বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্পের অসুখ অথবা জীবনের — মাহবুব ময়ূখ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে একটা গল্প ঝাঁপ দিয়ে পালায় অথবা বলা যায় গল্পটি হারিয়ে যাওয়ার কারণেই আচমকা আমার চোখ খুলে যায় এবং মনে হতে থাকে আসলে গল্প নয়, আদতে আমার জীবনের কোনো একটা অংশ যেন লুকোচুরি খেলার জন্য দৃশ্যপট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল। গল্পের অসুখ হয়েছে—এমন ভাবনাও আমার মাথায় কুটকুট করে কামড়াতে থাকে, তবে সেটা বহু-ব্যবহৃত, বয়সে আমার চেয়েও বেশি বয়স্ক তোশকে থাকা ছারপোকার কামড় কি না, শিগগিরই আলাদা করতে পারি না। শৈশবের সেই সময়টাতে যখন নিজের বোধ অপরিপক্ব থাকে, বাবা-মা একা ছাড়তে ভয় পান, আবার একা না ছেড়েও পারেন না—তাঁদের নিরীহ- দর্শন সময়-জীবনের জটিলতায় ঘুরপাক খেতে থাকে, একমুহূর্তে ধমক দিয়ে পরমুহূর্তে আবার সংসারের চক্রে চলে যেতে হয় যখন, সেই সময়ই প্রথমবারের মতো গল্পের অসুখটা পেয়ে বসে আমাকে। দুঃস্বপ্ন ভেবে লাফ দিয়ে উঠেছিলাম। স্পষ্ট মনে নেই আমার। হালকা-ঝাপসাভাবে মনে পড়ে একজন লোক আমার জানালার কাছে এসে ডুগডুগি বাজাতে বাজাতে বলেছিল, ‘এই যে ছোট্ট মানুষ, তোমারেও এইভাবে বাজানো যায়, বাজাইতে বাজাইতে গায়েব কইরা দেওন যায়।’ লোকটি অভিনয় করে দেখাচ্ছিল। গায়েব করার কথাটি বলার সময় এমন এক ভঙ্গি করেছিল, হাত দুটো নাড়িয়ে যেন আমি খাঁচায় বন্দী পাখি আর সে আমাকে ছেড়ে দিচ্ছে। আমার পাখি হওয়ার বোধ তখনো আসেনি, এখন একটু একটু করে বড় হচ্ছি আর শৈশবের গল্পটাও আমার সঙ্গে বড় হচ্ছে, লোকটিকেও আর ভয় পাই না, বুঝতে পারি, একটি চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে কিংবা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, যদিও আমার পক্ষে সেই সম্পর্কের ব্যাখ্যা দেওয়া বেশ কঠিন। সেই থেকে প্রায় প্রতিদিন সবাই ঘুমিয়ে গেলে লোকটি জানালার কাছে আসে, ডুগডুগি বাজিয়ে ঢুকে পড়ে আমার স্বপ্নের ভেতর, আমার সঙ্গে কথা বলে—অধিকাংশ কথাই মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় কিন্তু সময়টা ভালো কাটে, আমাকে দীর্ঘক্ষণ ঘুম পাড়িয়ে রাখে। তাই প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য মায়ের চিৎকার আমার কানে খুব একটা প্রবেশ করে না। ঘুম থেকে ওঠার পরও চলতে থাকে পারিবারিক ঘ্যানঘ্যান। লোকটির কাছে আমি শিখেছি, সবকিছুকে পাত্তা দিতে নেই। স্বপ্নের ভেতর ডুগডুগি বাজাতে বাজাতেই সে আমাকে একটা নদীর কাছে নিয়ে যায়, তাকে নদীটির নাম জিজ্ঞেস করলে এবং কেন সে আমাকে নিয়ে এসেছে জানতে চাইলে, লোকটি কিছুই না বলে নদীপাড় থেকে খানিকটা দূরে একটা গাছের গুঁড়ির নিচে গিয়ে বসে। গাছটি মরে গেছে বহু আগেই, এখন কেবল কঙ্কাল অবশিষ্ট, কোন গাছ তা-ও বুঝতে পারি না আমি। অবশ্য এ প্রশ্নের উত্তর পাব না, তাই চুপ করে তার পাশে গিয়ে