বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তার ছিল লোভ আর মিথ্যার ছলনা। সে সবাএক সওয়াবের লোভ দেখিয়ে দান খয়রাত করতে বলে।
পুরোহিতের কথায় সবাই দান করে অঢেল টাকা। অনের্ক স্বর্ণ অনেক সম্পদ। পুরোহিত এসব দানের সম্পদ গচ্ছিত রাখে তার গোপন গুদামে। আর সেসব সম্পদ এবং অর্থ নিজেই আত্মসাৎ করে।
পুরোহিত মারা গেলে তার ভক্তরা তাকে দাফন করতে এলো।
নওজোয়অন সবাইকে বললেঅ- এ পুরোহিত ভালো মানুষ ছিল না। তোমাদের দানের সম্পদ আত্মসাৎ করে নিজেই ভক্ষণ করেছে আর জমা করে রখেছে গোপন গুদামে।
সত্যি বলছো? তা হতেই পারে না। উনি আমাদর বিশপ। আমাদের পুরোহিত। এমন কাজ তার পক্ষে কি করা সম্ভব?
নওজোয়ান গোপন গুদামে তাদেরকে নিয়ে গেল। তারা দেখলো গচ্ছিত সম্পদের পাহাড়।
এমন ভণ্ড তাপসকে কি দাফন করা যায়?
তারা তাদের বিশপের লাশকে ঘৃণায় আর ক্ষোভে শূলে বিদ্ধ করে ঝুলিয়ে রাখলো।
মানুষেরা দেখুক- ভণ্ডামির এবং পাপের কি সাজা।
ভণ্ড বিশপের মৃত্যুর পর এলা আর একজন বিশপ। নওজোয়ান তার সেবা করা শুরু করলো। বিশপের সে জিজ্ঞেস করলো-
আপনার মৃত্যুর পর আমি আর কার কাছে যেতে পারি? কে সবচেয়ে সত্যবাদী পুরুষ? বেশি ধর্মভীরু?
বিশপ বললো, মাওসেলে এক ব্যক্তি আছেন। তার নামও তোমাকে বললাম। তিনি অপেক্ষাকৃত ভালো এবং সৎ মানুষ। তুমি তার কাছে যেতে পারো।
বিশপের মৃত্যুর পর নওজোয়ান মাওসেল গেল। খুঁজে বের করলো লোকটিকে।
তাকে দেখে নওজোয়ানের ভালো লাগলো। শ্রদ্ধা করার মতো ব্যক্তি বটে! কিন্তু তিনি অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। নওজোয়ান তাকে মনপ্রাণ দিয়ে সেবা করে।
একদিন বৃদ্ধের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো। নওজোয়ান কেঁদে ফেললো। এবার আমি কার কাছে যাবো?
বৃদ্ধ দুঃখভরা হৃদয়ে বললেন, তোমার সত্য সন্ধানের নেশা আমাকে মুগ্ধ করেছে যুবক! তোমার মতো এতো ভালো- উৎসাহী ব্যক্তি আমি আর পাইনি। নসিব মন্দ! আমি বিদায় নিচ্ছি। আমরা যে বিশ্বাসের ওপর অটল ছিলাম, এখন আর তেমন কোনো সত্যপুরুষ এ ধর্মে নেই।
তুবি তুমি আমার মৃত্যুর পর নাসিবীনে যেতে পারো। সেখানে এক ব্যক্তি আছেন এই নামের লোকটির কাছে তুমি থাকতে পারো।
বৃদ্ধের মৃত্যুর পর নওজোয়ান সেখানে। খুঁজে বের করলো তাকে।
অল্প দিনের মধ্যে তিনিও মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। নওজোয়ান বললো, এবার আমি কার কাছে যাবো?
তিনি বললেন আম্বুরিয়াতে এক ব্যক্তি আছেন। তুমি তার কাছে যেতে পারো।
নওজোন আম্বুরিয়ার সেই ধার্মিকের কাছে গেল।
নওজোয়ানের মুখে তার অতীতে ত্যাগ এবং সত্য সন্ধানের কথা শুনে খুব খুশি হলেন। তাকে কিছু গরু এবং ছাগল প্রদান করলেন।
নওজোয়ানের বুকটা ফুলে উঠলো আনন্দে। মনে পড়লো তার পিতার ঐশ্বর্যের কথা।
সম্পদের কথা। কত আদর যত্নে সে পালিত হয়েছে- সে কথা।
কিন্তু সত্য ধর্মের প্রতি হৃদয়ের দুর্বার টানে মুহুর্তে সে ভুলে গেল পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধির কথা।
নওজোয়ান হৃদয়-মন ঢেলে দিযে সেবা করে যায় বৃদ্ধকে।
কিন্তু বার্ধক্যের তো আর কোনো ঔষধ হয় না!
