বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অচেনা পথের বাঁকে একমুঠো সুখ খুঁজি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অচেনা পথের বাঁকে একমুঠো সুখ খুঁজি । -শিহাব হোসেন তন্ময়। দিয়ার কাজিন। খুব আদরের বলে দুষ্টুমীতে ছিল শিরোমনি। বাবা মার মধ্যমনি একমাত্র সন্তান । ছোটবেলায় খেলার সাথী বলতে দিয়াই ছিল তার সবচেয়ে কাছের। তার মতে দিয়া ভালোই, তবে লুডু খেলার সময় গুটি যদি সাপ খেয়ে ফেলত তাহলে ঝগড়া করে খেলাই মাটি করে দিত। আর যখন ব্যাট-বল খেলত তখন না বুঝেই শুধু শুধু আউট দিত। প্রতি ঈদে কে কাকে আগে ঈদ কার্ড দিবে এ নিয়েও চলত তুমুল ঝগড়া। এক পর্যায়ে দিয়া তন্ময়ের হাতে কামড়ে দিয়ে মায়ের আচঁলে লুকিয়ে যেত । তাদের মাঝে ঝগড়া আর মিল যেন সমানে সমান । বার্ষিক পরীক্ষায় যদি কেউ কারো থেকে কম নম্বর পেত তাহলে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলত.. - দেখিস,স্যার কে বলে তোর নম্বর বাড়িয়ে দিব। না হলে উনার মেয়েকে ইচ্ছে মত চিমটি কেটে দেব। কাঁদিস না । মন ভালো করার কতই না প্রচেষ্টা চলত! এরকম হাজারো স্মৃতিতে মোড়ানো তাদের ছেলেবেলার দিনগুলো । দেখতে দেখতে দুজনই এস.এস.সি পাশ করে একই কলেজে ভর্তি হয়। প্রতিনিয়তই তাদের যাওয়া আসা ছিল একসাথে। যতই দিন যাচ্ছে দিয়ার মাঝে কে যেন একটু একটু করে পরির্বতনের বীজ রোপন করে দিচ্ছে। দিয়া এখন সেই মেয়েটি তো নেই। যে মেয়ে ঝগড়ায় পরাজয় কী জিনিস তা বুঝত না আর এখন ঝগড়ার এক পর্যায়ে নিজেই চুপ হয়ে যায় । পরির্বতনের বীজ যখন একটু একটু করে ক্রমান্নয়েই বেড়ে উঠছিল তখন প্রথম তার মায়ের কাছেই ধরা পড়ে। মা বিষয়টাকে সহজ ভাবে না নিতে পেরে তন্ময়ের সাথে চলাফেরা কথাবার্তা এমনকি বাসায় যাওয়া পর্যন্ত না করে দিলেন। ঝড়ের পূর্বাভাস ছাড়াই যেন সব এলোমেলো। এভাবেই কেটে গেল ৩বছর। এত বছর তাদের মাঝে কোন যোগাযোগ হয়নি। যদিও তন্ময় অনেকটাবার বৃথা চেষ্টা করেছিল । এইচ এস সি পাশের পর তন্ময়কে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর তার আর কোন খবর পায়নি দিয়া । রাজশাহী ইউনির্ভাসিটির এল এল বি এর স্টুডেন্ট দিয়া। বেশ কয়েক ভাল বন্ধুর মাঝে আবির হয়ে উঠেছিল তার বেস্ট ফ্রেন্ড। দিয়া আবিরের মাঝে তন্ময়ের সেই মিষ্টি ঝগড়াগুলো অনুভব করত। তাদের মাঝে কথা না হলে দেখা না হলে এক বেলা ঝগড়া না হলে নীল আকাশটা যেন গোধুলীর রঙে ছেয়ে যেত না । দিয়া ক্রমশই তার প্রতি দুর্বল হতে থাকে। মনের অজান্তেই দিয়া আবিরকে ভালোবেসে ফেলে। আবির কাউকে ভালোবাসে কী না তা জানতে চাইলে সে প্রত্যেকবারই এড়িয়ে যেতে। হঠাৎ একদিন দিয়া জানতে পারে আবির অন্য একটি মেয়েকে ভালোবাসে। আবির ওর নয়। তখন সে নিজ থেকে আবিরের সাথে মেশা বন্ধ করে দিতে লাগল। দিয়ার এই পরিবর্তন যেন আবির মেনে নিতে পারছে না । লুনা নামের মেয়েটার সাথেই আবিরের রিলেশন। হঠাৎ একদিন লুনার বাসায় আবিরের কথা