বসি। এ এক অদ্ভুত এলাকা, চারপাশে মানুষ নেই। মানুষের ছায়ার মতো যাদের মনে হয়, তারা আসলে কিছু নয়, হঠাৎ করে নদীকেও সমুদ্র বলে ভ্রম হয়। অথচ এত শান্ত নদী, ছোট্ট ঢেউ পর্যন্ত নেই, দূরে বসেও পানির স্বচ্ছতার জন্য মনে হচ্ছে পুরো একটা আকাশ পৃথিবীতে নেমে এসে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে চাইছে। আকাশের ওপর দিয়ে হেঁটে আসতে ইচ্ছে হয় আমার। লোকটি নিষেধ করে। বলে, ‘আমিও চাইছিলাম, যাই, হাইটা আসি, মনে হইছিল একবার শরীরটা ধুইতে পারলে জীবনের পাপগুলার খেলা শেষ হইয়া যাইব, কিন্তু হইলটা কী? মানিব্যাগটাই খুঁইজা পাইলাম না।’ লোকটির গল্প বলার ধরন এমন। আমাকে যে গল্পগুলো সে বলে, সেগুলো তার জীবনের গল্প কি না, নিশ্চিত নই, আমিও জানতে চাইনি কখনো, যা শুনতে ভালো লাগে তার পেছনে এত কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন পড়ে না। তবে হুট করেই বললাম, ‘মানিব্যাগ না থাকলেই তো পানিতে নামতে সুবিধে।’ আমার কথায় হেসে ওঠে লোকটি। তার হাসিতে সৃষ্টি হয় কম্পন, সেই কম্পনেই কি না জানি না, নদীর বুকে ছোট্ট একটা ঢেউকে গড়িয়ে গড়িয়ে আমাদের দিকে আসতে দেখি, যেন সে আমাদের মনোবাসনা পূরণ করতে চাইছে, কাছে আসতে গিয়েও ঢেউটা থেমে যায়, আমাদের উপহাস করে। অবশ্য মাথায় একবার ভাবনা উঁকি দেয়, সে—লোকটি হয়তো জাহাজে করে যেতে চেয়েছিল, জাহাজের টিকিট মানিব্যাগে ছিল। পরক্ষণেই এই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিই, যে ব্যক্তি স্বপ্নের ভেতর এভাবে ঘুরে বেড়াতে পারে, তার জাহাজের দরকার নেই। আমাকে নীরব থাকতে দেখে লোকটি বলে, ‘তুই চেষ্টা কইরা দ্যাখ, যাইতে পারস কি না, সমস্যা হইলে এইটা কইস না যে আমি থামাই নাই।’ লোকটি কখন আমাকে তুই করে বলে, কখন তুমি করে, তার কোনো ঠিক নেই। তুই করে বলা কথার ভেতর এমন কিছু থাকে, যা আমি মানতে বাধ্য হই। আমি বসে থাকি। তা ছাড়া চাইলেও স্বপ্নের ভেতর সবকিছু নিজের ইচ্ছেমতো করা যায় না, যেমন জীবনের ক্ষেত্রেও অদৃশ্য শিকলে বন্দী থাকি আমরা। নিজ ইচ্ছার কাছে পরাজিত হতে থাকি—শুদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা। আমার বয়স এখনো বিশের কোটা পার হয়নি, হাতে অজস্র সময়। এই শুদ্ধ হওয়ার বাসনাটা আমাকে কেন পেয়ে বসল, বুঝতে পারি না। তোমাকে শুদ্ধ মানুষ হতে হবে— এই শেখানো বুলির পেছনে ছুটতে থাকে সবাই, সারা জীবন পাপ করে শেষ বয়সে গিয়ে ওই শেখানো বুলির কাছে ধরা দিতে চেষ্টা করে তারা। আর যারা শত চেষ্টায়ও পারে না, তারা আমার কিংবা লোকটির মতো এমন সংশয়পূর্ণ জায়গায় এসে বসে থাকে। এসব ভাবনার মাঝে চোখে পড়ে, লোকটি কেমন যেন বিষণ্ন হয়ে উঠছে। সব সময় তার চোখ জ্বলতে দেখেছি আগুনের মতো—উত্তাপ যেন ঠিকরে বের হচ্ছে, একটা সম্পূর্ণ জীবন সেই আগুনের ভেতর ক্রমশ দৃশ্যমান, আমি সেই জীবনের গভীরতা ধরতে ব্যর্থ হই; আসলে ধরতে চেষ্টাও করি না কখনো, আজ চোখের ভেতর শূন্যতা দেখে কৌতূহলী হয়ে বললাম, ‘আপনাকে আজ কেমন অচেনা লাগছে।’ একটা বাঁকা উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে থাকি, কিছুটা সময়ও পার হয়, উত্তর আসে না। শুনতে পাই, বহু দূর থেকে অস্পষ্ট শব্দ ভেসে আসছে, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন শব্দতরঙ্গ কাছে আসছে, কাছে আসতে আসতে শব্দগুলো একে অপরের সঙ্গে জোড়া লেগে যাচ্ছে, প্রিয়তমার ফেলে দেওয়া মালা যেমন করে খুঁজে এনে ভাপসা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়, অথচ একটা নিশ্চিন্ত স্থানে আসন পায় না, লোকটির কথাও বসতে পারছে না স্থির হয়ে, ছোটাছুটি করছে। একটা মানিব্যাগের কথা পুনরায় কানে আসে, যে মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলার কারণে সে নদীতে নামতে পারেনি, পাপের গন্ধ ভেসে আসে; যে গন্ধে এই গাছটা মরে গেছে অথবা নিঃশেষ হয়েছে পৃথিবীর অন্য কোনো গাছ, যে গন্ধ সে দূর করতে চেয়েছিল—পারেনি। আমি ক্রমশ সতেজ হওয়ার বদলে ঝিমিয়ে পড়তে থাকি, শব্দগুলো আমার ভেতরে প্রবেশ করে আমাকে খুন করতে চাচ্ছে, ফুসফুস থেকে বাতাস টেনে বের করে মেরে ফেলতে চাচ্ছে, আমার মনের ছোটাছুটি বেড়ে যায়, অচেনা আততায়ীকে শনাক্ত করার জন্য অস্থিরতার লাগামও টেনে ধরতে পারি না। লোকটি আমাকে বলে, ‘ছাইড়া দাও, নিজেকে ছাইড়া দাও, বালুর মতো করে মাটির সাথে মিশা যাও, হাওয়ায় হাওয়ায় উইড়া বেড়াও।’ আমার সেদিনের কথা মনে পড়ে, যেদিন সে ব্রিজের ওপর চলন্ত একটি ট্রেন আমাকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল, আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম লাল রঙের মরচে ধরা স্টিলের পিলার ঘেষে। সে বলেছিল, ‘মানুষ দ্যাখ, মানুষ!’ চলন্ত ট্রেনে আলাদাভাবে মানুষ দেখার কী আছে, তাৎক্ষণিকভাবে ভেবে পাইনি আমি। মানুষ তো আমাদের টং দোকানেও দেখা যায়। আমরা ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এরপর হুইসেল বাজিয়ে ঘটঘট শব্দে নীল রঙের যন্ত্রদানব আমাদের সামনে দিয়ে পার হতে থাকে ধীরে ধীরে। মানুষকে দেখি—একদৃষ্টিতে তারা কোথায় যেন তাকিয়ে আছে, নদী দেখছে না আকাশ দেখছে—অল্প সময়ে বুঝে উঠতে পারিনি। মনে আছে, ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর ভেতরে অদ্ভুত এক হাহাকার এসে ভর করেছিল আমার ভেতরে। সেই বেদনাকে, সেই হাহাকারকে এত দিন খেলনা ট্রেন হারানোর বেদনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি। আজ এত দিন পর মনে হলো, ব্যাপারটা আসলে অন্য রকম। ক্ষণিকের জন্য যেমন এই ট্রেন এখানে এসে আবার চলে গেল, আমাদের জীবনটাও তো অমন—কোথাও কোনো চিহ্ন রেখে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভিড়ের ভেতরে থেকেও মানুষ প্রকৃতির নির্জনতার কাছে ধরা দেয়, আমরা যেমন নদীতে না নেমেও কীভাবে যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছি জলের ভেতরে, জলের ভেতর থেকে ভেসে