বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি অন্যরকম মায়ের গল্প

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ওরা চার ভাই-বোন। দুই বোন আর দুই ভাই। এখন অনেক ছোট সবাই ই। মাত্র দুই মাসের মত বয়স এক এক জনের। জন্মের পর পরই মা সুন্দর চারটা নাম দিয়েছে ওদের। তুন, ওনা, কিম আর যাবা। তুন আর যাবা হল বোন, বাকিরা ভাই। তো একদিনের ঘটনা- একটা রাস্তার পাশে বড় বাড়ির অন্ধকার একটা কোণায় চার ভাই বোন বসে ছিল। কিম বারবার ওনা আর তুন কে খেলাচ্ছলে খোঁচাচ্ছিল। মা না থাকায় এটা হয়েছে। মা গিয়েছে ওদের জন্যে খাবার খুঁজতে। যাবা ওদের মধ্যে একটু ভাবুক টাইপ। চুপচাপ বসে ছিল ও। মাঝে মাঝে বিরক্ত চোখে কিম কে দেখছিল। কিম এখনও ঠিকমত হাঁটতেও শেখেনি কিন্তু ভয়াবহ চঞ্ছল স্বভাব। মায়ের বকাও এর জন্যে কম খায় না ও। একদিন তো মা রেগে গিয়ে থাবা দিএ চড় মেরে বসেছিল গালে ওর। কিন্তু কিসের কি, কিম নিজের মতই আছে। মায়ের কথা ভাবলে অবাকই লাগে যাবার। অসাধারণ সুন্দরী ওদের মা,আর নিঃশব্দ চলাফেরা। শিকার ধরায় ও জুড়ি মেলা ভার। আর এই মধ্যবয়সেও ওদেরকে যেভাবে আগলে রাখে,আহ-- কিম আর তুনের ঝগড়ায় চিন্তাটা ভেঙ্গে যায় যাবার।তুনের লেজ কামড়ে দিয়েছে কিম। রেগেমেগে একটু দূরে সরে আসে যাবা। আশেপাশে অনেক খাবার, একবার ভাবে যে চেষ্টা করবে নাকি ধরার। পরক্ষণেই ভাবে মা তো আছেই, আর ও এতোই ছোট যে সাহস বা ক্ষমতা হয় নি এখনও ওর। তাছাড়া, মা যতদিন আছে, ওদের কিছু হবে না,ওরা জানে। কিন্তু, উমমম- অনেকক্ষ্ণ তো হয়ে গেল,ভাবে যাবা- মা আসে না কেন? ওই হামিদ, আমাকে দে। দড়িটা নিয়ে নেয় মোমেন হামিদের হাত থেকে। দড়ির অপর মাথায় একটা বিড়ালের লেজ বাঁধা। বিড়ালটাকে রাস্তার উপর দিয়ে ঘষটে নিয়ে দৌঁড়াতে থাকে দুজন। আহ, জীবনটা কত মজার। ওদের প্ল্যান হল আজকে বিড়ালটাকে এভাবে পুরো এলাকা ঘুরাবে, অনেক কষ্টে ধরেছে দুজন মিলে। এই সুন্দর বিড়ালটা ওদের বাসা থেকে একদিন মাছ চুরি করেছিল, আজকে মজা বুঝবে। কিছুক্ষণের মাঝেই আরো এলাকার ছেলেরা জড় হয়। যারা দড়ি পায় নি তারা ইট মারতে থাকে বিড়ালটার দিকে। অজ্ঞান হয়ে যায় সুন্দর বিড়ালটা। হঠাৎ একটা ইট লেগে থেতলে যায় বিড়ালটার মাথা......... মা এখনও আসে না কেন? ক্ষুধায় কাতর যাবা ভাই বোনদের জিজ্ঞাসা করে। কেউই কিছু বলতে পারে না। আর ওরা এখনও এত বড় হয় নি যে নিজেরা খাবার যোগাড় করবে। আহ, দুনিয়াটা এত কঠিন কেন? জড়াজড়ি করে করুণ সুরে ডাকতে থাকে চার ভাই বোন। পরিশিষ্টঃ দুদিন পর ময়লা ফেলতে যেয়ে সিটি করপোরেশন এর লোক এক বাড়ির কোণার থেকে চারটা বিড়ালের বাচ্চা উঠিয়ে গাড়িতে ফেলে। উঠানোর সময় নাক কুঁচকে গিয়েছিল তার কারণ পচে গিয়ে গন্ধ বের হচ্ছিল বাচ্চাগুলোর গা থেকে। কি আর করা, এলাকা তো পরিষ্কার রাখতেই হবে,ভাবতে ভাবতে আরো এক বালতি ময়লা ফেলে দেয় লোকটা গাড়িতে বিড়ালগুলোর ওপরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now