জানাজানি হয়ে যায়। ফলস্বরুপ যা হবার তাই, তাদের মেলামেশা বন্ধ হয়ে গেল এবং এক পর্যায়ে তা ব্রেক আপ এর রুপ ধারণ করে। তাদের ব্রেক আপ হবার একটাই কারণ আবিরের বেকারত্ব। ২বছর পর আবির ভাল একটা চাকরি পেয়ে গেল। চাকরির খবরটা প্রথম দিয়াকে বলে লুনাদের বাসায় যায়। কিন্তু দারোয়ান তাকে ঢুকতে না দিলে লুনার বিয়ের কথা আবির তার মুখ থেকেই শুনতে পায়। দু সপ্তাহ হল বিয়ে হয়েছে । দিয়াকে সব খুলে বললে দিয়া তাকে বোঝায়। তারপর থেকে আবির স্তব্ধ হয়ে গেলেও দিয়ার বন্ধুত্বে তা আর বেশী দিন স্থায়ী হল না । সে দিন ভার্সিটি বন্ধ ছিল। হঠাৎ দিয়ার ফোন.. - হুম, বল... -কই তুমি? - তুমি ! কীরে বৃষ্টিতে ভিজেছিস? জ্বর আসেনিতো? - তোকে পিটাইতে মন চাচ্ছে। জলদি আয় । - ঘুমাই - আধ ঘন্টার মধ্যে ভার্সিটিতে আসবি। না তো তোর থ্যাঙ ভেঙ্গে দিব - এখন ! এই বৃষ্টিতে ?আমি পারব না - আমি চারুকলার এই দিকটায় আছি। তোকে আধ ঘন্টার মধ্যেই সামনে চাই । বলেই ফোন কেটে দেয় দিয়া। চারিদিকে বৃষ্টি। সবুজ প্রকৃতি যেন আজ মেতে উঠেছে বৃষ্টির ছন্দে। ক্রমেই চারপাশটা আধাঁর হয়ে আসছিল। আকাশে গাঢ় মেঘের আলোড়ন। চারপাশে বৃষ্টির শব্দ আর ঝিঁ ঝিঁদের একটানা সুর। হাত বাড়িয়ে নয়, নিজেকে পুরো বৃষ্টির মাঝে মেলে ধরেছে দিয়া । পেছন থেকে সাদা শার্ট পড়া ছেলেটা তার কাঁধে হাত রাখতেই চমকে উঠে দিয়া । - তোর থ্যাঙ ভেঙ্গে দেব ।এভাবে কেউ ভয় দেখায় । - ও ! তোর ঝারি খাওয়াইতে ডেকেছিস ! - কিরে মাথার উপর ছাতা ধরে কেন ?মেয়েদের মত ? - দেখ মেয়ে মেয়ে করবি না। আমার এত ভিজার সখ নাই বুঝলি । - চলনা একটু ভিজি । - জ্বী না বলতেই দিয়া আবিরের হাত থেকে ছাতাটা ফেলে দেয়। আর বৃষ্টির ছন্দে তার অট্টহাসিটা দেয়ালের ওপ্রান্ত ছুঁয়ে আসছে । - এটা কী হল ? - তুই এট আনরোমান্টিক কেন রে ?চলতো ... আবিরকে টেনে বৃষ্টিস্নাত সেই পিচ ঢালা পথে হাটতে শুরু করল । - আচ্ছা তোর কি হয়েছে বল তো ? - জানিনা - এসবের মানে কী ? - জানিনা - তুই আসলেই পাগলি । - হয়ত। আচ্ছা আমার হাতটা ধরবি একটু ? - এতে বলার কী হল ? দে হাত দে,দেখি তোর কপালে কোনো পাগল বর আছে নাকি। - বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা যখন মাটিতে পরে তখন তা খুব যত্নে মাটির সাথে মিশে যায়। মাটি তাতে পূর্ণ তৃপ্তি পায়। পারবি ওভাবে ধরতে ? - হা হা। কীরে আজ কাল কবিতা লিখছিস নাকি। কৈই বললিনা তো । - না - রাগ করলি ? - চল বাড়ি ফিরে যাই । বলেই দিয়া পেছন ফিরে হাটতে থাকে। আবির দৌড়ে সামনে এসে বলল - কী?আমার এই বর্ষার স্নিগ্ধ কদমে তোমার হাত রাখবে না? নেবে না তার বুক ভরা শ্বাস? বাকি পথটা এভাবেই পড়ে থাকবে ?গল্পটা শুরু করতে হবে তো । - হ্যাঁ। গল্পের শেষ না হওয়া শেষটা পর্যন্ত আমি আছি তোমার সাথে ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অচেনা পথের বাঁকে একমুঠো সুখ খুঁজি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now