বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আল্লাহ যাকে কবুল করেন।। ১ম অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মুসলমানদের কিবলা তখন বাইতুল মাকদাস। কাবাঘর তখন কিবলা হয়নি মুসলমানদের জন্যে। সবাই বাইতুল মাকদাসের দিকে কিবলা করে নামায আদায় করেন। দয়ার নবী মুহাম্মদ (সা)-ও। কিন্তু একজন, একজন ব্যক্তি বেঁকে বসলেন। না, সবাই বাইতুল মাকদাসকে কিবলা করলেও তিনি করবেন না। নামায আদায় করবেন না সেদিকে ফিরে। তাঁর কিবলা তিনি ঠিক করে নিলেন নিজেই, কা’বাঘর। আশ্চর্যের ব্যাপার! সাথীরা অবাক। তাঁকে বুঝাতে চেষ্টা করেন। কতভা। বলেন, এসো। এদিকে ফিরেই নামায আদায় করি। সবাই তাই করেন। এমনকি রাসুলও! তুমি কেন করবে না? তাঁর সেই একই জিদ। সিদ্ধান্তে অটল। না! সবাই ওই দিকে ফিরে নামায আদায় করলেও আমি তা করবো না। আমি পারবো না মক্কার কা’বাকে পেছনে রেখে শামের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতে। কেন পারবে না? জবাব দেন না তিনি। মুখটা তাঁর গম্ভীর হয়ে যায়। ভারী হয়ে ওঠে চোখের দু’টো কোনা। সবাই তাকিয়ে থাকেন তাঁর দিকে। তাঁদের চোখেমুখে অপার বিস্ময়। কথাটি কানে গেল রাসূল (সা)-এর তিনি শুনলেন সবকিছু। তিনিও তখন নামায আদায় করলেন বাইতুল মাকদাসকে কিবলা করে। সেটাই তো তখনকার নিয়ম। তখও তো আর কিবলা হয়নি পবিত্র কা’বা। নবীজী শুনলেন সব। শুনলেন, মুসলমানদের মধ্যে একজন, মাত্র ঐ একজনই বাইতুল মাকদাসকে কিবলা না করে মক্কার কা’বাকেই কিবলা বানিয়ে নামায আদায় করছেন। তাঁর নাম- আল বা’রা ইবন মারূর। রাসূল (সা) বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে নির্দেশ দিলেন, না। কা’বা নয়। আপতত আমাদের কিবলা-বাইতুল মাকদাস। সেইদিকে ফিরেই নামায আদায় করতে হবে। এটাই নিয়ম। এটাই নির্দেশ। রাসূল (সা)-এর নির্দেশ বলে কথা! অমান্য করার সাধ্য আছে কার? তিনিও পারলেন না অমান্য করতে মহান সেনাপতির নির্দেশ। অগত্যা মুখ ফেরালেন। মুখ ফেরালেন বাইতুল মাকদাসের দিকে। কিন্তু মৃত্যুর সময়ে তিনিই আবার, সেই আল বা’রা ইবনে মারূর- তাঁর পরিবারের লোকদেরকে বললেন- তোমরা আমার মুখটি ঘুরিয়ে দাও কা’বার দিকে। আম কা’বামুখী হতে চাই। তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করলেন তার পরিবারের সদস্যরা। আল বা’রা! ব্যাতিক্রমী এক সাহসী পুরুষ! তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কা’বার দিকে মুখ করে কিবলা করেই মৃত্যুবরণ করলেন। স্রোতের বিপরীতে স্রোত! হযরত আল বা’রা ইবনে মারূর ছিলেন আকাবার শেষ বাইয়াতের একজন সদস্য। এই বাইয়াতের একজন সদস্য ছিলেন বিখ্যাত কবি- কা’ব ইবনে মালিক। তিনি আল বা’রাকে জানতেন। খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তাঁকে। মিশে ছিলেন বন্ধুর মত। একসাথে কাটিয়েছেন জীবনের অনেকটা সোনালি প্রহর। কবি কা’ব। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন তাঁদের জীবনের সেই প্রথম আলোকময় সময়ের। বলেছেন, সূর্যের ডানা খোলার সেই প্রথমকার কথা। তাঁর কওমের সবাই পৌত্তলিক। ইসলামের সুবিশাল ছাদের নিচে তখনও তাঁরা জমায়েত হয়নি। উদভ্রান্তের মত কেবল ছুটছে আর ছুটছে মিথ্যার পেছনে। আঁধার অরণ্যে। ক্লান্ত তাঁরা। অবসন্ন। তাদের প্রয়োজন এখন একটু বিশ্রামের একটু আরামের একটু শান্তির। কিন্তু কোথায় সেই চিরন্ত শান্তি! কওমের সবার চোখে-মুখে জিজ্ঞাসার বৃষ্টি। হ্যাঁ, সেই শান্তি আছে একমাত্র ইসলামেই। সেই শান্তি আছে কেবল রাসূল (সা)-এর আনুগত্যে। ভালেঅবাসায়। ব্যস! তারা সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন, রাসূল (সা)-এর হাতে বাইয়াত হয়ে ইসলাম কবুলের। তবে আর দেরি কেন? দেরি নয়। ঠিক করলেন, এবার হজের মৌসুমেই তাঁরা যাত্রা শুরু করবেন আল্লাহর দিকে। মক্কার দিকে। হজের মৌসুম উপস্থিত। কওমের কাফেলাও প্রস্তুত। তারা রওয়ানা দিলেন। রওয়ানাদিলেন মদীনা থেকে মক্কার দিকে। কাফেলার অগ্রাসেনানী বায়োজ্যেষ্ঠ, প্রবীন নেতা-আল বা’রা ইবনে মারূর। তাঁর নেতৃত্বে কাফেলা এগিয়ে চলেছে। সামনের দিকে। ক্রমাগত। তাঁদের সাথে আছে রহমতের ছায়া। ভাসমান মেঘ। প্রশান্ত আকাশ। ঝির ঝির বাতাস। তাঁরা এগিয়ে চলেছৈন আঁধারের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে। আলোকিত উদ্যানের দিকে। তাঁরা পৌঁছে গেছেন আল বায়দার উপকণ্ঠে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আল্লাহ যাকে কবুল করেন।। ২য় অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now