বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাশফুলে জীবনের ছবি -১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ক্লান্তিতে সাদা এপ্রোনটাও আজ সাদা মনে হচ্ছে না। কাঁধের ওপর থাকা স্টেথোস্কোপটার সামান্য ওজনেই যেন হাটতে পারছি না। ওয়ার্ডের মাঝামাঝি এসে এপ্রোন-এ একটা টান অনুভব করলাম। তাকালাম পিছন ফিরে। পাশের বেড-এ শুয়ে থাকা রোগী আমার এপ্রোনটা টেনে ধরে আছে। ‘কিছু বলবেন?’ পাশে বসতে বসতে রোগীর হাতখানা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তর পেলাম না, শুধু হাতখানা শক্ত করে ধরে রাখার একটা প্রবল চেষ্টাটুকু বুঝতে পারলাম। বয়স ৭০ এর কাছে হবে হয়তো। পাশে কাউকে দেখতে পেলাম না। অসহায়ত্ব ফুঁটে উঠেছে উনার পোশাক, মাথার উসকো চুল, মুখের সাদা দাড়ি আর চোখের কোণের জমাটবাঁধা অশ্রু সবকিছুতেই। কিছু বলার আগেই হাতটা ছেড়ে দিলো। চোখ দু’টো বন্ধ করতেই অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। পাশে রাখা ফাইলটা হাতে নিয়ে রোগীর নাম দেখলাম। অনেক ঔষধ লেখা থাকলেও বেড-এ কোন ওষুধ চোখে পড়লো না। ক্লান্তিটা আবার ঘিরে ধরতে শুরু করেছে আমাকে। উঠতে গিয়ে এবার আরো শক্ত টান অনুভব করলাম। ‘এই নম্বরে একটা ফোন দিবেন?’ হাতে ছোট্ট একখানা কাগজ আমার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন। নম্বরটা ফোনে তুলে ডায়াল করলাম, বন্ধ। ‘নম্বর তো বন্ধ।’ কিছুটা সময় আর কিছু বলার ভাষা হয়তো উনার ছিল না। ‘আজ প্রায় ৪ বছর পর একটু কথা বলতাম, হলো না। শেষ সময়টাও একাই থাকতে হলো………..’। আর কিছু বলতে পারলেন না উনি। চোখ বন্ধ তবুও দু’কোণ দিয়ে যে অশ্রু গড়িয়ে পরছে তা বেশ স্পষ্ট। হাতের ভিতর নম্বর লেখা কাগজটা শক্ত করে ধরে রেখেই আমাকে ইশারা করে চলে যেতে বলছে উনি। সেবিকাকে ডেকে কিছু জানতে চাওয়ার আগেই বললো-‘স্যার, গতকাল এসেছেন উনি। এখন অবধি কেউ আসেনি। এমনকি ওষুধ কিনে দেবারও মানুষ আসেনি।’ ‘এই টাকা দিয়ে ওষুধ এনে তুমি নিজেই উনাকে খাইয়ে দিবে প্লিজ।’ সেবিকাকে টাকা দিয়ে চলে এলাম। ৩ তলা থেকে নেমে ড্রাইভারকে ফোন না দিতেই গাড়ি নিয়ে উপস্থিত। কী কী যেন বলছে বা জিজ্ঞাসা করছে ড্রাইভার তা বুঝতেই পারছি না। বোঝার চেষ্টাও করছি না। আমি গাড়িতে বসার পর এটা ওর অভ্যাস হয়ে গেছে। বহুদিন নিষেধ করাতেও অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। ফোনটা হাতে নিয়ে আবার ডায়াল করলাম। বন্ধ। কী করা উচিত তা আমার জানা নেই। তবুও জানানোর চেষ্টাস্বরূপ একটা ম্যাসেজ করলাম। বাসায় যখন ফিরলাম তখন রাত প্রায় ২টা। মা, বাবা, ছোট বোন কেউ এই সময় জেগে নেই, থাকার কথাও না। প্রায় ৪ বছর থেকে ডাক্তারী পেশায় আছি। ভালো-মন্দ সব অনুভূতিই রয়েছে এই সময়ের মাঝে। সিনিয়র কেউ মেডিক্যালে না থাকলে সেদিন এমন ডাবল ডিউটি দায়িত্ববোধ থেকেই করতে হয়। ক্লান্তি আসলেও খারাপ লাগে না। প্রথমদিকে মা জেগে থাকতো, এমন আর নয়। অনেক দিন বুঝিয়ে বলাতে উনার এই অভ্যাস বদলেছে। সকালে মায়ের ঘুম ভাঙানি স্নেহভরা ডাক, মাথায় এক হাতের বিলি কাটুনি আর অন্য হাতে চায়ের কাপ নিয়ে ছেলের ঘুম ভাঙার অপেক্ষা, বাবার শরীরের অবস্থার নজরদারি, ছোট বোনের ‘ভাবী আসবে কবে’ আবদারের শান্তনা প্রতিজ্ঞা, মায়ের কোলে একটু মাথা রেখে ‘এই তো আর কয়েকটা দিন মা, তাই তোমার আর কষ্ট হবে না, তখন সব কাজ আমার বউ করে দিবে’ বলে অজুহাত ভরাট। কখন যে সময় ঘনিয়ে আসে তা বুঝেই পারি না। যদিও আজ দেরিতে গেলেও সমস্যা নেই, তবুও রোগীটার অবস্থা দেখার জন্যই গেলাম। ৩তলায় উঠে একটু অবাক হলাম। কালকের সেই বেড আজ ফাঁকা। এক সেবিকাকে বলতেই জানালো-‘ভোরের দিকে উনি মারা গেছে। তার কিছুক্ষণ পর উনার মেয়ে পরিচয় দিয়ে একটি মেয়ে এসে লাশ নিয়ে যায়।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাশফুলে জীবনের ছবি -৪
→ কাশফুলে জীবনের ছবি -৩
→ কাশফুলে জীবনের ছবি -২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now