কিছু। নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। তাই কোল বালিশটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছি। তারপরেও রোজকার অভ্যাস বসে খুব ভোরে একবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। কয়টা বাজে সেটা দেখে আবার ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম... এই মনে হলো চোখ বুজেছি সাথে সাথেই বালিশের পাশে রাখা ফোনটা গুউগ গুউগ করে ভ্রাইবেট করা শুরু করল। আর আমার ফোনের ভ্রাইবেশন আবার জোরালো রিংটোনের থেকে কোন অংশে কম না। কাঁথার নীচে থেকে মাথাটা বের করে ফোনটা হাতে নিয়ে এক চোখ কোন রকমে খুলে দেখলাম কে ফোন করেছে। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা নামটা দেখা মাত্রই সব ঘুম নিমিষেই গায়েব হয়ে গেল। লাবণ্য ফোন দিয়েছে! “হ্যালো?” “কিসের হ্যালো! কই থাকিস? রিং হচ্ছে অথচ ধরিস না!” “এই সাত সকালে কি তুই ঝগড়া করতে ফোন করেছিস?” “যদি তাই মনে হয়, তাহলে তাই। শোন ঠিক সাড়ে আটটায় সি,এন,বি তে যেন আমি তোর চেহারা দেখতে পাই। আর এখন আটটা বাজে। মানে এইটা অনেক সকাল।” বলেই ফোন কেটে দিল! কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকো বুঝতে পারলাম না আসলে কি ঘটল। ঝটকা মেরে গায়ের ওপরের কাঁথাটা সরিয়ে দিয়ে লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামতেই খাটের পাশে রাখা সোফার পায়াতে ডান পায়ের কেনি আঙ্গুলের একটা বাড়ি খেলাম। জান বের করা ব্যাথা নিয়েই কোঁকাতে কোঁকাতে ওয়াশ-রুমের দিকে দৌড় দিলাম। লাবণ্যর সাথে পরিচয় মনি বাজারে মাসুম ভাইয়ের বইয়ের দোকানে ঠিক এক বছর আগে। সেই বার বই মেলাতে ফেসবুক রাইটারদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত একটা বইয়ে আমার লেখা একটা গল্প ছাপা হয়েছিল। আর সেটার বেশ কিছু কপি এনে মাসুম ভাইয়ের দোকানে দিয়েছিলাম। সেদিনও ঠিক সকালে হঠাৎ মাসুম ভাইয়ের একটা ফোন। “এই ছোড়া, কই রে তুই?” বিশাল বড় একটা হাই তুলে বললাম, “এই তো ভাই প্রেম করি!” “বলিস কি! কবে থেকে?” “ভাই কয়দিন আর আপনার মত...” কথা শেষ না হতেই মাসুম ভাইকে বলতে শুনলাম, “এই তো আপা বলছি। থামেন...” “... ঐ তোর আজাইরা প্যাঁচাল পরে পাড়! যায় করিস না কেন? দশ মিনিটের মাঝে আমার দোকানে হাজির হবি! নাইলে তোর কপালে খারাবী আছে।” “ভাআআই...” ফোন কেটে দিয়েছে। কাহানী না বুঝেই দিলাম দৌড়! ঠিক বিশ মিনিট লেটে দোকানে পৌছতেই রিনরিনে কণ্ঠে শুনলাম, “সব লেখকেরাই কি এমন নাকি? সব কাজেই লেট!” রিনরিনে কণ্ঠের খোজে তাকাতেই দেখলাম আকাশের সব নীল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক রূপবতী তরুণী! যার চোখে গোল একটা চশমা কিন্তু চশমা ছাড়া বড্ড বেমানান চেহারার অধিকারিণী! চশমার ওপারের গোল গোল দুটি চোখে রাজ্যের রাগ আর বিরক্তি, অথচ সেখানে কেবল মায়া ছাড়া অন্য কিছু মানায় না। প্রথম ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চশমা-ওয়ালীর দিক থেকে আবার কথার বাণ ছুটে এলো। তবে এবার মাসুম ভাইয়ের দিক ঘুরে সোজা আমার দিকে, “ভাই আপনার লেখক দেখি বোবা!” কথটা বলেই তার চোখে দুষ্টুমির ঝিলিক দেখে বুঝলাম এই মেয়ে কেবল মায়া দেখাতেই না শয়তানি করতেও পারে! আমি যে বোবা না তা প্রমাণ করতে বলে উঠলাম, “প্রথম কথা আমি বোবা না। দ্বিতীয়ত কয়জন লেট লতিফ লেখকের সাথে আপনার পরিচয় আছে? যারা আপনাকে ওয়েট করিয়ে রাখে?” আমি যে এমন কথা বলতে পারি সেটা আগে ভাবেনি মেয়েটা। