বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এ্যান্টি ক্রাইষ্ট

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এ্যান্টি ক্রাইষ্ট রাকিব হাসান ০৬-০৩-২০২৪ রাত ৩টা ৩৭: উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে টেবিলের উপর হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে খেলতে থাকা সাড়ে আট মাসের শিশুটিকে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। টেবিলের পাশে চাকু হাতে দাঁড়িয়ে আছে মাঝারি গড়নের পঞ্চাশোর্ধ ডক্টর হাসান। এক মনে সে হাতের চাকুটার ধার পরখ করছে এবং একই সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই এই ক্ষুরধার চাকু শিশুটিকে দু’টুকরো করে দেবে...... ১৮-০৫-১৯৮৪ দুপুর ১টা ১০: জুম্মাবার। আটিপারা জামে মসজিদের মাইকে পুরোদমে খুতবা চলছে। মসজিদের ভিতরে জায়গা না পেয়ে অনেক মানুষ মসজিদের সামনের রাস্তাতেই পাটি/জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পরেছে। গ্রীষ্মের প্রবল খরতাপ উপেক্ষা করে তারা খুতবা শোনার চেষ্টায় রত। এই মানুষগুলোর মধ্যে ১২ বছরের এক বালকও খুব মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনছে। খুতবার বিষয়টা হল মাসীহিদ- দাজ্জাল। খতিব সাহেব মোটামুটি এই ভাবে দাজ্জাল সম্পর্কে বলছেন “কেয়ামতের আগে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে আল্লাহ দাজ্জালকে দিয়ে পরীক্ষা করবেন। দাজ্জাল একজন মানুষ,যে ঈসা (আঃ) এর মতো অলৌকিক কাজ করে দেখাবে। এই জন্য তাকে বলা হয় ‘মাসীহিদ- দাজ্জাল’ অর্থাৎ প্রতারক বা মিথ্যা মাসীহ। দাজ্জাল হবে একজন তরুণ মানুষ যার গায়ের রঙ লালচে। তার চুল হবে ঘন ও কোঁকড়ানো। তার কপাল হবে চওড়া ও বুক হবে প্রশস্ত। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তার ডান চোখ হবে কানা আর বাম চোখ হবে আঙুরের মতো ফোলা,দেখে মনে হবে চোখ যেন চোখের কোঠর থেকে বের হয়ে আসছে। দুই চোখের ঠিক মাঝখানে কাফ,ফা,রা (অর্থাৎ কাফের) এই তিনটি অক্ষর লেখা থাকবে যার অর্থ হল কাফির আর শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকল ঈমানদারেরাই তা পড়তে পারবে। দাজ্জালের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হবে তার কোনো ছেলে মেয়ে থাকবেনা।দাজ্জাল প্রথমে নিজেকে ‘মাসীহ’ বা ঈসা (আঃ) এর মতো অলৌকিক ক্ষমতার দাবী করবে, আর পরে সে নিজেকে সরাসরি ‘আল্লাহ’ হিসেবে দাবী করবে। (নাউজুবিল্লাহ) সে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী অনেক অলৌকিক কাজ করে দেখাবে। সে আকাশের মেঘকে হুকুম করবে আর আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টি হবে আর যে এলাকার মানুষ তাকে আল্লাহ হিসেবে মানবে না সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে দুর্ভিক্ষ হবে। দাজ্জালের অন্য অলৌকিক কাজের মধ্যে থাকবে তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির নহর থাকবে যা সে মানুষের মাঝে বিতরণ করবে,সে মৃত মানুষকে জীবিত করে দেখাবে ইত্যাদি.........” খতিব সাহেবের সেই কথাগুলো ১২ বছরের হাসানের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। সেই সময়েই সে প্রতিজ্ঞা করে তার জীবিত অবস্থায় যদি এই দাজ্জালের জন্ম হয় তবে সে তাকে খুঁজে বের করবে। সাধারণত বাল্যকালের এই রকম অদ্ভুত প্রতিজ্ঞাগুলো