বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিশোর পাশা ইমন -০৩

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পাঁচ. লম্বা করিডোরে বের হওয়ার সাথে সাথে আবারও অন্ধকার হয়ে গেল চারপাশ। সম্ভবতঃ এবার জেনারেটর ফল করেছে। আশেপাশের দরজাগুলোর কোনটাই খুলে গেল না অবশ্য। অন্য সময় হলে দুই একজন ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে প্রশ্ন করত, এতবার কারেন্ট যাচ্ছে কেন! তবে আজ কেউ করবে না। একটু আগে আশে পাশে কোথাও থেকে গুলির শব্দ শুনেছে তারা। বের হতে চায় কেউ এই সময়ে? “এবার?” জানতে চাইল সাব্বির। “সামনে। ছয় দরজা পর, ডানে।” “তোমার নেক্সট টার্গেট।” ফোনের ওইপাশের মানুষটার ওপর মেজাজ খাপ্পা হয়ে গেল সাব্বিরের। ছুটন্ত ছিল ও এতক্ষণ, এখন একেবারে ছয় নম্বর দরজা বরাবরই চলে এসেছে। এখানে তার পরবর্তী শিকার আছে জানানোর জন্য এত সময় লাগিয়েছিল কেন মানুষটা? প্রচ- শব্দ করে দরজা খুলে গেছে। বিশাল শরীরের এক মহিলা বের হয়ে এসেছে সেখান থেকে। বয়েসের ছাপ পড়েছে মুখে, চুলগুলো খয়েরী বর্ণ ধারণ করেছে। হাঁটুর একটু নিচে গিয়ে শেষ হয়ে যাওয়া স্কার্ট পড়েছেন তিনি। হাতে একটা তোয়ালে। “কি বিচ্ছিরি একটা হোটেল। আলো নেই কেন এখানে? বাবা, তুমি জানো কি হয়েছে? আলো নেই কেন?” “শুট হার।” “কাম অন! নিরীহ একজন-” বাম হাতে ফোন কানে চেপে ধরে বলল সাব্বির। ভদ্রমহিলা বের হওয়ার সাথে সাথে শরীরের পেছনে লুকিয়েছে পিস্তল। অন্ধকার ফাঁকা করিডোর। ডান হাতে পিস্তল ধরে থাকার দৃশ্যটা কারও চোখে পড়ার কথা না। “গুডবাই।” মৃদু কণ্ঠে বললেন ‘ভদ্রমহিলা’। সাব্বির নিজেই চমকে গেল নিজের বিদ্যুৎগতি দেখে। পেছন থেকে পিস্তলটা চোখের পলকে সামনে এনেছে সে। কিন্তু এক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল মহিলা। তোয়ালে সরিয়ে ফেলতেই বিশাল মাজলবিশিষ্ট পিস্তলটা বের হয়ে এসেছে। তখনও মহিলার দিকে নিজের পিস্তল সরিয়ে আনতে পারেনি সাব্বির। অগত্যা বাম পা দিয়ে জোরে মাটিতে লাথি মেরে শুন্যে উঠে গেল ও। লাইন অফ ফায়ার থেকে ধীরে ধীরে বাম দিয়ে সরে যাচ্ছে সাব্বিরের উড়ন্ত দেহটা। সেই সাথে সামনে চলে আসছে পিস্তল ধরা হাতটা। প্রায় একই সাথে গুলি চালাল দুইজন। মহিলা একটি মাত্র গুলি করেছে। মাপা শট। প্রফেশনাল হাত। প্রায় আট ইঞ্চি পেছনে ভেসে গেল সাব্বির। শুন্যেই। তারপর আছড়ে পড়ল মাটিতে। মহিলাকে প্রায় একটা সেকেন্ড দেওয়ালের সাথে সেঁটে থাকতে দেখা গেল। তারপর অবসন্ন ভঙ্গিতে করিডোরের মেঝেতে পিছলে নেমে এল তাঁর দেহ। শুন্যে ভেসে থাকার সময়টুকুতেই নিজের ম্যাগাজিন খালি করে ফেলেছে সাব্বির। মহিলার বিশাল দেহে ছয়টি ফুটো হয়েছে। কুল কুল করে সেপথে বের হয়ে আসছে রক্ত। করিডোরের মেঝে ভিজিয়ে ফেলতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। সাব্বিরের মোবাইলের দিকে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে সে রক্ত। মেঝেতে ছিটকে পড়েছিল ওটা। মহিলার পিস্তল দেখার সাথে সাথে মোবাইল ছেড়ে ঝাঁপ দিয়েছিল ও। পায়ে-পায়ে গিয়ে ওটা তুলে নিল সাব্বির। বুকের ডানদিকটা জ্বলছে খুব। ব্যথা হচ্ছে ওখানে। কানে ধরল না ফোনটা। শান্ত ভঙ্গিতে পিস্তলের ম্যাগাজিন পাল্টাতে-পাল্টাতে লিফটের দিকে এগিয়ে গেল। লিফটের বিশ ফিট সামনে সার্ভিস ডোর আছে একটা। সেটা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল সাব্বির। তারপর সামনে এনে দেখল, এখনও ‘ইন-কল’ হয়ে আছে আননোন নাম্বারের কলটা। “উই নীড টু টক।” ফোনের অন্যপাশের মানুষটাকে দ্রুত বলল ও। “তোমাকে বেঁধে রেখেছে কে কথা বলতে? তবে ওই গর্তটা থেকে বের