বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (৩) দ্রুতবেগে ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছে সে। আলখাল্লায় মাথা পর্যন্ত ঢাকা তার। আলখাল্লার নিচে কাঁধে তূণ ভর্তি তীর আর ধনুক। দ্রুত ছোটার ফলে সেগুলোর মৃদু আঘাত লাগছে পিঠে। গন্তব্য তার রহস্য উপত্যকা। যদিও আজ পর্যন্ত কেউ ওদিকে স্বেচ্ছায় যাওয়ার সাহস করেনি। কারণ, জায়গাটির বেশ দুর্নাম শোনা যায় লোকমুখে। অন্ধকারের শক্তিরদের বাস সেখানে! মাথায় হাজারো চিন্তা তার। সেদিন জনসম্মুখে করা আফ্রোডাইটির সেই দাবীর কথা ভাবছে সে। সামর্থ্যের তরবারি! হবু রাজ প্রধানকে তরবারিটি খুঁজে বের করতে হবে। নয়তো রাজ্য চালনা করতে পারবেনা সে। মারাত্মক বিপদের মুখোমুখি হবে সবাই। জনগণ সম্রাট দারিয়ুসের পক্ষে থাকলেও ব্যাপারটি বেশ সমস্যা তৈরি করবে। কারণ, রাজ্যের পুরোহিতগণ আফ্রোডাইটির যুক্তির অন্ধ সমর্থন জানিয়েছে! সম্রাট দারিয়ুস লোক লাগিয়ে, জায়গায়-জায়গায় দূত পাঠিয়ে তরবারিটি সম্পর্কে অনেক খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু সন্তোষজনক তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। অবশেষে এক বৃদ্ধ উজির জানালেন, রহস্য উপত্যকার কোলে যে ডাইনী গুহা রয়েছে সেখানে যেতে হবে কাউকে। ডাইনী গুহার বাসিন্দা, থালিয়া, সামর্থ্যের তরবারির খোঁজ জানাতে পারবে। তবে জায়গাটি বিপদসংকুল। সম্রাট দারিয়ুস তাই মেয়েকে একা আসতে দিতে চাননি। কিন্তু এমেন্ড্রা বাবাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজী করিয়েছে। লড়াইটি তার। তাকেই সামলাতে হবে সব। সে সামর্থ্যের তরবারিটি নিয়েই ফিরবে। রহস্য উপত্যকায় পৌঁছে ডাইনী গুহা খুঁজে নিতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল ওর। শুনেছে, গুহাটি লোকচক্ষুর আড়ালে লুকোনো। খুঁজতে-খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে একটি পাথরের উপর বসে পড়ল সে। ঘোড়াটি বেঁধে রেখেছে সে পাথরের সাথেই। হঠাৎ গুনগুন শব্দ কানে এলো তার। কেউ একজন মৃদুস্বরে গান গাইছে! এমেন্ড্রা অবাক হলো! এমন নির্জন জায়গায়, কে গান গাইবে? নিজের অজান্তেই সে গানের শব্দ অনুসরণ করতে লাগল। আর খুব সহজেই একটি গুহায় এসে পৌঁছালো। ভেতরে আলো-আঁধির ছায়া। সেই ছায়ার মাঝ থেকেই রিনরিনে গলায় কে যেন বলল, ‘সুস্বাগতম, যুবরাজ্ঞী এমেন্ড্রা! আমার বাড়িতে দেখি রাজ-ধুলো পড়েছে!’ মাথার উপর থেকে আলখাল্লার প্রান্ত নামিয়ে শব্দের উৎসের দিকে তাকাল সে। মধ্যবয়সী এক সুন্দরী মহিলা, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে। মহিলাটি দুহাত দুদিকে মেলতেই গুহাটি আলোকিত হয়ে উঠল হঠাৎ। এমেন্ড্রা অভিবাদন জানানোর ভঙ্গীতে মৃদু ঝুঁকে বলল, ‘থালিয়া, তোমার সাহায্য আমার খুব দরকার।’ থালিয়া বিজ্ঞের মত মাথা দোলাল। চেহারা কিছুটা গম্ভীর হয়ে আছে তার। ‘হুম। তোমাকে সাহায্য করার জন্য নির্দেশ পেয়েছি আমি। বলো, কি জানতে চাও?’ এমেন্ড্রা আরেকটু এগিয়ে এসে থালিয়ার মুখোমুখি দাঁড়ালো। ‘সামর্থ্যের তরবারি, থালিয়া। ওটা সম্পর্কে যা জানো, সব শুনতে চাই আমি।’ এমেন্ড্রাকে বসতে ইশারা করে থালিয়া নিজেও বসে পড়ল, কয়েক হাত দূরত্ব রেখে। তারপর বিড়বিড় করে কিছু একটা উচ্চারণ করতেই, তাদের দু'জনের মাঝে বড়সড় একটি অগ্নিকু- জ্বলে উঠল। সেদিকে তাকিয়ে থালিয়া বলতে লাগল, ‘ সামর্থ্যের তরবারি। হুম...আজ থেকে পনেরো যুগ আগে, মেলভিস নামক একজন দয়ালু সম্রাট ছিলেন। তিনি ছিলেন, দেবতা এপোলোর একনিষ্ঠ ভক্ত। তার ভক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য, এপোলো স্বর্গের কামার হেফাস্টাসের সাহায্যে একটি তরবারি তৈরি করেন। তারপর উপহার দেন সম্রাট মেলভিসকে। তরবারিটির একটি অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। যে এটি ব্যবহার করবে, সে কখনও বিদ্রোহ কিংবা সংকটের মুখে পড়বে না। কিন্তু সম্রাটের মৃত্যুর পর সেটি হারিয়ে যায়। অবশ্য মৃত্যুশয্যায় এ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন মেলভিস। বলেছিলেন...