আসা মহাকালের শব্দের ভেতরে, যে শব্দ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আমরা আসলে কিছুই না, পিঁপড়ে কিংবা টিকটিকির মতো মহাকালের কাছে আমরা একই গুরুত্ব বহন করি। সেই শব্দের ভেতর আমি আটকা পড়ে যাই, আমিও এই গোত্রের একজন, অথচ আমার সামনে পড়ে আছে সমস্ত জীবন—এই ভাবনাও উদ্বেলিত করতে পারে না আমাকে। আমি না পেরে লোকটিকে ডাকি, আমার ডাকে তার ধ্যান ভাঙে না। আমিও তার সঙ্গে আবার ধ্যানে কিংবা ভাবনায় বসে যাই। স্বপ্নের ভেতর যখন লোকটি আসে, বুঝতে পারি, ঘুমিয়ে আছি এবং এটি বাস্তব কিছু নয়, অথচ এই অবাস্তবতা ছেড়ে আমি উঠে বসতে পারি না। এখন যেমন বুঝতে পারছি, চাইলেই স্বপ্নটা আজকের মতো শেষ করে দেওয়া যায়, কিন্তু আমি ব্যর্থ, বারবারই ব্যর্থ হই। কা কা শব্দ শুনে আকাশে তাকাই। আর সেই কাকটাকে দেখি বলে ভ্রম হয়, নাকি এটি সত্য—ঠিক বুঝতে পারি না। বহু দিন আগে স্কুলের গাড়িতে ওঠার লাইনে আমার থেকে সাইজে বড় ছেলেটি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সেদিন রাতে স্বপ্ন- ভ্রমণে রেললাইনের বস্তিতে নিয়ে গিয়েছিল লোকটি। আমি দেখেছিলাম, আমার বয়সী একটা ছেলের হাত থেকে একটা কাক পাউরুটি ছিনিয়ে নিয়ে গেলে ছেলেটি পাথর দিয়ে কাকটিকে ভূপাতিত করে ফেলল। লোকটি সেদিন আমাকে হার না-মানার কথা বোঝাতে চেয়েছিল; আজ কী বোঝাতে চাচ্ছে—ধরতে পারি না। এটাই কি সেই কাক? আমার সন্দেহ দূর হয়, কাকটির ঠোঁটে ছোট্ট পাউরুটির টুকরা দেখে। এই দীর্ঘ কয়েক বছরে এখনো পুরো পাউরুটি খেয়ে শেষ করতে পারেনি। অবশেষে লোকটি ডুগডুগি হাতে নিল। একবার বাজিয়ে থেমে গেল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তোরে এই খাঁচা থেকে গায়েব হইতে হইব এইবার, আমি গেলাম।’ গায়েব হওয়া বলতে লোকটি আমাকে ছোটবেলার মতো কিছু বোঝাতে চাচ্ছে কি না, জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না, ধীরে ধীরে আকাশ-নদীর দিকে হেঁটে যাচ্ছে সে। আমি তাকে ফেরাই না, আজ বোধ হয় তার শুদ্ধ হওয়ার সময়। তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকি, তাকে বিন্দুর মতো মিলিয়ে যেতে দেখি। আমি আর কিছুই করি না। লোকটির জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। জানি, এই অপেক্ষার কোনো মানে নেই। বহু দিন পর সে জন্য মাঝরাতে ঘুম ভেঙে জেগে উঠি। গল্পটি চলে যাওয়ার জন্য, নাকি লোকটির প্রস্থানে আমার বেশি মন খারাপ, তা যাচাই করে দেখার ইচ্ছা হয় না। ভীত হয়ে উঠি, এই স্বপ্ন যদি না আসে—যা আমার সঙ্গেই বড় হয়েছে, আমি বেঁচে থাকব কী করে! এলোমেলো ভাবনার ভেতরে একটা চিৎকারে লাফ দিয়ে উঠে বাস্তবে ফিরি। পাশের ঘরে মা কাঁদছেন। আমি ছুটে গিয়ে দেখতে পাই, হাত-পা ছড়িয়ে আমার বাবা নিথর হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন। অস্ফুট স্বরে আমি শুধু একবার বলি, ‘বাবা...!’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now