বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেই দৃষ্টি

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rebel (০ পয়েন্ট)

X বাসে বসে আছি।পুরোনো দিনের নানা কথা আজ মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছে। কত সুন্দর করে আমার শৈশব কাটছিলো, কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল।এমন সময় পাশের সিটে একজন বাবার বয়সি লোক এসে বসলো।বাস ও ছেড়ে দিলো।আজ হঠাৎ করে মনের মাঝে শৈশবের সেই মধুময় ঘটনা গুলি ভেসে উঠতে লাগলো।আর নিজের মাঝে কেমন যেন এক উত্তেজনা অনুভব হচ্ছিলো।আর হবেই না কেন? আজ প্রায় নয় বছর পর নিজের গ্রামে যাচ্ছি উত্তেজনা তো হবেই।কিন্তু, মনের মাঝে একটা ভয় ও কাজ করছে। গ্রামের মানুষ আমাকে কী মনে করবে,,,?? তারা কি আমাকে খারাপ ছেলে ভাবে,,?? আমার নাম নয়ন।একটা কোম্পানিতে জব করছি।বেতনও মোটামুটি ভালো। গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার হৃদয়পুর।এতদিন ঢাকাতে ছিলাম এখন গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।যদিও বাড়িতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিলো না কিন্তু বাবা অসুস্থ, মা যেভাবে কান্না কাটি করছিলো আর না এসে পারলাম না। , > তা বাবা কৈ যাইবা,,,??( পাশের সিটে বসা আংকেল) -- জ্বী আংকেল ফেনীতে যাবো। (আমি) > ফেনীর কোথাই যাবে..? -- হৃদয়পুর। আংকেল আমাকে ভালো করে দেখলেন, তারপর আবার জিঞেস করলেন,, > তোমার বাবার নাম কী.?? -- আশরাফ চৌধুরী। এবার যেন আংকেল কিছুটা চমকে উঠলেন,উনি আমাকে পা হতে মাথা পর্যন্ত আরেকবার দেখে নিলেন। > ও,,তা এখন কী করো..?? -- জ্বী আংকেল,, একটা কোম্পানিতে জব করি। > ভালো, তা এত দিন কোথাই ছিলে,,?? এবার আমার মনে একটু সন্দেহ হলো। লোকটা কী আমাকে চিনে..? -- আংকেল আপনি কী আমাকে চেনেন.?? > না,,তোমাকে চিনি না।তবে তোমার বাবাকে চিনি। -- ও,, না এতদিন ঢাকায় ছিলাম। > তা কয়বছর পর বাড়ি যাচ্ছ..? -- নয় বছর পর। > বাড়ি ছেড়েছিলে কেন,,?? -- আংকেল আপনি যদি আমার বাবাকে চিনেই থাকেন,তাহলে তো সব জানেনই। > না সব জানি না।তবে তোমার মুখ থেকে সব জানতে চাই,,আমাকে সব খুলে বল। এবার সেই পুরোনো স্মৃতির পাতা থেকে ওনাকে সব খুলে বলতে লাগলাম,,, , আজ থেকে নয় বছর আগে, আমার বয়স তখন ১৫ বছর।আমি তখন নবম শ্রেনীতে পড়তাম। আমাদের এলাকার একজন ভদ্র ছেলে হিসেবে সবার কাছে যথেস্ট নাম ডাক ছিলো।এলাকার সবাই আমাকে আদর করতো। এককথায় আমি ছিলাম আমাদের গ্রামের সবার নয়নের মনি।আমার বাবা ছিলেন এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সম্মানি লোক।গ্রামের সব মানুষ ওনাকে সস্মান করতো।আমার দাদা নাকি একজন জমিাদার ছিলেন।জমিদারের বংসধর হিসেবে ওনার একটা আলাদা সম্মান ছিলো সবার কাছে। পড়ালেখায় ও খারাপ ছিলাম না। একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা খাই।