উত্তরাধিকারীদের মাঝে যে তরবারিটি খুঁজে পাবে, একমাত্র সেই হবে পরবর্তী সম্রাট। সম্রাটের তিন ছেলে, দুই ভাতিজা, ভাগ্নে তখনই কাজে লেগে পড়ে। বেরিয়ে পড়ে তরবারিটির খোঁজে। পথের বিপদ-সংকুলতায় মারা পড়ে কেউ। কেউবা পাগল হয়ে যায়। নিখোঁজ হয় একজন।’ ‘অবশেষে সম্রাটের ছোট ছেলে, দাইদারুস, খুঁজে পান তরবারিটি। সুনিপুণ হাতে শাসন করেন বিরাট সাম্রাজ্য। তার মৃত্যুর পরপর তরবারিটি আবার হারিয়ে যায়। আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি! এভাবেই চলে...আমার জানামতে শেষ সম্রাট, দ্বিতীয় মেলভিস, তরবারিটি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। ফলে, তোমার বাবার হাতে তার অকালমৃত্যু ঘটে! এরপর তো তোমার বাবা সম্রাট দারিয়ুসই শাসন করছেন রাজ্য। তরবারিটি ছাড়া অবশ্য!’ থালিয়ার কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরতে পেরে এমেন্ড্রার অনিন্দ্য সুন্দর মুখটি ভয়ে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ‘তার মানে, তুমি বলতে চাইছো...’ থালিয়া নরম স্বরে বলে, ‘ঠিক ধরেছ, এমেন্ড্রা। আমি তাই বলতে চাইছি! তরবারিটি তোমার নিজের চাইতে, তোমার বাবার জন্য বেশী প্রয়োজন। নয়তো, খুব শীঘ্রই কোন অঘটন ঘটবে!’ এমেন্ড্রা জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভেজানোর চেষ্টা করল। ‘থালিয়া, বলতে পারো তরবারিটি কোথায়? খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব?’ ‘তরবারিটি এপোলোর জিম্মায় আছে। খুঁজে পাওয়া খুব সম্ভব। আমি সম্ভাব্য দুটো জায়গার নাম বলতে পারি। তবে, মনে হয়না এপোলো তোমাকে ওটা নিতে দেবে! সে ওয়াদা করেছিল, কোন নারীকে ঐ তরবারি ছুঁতে দেবে না! আর দেবতারা তাদের ওয়াদা ভাঙ্গেন না। কারণ, কথার বরখেলাফ তাঁদের দেবত্ব কেড়ে নেয়! দেয় সাধারণ মানুষের জীবন!’ *** ডাইনী গুহা থেকে বেরিয়ে, এমেন্ড্রা নিজের ঘোড়ার পাশে দাঁড়াল। হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল সে। ধীরে, প্রায় না নড়ে ধনুকে তীর পড়াল। তারপর ঝট করে পেছনে ফিরল, উদ্যত তীর হাতে। পেছনে সোনালী-রঙ্গা আলখাল্লাধারী একজন হাত তুলে বাধা দেয়ার ভঙ্গী করল। তারপর মাথা থেকে আলখাল্লার প্রান্ত ঠেলে সরাতেই স্বর্গীয় একটি মুখাবয়ব দেখা গেল। মাথায় সুর্কীটির মুকুট। এমেন্ড্রার দিকে তাকিয়ে, অদ্ভুত সুন্দরী এক যুবতী হাসছে! এমেন্ড্রা ধনুক নামিয়ে কুর্নিশ করল তাকে। ‘ওহ দেবী আইসিস! আপনি আমাকে চমকে দিয়ে তীর ছোঁড়ার দৃষ্টতা দেখানোর মত ঘটনার উদ্ভব করে ফেলেছিলেন!’ আইসিস হাসলেন। বিষন্ন সে হাসি। ‘প্রিয় এমেন্ড্রা, তোমার সামনে অনেক বিপদ।’ ‘জানি, দেবী। শারীরিক ক্ষতির আশংকা করছি...’ ‘শারীরিক ক্ষতির চাইতে মানসিক ক্ষতি আমাদের বেশী ভোগায়। তুমি মন হারাতে চলেছো, এমেন্ড্রা! আফ্রোডাইটি তোমাকে অভিশাপ দিয়েছে। খুব শীঘ্রই সে অভিশাপের মুখোমুখি হবে তুমি। প্রেম! হায় এমেন্ড্রা! তুমি প্রেম নামক জ্বলন্ত আগুনে পুড়বে। তারপর বাকী জীবন কষ্টের কান্নায় ভারী করবে পৃথিবী। তোমার কান্না সুদূর অলিম্পাস পাড়ি দেবে!’ এমেন্ড্রাকে বিভ্রান্ত দেখাল। ‘ওহ দেবী আইসিস, আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা!’ আইসিস এক চিলতে বিষন্ন হাসি হাসলেন। ‘সাবধানে থেকো। এর বেশী কিছু বলতে পারব না আমি!’ (৪) এথেন্স গামী ফ্লাইটের ঘোষণা এলো এ সময়। তরুণটি যেন ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে রুবাইকে দেখল। তারপর ফিরতি পথ ধরল। ঘাড়ের লম্বা চুলগুলো ঠিক আছে কি না, হাত দিয়ে দেখে নিচ্ছে। যেন কিছু একটা লুকোতে চাইছে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now