মৃত্যুকে তো কেউ আর ফেরাতে পারে না।
ঝরে পড়ার সময় হলে গাছের পাতা যেমন ঝরে যায়, তেমনি- মৃত্যু এলেই তাকে মৃত্যুমুখে সমর্পিত হতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।
দিনে দিনে বৃদ্ধও মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
নওজোয়ানের চোখে বিষাদের কালো ছায়অ। এবার সে কোথায় যাবে?
নওজোয়ানের উৎকণ্ঠা দেখে বৃদ্ধ তাকে কাছে ডাকলেন। আদরে আদরে ভরে দিলেন যুবকের হৃদয়। তারপর আস্তে করে বললেন,
আমি জানিনে- এরপর তুমি কোথায় যাবে। আমিতো তেমন কোনো ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাচ্ছিনে। যার কাছে তোমাকে পাঠানো যায়। আমরা যে ধর্মের ওপর আস্থাশীল ছিলাম, যে সত্যের ওপর সুদৃঢ় ছিলাম, এখন আর তার ওপর তেমন কোনো সৎব্যক্তি অবশিষ্ট নেই। নেই কোনো সত্য পুরুষ। তবে হতাশ হবার কিছু নেই। অদূর ভবিষ্যতে আরবে একজন ব্যক্তি আসবেন। তিনি বনী।
ইব্রাহীমের ধর্মকে তিনি নতুনভাবে প্রচার কবেন। তাঁর ওপর আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হবে। তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে তিন বড় বড় পাথরের জমিনের মাঝখানে খেজুর উদ্যান বিশিষ্ট ভূমির দিকে হিজরত করবেন। নবুওয়তের নিদর্শন থাকবে তাঁর কাছে। তাঁর দু’কাঁধের মাঝখানে থাকবে নবওয়তের মোহর। তিনি হবেন সর্বশেষ নবী। সত্যনবী। মহা সম্মানী এই নবী হাদিয়ার জিনিস খাবেন।
কিন্তু সাদকার জিনিস তিনি কখনোই খাবেন না। সম্ভব হলে তুমি সেখানে যেতে পারো। তাঁর কাছ থেকে পান করতে পারো সত্য পিপাসার অঢেল পানি। তোমার যাবতীয় তৃষ্ণা মিটে যাবে তখন।
বৃদ্ধ মারা যাবার পর নওজোয়ান সিদ্ধান্ত নিলেন আরবে যাবার। কালব গোত্রের কিছু আরব ব্যবসায়ী আম্বুরিয়াতে এলো।
নওজোয়ান বললো, আমার এই গরু ছাগলগুলি তোমাদেরকে দেব। বিনিময়ে আমাকে তোমরা আরবে নিয়ে যাবে?
তারা রাজি হয়ে গেল। যুবক চললো তাদের সাথে।
সুদূর আরবে।
কিন্তু লোকগুলো ছিল অসৎ, বিশ্বাসঘাতক।
পথিমধ্যে তারা তাকে বিক্রি করে দিল এক ইহুদির কাছে।
ধনীর ঘরের আদরের সন্তান শুরু করলো দাসত্বের জীবন। আর দাসত্বের জীবন মানেই তো কষ্টের জীবন।
আগুনের জীবন!
অল্পদিনের মধ্যেই হাত বদল হলো যুবক।
বনী কুরাইজা গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে কিনে নিল। তারপর তাকে নিয়ে গেল ইয়াসরিবে (মদীনায়)।
মদীনায় এসে নওজোয়অন চারদিকে তাকিয়ে দেখে।
সবকিছু অচেনা অজাা।
কোথাওবা পাহাড় পর্বত। আবার কোথাওবা পাথর কুঁচির বিস্তীর্ণ ভূমি। তারই মধ্যে আবার খেজুরের সুন্দর সাজানো বাগান।
মুহূর্তেই মনে পড়লো তার আম্বুরিয়ার বৃদ্ধের কথা। বৃদ্ধের দেয়া নির্দেশের মধ্যে একটি ছিল- খেজুরের বাগান।
খেজুরের বাগান দেখে নওজোয়ানের প্রাণে আনন্দের মৌমাছি গুন গুন করে উঠলো।
মনিবের সাথে সে এখানে অবস্থান করলো।
মন দিয়ে সে মনিবের কাজ করে যায়। তার কাজে কোনো ফাঁকি নেই।
সততা আর শ্রমে নেই কোনো চালাকি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now