মেয়েটা একটা বিরক্ত ভরা চোখে আমার দিকে তাকালো। আমি সাথে সাথে সেই চোখের মায়ায় পরে যাই। সত্যিই মেয়েটি অপরুপ ছিলো। মেয়েটি আমাকে কিছু কথা শুনালো।আর শ্বাসিয়ে গেল, যদি আর কখনো ওকে ডিস্টার্ব করি তাহলে হেডস্যারের কাছে নালিশ করবে। এরপর থেকে আমি মেয়েটির সামনে যাই নি, তবে প্রতিদিন ঠিকই লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে দেখতাম।এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর,,একদিন আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম।আর আমার সাথে ছিলো আমার দুইজন বন্ধু।আমরা কথা বলতে বলতে বাড়ি ফিরছিলাম তাই খেয়ালই করি নি যে ঐ মেয়েটা আমাদের সামনেই ছিলো।হঠাৎ আমার সাথের একজন ছেলে ঐ মেয়েটিকে একটা কাগজ ছুঁরে মারে আর সাথে সাথেই ওরা পালিয়ে যায়।আমি এই ঘটনায় হতবম্ব হয়ে যাই।মেয়েটি কাগজটা নিয়ে সোজা হেডস্যারের কাছে দিলো।আর বল্লো আমি নাকী তাকে প্রতিদিনই বিরক্ত করি, ইচ্ছে করে ওর সাথে ধাক্কা খাই।আমি স্যারকে অনেক বলেছিলাম, আমার কোনো দোষ নেই, কিন্তু স্যার আমার কোনো কথাই শুনলেন না। আমার বাবাকে খবর দিলেন। সাথে সাথে ঘটনাটা পুরো গ্রামে জানাজানি হয়ে গেল।অনেক মানুষ এলো, আমার বাবাও এলো।ঘটনা শুনে বাবা আমার উপর খুব রেগে গেলেন।আমি বাবাকে অনেকবার বল্লাম যে আমি এটা করি নি, আমার কোনো দোষ নেই।কিন্তু বাবা আমার কোনো কথাই শুনলো না।তখন আমার নিজেকে খুব অসহায় মনে হলো। এখন সব নিরবে সহ্য করা ছারা আমার আর কোনো উপায় নাই।মেয়েটির প্রতি খুব ঘৃণা হলো। সেদিন বাবা আমাকে সবার সামনে খুব মেরেছিলো।এতই মেরেছিলো যে আমি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই। সেদিন আমাকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়েছিলো।আমাকে বাবা ঢাকা পাঠিয়ে দেয়।ওখানে একটা স্কুলে ভর্তি হই। সেদিন বাবার উপর খুব রাগ হলো।উনি নিজের ছেলের কথা বিশ্বাস করলেন না। তাই তার উপর রাগ করে আর বাড়ি গেলাম না।মা অনেক বলেছিলো বাড়ি যাওয়ার জন্য,কিন্তু আমি যাই নি।আজ ও যেতাম না কিন্তু বাবা অসুস্থ, মা যেভাবে কান্নাকাটি করছিলো তাই আর না গিয়ে থাকতে পারলাম না। , > হুম,,,তোমার সাথে যা হয়েছে তা অন্যায়।আমি খুবই দুঃখিত।(আংকেল) -- আরে আংকেল আপনি কেন দুঃখিত হচ্ছেন,,?? > ও তাইতো, আমি কেন দুঃখিত বলছি। আসলে আমি ঐ গ্রামের মানুষ হিসেবে সেদিন তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না,, তাই দুঃখিত। -- আপনি আমাদের গ্রামে থাকেন..?? > হ্যাঁ -- কোন বাড়িতে..? > শিকদার বাড়ি। -- ও,,আপনি আর সেদিন কী করতে পারতেন,,সব আমার ভাগ্যের দোষ। > হুম,,তা বাবা, মেয়েটিকে কি তুমি এখনো ঘৃনা কর..? -- কেন করবো না বলেন।আমার এই ঘটনার জন্য ও দায়ী।ওর জন্য আমি আমার গ্রামছাড়া হয়েছি। > ও,, বুঝলাম,,,চলো আমরা চলে এসেছি,,এবার নাম।