বাল্যকালের সাথেই দ্রুত হারিয়ে যায়। কিন্তু হাসান তার প্রতিজ্ঞা ভোলেনি। বরং বড় হওয়ার সাথে সাথে তার সেই প্রতিজ্ঞা দৃঢ় হয়। আর্কিওলজির উপর ডক্টরেট ডিগ্রী শেষ করে হাসান এই বিষয়ে পুরাদস্তুর গবেষণা শুরু করে। দাজ্জাল সম্পর্কে যত রকম তথ্য আছে সব একত্র করতে থাকে। জানতে পারে সুধু কোরআন নয় বাইবেল ও ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থেও এই রকম এক জন ব্যক্তির আগমনের উল্লেখ আছে। যাকে বলা হয়েছে এ্যান্টিক্রাইস্ট। নিউ টেস্টামেন্টে এ্যান্টিক্রাইস্ট শব্দটা ৫ বার এসেছে।বহুবচনে একবার ও একবচনে চারবার। ইহুদিরা আবার এই এ্যান্টিক্রাইস্টকে বলে আরমিলুস। মূলত সব জায়গাতেই এই চরিত্রটিকে ঈসা (আঃ) বা যীশু খ্রিস্টের বিপরীত এবং নকল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন জায়গাতেই এ্যান্টিক্রাইস্ট বা দাজ্জালের আগমনের সঠিক সময় আর স্থানের উল্লেখ নেই। ডক্টর হাসান উৎসাহ না হারিয়ে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও প্রাচীন গ্রন্থ নিয়ে অনুসন্ধান করতে থাকে। পরিষ্কার ধারনা পাওয়ার জন্য যে ঠিক কোন জায়গাতে এবং কোন সময় এ্যান্টিক্রাইস্টের জন্ম হবে। বারবার বিফল হওয়ার পরেও সে হাল না ছেড়ে প্রতিবার নতুন উদ্যমে কাজ করে যায়। যদিও প্রতিটা সূত্রই এক জায়গাতে গিয়ে ছিন্ন সূত্র প্রমাণিত হয়। ২৭-২-২০২৪ দুপুর ৩টা ৩৮: অবশেষে হঠাৎ কাকতালীয় ভাবেই যেন সূত্রটা পাওয়া গেল। এক দুপুরে ডক্টর হাসান নিজের অফিসে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার একটা শিলালিপির উপর কাজ করছিলেন। পাঠোদ্ধারের সময় শিলালিপিটির মাঝামাঝি একটা অংশ তার নজর কাড়লো। ঠিক এই জিনিসটাই তার দরকার ছিল। এখানে এ্যান্টিক্রাইস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য দেয়া আছে। স্পষ্টভাবে এ্যান্টিক্রাইস্টের জন্মের স্থান সম্পর্কে ধারনা এবং সময় উল্লেখ করা আছে। এর তথ্য অনুযায়ী ২৩শে জুলাই ২০২৩’য়ে এ্যান্টিক্রাইস্টের জন্ম হয়ে গেছে এবং বর্তমানে তার বয়স ৮ মাস। ব্যাপারটা ডক্টর হাসানের ভেতরে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করলো।ধাক্কাটা সামলানোর জন্য সে কাছের সোফাটায় বসে পড়লো যেন মাথা ঘুরে মেঝেতে না পরা লাগে। চিন্তাভাবনা একটু স্বাভাবিক হতেই সে তার করনীয় স্থির করে ফেললো। সে সিদ্ধান্ত নিলো যত দ্রুত সম্ভব শিশুরূপি এই দানবকে ধ্বংস করতে হবে। ০৬-০৩-২০২৪ রাত ৩টা ৪১: কেউ যদি গহীন অস্ট্রেলীয় অরণ্যের গভীরে অবস্থিত কটেজটার বন্ধ এই কামরাটাতে উঁকি দিতো তবে দেখতে পেত কপালে জন্ম দাগযুক্ত জন্মান্ধ শিশুটি এখনো টেবিলের উপর হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে খেলছে। আর ডক্টর হাসান চাকুর ধারালো ফলাটা নিজের গলায় ছুঁইয়ে রেখেছে। কারণ একটা কণ্ঠ তার মস্তিষ্কের ভেতরে বারবার বলে যাচ্ছে বাচ্চাটার এখনো মরার সময় হয়নি। সে আরো বহু দিন বাঁচবে। তুমি বরং চাকুটা নিজের গলাতেই চালিয়ে দাও। ডক্টর হাসানের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি একত্র করেও সেই কতৃত্বপূর্ন কণ্ঠ অগ্রাহ করা যাচ্ছে না। সহ্যসীমার শেষপ্রান্তে পৌঁছে ডক্টর হাসান শেষবারের মতো টেবিলের উপর তাকাল। তার মনে হল এ্যান্টিক্রাইস্ট তার দিকে তাকিয়ে হাসছে.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now