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে এমন সময় আমি মাসুম ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলি, “ভাই ডেটিং ফেলে উঠে এসেছি। কাজ কি বলেন?” ভাই চোখ কপালে তুলে কেবল মেয়েটার দিকে ইশারা করে। এইটুকু বুঝলাম এই মেয়ের জন্যেই আমাকে ডাকা। তাও না বুঝার ভান করে বলি, “আরে মুখে বলেন। মাথা হ্যাং হয়ে আছে। পেটে বহুত খিদা! সকাল থেকে না খাওয়া...” “মিঃ আবীর...” তরুণীর কণ্ঠ কানে যেতেই বলে ফেলি, “আমি মিঃ আবীর না। নামের আগে মিঃ লাগানোর যোগ্যতা এখনো হয়নি।” এবারেও মেয়ে একটা ছোট খাটো শক খেয়েছে। খেতেই পারে যেখানে আমি নিজে খালি পেটে কিছু কথা শুনেছি। “মানে... আমি লাবণ্য আফরিন। দেখুন... আমি আপনার লেখা ওরা এখনও বন্ধু গল্পটা পড়ে আপনাকে খুঁজছি। এই যে বইতে ছাপা হয়েছে। এই লেখাটার কথা বলছি।” “জি বুঝেছি! কিন্তু লেখাটা তো কাল্পনিক আর লেখালেখি করাটা নিশ্চয় আইনত কোন অপরাধ না?” বলেই অদ্ভুত একটা হাসি দেয় মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে। “আসলে আপনার লেখাটা আমার অনেক ভাল লেগেছে। বই কেনার পরে থেকে কম করে হলেও বিশবার গল্পটা পড়েছি! অসম্ভব সুন্দর একটা লেখা! বলতে পারেন আমি আপনার প্রেমে পড়ে গেছি!” “কি!!” মনে হলো মাসুম ভাই এইমাত্র কয়েক লাখ টাকা লসের খবর পেয়েছে! কথা শোনার পরে আমার নিজেরও অবস্থা খুব একটা সুবিধার না! যে কোন সময়ে চোখের মনি দুইটা বের হয়ে যেতে পারে! কথাটা বলে নিজেই লজ্জায় পড়ে গেছে! “না মানে... আপনার লেখার প্রেমে পড়ে গেছি আরকি!” এটা শোনার পরেও আমার অবাক হওয়ার পরিমান বিন্দু মাত্র না কমে আরো বেড়ে যায়! বলে কি এই মেয়ে!! আমার মত করলার তিতা মার্কা ছেলের লেখা পড়ে একটা মেয়ে আমার লেখার প্রেমে পড়তে পারে, এইটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার ছাড়া আর কি হতে পারে! আর এই কথা বলতে এই মেয়ে এই সাত সকালে (যদিও সকাল দশটা পার হয়েছে প্রায় আধা ঘন্টা আগে) আমাকে খুজতে চলে এসেছে! দোকানের তিনটা প্রাণীর দুজনেই নিরবতা পালনের সাথে হতভম্ব হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে আর মেয়েটা যেন নিজের কাজে লজ্জিত হয়ে মাটিতে ঢুকে যেতে চাচ্ছে! কারো মুখে কথা নাই, শেষ পর্যন্ত মেয়েটিই নিজের লজ্জা ভেঙ্গে বলল, “শুনেছি আপনাদের এই বইটা লেখা হয়েছে ফেসবুক রাইটারদের নিয়ে। আমি কি আপনার ফেসবুক আইডিটা পেতে পারি?” আমিও সাপে শোকা রোগীর মত নিজের আইডিটা বললাম। এরপরে আর কিছু মনে নাই! মেয়েটা কখন যে চলে গেছে তা বুঝতে মাসুম ভাইয়ের দোকানে আসা পরবর্তী কাস্টামারের চাহিদার উচ্চারণের সাহায্য লাগে! "দাড়ি কাটতে কি খুব সমস্যা হয়?" পাশে বসে থাকা লাবণ্যের রাগী রাগী কণ্ঠে ধ্যান ভাঙ্গে আমার। কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গেছিলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মূহুর্তের স্মৃতিতে। “কিরে আমার কথা কি কানে যাচ্ছে?” আসলে ও কি বলেছে শুনি নাই। তাই ওর দিকে তাকিয়ে একটা ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে দশ দিন ধরে অতি যত্নে বড় করে তোলা দাড়ির ওপর দিয়ে ঘ্যাস ঘ্যাস করে গালের জমিন চুলকাতে শুরু করলাম। আর এইটা দেখে ম্যাডামের মেজাজ সপ্তমে উঠে যাবেই যাবে! যার ফলে যে কোন সময় ম্যাডামের হাতের প্রয়োগকৃত বল দ্বারা অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে রিক্সা থেকে ভূমির বুকে জায়গা নিতে হবে! আজকে হঠাৎ করে ম্যাডামের হুকুম হয়েছে রিক্সা করে ঘুরবে। তাই সকালের ঘুম হারাম করে আমাকেও চলে আসতে হয়েছে। অথচ সকালের ঘুম হারাম মানেই আমার ঝিমুনি দিবস। যেখানেই সুযোগ পাই কুচা মুরগির মত ঝিমাতে থাকি... কিন্তু এখন একটুও ঘুম আসছে না। ঘুম না আসার কারণটা অবশ্য আমি জানি... কারণটা হলো আমার পাশে বসে থাকা, আমার স্বপ্ন-কন্যা, লাবণ্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২২৪৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হঠাৎ পরিবর্তনের ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now