-- হুম চলুন,, আমরা বাস থেকে নামলাম। চিরোচেনা জায়গাটা খুব পাল্টে গেছে। আংকেল আমাকে একটা রিকসা ঠিককরে দিয়ে বিদায় নিলেন, উনার নাকী এখানে একটা কাজ আছে।রিকসা চলছে গ্রামের রাস্তা দিয়ে।যদিও গ্রামটা খুব পাল্টে গেছে কিন্তু তারপরও এটাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে।রাস্তার দুইপাশের মাঠ শরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে।কি সুন্দর সুভাষ। পাশেই সেই চিরোচেনা "কালীদাস পাহাড়িয়া"নদী।এই নদীতে সবাই মিলে কত সাতার কেটেছি।বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা করেছি।আজ কিছুই নেই। হঠাৎ সেই বিখ্যাত গানের লাইনটি মনে পড়ে গেল,,,"কোথাই হারিয়ে গেল সোনালী বিকেল গুলো নেই, আজ আর নেই",,,রিকসায় যেতে যেতে অনেক মানুষকে চোখে পড়ছে, যারা আমাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে চেনার চেষ্টা করছে।এটা দেখে আমার হাসি পাচ্ছে গ্রামের মানুষের সেই পুরোনো অভ্যাসটি আর গেল না। > তা বাজান,,চৌধুরী বাড়িতে যাইতেছেন আপনারেতো আগে এই এলাকায় দেখি নাই,,চোধুরী সাহেব আপনার কে হয়,,,? (রিকসাওয়ালা) -- জ্বী, উনি আমার বাবা। রিকসাওয়ালা রিকসা থামিয়ে আমাকে একবার দেখে নিলেন,,তারপর বল্লেন,, > তুমি চৌধুরী সাহেবের পোলা,,? আগে কইবা না,,এতদিন আসনাই ক্যান,,? -- কি বলবো চাচা? আপনারা তো সব জানেন। > হ,,,হুনছি,,তারপরও বাবার উপর রাগ করা ঠিক না।বেচারা চৌধুরী সাহেব, তোমার শোকে কাতর হয়ে গেছেন।তুমি আইছ, আজ উনি খুব খুশি হইবেন। , অবশেষে নিজের বাড়িতে এসে পোঁছালাম। মা আমাকে দেখে কেঁদেই দিলেন,,।এবার নিজের ঘরে গেলাম,ফ্রেশ হলাম। বাবাকে ঘরে দেখলাম না। কিছুক্ষণ পর দেখি বাবা বাজার থেকে বাজার করে নিয়ে আসলেন। উনাকে দেখে মনে হলো না ইনি অসুস্হ। সেই আগের গম্ভির মুখ।আমি গিয়ে সালাম করলাম আর কিছু বল্লাম না।আমি ইতিমধ্যেই বুঝতে পারলাম যে উনি সুস্হ আছেন।আমাকে বাড়িতে আনার জন্য মিথ্যে বলেছেন।এতদিন পার হয়ে গেলেও বাবা ঠিক আগের মতই আছে।সেই গম্ভির চালচলন,,চুপচাপ স্বভাব।দুপুর বেলা খেয়েদেয়ে দিলাম ঘুম।বিকাল বেলা মায়ের ডাকে ঘুমথেকে উঠলাম। আমার সাথে নাকী কারা দেখা করতে এসেছে। গিয়ে দেখি পাশের বাড়ির আন্টিরা এসেছে দেখা করতে,,।তাই উনাদের সাথে দেখা করে আসতেই দেখলাম আমার বয়সি ৩ জন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।চিনতে ভূল হলো না,এরা হলো অভি,বাঁধন, আর আদি,,আমার ছোটবেলার বন্ধু।আজ কতদিন পর ওদের সাথে দেখা।কত কথাই না জমে আছে, আজ প্রান খুলে কথা বলবো।তাই সবাই বেরিয়ে পড়লাম।আজ গ্রামটা ঘুরে দেখবো। পরিচিত সবার বাড়ি বাড়ি ঘুরে আসলাম,সবার সাথে দেখা করলাম।ভাবলাম বাসে কথা হওয়া সেই আংকেলের বাড়ি থেকেও ঘুরে আসি। তাই অভিকে বল্লাম,,চল সিকদার বাড়িথেকে ঘুরে আসি। > সে কীরে ? এখনো মনে রেখেছিস তাকে,,?