হও হে। গুলি খেয়েছ তুমি, সময় নষ্ট করলে তোমারই ক্ষতি।” “আমাকে দেখতে পাচ্ছ কি করে তুমি?” “দেখতে পাচ্ছি কি করে! মাই গড, এত ফালতু একটা প্রশ্ন করলে কি করে তুমি? আমি তোমাকে আরও ব্রাইট বলে জানতাম।” “মানে কি? আমি তোমাকে ধরতে পারছি না ঠিক। কি বলতে চাইছ?” “ওহ, এখনও তুমি মনে করছ এর কোন আলাদা ব্যাখ্যা আছে? আমার আর তোমার কণ্ঠ যে একই রকম, সেটার? তুমি মনে করছ, তোমার হোটেল রুমের বাথরুম থেকে মেগান উধাও হয়ে যাওয়ার কোন স্বাভাবিক ব্যাখ্যা আছে? মনে করছ, তোমার প্রতিটা পদক্ষেপ আমি তোমার পৃথিবীর কোন পরিচিত পদ্ধতিতে দেখতে পাচ্ছি?” “অবশ্যই সবকিছু আমার পৃথিবীর পরিচিত কোন পদ্ধতিতেই হচ্ছে। এর বাইরে কিছুই নেই আর।” “তাহলে আমি কিভাবে জানলাম, কলেজে পড়ার সময় স্কুলের এক মেয়ের মুখে এসিড ছুঁড়ে মেরেছিলে তুমি? মেয়েটির নাম ছিল ঋতু। খুব সুন্দর ছিল দেখতে। কিন্তু কাওকে পাত্তা দিত না। তোমার স্ট্যাটাস আর তোমার চেহারা--দুটো নিয়েই কটাক্ষ করেছিল ঋতু, মনে পড়ে?” “ওয়েট আ সেকেন্ড! তুমি কিভাবে-” “খুব জঘন্যভাবে তোমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল মেয়েটি। ওর স্কুলের সামনে গাড়ি নিজে ড্রাইভ করে গেছিলে তুমি সেদিন। তোমার ডাক শুনে গাড়িতে উঠে বসেছিল ঋতু। তারপর, যখন ড্রাইভ করছ, তোমার গাড়িতে বসেই তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে মেয়েটা। তোমার পৌরষ আর তোমার টাকার গরমের প্রতি খুবই বাজেভাবে মন্তব্য করে। তোমার নিজেকে সে রাতে পুরুষ বলে মনে হচ্ছিল না। পাবলিক একটা স্কুলে পড়ত ঋতু। তার বাবার তো ছনের ঘরও নাই। তোমাকে কথা শোনাতে সাহস হল কি করে তার?” “কিন্তু এসব তো তোমার জানার কথা না...” “পরের দিন গাড়ি না, পায়ে হেঁটে এসেছিলে তুমি। ওর বাসার কাছে গ্যারাজে দাঁড়িয়ে ছিলে। সিকিউরিটি ছিল না, এসব মিডল ক্লাস এলাকাতে সিকিউরিটি থাকেও না। গ্যারাজে পা রাখতেই অ্যাসিড মারলে তুমি মেয়েটার মুখে। ফুটফুটে সুন্দর একটা মুখ ঝলসে দিলে।” বুকের ব্যথাটা বেড়ে গেছে। তাও নড়ল না সাব্বির। ঘাম হচ্ছে খুব তার। গাড়ির ভেতরে ঋতুর সাথে সেদিন কি নিয়ে কথা হয়েছিল তা কারও জানার কথা না। এ কিভাবে জানল? অ্যাসিড মারার কথাও জানার কথা না তার। কোন সহযোগীকে নিয়ে কাজ করেনি ও। সব একা করেছিল। জানত আর কেউ সাথে থাকলে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সে ঝুঁকি নেয়নি সাব্বির। কলেজে পড়লেও সাবধানী ছিল সে। “বুঝতে পারছ তো আমি কিভাবে জেনেছি সবকিছু? তুমি আমার কথামত দুটো খুন করেছ।” “নাহলে মহিলা আমাকেই মেরে ফেলত।” সাথে সাথে নিজেকে ডিফেন্ড করল সাব্বির। “রুম সার্ভিসকে গুলি না করলে মহিলা বের হয়ে আসত না।” “রুম সার্ভিস কোমর থেকে অস্ত্র বের করতে যাচ্ছিল।” “তা তুমি নিশ্চিত করে জানো না। আগেই গুলি করেছিলে তুমি তাকে। কেন?” “নাহলে মেগান তোমার কাছে নিরাপদে থাকবে না। সেজন্য।” ফিসফিস করে বলল সাব্বির। “না, সাব্বির। স্বীকার করছ না কেন? উপভোগ করছ তুমি এই ব্যাপারটা। মেগানের অন্তর্ধান থেকে শুরু করে এই ভায়োলেন্স। সবই উপভোগ করছ তুমি। আমিও জানতাম না একটা সময়, বিষয়গুলো উপভোগ করি আমি। এরকম একটা স্টেজ পার করেই জানতে হয়েছে। তুমি এখন জানলে।” কিছু বলল না এবার সাব্বির। শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে হাতের পিস্তল। “তোমাকে আমি এতটা চিনি, ব্যাখ্যাটা সহজ। আমিই সাব্বির, সাব্বির। তোমাদের প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে আছি আমি। তোমার প্রতিবিম্ব আমি। আমার প্রতিবিম্ব তুমি।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now