(অভি) -- এখনো মনে রেখেছি মানে..? > হইছে আর অভিনয় করিস না,।আমরা কিছু বুঝিনা ভেবেছিস..?(আদি) -- কি বলছিস তোরা খুলে বল..!! > নেকা কোথাকার.? সিকদার বাড়িতে নীলার সাথে দেখা করতে যাচ্ছিস, সেকথা কি আমরা বুঝি না ভেবেছিস..? (বাঁধন) -- কোন নীলা..? > কেন? যে মেয়েটি তোকে সবার সামনে মার খাইয়ে ছিলো..?? -- তার বাড়ি কি সিকদার বাড়ি..? > হ্যাঁ -- ও তাহলে থাক যাবো না। সন্ধা হয়ে গেছে চল, নজির কাকার, দোকান থেকে চা খেয়ে আসি। > হুম চল,,, আমাদের গ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহি নজির কাকার দোকানে চা খেয়ে বাড়ি চলে এলাম।বাবার উপর সেই অভিমান টা এখনো রয়েই গেছে।তাই ওনার সাথে এখনো কথা বলি নি।আর উনিও আমার সাথে কথা বলতে আসেন নি, তবে সবসময় আমার খবর নিচ্ছেন। সেইদিন রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।পরের দিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করলাম। তারপর ভাবলাম যাই নদীর পার থেকে একটু হেঁটে আসি।তাই বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর দিকে যেতে লাগলাম,যেতে যেতে বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা হলো, তাদের সাথে কুশল বিনিময় করে আসতেই একটা মেয়েকে দেখলাম।আজ নয় বছর পর নিজ গ্রামের একটা মেয়েকে দেখলাম। দেখতে সুন্দরই কিন্তু এখন আর মেয়েদের নিয়ে ভাবি না।সেইদিন থেকেই মেয়েদের প্রতি আমার ঘৃনা জন্মে গেছে।এরপর থেকে আর মেয়েদের ধারে কাছে ঘেঁষতাম না। তারপরও দেখলাম নিজের গ্রামের মেয়ে তাই দেখে একটু চেনার চেষ্টা করলাম, কিন্তু হালকা চেনা চেনা লাগলেও চিনতে পারি নি। মেয়েটাকেও দেখলাম আমার দিকে একটু ভ্রুঁকুচকে তাকালো তার পর একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের বাড়ির দিকে চলে গেল গেলো।আমি মুচকি হাসির ব্যাপারটা বুঝলাম না,আর বোঝার চেষ্টা ও করলাম না। > বাহ, বাহ, তুই এখনো ডু্বে ডুবে জল খাচ্ছিস.? আমি কাল ওর কথা বলাতে তো খু্ব ভাব নিয়েছিলি তখন (অভি) -- আরে তুই কখন এলি..? আর কী যা তা বলছিস,,,? ডুবে ডুবে জল খাওয়া মানে কী..? (আমি) > কেন রে এতক্ষন নীলার সাথে কি করছিলিস বল..? -- এখানে নীলা কোথা থেকে আসলো..? > কেন একটু আগে এখান দিয়ে গেলো সেটা কে হুম...?? -- ওটা নীলা..? > এমন ভাব করছিস যেন চিনিস না,,.. -- আমি সত্যিই ওকে চিনতে পারি নি। চিনতে পারলে ওর দিকে তাকাতামই না। > কি বলছিস..? তুই তো ওকে ভালোবাসতি। -- হুম একসময় বাসতাম,,কিন্তু এখন ওর জন্য আমার কাছে ঘৃনা ছারা কিছু নেই। এইকথা বলে ওখান থেকে চলে এলাম।আর ভালো লাগছিলো না, তাই বাড়ি চলে আসছিলাম। আসার পথে ওর সাথে আবার দেখা। ও আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, মনে হয় কথা বলতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি ওর দিকে তাকালামই না। ও কিভাবে ভেবেছিলো যে এতকিছু হওয়ার পর ও আমি ওর সাথে কথা বলবো। এরপর আমি বাড়ি এসে শুয়ে পরলাম, কিন্তু নীলা আমাদের বাড়িতে কেন আসবে,..? এই প্রশ্নটা মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছিলো, তবে এ ব্যাপারে কাউকে তেমন কিছু জিঞেস করলাম না। এর দুইদিন পরে আমি, অভি,আদি,বাঁধন সবাই মিলে গেলাম নদীতে।আজ আবার ছিপ দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা হবে, ছোটবেলায় এরকম অনেক প্রতিযোগিতা করেছি।২০ মিনিট হয়ে গেছে, সবাই একটা করে বড় মাছ পেয়েছে, শুধু আমি পাই নি। মাছ সব টোপ গিলেই চলেছে, তাই এবার সতর্ক অবস্হানে রয়েছি। বুঝতে পারছি ছিপের কাছে মাছ এসে গেছে, টোপ নিয়ে নারাচারা করছে, আমিও সতর্ক হয়ে গেছি। একে বারে টান টান উত্তেজনা,,এমন সময় একটা ঢিল এসে আমার ছিপের কাছে পড়লো। গেল মাথাটা গরম হয়ে,, -- এই কোন হারামী রে..?আমার ছিপে ঢিল মারিস,,পারলে আয় একবার কাছে আয়,,,(আমি) > হি হি হি,,,এসেছি কি করবে....? আরে এতো দেখি নীলা। আমি ভাবতেই পারি নি যে, এত কিছুর পরেও ও আমার সাথে ফাজলামি করবে।আমিতো অবাক। > কি হলো কিছু বলছো না কেন,,? আমাকে চিনেছ..?? -- তোমার মত মেয়েকে খুব ভালো করেই চিনেছি। আর তুমি ভাবলে কি করে যে এত কিছুর পর আমি তোমার সাথে কথা বলবো..?? > দেখ নয়ন,, তখন ছোট ছিলাম।এ জন্য একটা ভূল হয়েই গেছি। এর জন্য এখনো রাগ করে থাকার কি আছে..? -- তখন আমিও ছোট ছিলাম। কিন্তু আমাকে বিনা দোষেই শাস্তি পেতে হয়েছে। আর কি বলেছিলে..?আমি তোমার উপর রেগে আছি...? তুমি আমার কে যে আমি তোমার উপর রেগে থাকবো..? আমি তোমাকে ঘৃনা করি। এই কথা বলে ওখান থেকে চলে আসলাম। বুঝতে পারলাম ও কষ্ট পেয়েছে, কিন্তু আমার সেদিনের কষ্ট থেকে এটা কিছুই না। এরপর থেকে ওর সাথে প্রায় দেখা হতো কিন্তু আমি অন্যদিকে তাকিয়ে চলে যেতাম।তবে ও যেন এক করুন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়, যদিও ওকে ঘৃনা করি কিন্তু ওর ঐ চোখের দিকে তাকালে যেন ওর মায়ায় পরে যাই, তাই আর ওর দিকে তাকাই না। এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখলাম, বাসে দেখা হওয়া সেই আংকেল আমাদের বাড়িতে এসেছেন আর সাথে নীলা। ঘটনা কী..? আংকেলের সাথে নীলা কেন..? আর আমাদের বাড়িতেই বা কেন..? আমি আংকেল কে সালাম দিয়ে আর ওখানে দাঁড়ালাম না।আমার রুমে চলে আসলাম।ওই দিকে ওনারা বাবার সাথে কথা বলছে। কিছুই মাথায় ঢুকতেছিলো না। এমন সময় বাবা ডাক দিলেন।আমিও গেলাম ওখানে।, > আগামী শুক্রবার নীলার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করেছি। তাই কথাটা তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। (বাবা) আমিতো বাবার কথা শুনে পুরাই ভেবাচেকা খেয়ে গেলাম।এটা আবার কেমন কথা..? -- বাবা এটা আপনি ঠিক করেন নি। এখানে আমার নিজস্ব মতামত নেওয়া দরকার ছিলো। > তোমার নিজস্ব মতামত তুমি নিজের কাছেই রাখো। আগামী শুক্রবার তোমার বিয়ে, বিয়ের জন্য প্রস্তুত হও। বাবার এই বিষয় টা আমি একদম পছন্দ করি না।উনি সব সময় নিজের পছন্দ আমার উপর চাপিয়ে দিতেন।ছোট বেলায় জামা জুতা কেনার সময় ও উনি আমার পছন্দের ধার ধারতেন না, আর এখন বৌ টাও নিজে পছন্দ করে আমার উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। বাবার মুখের উপর কথা বলার সাহস এখনো আমার হয় নি, তাই ওনার সাথে আর এ ব্যাপারে কথা বল্লাম না। আজ সোম বার হাতে আছে মাত্র তিন টা দিন।তাই গেলাম মায়ের কাছে। -- এটা কি হলো মা..? বাবা এটা কি করলো..? > তোর বাবা যা করছে তোর ভালোর জন্যই করছে। আমার কিছু করার নেই।তুই বিয়ের জন্য প্রস্তুত হও। বুঝলাম, চুপচাপ বিয়ে করা ছারা আর কিছু করার নেই।এখানে আসাটাই ভুল হয়েছে।আর ঐ বাসে দেখা হওয়া আংকেলটা আর কেউ না, উনিই নীলার বাবা। এই নীলার বাবা আর আমার বাবা নাকী বন্ধু।এই দুই বাবা মিলেই আমাকে এত বড় বাঁশটা দিছে। তাইতো বলি, সেদিন পরের মেয়ের কথা শুনে কেন বাবা আমাকে এত মেরেছিলো, যদি মেয়েটি বাবার বন্ধুর মেয়ে না হতো তাহলে মনেহয় এত মারা মারতো না। যাইহোক,,অবশেষে আমার জীবনের দুভাগ্যতম দিন টা এলো, এবং নানান আয়োজনে বিয়েটা সম্পন্ন হলো। বাসর রাতে, নিজের রুমে ঢুকলাম।দেখি মেয়েটি বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে।আমি ঢুকতেই আমাকে সালাম করতে আসলো,,, -- এই খবরদার""আমার কাছে ঘেঁষবে না।যেখানে আছ সেখানেই শুয়ে পর (আমি) মেয়েটি আর সালাম করতে এলো না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। -- আমি ছারা কি আর ছেলে দেখনি..? আমাকেই কেন বিয়ে করলে..? (আমি) > আমি তোমাকে ভালোবাসি (নীলা) -- হা হা হা,,,তুমি ভালোবাসতে জানো নাকী..? > যেদিন থেকে তুমি আমার কাছথেকে দূরে চলে গিয়েছিলে সেদিন থেকেই তোমাকে ভালোবাসি।সেদিনই বুঝতে পেরেছিলাম তুমি আমার কি.।তোমাকে ছারা আমি বাঁচতে পারবো না।প্লিজ সেইদিনের জন্য আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি আমাকে ভালো না বাসলে নাই, শুধু আমি যেন তোমাকে ভালোবাসতে পারি সেই সুযোগটুকু দাও,,প্লিজ,,,। (নীলা) কথাগুলো বলে আমার দিকে সেই করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নাহ আমি আর পারছিনা, ওর প্রতি রেগে থাকতে। ওর এই দৃষ্টি যেন বৃষ্টি হয়ে ওর প্রতি থাকা সব ঘৃনা ধুয়ে নিলো। ওর ঐ যাদুকরি দৃষ্টি এক নিমিষেই ওর প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি করলো। আমি যেন ঐ দৃষ্টিতে সম্মহিত হয়ে গেছি। নীলাও মনে হয় বুঝতে পেরেছে যে আমি আর তার উপর রেগে নেই। তাই সে আমার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।আর আমিও তাকে আমার বাহুডোরে আবদ্ধ করলাম। এভাবেই হয় ভালোবাসার এক মহা প্রারম্ভ,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now